অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য কি? What is the difference between economic development and economic growth?

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের মধ্যে পার্থক্য ৯৯%
Difference between Economic Growth and Development
অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারণা দুটিকে অনেক ক্ষেত্রেই সমার্থবোধক মনে করা হয় । কিন্তু প্রকৃত অর্থে এ দুটি ধারণা এক নয় । ধারণা দুটির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে । যেমন-
১। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে কোন দেশের জাতীয় উৎপাদন ও মাথাপিছু প্রকৃত আয়ের চলমান বৃদ্ধিকে বোঝায় । পক্ষান্তরে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে শুধুমাত্র বর্ধিত উৎপাদনকেই বোঝায় না, বরং সে সংগে যে কলাকৌশল ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার আওতায় তা উৎপাদিত ও বণ্টিত হয় তার পরিবর্তনকেও বোঝায়।
২। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধু উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক ব্যবস্থার উর্ধ্বমুখী পরিবর্তন ঘটে । প্রক্রিয়ায় একটি দেশ অন্য একটি দেশের তুলনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো সৃষ্টি ৩। দুটি দেশের প্রবৃদ্ধির হার এক হলেও তাদের উন্নয়নের স্তর ভিন্ন হতে পারে । উৎপাদন বৃদ্ধির করলে তার উন্নয়নের স্তর অবশ্যই উচ্চতর বলে গণ্য হবে। কাজেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একটি পরিমাণগত ধারনা । কিন্তু উন্নয়ন বলতে পরিমাণগত ও গুণগত ধারণার সমন্বয়কে বোঝায় ।
৪। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া প্রবৃদ্ধি সম্ভব। কিন্তু প্রবৃদ্ধি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না । প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের স্তরে পৌছানো যায় । সুতরাং প্রবৃদ্ধি হলো উন্নয়নের একটি অংশ । Hicks এর মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে অধিক উৎপাদনকে বোঝায়। পক্ষান্তরে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে একদিকে অধিক উৎপাদন এবং একই সাথে যে কৌশলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে উহা উৎপাদিত ও বণ্টিত হয় তাহার পরিবর্তনও নির্দেশ করে । অর্থাৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন = অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি + অন্যান্য খাতের উন্নয়ন । সুতরাং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারণা দুটি সচরাচর একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও উহাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান ।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি Economic Growth of Bangladesh

গত ২০১১-১২ অর্থবৎসরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৪৬ শতাংশ এবং ২০১২-১৩ অর্থবৎসরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়ায় ৬.০১ শতাংশ । উল্লেখ্য, এ সময়ে কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকলেও শিল্পখাতে বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি মন্দাপূর্ব সময়ের তুলনায় হ্রাস পায় । প্রবৃদ্ধি অর্জনের এ ধারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হিসাব অনুযায়ী ৬.১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাত (স্বাস্থ্য ও সামাজিক) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতে প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২.৪৬ শতাংশ, ৮.৬৮ শতাংশ এবং ৫.০২ শতাংশ । পূর্ববর্তী ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ খাতসমূহে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ১.৪৭ শতাংশ, ১০.৩১ শতাংশ এবং ৪.৭৬ শতাংশ । কৃষিখাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাপক সরকারি সহায়তা যেমন- পর্যাপ্ত ভর্তুকী প্রদান, সেচের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কৃষি ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি, প্রতিকূল আবহাওয়া ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু বীজ উদ্ভাবন এবং কৃষি ভিত্তিক শিল্পের বিকাশে সহায়তা প্রদান প্রভৃতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে । বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে শিল্পখাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সার্বিক সেবা খাতের অন্তর্ভূক্ত প্রায় সবগুলো খাতই মোটামুটি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখায় এ খাতের প্রবৃদ্ধিও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় আয় ও মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১,১৮৪ ও ১,১১০ মার্কিন ডলার, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরে ছিল যথাক্রমে ১,০৫৪ ও ৯৭৬ মার্কিন ডলার। ২০১৫ এসে বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে