ভাষা আন্দোলনের সংগঠনসমূহ

ভাষা আন্দোলনের সংগঠনসমূহ:

১. তমুদ্দুন মজলিস

-গঠিত হয় ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭; নেতৃত্বে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাশেম। এ সংগঠন ভাষা আন্দোলন বিষয়ক পুস্তিকা ‘ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু (প্রকাশকাল ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭)। ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকার লেখক- ৩ জন: ১. অধ্যাপক আবুল কাশেম, ২. ড. কাজী মোতাহার হোসেন, ৩. আবুল মনসুর আহমেদ।

২. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম

-গঠিত হয় ১লা অক্টোবর, ১৯৪৭। আহ্বায়ক ছিলেন, এএসএম নুরুল হক ভূইয়া

৩. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ (দ্বিতীয়বার)

-গঠিত হয় ২ মার্চ ১৯৪৮। আহ্বায়ক ছিলেন শামসুল আলম। এ সংগঠনের সাথে খাজা নাজিমুদ্দীনের ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

৪. পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি

-গঠিত হয় ৯মার্চ ১৯৪৯। সভাপতি মাওলানা আকরাম খাঁ।

৫. বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বা কমিটি

-গঠিত হয় ১১ মার্চ ১৯৫০। আহ্বায়ক আব্দুল মতিন।

৬. সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ

-গঠিত হয় ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২। আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুব।

 

৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রদানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দীন এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন। ২৭ জানুয়ারি ’৫২ খাজা নাজিমুদ্দীন কর্তৃক পল্টন ময়দানে পুনরায় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর কথা ঘোষণা করা হয়। ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ মওলানা ভাসানীকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ’ গঠিত হয়। কমিটি তাদের প্রথম বৈঠকে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্বান্ত গ্রহণ করে। কারণ ঐদিন পণপরিষদের অধিবেশন ছিল।

২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি (বাংলা মেডিকেল কলেজের সামনে) গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ছাত্রনেতাগণ মিটিং করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আবদুস সামাদ আজাদ চারজন মিঠিলের প্রস্তাব করে। প্রথম  মিছিলের নেতৃত্ব দেন হাবিবুর রহমান শেলী। দ্বিতীয় মিছিলের নেতৃত্ব দেন আবদুস সামাদ আজাদ। মিছিল জনসমুদ্রে পরিণত হলে পুলিশের গুলিতে মোট ৮ জন শহীদ হয়। এ আন্দোলন এক নতুন জাতীয় চেতনার জন্ম দিয়েছে।