বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা কর।
বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য
Balance of Payments
২০১৪-১৫ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬,৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার । ২০১০-১১ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পণ্য রপ্তানি ও আমদানি (Merchandise export and import) প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৪০.৬১ শতাংশ ও ৪১.৪৩ শতাংশ হলেও পূববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি (Trade deficit) বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২.২০ শতাংশ । রপ্তানীর তুলনায় আমদানির ভিত্তি বড় হওয়ার কারণে আমদানি-রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য ঘাটতির এ বৃদ্ধি ঘটেছে। এ সময়ে সেবা (নীট) ও আয় (নীট) হিসেবে ঘাটতি বেড়েছে যথাক্রমে ৩৮.৬৭ শতাংশ ও ১৪.৩৪ শতাংশ । দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অবকাঠামোসহ বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্বৃত্ত আয়, মুনাফা/লভ্যাংশ বাবদ বৈদেশিক পরিশোধের কারণে সেবা এবং আয় খাতে ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় চলতি হস্তান্তর খাতে উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৩.৭৫ শতাংশ। ফলে জুলাই-মার্চ, ২০১১ সময়ে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৬৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, গত অর্থবছরের একই সময়ে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২,৬৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ।
জুলাই-মার্চ, ২০১১ সময়ে মূলধন ও আর্থিক হিসাবের মধ্যে মূলধন হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলেও আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১,২৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হ্রাস পাওয়া এবং বাণিজ্য ঋণ বৃদ্ধির কারণে মূলধন ও আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে। ফলে সার্বিক ভারসাম্য ঘাটতি হয়েছে ৫২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে সার্বিক ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২,২৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ।
৮টি মুদ্রা ঝুড়ি (Currency Basket) নিয়ে নির্ণীত টাকার নামিক কার্যকর বিনিময় হার সূচক (Nominal Effective Exchange Rate Index - NEER Index) জুলাই ২০১০ মাসে ৬৭.৬৪ থেকে অবচিতি (depreciate) হয়ে ফেব্রুয়ারি ২০১১ মাসে ৬৩.৪৮ এ দাঁড়ায় । অন্যদিকে, টাকার প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার সূচক (Real Effective Exchange Rate Index - REER Index) জুলাই ২০১০ মাসে ৯৬.৯৩ থেকে অবচিতি (Depreciate) হয়ে ফেব্রুয়ারি ২০১১ মাসে ৯৪.১৮ এ দাঁড়ায়। এ সময়ে REER ভিত্তিক টাকার বিনিময় হার ৬৭.২৯ টাকা থেকে মাত্র ০.১৮ শতাংশ অবচিতি হয়ে দাঁড়ায় ৬৭.১৭ এ ।
উল্লেখ্য, টাকার কার্যকর বিনিময় হার নামিক (Nominal) বিনিময় হার অপেক্ষা কম থাকায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকগণ এখনও রপ্তানিতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে ।
২০১৪-১৫ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬,৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার । ২০১০-১১ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পণ্য রপ্তানি ও আমদানি (Merchandise export and import) প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৪০.৬১ শতাংশ ও ৪১.৪৩ শতাংশ হলেও পূববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি (Trade deficit) বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২.২০ শতাংশ । রপ্তানীর তুলনায় আমদানির ভিত্তি বড় হওয়ার কারণে আমদানি-রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য ঘাটতির এ বৃদ্ধি ঘটেছে। এ সময়ে সেবা (নীট) ও আয় (নীট) হিসেবে ঘাটতি বেড়েছে যথাক্রমে ৩৮.৬৭ শতাংশ ও ১৪.৩৪ শতাংশ । দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অবকাঠামোসহ বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্বৃত্ত আয়, মুনাফা/লভ্যাংশ বাবদ বৈদেশিক পরিশোধের কারণে সেবা এবং আয় খাতে ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় চলতি হস্তান্তর খাতে উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৩.৭৫ শতাংশ। ফলে জুলাই-মার্চ, ২০১১ সময়ে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৬৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, গত অর্থবছরের একই সময়ে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২,৬৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ।
জুলাই-মার্চ, ২০১১ সময়ে মূলধন ও আর্থিক হিসাবের মধ্যে মূলধন হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলেও আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১,২৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হ্রাস পাওয়া এবং বাণিজ্য ঋণ বৃদ্ধির কারণে মূলধন ও আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে। ফলে সার্বিক ভারসাম্য ঘাটতি হয়েছে ৫২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে সার্বিক ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২,২৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ Foreign Exchange Reserve
বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ পূর্ববর্তী অর্থবছরের স্থিতি থেকে ৪৩.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০,৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দ্বারা প্রায় ৫.৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব ছিল । ৩ মে, ২০১১ মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১১,৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ৩ মে, ২০১০ এর তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি, যা দিয়ে ৪.৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। ১০ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মত ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। ৩০ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৪০৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে ।বিনিময় হার Exchange Rate
২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০ অর্থবছরে মুদ্রা বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত যোগান থাকায় মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল । আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং নতুন আমদানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি তেলের আমদানি বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে টাকার বিনিময় হারে বিশেষ করে মার্কিন ডলারের সাথে টাকার বিনিময় হারের অবচিতি (Depreciation) ঘটে। ২০১০-১১ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার গড় বিনিময় হার দাঁড়ায় ৭০.৪৮ টাকা যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত ৭৭.৮০ টাকা । ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে টাকার তুলনায় ২০১০-১১ অর্থবছরের একই সময়ে টাকার অবচিতি হয়েছে ১.৯৩ শতাংশ ।৮টি মুদ্রা ঝুড়ি (Currency Basket) নিয়ে নির্ণীত টাকার নামিক কার্যকর বিনিময় হার সূচক (Nominal Effective Exchange Rate Index - NEER Index) জুলাই ২০১০ মাসে ৬৭.৬৪ থেকে অবচিতি (depreciate) হয়ে ফেব্রুয়ারি ২০১১ মাসে ৬৩.৪৮ এ দাঁড়ায় । অন্যদিকে, টাকার প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার সূচক (Real Effective Exchange Rate Index - REER Index) জুলাই ২০১০ মাসে ৯৬.৯৩ থেকে অবচিতি (Depreciate) হয়ে ফেব্রুয়ারি ২০১১ মাসে ৯৪.১৮ এ দাঁড়ায়। এ সময়ে REER ভিত্তিক টাকার বিনিময় হার ৬৭.২৯ টাকা থেকে মাত্র ০.১৮ শতাংশ অবচিতি হয়ে দাঁড়ায় ৬৭.১৭ এ ।
উল্লেখ্য, টাকার কার্যকর বিনিময় হার নামিক (Nominal) বিনিময় হার অপেক্ষা কম থাকায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকগণ এখনও রপ্তানিতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে ।