আকবরঃ

আকবরঃ

আকবরের পিতা হলেন হুমায়ুন এবং পিতামহ বাবর। মাত্র তের বছর বয়সে ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আকবর দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। এ সময় পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে রাজপুত বীর হিমুর মুখোমুখি হন ( ১৫৫৬ সালে)। যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে আকবর হাতছাড়া হয়ে যাওয়া দিল্লি পুনরুদ্ধার করেন এবং মুঘল সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব রক্ষা করেন। তার  সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বাপেক্ষা বিস্তার ঘটে। তিনি রাজপুত ও  হিন্দুদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অমুসলিমদের উপর ধার্যকৃত সামরিক কর’জিজিয়া  কর’ রহিত করেন এবং রাজপুত কন্যা যোধাবাইকে বিবাহ করেন। ১৫৭৬ সালে দাউদ খান কররানীকে পরাজিত করে আকবর বাংলার কিয়দংশ দখল করেন। পরবর্তীতে সেনাপতি মানসিংহকে প্রেরণ করলেও আকবরের সময়ে সমগ্র বাংলা মুঘল দের শাসনাধীনে আনীত হয়নি। তিনি বাংলার কৃষকদের নিকট হতে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সাল প্রতিষ্ঠা করেন। হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সম্মিলনের জন্য ১৫৮২ সালে তিনি ‘দীন-ই-ইলাহী; নামে একটি নতুন ধর্ম প্রচলন করেন। সম্রাট আকবর অমৃতস্বরের স্বর্ণমন্দির নির্মাণ করেন। তিনি বুলন্দ দরোয়াজা নির্মাণ করেন। বীরবল, ফৈজী, টোডরমল, তানসেন প্রভৃতি গুণী ব্যক্তি তার রাজসভা অলংকৃত করেন। টোডরমল ছিলেন রাজস্বমন্ত্রী ও সংস্কারক। আকবরের সভার গায়ক তানসেনের উপাধি ছিল বুলবুল-ই-হিন্দ। আবুল ফজল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আইন-ই-আকবরী’।  ১৬০৫ সালে আকবর পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার সমাধি ভারতের সেকেন্দ্রায় অবস্থিত।