মাৎস্যন্যায়
শশাঙ্কের মৃত্যুর পরবর্তী একশত বছর অর্থাৎ সপ্তম-অষ্টম শতকের অরাজকতা ও আইনশৃঙ্খলাহীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা হল মাৎস্যন্যায়। এ সময় বড় কোন সাম্রাজ্য বা শক্তিশালী রাজা ছিল না। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গ্রাস করে, সবল রাজ্য এখানে দুর্বল রাজ্যকে গ্রাস করত বলে এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। এই শোচনীয় অবস্থা দুর করার জন্য তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গোপাল নামে একজন ব্যক্তিকে নেতা নির্বাচন করেন।
পাল বংশ(৭৫৬-১১৬১)
গোপাল (৭৫৬-৭৮১) ছিলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন উত্তরবঙ্গের একজন শক্তিশালী নেতা। রাজ্যের কলহ ও অরাজকতা দূর করার জন্য অমাত্যগণ ও সামন্ত শ্রেণী গোপালকে রাজা নির্বাচন করেন। তিনি বাংলায় প্রথম বংশানুক্রমিক শাস শুরু করেন। । ক্ষত্রিয় বংশে জন্মগ্রহণকারী গোপাল প্রায় সমগ্র বাংলায় প্রভুত্ব স্থাপন করেন। বাংলার প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ হল পাল বংশ। এ বংশের রাজাগণ প্রায় চার শত বছর রাজত্ব করেন।
ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) ছিলেন পাল বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট বা নরপতি। তিনি বাংলা থেকে পাঞ্চাবের জলন্ধর পর্যন্ত সমগ্র উত্তর ভারতে রাজ্য বিস্তার করেন। পাহাড়পুরের বিখ্যাত বৌদ্ধবিহার সোমপুর বিহার তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এছাড়া মগধের বিখ্যাত বিক্রমশীলা বিহারও (বর্তমান ভাগলপুরে) তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।
মহীপাল (৯৮৮-১০৩৮) বেনারস ও নালন্দার ধর্মমন্দির, দিনাজপুরের মহীপাল দিঘি. ফেনীর মহীপাল দিঘি খনন করেন।ফেনীতে এখনও মহীপাল স্টেশন নামে বাস স্টেশন আছে।
রামপালের সময়ে (১০৭৭-১১২০) তার মন্ত্রী ও সভাকবি সন্ধ্যাকর নন্দী বিখ্যাত ‘রামচরিত কাব্য’ রচনা করেন। গোবিন্দপাল ছিলেন (১১৫৫-১১৬১) পাল বংশের শেষ রাজা।