চতুর্থ হেনরির অভ্যন্তরীণ নীতিসমূহ বিশ্লেষণ করুন।
২ চতুদর্শ লুইয়ের অভ্যন্তরীণ সংস্কার আলোচনা করুন।
চতুদর্শ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি বিশ্লেষণ করুন।

বুরবোঁ রাজবংশের উত্থানের প্রাক্কালে ফ্রান্সে ধর্মীয় সংঘাত : চতুর্থ হেনরির ক্ষমতায়
আরোহন :
চতুর্থ হেনরি ফ্রান্সের অন্যতম শক্তিশালী রাজা হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন। গৃহযুদ্ধোত্তর
ফ্রান্সকে পুনপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিরাট ভ‚মিকা পালন করেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে চতুদর্শ লুই যে
শক্তিশালী ফরাসি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার ভিত্তি স্থাপন করেন চতুর্থ হেনরি।
ইউরোপে অন্যান্য দেশের মতো ফ্রান্সেও সংস্কারবাদী আন্দোলন দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের
প্রোটেস্টান্টবাদ হিউগিনেট নামে পরিচিত ছিল। ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফ্রান্সিস এবং দ্বিতীয়
হেনরির সময়ও হিউগিনটদের উপর নির্মম নিযার্তন চালানো হয়। তবে এই নিপড়ীনের পরেও
প্রোটেস্টান্টবাদ, বিশেষত ক্যালভিনপন্থী প্রোটেস্টান্টবাদ দ্রæত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। দ্বিতীয়
হেনরির মৃত্যুর পর তাঁর নাবালক পুত্র দ্বিতীয় ফ্রান্সিসের সময় ফ্রান্স স্কটল্যান্ডের গাইস
পারিবারের অধীনে ছিল। দ্বিতীয় হেনরির স্ত্রী ফ্রান্সিস-এর রাজ প্রতিনিধি নিযুক্ত হন এবং তার
বাবা গাইস নামে পরিচিত ছিলেন। ফ্রান্সিস ডিউক এবং কার্ডিনাল চালর্স গাইস নতুন রাজার
রাজ প্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। তারাও তীব্র
হিউগিনট বিদ্বেষী ছিলেন। তবে গাইসদের এই উত্থান এবং প্রভাব ফ্রান্সের অন্যান্য রাজনৈতিক
গ্রট্টপের মধ্যে বিদ্বেষের সৃষ্টি করে। বিশেষত বুরবোঁদের মধ্যে যারা গাইসদের ক্ষমতা ভাঙ্গতে
দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন ফ্রান্সের হিউগিনটরা এই সময় বুরবোঁদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের
অধিকারসমূহ আদায় করতে ইচ্ছুক হয়ে উঠেন। এভাবে হিউগিনটদের আন্দোলন একটি
রাজনৈতিক রূপ পরিগ্রহ করে। ১৫৬০ সালে রাজাকে অপহরণ করার ষড়যন্ত্রে গাইসরা ভীত
হয়ে হিউগিনটদের কিছু সুবিধা দেয়। ১৫৬০ সালে দ্বিতীয় ফ্রান্সিস মারা যায় এবং তার ভাই
নবম চালর্স রাজা নিযুক্ত হন। তবে তার বয়স দশ হওয়ায় ক্যাথরিন ডি মেডিচি রাজপ্রতিনিধি
নিযুক্ত হন। হিউগিনটদের অধিকতর দাবির মুখে ১৫৬২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই গৃহযুদ্ধ
দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে। তবে গৃহযুদ্ধে প্রোটেস্টান্টদের বিজয়ে ১৫৭২ সালের ২৪শে
আগস্ট বার্থলোমিওর দিন প্রায় দশ হাজার হিউগিনটকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হাজার
