বাংলাদেশের চামড়া শিল্প চামড়া শিল্প উন্নয়নে সুপারিশসমূহ
Leather Industries of Bangladesh
চামড়া শিল্প বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি উল্লেখযোগ্য খাত হচ্ছে চামড়া শিল্প। বাংলাদেশে প্রচুর পশু সম্পদ রয়েছে । এই পশু সম্পদের ওপর ভিত্তি করে এই দেশে চামড়া শিল্প সমৃদ্ধি লাভ করেছে । নিম্নে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প সম্বন্ধে আলোচনা করা হল ।
চামড়ার উৎস ঃ বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে গুরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া পাওয়া যায় । এদেশে নিয়মিত পশু জবাই করা হয় । ফলে এসব পশু থেকে প্রচুর পরিমাণে চামড়া পাওয়া যায় । তাছাড়াও প্রতি কোরবানির ঈদে এ দেশে ১২ থেকে ১৫ লক্ষ গরু এবং ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ ছাগল জবাই হয় ।
চামড়া শিল্প উন্নতির কারণ ঃ বাংলাদেশে চামড়া শিল্প উন্নতির কারণগুলো হচ্ছে- পর্যাপ্ত চামড়ার সরবরাহ, চামড়ার গুণগত মান, পর্যাপ্ত শ্রমিক সরবরাহ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সরকারি ঋণের সুবিধা এবং বিদেশে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ইত্যাদি ।
চামড়া শিল্পের সংখ্যা ও সংগঠন ঃ বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২০০টির অধিক চামড়া শিল্প রয়েছে। এদের মধ্যে ১৫৮টি ট্যানারি Board of investment এর রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত । অন্যান্যগুলো অরেজিস্ট্রিভুক্ত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এদেশে প্রায় ৬৫টি আধুনিক ট্যানারি রয়েছে। এ আধুনিক ট্যানারিগুলোর মধ্যে ৫৪টি ট্যানারি নিয়ে গঠিত হয়েছে Bangladesh finished and leather goods export association |
উৎপাদন ও উৎপাদনের পরিমাণ : বাংলাদেশ চামড়া শিল্পে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ২০১২-১৩ সালে এ -দেশে চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৯.০২ মিলিয়ন বর্গ মিটার । ২০১০-১১ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০.৬৫ মিঃ বর্গ মিটার । চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিঃ বাংলাদেশে প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, হংকং, ব্রাজিল, চীন, জাপান, হল্যান্ড, স্পেন ও তাইওয়ানে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে। চামড়া রপ্তানি করে বাংলাদেশ ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। ২০১৩- ১৪ অর্থবছরে এ আয়ের পরিমাণ হলো প্রায় ৩৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ।
চামড়া শিল্প উন্নয়নে সুপারিশসমূহ A few Recommendations in the Development of Leather Industry
বাংলাদেশ চামড়া শিল্পে উন্নতি লাভ করলেও এটিও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে না। একটি সময়োপযোগী, আধুনিক ও গতিশীল চামড়া নীতি অবলম্বন করলে এই শিল্প তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে । নিম্নে চামড়া শিল্পের উন্নয়নে কতিপয় সুপারিশ প্রদান করা হলো ।
1
১। সরকারি চামড়া নীতি ঃ বাংলাদেশে পাট নীতি বা চা নীতির মতো কোন চামড়া নীতি নেই । দেশের চামড়াখাত কোন নীতিমালা ছাড়াই চলে আসছে । ফলে চামড়া শিল্পের উন্নয়নের গতি মন্থর। চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক চামড়া নীতি প্রণয়ন করতে হবে ।
২। কমন ফিনিসিং ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার ঃ ছোট বড় সকল ট্যানারি শিল্প এবং ট্যানারি শিল্পের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা প্রদান করার জন্য Common finishing facilities centre স্থাপন করতে হবে। এ সেন্টার চালু হলে সকল ট্যানারি উপকৃত হবে ।
৩। আমদানি সুবিধা প্রদান : চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যামিক্যালস্ ও যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ সকল পণ্যসামগ্রী আমদানি শুল্কমুক্ত করতে হবে। এছাড়া আমদানিকারকদেরকে সহজ শর্তে ঋণদানের ব্যবস্থা করতে হবে ।
৪। পৃথক ট্যানারি শিল্প নগরী স্থাপন ও বাংলাদেশে ট্যানারি শিল্পের উন্নয়নের জন্য সুপরিসর স্থানে একটি পৃথক শিল্প নগরী স্থাপন করতে হবে। এ শিল্প নগরীতে লবণাক্ত পানি, ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বিদ্যুত, গ্যাস, পানি, শ্রমিক কলোনি, রাস্তাঘাট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের সুযোগ সুবিধা থাকতে হবে।
৫। কলেজ অব লেদার টেকনোলজির আধুনিকীকরণ ও চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। আর এই জনশক্তির উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার টেকনোলজির সংস্কার ও আধুনিকায়ন একান্ত প্রয়োজন ।
৬। বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি ও চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সাথে যৌথভাবে শিল্প স্থাপনের জন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করতে হবে।
৭। আন্তজার্তিক বাজার সম্প্রসারণ ঃ বাংলাদেশের চামড়াজাত শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হলে বিদেশে চামড়াজাত দ্রব্যের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিদেশের বাণিজ্য মেলায় নিয়মিত
অংশগ্রহণ করা যেতে পারে ।
এছাড়াও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, নিরাপত্তা প্রদান এবং বন্দর সমস্যার সমাধান করতে হবে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে ।
