বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস(বঙ্গভঙ্গ)

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস(বঙ্গভঙ্গ)

ব্রিটিশ শাসনাধীনে সবচেয়ে বড় প্রদেশ ছিল বাংলা। বাংলাকে ঘিরে ভারতীয় রাজনীতি পরিচালিত হত। ফলে বাংলার অধিকাংশ অঞ্চলে রাজনীতি সচেতনতা গড়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকেই ব্রিটিশদের কর্তৃত্ব মানতে চাইতো না এবং সুযোগ পেলেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতো। এ কারণে বাংলার বিভিন্ন অংশে প্রশাসনিক শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। বৃহৎ বাংলা প্রদেশ একজন গভর্নরের অধীনে সুশাসন পরিচালনা দূরুহ-এ যুক্তিতে ব্রিটিশগণ বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করে। ১৮৯৯ সালে লর্ড কার্জন বড়লাট নিযুক্ত হন। তিনি ১৯০০ সালে বঙ্গবিভাগের ঘোষণা দেন এবং ১৯০১ সালে মি. ফ্রেজারকে বাংলা প্রেসিডেন্সির লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত করেন।

৫ জুলাই, ১৯০৫ সরকারিভাবে বঙ্গবিভাগ ঘোষণা দেয়া হয় এবং ১৬ অক্টোবর, ১৯০৫ এটি কার্যকর হয়।  বাংলাদেশ, আসাম, পার্বত্য ত্রিপুরা এবং দার্জিলিংকে নিয়ে একটি নতুন প্রদেশ গঠিত হয় যার নাম হয় পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং রাজধানী হয় ঢাকা। মি. বামফিল্ড ফুলারকে নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। এদেশে ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ্ ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে ও ব্যবসা বানিজ্য উত্তরোত্তর বৃ্দ্ধি পেতে থাকে।

কলকাতার হিন্দুদের এটি পছন্দ না হওয়ায় হিন্দুরা বঙ্গবিভাগের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে এবং বিলেতি দ্রব্য বর্জনের ডাক দেয়। এতে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বাণিজ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে ১২ ডিসেম্বর ১৯১১ রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লী দরবারে বজ্ঙ্গবিভাগ রদের ঘোষণা দেন। বঙ্গভঙ্গ রদের সুপারিশ করেন তৎকালীন ভাইসরয়  হার্ডিঞ্জ (দ্বিতীয়)। ২০ জানুয়ারি, ১৯১২ তা কর্যকর হয়। বঙ্গবিভাগ রদের পর বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন লর্ড কারমাইকেল।