গ্রিক সভ্যতা
খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অব্দ হতে গ্রীক সভ্যতার সূত্রপাত। রোমানরা ‘হেলাস’ দেশকে ‘গ্রীক’ নামে রুপান্তরিত করে। গ্রীসের লোকেরা অতীতে নিজেদের ‘হেলেনীজ’ বলত। তাদের সংস্কৃতিকে হেলেনিক আখ্যায়িত করা হয। আর হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির জন্ম হয় মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক সংস্কৃতির সাথে অন্য সংস্কৃতির মিশ্রণে। গ্রীক সভ্যতা মূলত স্পার্টা ও এথেন্সকেন্দ্রিক, স্পার্টা ছিল সামরিক নগররাষ্ট্র। নাগরিকদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল বাধ্যতামূলক এবং বিশ থেকে ষাট বছর পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তাদের শ্রম দিতে হত। এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে যে লোমহর্ষক যুদ্ধ হয় তা হল পোলোপনেসিয়ার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে পতন ঘটে এথেন্সের।
নগররাষ্ট্র এথেন্সে সুচিত হয় পৃথিবীর প্রাচীন গনতন্ত্র। গণতন্ত্রের বেশ কয়েক শতাব্দী সময় লেগেছিল। এ সময় নাগরিকরা প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগে অবাধে অংশ নিতে পারত। অর্থাৎ গণতন্ত্রের প্রাণ হিসেবে জনগণের ভূমিকা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যবস্থা হয়েছেল। এথেন্সের গোত্রপ্রধানদের নিয়ে গঠিত সংসদকে বলা হত ‘এরিওপেগাস’। দর্শন চর্চায় গ্রীক সভ্যতার ভূমিকা অত্যন্ত উজ্বল। সক্রেটিস ছিলেন ও সময়ের শ্রেষ্ট দার্শনিক। তিনি যুক্তিবাদী দর্শন প্রবর্তন করেন। এদের সফিস্ট বলা হয়। সক্রেটিসকে হেমলক বিষ পানে হত্যা করা হয়। এছাড়া প্লেটো (গ্রন্থ: রিপাবলিক), এরিস্টটল (গ্রন্থ: দি পলিটিক্স) গ্রীসের বিখ্যাত দার্শনিক। প্লেটো দর্শনের স্কুল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। নিকলো ম্যাকিয়াভ্যালি (গ্রন্থ: দি প্রিন্স) আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক।
ঐসময়ে গ্রিসে প্রাচীন অলিম্পিক শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে। এরা ভাস্কর্য, সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র, চিকিৎসা প্রভৃতি ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখিয়েছে। গ্রীক নাট্যকার ঈস্কিলাস (নাটক; প্রমিথিউস, আগামেনন), সফোক্লিস (নাটক: রাজা ইদিপাস, ইলেক্ট্রা) এ সময় নাটক রচনা করেন। এ সময় ইতিহাস রচনা করেন হিরোডটাস। তিনি ছিলেন ইতিহাসের জনক। এছাড়া থুকিডাইডস ইতিহাস রচনায় খ্যাতিমান। গ্রীকরা দেবদেবীতে বিশ্বাসী ছিল। গ্রিকদের প্রধান দেবতা ছিল জিউস।