ইউনিয়ন পরিষদ
ইউনিয়ন পল্লী অঞ্চলের সর্বনিম্ন প্রশাসনিক ইউনিট। গ্রাম চৌকিদারি আইন ১৮৭০ এর অধীনে ১৮৭০ সালে কিছু পল্লী সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ইউনিয়নের সৃষ্টি হয়। এ আইনের অধীনে প্রতিটি গ্রামে পাহারা-টহল ব্যবস্থা চালু করার উদ্দেশ্যে কতগুলি গ্রাম নিয়ে একটি করে ইউনিয়ন গঠিত হয়। ইউনিয়ন গঠনের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা লিপিবদ্ধ রয়েছে বেঙ্গল চৌকিদারি ম্যানুয়েলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অনুচ্ছেদে। এ প্রক্রিয়ার বিকাশের মধ্য দিয়ে একটি স্থানীয় সরকার ইউনিটের ধারণার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এর ভূমিকা নিরাপত্তামূলক কর্মকান্ডে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীকালে এটিই স্থানীয় সরকারের প্রাথমিক ইউনিটের ভিত্তিরূপে গড়ে ওঠে।
বিলুপ্ত প্রাম সরকার
১৯৭৬ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নতুন সরকার স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। এতে তিন ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়, যথা, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের গঠন ও কার্যাবলি বলতে গেলে ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির ২২ নং অধ্যাদেশের অনুরূপই থেকে যায়। তবে ব্যতিক্রম শুধু ভাইস-চেয়ারম্যানের পদের বিলুপ্তি এবং দু’ধরনের অতিরিক্ত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সংযোজন, যেমন দুজন মনোনীত মহিলা সদস্য এবং দুজন মনোনীত কৃষক সদস্য। ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল পাঁচ বছর নির্ধারিত ছিল।পরবর্তীকালে এটি বিলুপ্ত ঘোষনা হয়।
পৌরসভা
পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যালিটি বাংলাদেশের শহরাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার একটি একক। বাংলাদেশে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর এবং গাজীপুর মহানগরগুলোর ১১টি সিটি কর্পোরেশন ছাড়া ৩২৬টি পৌরসভা আছে।
সিটি করপোরেশন
নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের সদস্যদেরকে মেয়র, কাউন্সিলর, প্রশাসকি প্রভৃতি বলা হয়। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত প্রধানকে মেয়র বলা হয়। মেয়রকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেন এলাকা-ভিত্তিক নির্বাচিত কাউন্সিলরগণ। বাংলাদেশের নির্বাচন আইন দ্বারা অযোগ্য নয় এরূপ ব্যক্তি মেয়র ও সদস্য হতে পারেন। বর্তমান আইনানুসারে সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ বা কার্যকাল ৫ বছর।