সহীহ মুসলিম শরীফ হাদিস আরবি বাংলা ঈমান অধ্যায় ১ম ভাগ হাদিস নং ৫৮ – ৬৩ ঈমানের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা, তাঁর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখার বর্ণনা, লজ্জা শরমের ফাযীলাত এবং তা ঈমানের অঙ্গ হওয়ার বর্ণনা

১২. অধ্যায়ঃ

ঈমানের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা, তাঁর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখার বর্ণনা, লজ্জা শরমের ফাযীলাত এবং তা ঈমানের অঙ্গ হওয়ার বর্ণনা



৫৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ ‏”‏ ‏.



আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ



নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঈমানের শাখা সত্তরটির চেয়েও বেশী, আর লজ্জা শরম ঈমানের একটি শাখা। (ই.ফা. ৫৯; ই.সে. ৬০)


৫৯

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ ‏”‏ ‏.‏



আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ



রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ঈমানের শাখা সত্তরটিরও কিছু বেশী। অথবা ষাটটির কিছু বেশী। এর সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছে (আল্লাহ ব্যাতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) এ কথা স্বীকার করা, আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ শাখা। (ই.ফা. ৬০; ই.সে. ৬১)


৬০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ ‏ “‏ الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ ‏”‏ ‏.‏



সালিমের পিতা ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ



এক ব্যক্তি তার ভাইকে লজ্জার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছিলেন শুনতে পেয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, লজ্জা ঈমানের অংগ। (ই.ফা. ৬১; ই.সে. ৬২)


৬১

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ مَرَّ بِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ يَعِظُ أَخَاهُ ‏.‏



যুহরী (রহঃ) থেকে উক্ত সুত্রে থেকে বর্ণিতঃ



তবে তাঁর বর্ণনায় আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক আনসারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে আনসারী তার ভাইকে লজ্জার ব্যাপারে নাসীহাত করছিলেন। (ই.ফা. ৬২; ই.সে. ৬৩)


৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، – وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى – قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا السَّوَّارِ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ “‏ الْحَيَاءُ لاَ يَأْتِي إِلاَّ بِخَيْرٍ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ إِنَّهُ مَكْتُوبٌ فِي الْحِكْمَةِ أَنَّ مِنْهُ وَقَارًا وَمِنْهُ سَكِينَةً ‏.‏ فَقَالَ عِمْرَانُ أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتُحَدِّثُنِي عَنْ صُحُفِكَ ‏.‏



‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ



তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, লজ্জা-সম্ভ্রম কল্যাণকেই ডেকে আনে। বুশায়র ইবনু কা‘ব বলেন, জ্ঞান বিজ্ঞানের পুস্তকে লিখা আছে যে, এর (লজ্জা) মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে এবং প্রশান্তি নেমে আসে। তাঁর কথা শুনে ‘ইমরান বলেন, আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখ নিঃসৃত বাণীই বর্ণনা করছি। আর তুমি আমাকে বলছ, তোমাদের বইয়ের কথা। (ই.ফা. ৬৩; ই.সে. ৬৪)


৬৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ إِسْحَاقَ، – وَهُوَ ابْنُ سُوَيْدٍ – أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ، حَدَّثَ قَالَ كُنَّا عِنْدَ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ فِي رَهْطٍ مِنَّا وَفِينَا بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ فَحَدَّثَنَا عِمْرَانُ، يَوْمَئِذٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ الْحَيَاءُ خَيْرٌ كُلُّهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَوْ قَالَ ‏”‏ الْحَيَاءُ كُلُّهُ خَيْرٌ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ إِنَّا لَنَجِدُ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ أَوِ الْحِكْمَةِ أَنَّ مِنْهُ سَكِينَةً وَوَقَارًا لِلَّهِ وَمِنْهُ ضَعْفٌ ‏.‏ قَالَ فَغَضِبَ عِمْرَانُ حَتَّى احْمَرَّتَا عَيْنَاهُ وَقَالَ أَلاَ أُرَانِي أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتُعَارِضُ فِيهِ ‏.‏ قَالَ فَأَعَادَ عِمْرَانُ الْحَدِيثَ قَالَ فَأَعَادَ بُشَيْرٌ فَغَضِبَ عِمْرَانُ قَالَ فَمَا زِلْنَا نَقُولُ فِيهِ إِنَّهُ مِنَّا يَا أَبَا نُجَيْدٍ إِنَّهُ لاَ بَأْسَ بِهِ ‏.‏



حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، حَدَّثَنَا أَبُو نَعَامَةَ الْعَدَوِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ حُجَيْرَ بْنَ الرَّبِيعِ الْعَدَوِيَّ، يَقُولُ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ ‏.‏



আবূ কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ



তিনি বলেন, আমাদের এক দল ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। আমাদের মাঝে বুশায়র ইবনু কা‘বও ছিলেন। তখন ‘ইমরান (রাঃ) আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা প্রসংগে বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন লজ্জার সবটাই মঙ্গলজনক। রাবী বলেন যে, কিংবা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ লজ্জা সবটাই কল্যাণকর। বুশায়র ইবনু কা‘ব (রহঃ) বলেন, কোন কোন কিতাবে কিংবা হিকমাতের গ্রন্থে আমরা পেয়েছি যে, লজ্জা থেকেই আল্লাহর জন্য গাম্ভীর্য ও প্রশান্তির উৎপত্তি এবং তা থেকে দুর্বলতারও উৎপত্তি। রাবী বলেন, এ কথা শুনে ‘ইমরান (রাঃ) রেগে গেলেন এমন কি তার দুই চোখ লাল হয়ে গেল। ‘ইমরান (রাঃ) বলেন, সাবধান! আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বলছি আর তার মুকাবিলায় তুমি পুঁথির কথা বলছ। এরপর ইমরান (রাঃ) পুনরুক্তি করলেন। আর বুশায়রও তার কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। এতে ‘ইমরান (রাঃ) খুবই রেগে গেলেন। রাবী বলেন যে, আমরা বলতে লাগলাম, হে আবূ নুজায়দ (‘ইমরানের উপনাম) সে আমাদেরই লোক। তার মধ্যে ত্রুটি নেই।



ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ….. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) সুত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাম্মাদ ইবনু যায়দের মত হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৪, ৬৫; ই.সে. ৬৫-৬৬)