চামড়া শিল্প বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি উল্লেখযোগ্য খাত হচ্ছে চামড়া শিল্প। বাংলাদেশে প্রচুর পশু সম্পদ রয়েছে । এই পশু সম্পদের ওপর ভিত্তি করে এই দেশে চামড়া শিল্প সমৃদ্ধি লাভ করেছে । নিম্নে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প সম্বন্ধে আলোচনা করা হল ।
চামড়ার উৎস ঃ বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে গুরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া পাওয়া যায় । এদেশে নিয়মিত পশু জবাই করা হয় । ফলে এসব পশু থেকে প্রচুর পরিমাণে চামড়া পাওয়া যায় । তাছাড়াও প্রতি কোরবানির ঈদে এ দেশে ১২ থেকে ১৫ লক্ষ গরু এবং ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ ছাগল জবাই হয় ।
চামড়া শিল্প উন্নতির কারণ ঃ বাংলাদেশে চামড়া শিল্প উন্নতির কারণগুলো হচ্ছে- পর্যাপ্ত চামড়ার সরবরাহ, চামড়ার গুণগত মান, পর্যাপ্ত শ্রমিক সরবরাহ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সরকারি ঋণের সুবিধা এবং বিদেশে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ইত্যাদি ।
চামড়া শিল্পের সংখ্যা ও সংগঠন ঃ বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২০০টির অধিক চামড়া শিল্প রয়েছে। এদের মধ্যে ১৫৮টি ট্যানারি Board of investment এর রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত । অন্যান্যগুলো অরেজিস্ট্রিভুক্ত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এদেশে প্রায় ৬৫টি আধুনিক ট্যানারি রয়েছে। এ আধুনিক ট্যানারিগুলোর মধ্যে ৫৪টি ট্যানারি নিয়ে গঠিত হয়েছে Bangladesh finished and leather goods export association |
উৎপাদন ও উৎপাদনের পরিমাণ : বাংলাদেশ চামড়া শিল্পে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ২০১২-১৩ সালে এ -দেশে চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৯.০২ মিলিয়ন বর্গ মিটার । ২০১০-১১ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০.৬৫ মিঃ বর্গ মিটার । চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিঃ বাংলাদেশে প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, হংকং, ব্রাজিল, চীন, জাপান, হল্যান্ড, স্পেন ও তাইওয়ানে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে। চামড়া রপ্তানি করে বাংলাদেশ ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। ২০১৩- ১৪ অর্থবছরে এ আয়ের পরিমাণ হলো প্রায় ৩৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ।
চামড়া শিল্প উন্নয়নে সুপারিশসমূহ A few Recommendations in the Development of Leather Industry
বাংলাদেশ চামড়া শিল্পে উন্নতি লাভ করলেও এটিও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে না। একটি সময়োপযোগী, আধুনিক ও গতিশীল চামড়া নীতি অবলম্বন করলে এই শিল্প তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে । নিম্নে চামড়া শিল্পের উন্নয়নে কতিপয় সুপারিশ প্রদান করা হলো ।
1
১। সরকারি চামড়া নীতি ঃ বাংলাদেশে পাট নীতি বা চা নীতির মতো কোন চামড়া নীতি নেই । দেশের চামড়াখাত কোন নীতিমালা ছাড়াই চলে আসছে । ফলে চামড়া শিল্পের উন্নয়নের গতি মন্থর। চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক চামড়া নীতি প্রণয়ন করতে হবে ।
২। কমন ফিনিসিং ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার ঃ ছোট বড় সকল ট্যানারি শিল্প এবং ট্যানারি শিল্পের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা প্রদান করার জন্য Common finishing facilities centre স্থাপন করতে হবে। এ সেন্টার চালু হলে সকল ট্যানারি উপকৃত হবে ।
৩। আমদানি সুবিধা প্রদান : চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যামিক্যালস্ ও যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ সকল পণ্যসামগ্রী আমদানি শুল্কমুক্ত করতে হবে। এছাড়া আমদানিকারকদেরকে সহজ শর্তে ঋণদানের ব্যবস্থা করতে হবে ।
৪। পৃথক ট্যানারি শিল্প নগরী স্থাপন ও বাংলাদেশে ট্যানারি শিল্পের উন্নয়নের জন্য সুপরিসর স্থানে একটি পৃথক শিল্প নগরী স্থাপন করতে হবে। এ শিল্প নগরীতে লবণাক্ত পানি, ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বিদ্যুত, গ্যাস, পানি, শ্রমিক কলোনি, রাস্তাঘাট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের সুযোগ সুবিধা থাকতে হবে।
৫। কলেজ অব লেদার টেকনোলজির আধুনিকীকরণ ও চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। আর এই জনশক্তির উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার টেকনোলজির সংস্কার ও আধুনিকায়ন একান্ত প্রয়োজন ।
৬। বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি ও চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সাথে যৌথভাবে শিল্প স্থাপনের জন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করতে হবে।
৭। আন্তজার্তিক বাজার সম্প্রসারণ ঃ বাংলাদেশের চামড়াজাত শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হলে বিদেশে চামড়াজাত দ্রব্যের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিদেশের বাণিজ্য মেলায় নিয়মিত
অংশগ্রহণ করা যেতে পারে ।
এছাড়াও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, নিরাপত্তা প্রদান এবং বন্দর সমস্যার সমাধান করতে হবে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে ।