হিন্দু ধর্ম
বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্ম হলো হিন্দু ধর্ম। হিন্দু ফারসি শব্দ। এর ধর্মমতের কোন প্রবর্তক নেই, নেই কোন শুরুর দিন তারিখ। এজন্য একে সনাতন ধর্ম বলা হয়।
হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। পবিত্র বেদের বিস্ময়কর প্রকাশের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মানুসারীগণ ধর্মকে পেয়েছে। বেদের চারটি খন্ড রয়েছে- ঋকবেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ। প্রত্যেক বেদের দুটি অংশ রয়েছে-সংহিতা ও ব্রাক্ষ্মণ। সংহিতা ভাগে রয়েছে মন্ত্র এবং ব্রাক্ষ্মণ ভাগে রয়েছে মন্ত্রের অর্থ ব্যবহার নির্দেশ। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে সাহিত্যিক বর্ণনা পাওয়া যায় ঋকবেদের শ্লোকসমূহে। হিন্দুধর্মের অন্যান্য গ্রন্থগুলো হল উপনিষদ, স্মৃতিশাষ্ত্র, পুরাণ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা, রামায়ণ, মহাভারত। কাশী, গয়া, বৃন্দাবন, সীতাকুন্ড তাদের পুণ্যস্থান।
বর্ণপ্রথা অনুসারে হিন্দু ধর্মে চারটি প্রধান বর্ণ রয়েছে-
ব্রাক্ষ্মণ-ধর্মগুরু ও পৌরহিত্য সাধন
ক্ষত্রিয়-দেশরক্ষা
বৈশ্য-ব্যবসা বাণিজ্য
শুদ্র- কায়িক শ্রম তথা সেবা প্রদান
হিন্দুধর্মে প্রধান তিন দেবতা হচ্ছে-
ব্রক্ষ্মা: ব্রক্ষ্মা প্রধান দেবতা। ব্রক্ষ্মা সৃজনকর্তা।পত্নী স্বরস্বতী। স্বরস্বতী বিদ্যা বা জ্ঞানের প্রতীক।
বিষ্ণু: সৃষ্টির রক্ষাকারী ও পালনকর্তা। পত্নী হলেন লক্ষ্মী। লক্ষ্মী সম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রতীক। বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হলো শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় জন্মগ্রহণ করেন, তার মামার নাম কংস।
শিব: সৃষ্টির সংহার বা বিনাশকারী। মহাদেব নামে পরিচিত। পত্নী হলেন কালী বা দুর্গা। দুর্গা শক্তির প্রতীক। কার্তিক, গনেশ, লক্ষ্মী ও স্বরস্বতী শিব-দুর্গার পুত্র-কন্যা।