পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ(পাকিস্তানে সামরিক শাসন ১৯৫৮ সাল)

পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ(পাকিস্তানে সামরিক শাসন ১৯৫৮ সাল)

অক্টোবর ৭: ইস্কান্দার মীর্জা দেশে সামরিক আইন জারি করেন এবং আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিয়োগ করেন। অক্টোবর ২৭: জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল।

১৯৬০: মার্চ ২৩: আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।


পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ(ভাষা আন্দোলন)

* জুলাই-৪৭ আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করেন।

* ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ পত্রিকার মাধ্যমে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ভাষা বাংলাকে স্বীকৃতি দানের যুক্তি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন পরিচালনার জন্য সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত সংগছন ‘তমদ্দুন মজলিশ’। ২ সেপ্টেম্বর ’৪৭ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে এটি গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়ে। ১৫ সেপ্টেম্বর ’৪৭ তমদ্দুন মজলিশের পক্ষ থেকে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শীর্ষক একটি সংকলন পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।

নভেম্বর- ১৯৪৭ করাচীতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ‘উর্দু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

ভাষা আন্দোলনের একজন পথ প্রদর্শক হিসেবে খ্যাত ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ পাকিস্তান গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় পরিষদ সদস্য কুমিল্লার (বিবাড়ীয়ার) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উন্থাপন করেন। কিন্তু তার প্রস্তাব প্রত্রাখ্যাত হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ৪৮ গণপরিষদে বাংলাভাষায় বক্তব্য প্রদানের জন্য এবং ধারাবিবরণীতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের অনুমতি প্রার্থনায় প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান বিরোধিতা করেন।

২১ মার্চ, ১৯৪৮ গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার রেডকোর্স ময়দানের জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা করেন।  ২৪ মার্চ ‘ ৪৮ কার্জন হলে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মি. জিন্নাহ পুনরায় এই ঘোষণা দিলে উপস্থিত ছাত্রগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

২ মার্চ, ১৯৪৮ জনাব শামসুল আলমকে আহবায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। ১১ মার্চ, ৪৯ ছাত্র ফেডারেশনের বামপন্থী যুব কর্মীগণ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন দিবস পালন করে। ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ১১ মার্চ তারিখ ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।