শায়েস্তা খান
শায়েস্তা খান ( ১৬৬৩-’৭৮, ৭৯-’৮৮)
মীর জুমলার মৃত্যুর পর আওরঙ্গজেব তার মামা শায়েস্তাখানকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন। শায়েস্তা খানের আমলকে বাংলায় স্থাপত্য শিল্পের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এ সময়ে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। তিনি পর্তুগীজ ও মগ জলদস্যুদের তাড়িয়ে চট্টগ্রাম দখল করেন এবং নাম রাখেন ‘ইসলামাবাদ’। এ সময় চট্টগ্রাম প্রথমবারের মত পূর্ণভাবে বাংলার সাথে যুক্ত হয়। তিনি দক্ষিন বাংলা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের মগ ও জলদস্যুদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করেন। তিনি চকবাজার এলাকায় ছোট কাটরা নির্মাণ করেন। তার উৎসাহে মীর মুরাদ ‘হোসেনী দালান’ নির্মাণ করেন। তার সময়ে টাকায় ৮ মন চাউল বিক্রি হত।
১৬৭৮ সালে ৮৪ বছর বয়সে তিনি বাংলা ত্যাগ করলে প্রথমে ফিদাই খান ও পরে শাহজাদা মুহম্মদ আযম বাংলার সুবাদার হয়। শাহজাদা আযম ঢাকায় একটি দুর্গ নির্মানের পরিকল্পনা করে সীমানা দেয়াল স্থাপন কারেন এবং নামকরণ করেন ‘কেল্লা আওরঙ্গবাদ’। এক বছরের মাথায় শাহজাদা আযম বাংলা ত্যাগ করলে শায়েস্তা খান পুনরায় বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়। তিনি দুর্গের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করেন। এ সময় তার কন্যা ‘ইরান দূখত’ (পরী বিবি) মারা গেলে তিনি দুর্গকে অপয়া ভেবে নির্মাণ কাজ স্থগিত করেন। পরবর্তীতে ইব্রাহীম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হলে ১৬৯০ সালে দুর্গের কাজ সমাপ্ত হয়। এটিই বর্তমান কালের লালবাগের কেল্লা।