আদমশুমারী

আদমশুমারী

আদমশুমারি একটি দেশের জনসংখ্যার সরকারি গণনা হিসেবে গণ্য করা হয়। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে আদমশুমারি একটি জনগোষ্ঠীর বা দেশের  জনসংখ্যা গণনার সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ। তথ্য একত্রীকরণ এবং জনমিতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক তথ্যাদি প্রকাশ করা বোঝায়। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী আদমশুমারিতে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ থাকা প্রয়োজন (১) প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য গণনা, (২) একটি চিহ্নিত এলাকায় সামষ্টিক গণনা, (৩) একই সঙ্গে সারাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা এবং (৪) নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অনুষ্ঠান। আদমশুমারির জন্য সুপারিশকৃত প্রয়োজনীয় বিষয়াদির মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের প্রয়োজন রয়েছে। প্রথমত, প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য: আদমশুমারির সময় যেখানে পাওয়া গেছে অথবা যেখানে বাস করেন, জন্মস্থান, বর্তমান বাসস্থানে কতদিন যাবত বাস করছেন, পূর্বের বাসস্থান, কর্মস্থান; দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত এবং বাড়ি সংক্রান্ত তথ্যাদি: লিঙ্গ, বয়স, বাড়ির প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, পরিবার প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, বৈবাহিক অবস্থা, বিবাহের মেয়াদকাল, বিবাহক্রম, মোট জীবিত জন্মগ্রহণকারী সন্তান সংখ্যা, বর্তমানে জীবিত সন্তানসংখ্যা, নাগরিকত্ব, শিক্ষা, স্কুলের উপস্থিতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষাগত অর্জন, জাতীয়/নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, ভাষা, ধর্ম এবং তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য কর্মের ধরন, পেশা, অর্থনৈতিক অবস্থা, জীবন ধারণের প্রধান উৎস্য। উপরিউক্ত বিষয়সমূহের উপর ভিত্তি করে আরো কিছু তথ্য আদমশুমারির জন্য প্রয়োজনীয়। ১) ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ: জনসংখ্যার সমষ্টি, এলাকা-শহর, গ্রাম, (২) ব্যক্তিগত এবং বাড়িসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য: পরিবারের গঠন, বাড়িতে বসবাসকারী সদস্যদের গঠন, (৩) অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য: আর্থ-সামাজিক অবস্থা, নির্ভরতা ইত্যাদি। আইনত (Dejure) অথবা কার্যত (De facto) পদ্ধতিতে আদমশুমারির প্রতিটি মানুষকে আবাসিক অথবা কোনো একটি এলাকায় উপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিস্তারিত