বৌদ্ধ ধর্ম

বৌদ্ধ ধর্ম

বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামানব গৌতম বুদ্ধ নেপালের কপিলাবস্তুতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রাজা শুদ্ধোধন এবং মাতা রানী মহামায়া। কথিত যে, রাজধানী কপিলাবন্তু থেকে ১২ ক্রোশ দূরে পিত্রালয়ে সন্তান প্রসবের গমনপথে ‘লুম্বিনি’ অরোন্যাদ্যানে বুদ্ধকে প্রসব করেন। শাক্য বংশে জন্মগ্রহণকারী গৌতমের বাল্যনাম ছল সিদ্ধার্থ। ২৯ বছর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করেন। তিনি বুদ্ধগয়া নামক স্থানে নিরঞ্জনা নদীর তীরে এক অশ্বথতলায় ধ্যান-নিমগ্নতার মধ্যে ‘সম্বোধি’ জ্ঞান লাভ করেন। অশ্বথগাছটি  নামকরণ করা হয় বোধিবৃক্ষ। ৪৮৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বুদ্ধ গঙ্গার উত্তরপাড়ের বারানসীর কুশীনগরের এক শালবনে উত্তরীয় শয়ানে এক বৈশাখী পূর্ণিমা তিথীতে ৮০ বছর বয়সে প্রাণত্যাগ করেন।

বৌদ্ধ ধর্মের মূল কথা অহিংসা পরম ধর্ম। বুদ্ধ সাধনার মাধ্যমে চারটি সত্রের সন্ধান পেয়েছেন-দু:খ, দু:খের কারণ, দু:খ নিরোধ এবং দু:খ নিরোধের উপায়। তিনি মানুষকে পঞ্চশীল পালনের উপদেশ দিয়েছেন- জীব হত্যা না করা, চুরি না করা, মিথ্যা থেকে বিরত থাকা, মিথ্যা কামাচারে বশীভূত না হওয়া এবং মদ্যাসক্ত না হওয়া।

অন্য ধর্মে যেখঅনে ধর্মীয় বিধান পালনের মাধ্যমে স্বর্গলাভ মূল লক্ষ্য, সেখানে বৌদ্ধ ধর্ম দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাণ লাভ করা। রুপ, রস, স্বাদ, গন্ধ, স্পর্শ সকল প্রকার দু:খ থেকে চিরমুক্তি লাভ করে বিমুক্ত সুখের অধিকারী হওয়াকে নির্বাণ বলা হয়। নির্বাণ হলো বর্তমান জনমে পরম সুখ লাভ। বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক। এটি পালিভাষায় রচিত। প্যাগোডা হলো বৌদ্ধদের মন্দির। বুদ্ধগয়া, সারনাথ তাদের পূণ্যস্থান।

পাকিস্তানের তক্ষশীলা পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত বৌদ্ধধর্মের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান।