বাংলার বার ভূঁইয়া
‘বার ভূঁইয়া’ ছিল পাঠান ও হিন্দু জমিদারদের পরিচিতিমূলক শব্দ। বার ভুঁইয়া কথাটা প্রসিদ্ধি লাভ করলেও ভূঁইয়াদের সংখ্যার বার অপেক্ষা বেশি ছিল (‘বার’ শব্দটি অনির্দিষ্ট অর্থেও ব্যবহৃত হতো)। এবং তাদের কেহ কেহ হিন্দু ছিলেন। ভুঁইয়াদের মধ্যে সোনারগাঁয়ের ঈসা খা ছিলেন শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী নরপতি। ১৫৭৬ সালে দাউদ খান কররানীকে পরাজিত করলেও বাংলার সামান্য অংশ মুঘলদের অধিকারে আসে। বাংলার বিশাল অংশ ভুঁইয়াদের দখলে ছিল। তারা আকবরের শাসন মেনে নেয়নি। মুঘলগন সমগ্র বাংলা দখলের প্রচেষ্টায় যুদ্ধ করে এবং তাদের সামনে প্রধান বাধা হিসেবে আসে ঈসা খাঁ। তিনি মুঘল আমলে সোনারগাঁয়ে রাজধানী স্থাপন করেন। ঈসা খাঁ মুঘল সুবাদার শাহবাজ খানকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। পরে সম্রাট আকবর সেনাপতি মানসিংহকে সুবাদার নিযুক্ত করলেও তিনি তাকে পরাজিত করতে পারেননি।
১৫৯৯ সালে ঈশা খাঁ প্রাণত্যাগ করলে তার পুত্র মুসা খাঁ সোনারগাঁয়ের প্রভু হলেন। ১৬০২ সালে রাজা মানসিংহ এক নৌযুদ্ধে মুসা খাঁকে পরাজিত করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ সালে শেখ আলাউদ্দিন ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন। ১৬০৯ সালে তিনি সোনাগাঁয়ের মুসা খাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাকে পরাজিত ও বিতাড়িত করেন। ফলে সোনারগাঁয়ের পতন হয়। ১৬১০ সালে ইসলাম খান বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহল হতে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবাং নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর। ১৬১২ সালে ময়মনসিংহের খাজা ওসমানকে পরাজয়ের মাধ্যমে ইসলাম খান সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনাধীনে আনেন।