রাজা শশাঙ্ক

রাজা শশাঙ্ক

গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর বঙ্গদেশ দুটি স্বাধীন অংশে বিভক্ত হয়-প্রাচীন বঙ্গরাজ্য ও গৌড়।দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চল ছিল বঙ্গ রাজ্য এবং বাংলার পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল জুড়ে ছিল গৌড়। সপ্তম শতকে গৌড় বলতে বাংলাকে বুঝাতো।গৌড় রাজ্যে প্রথম স্বাধীন সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক।তিনি প্রথম বাঙ্গালী রাজা। তিনি হলেন প্রাচীন বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নরপতি। সপ্তমশতাব্দীর প্রথম ভাগে রাজা শশাঙ্ক গৌড় রাজ্য শাসন করেন। তিনি ছিলেন গৌড়ের স্বাধীন সুলতান তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী ‘কর্ণসুবর্ণ’। এটি বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙ্গামাটি অঞ্চল। তার রাজ্যসীমা ছিল উত্তরে পুন্ড্রবর্ধন, দক্ষিণে উড়িষ্যার গঞ্জাম জেলা,পশ্চিমে বারানসী এবং পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ শশাঙ্কের রাজ্য ছিল না।রাজ্য বিস্তারের মাধ্যমে পূর্ব ভারতের সম্রাট হন এবং মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেন।৬৩৭ সালে রাজা শশাঙ্ক মারা যান। কথিত, গয়ায় বোধিবৃক্ষ ছেদন করায় শশাঙ্কের গায়ে ক্ষতরোগ হলে তিনি মারা যান। কূটনীতি ও সামরিক দক্ষতার মাধ্যমে শশাঙ্ক গৌড়ের চিরশত্রু মৌখরী রাজবংশের উচ্ছেদ রাজ্য  তিনি সাধন করেন। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী সম্রাট হর্ষবর্ধনের মোকাবেলায় নিজ ক্ষমতা ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে সমর্থ হন। তিনি বাংলার প্রথম রাজা যিনি বাংলার বাইরে উত্তর ভারতে বাংলার আধিপত্য ও গৌরব বিস্তারে সমর্থন হন তিনি প্রজাহিতৈষী শাসক ছিলেন। তবে বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং হিন্দু ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।