হাজার হিউগিনট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। গৃহযুদ্ধ আবার শুরু হয়। তবে রাজকীয় বাহিনীর

আক্রমণের মুখেও হিউগিনটরা তাদের শহরের দুর্গ রক্ষা করে। প্রতিসংস্কার আন্দোলন এবং
জেসুইট ও উগ্রক্যাথলিকদের প্ররোচনায় হেনরি গাইসের নেতৃত্বে ১৫৭৬ সালে একটি
ক্যাথলিক লীগ গড়ে উঠে।
১৫৭৪ সালে নবম চালর্সের মৃত্যুর পর তার ভাই তৃতীয় হেনরি ফ্রান্স ভ‚খন্ডের দক্ষিণ অঞ্চলের
ক্ষমতা গ্রহণ করেন। অভিজাত এবং বুজোর্য়ো শ্রেণী দ্রæত বৃহত্তর ফরাসি অঞ্চলকে ঐক্যবদ্ধ
করার লক্ষ্যে একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ক্যাথলিক লীগকে দুর্বল করার
প্রচেষ্টা থেকেই তৃতীয় হেননি ১৫৮৫ সালে প্যারিস লীগ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বৃহত্তর ফ্রান্সকে
সংগঠিত করার প্রক্রিয়া হিসেবে অচিরেই কাজ করে। হেনরি তৃতীয় উক্ত লীগের প্রধানও
নিযুক্ত হন। এর ফলে হেনরি গাইসদের সঙ্গে তার বিরোধ বেড়ে যায়। ফ্রান্সে গাইসপন্থী এবং
দক্ষিণের হেনরি নাভারদের বাহিনী যৌথভাবে প্যারিস আক্রমণ করে। ফ্রান্সে গৃহযুদ্ধ দেখা
দেয়। ১৫৮৯ সালের ১ আগস্ট তৃতীয় হেনরি নিহত হন। হেনরি নাভার ৪র্থ হেনরি নামধারণ
করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
নবম চালর্সসের মৃত্যুর পর তার ভ্রাতা তৃতীয় হেনরি ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন। তৃতীয় হেনরি
সিংহাসনে আরোহন করলেও তিনি ছিলেন অসুস্থ। তাই আশঙ্কা দেখা দেয় যে তার মৃত্যুর পর
ফ্রান্সের রাজক্ষমতা ভ্যালোস পরিবারের পরিবর্তে বুরবোঁ পরিবারের নেতা হলেন হেনরি
ন্যাভারি, তিনি হিউগিনটদের নেতা। সুতরাং ক্যাথলিক লীগ গঠনের পর থেকে ফ্রান্সে অস্থিরতা
সৃষ্টি হয়। ক্যাথলিক এবং পবিত্র লীগ ফ্রান্সের সকল হিউগিনটদের চিহ্নিতকরণের পক্ষে ছিলো।
সুতরাং, তিন হেনরির মধ্যে যুদ্ধ আসন্ন হয়ে পড়ে :
ক) শাসক রাজা তৃতীয় হেনরি যিনি ছিলেন উদার পন্থী ক্যাথলিক;
খ) হেনরি ডিউক অব গাইস, উগ্রপন্থী ক্যাথলিক;
গ) হেনরি ন্যাভারি হিউগিনট এবং বুরবোঁ বংশোদ্ভুত।
হেনরি গাইস প্রথম দিকে তৃতীয় হেনরির সঙ্গে একত্রিত হয়ে অস্ত্র ধারণ করলেও তৃতীয়
হেনরির সঙ্গে মৈত্রীর ফলে তার উদারপন্থী সমর্থকদের সমর্থন হারিয়ে তিনি হেনরি গাইসের
সঙ্গে তার সম্পর্ক ত্যাগ করেন। ১৫৮৮ সালে গুপ্তঘাতকের হাতে হেনরি গাইস মৃত্যুবরণ
করেন। স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ এই সময় ফ্রান্সের ব্যাপারে সময় দিতে পারেন নি।
অপর দিকে বুরবোঁ বংশের হেনরি ন্যাভারি ইংল্যান্ডের রানী প্রথম এলিজাবেথের এবং ডাচদের
দ্বারা সাহায্য প্রাপ্ত হয়। যুদ্ধ চলতে থাকে। ১৫৮৯ সালে তৃতীয় হেনরির মৃত্যুর আগে তিনি
হেনরি ন্যাভারিকে তার উত্তরাধিকার নিযুক্ত করেন। ১৫৮৯ সালে তৃতীয় হেনরির মৃত্যুর পর
ভ্যালোস পরিবারের ক্ষমতা খর্ব হয় এবং বুরবোঁ রাজবংশের শাসন শুরু হয়। হেনরি ন্যাভারি
রাজা চতুর্থ হেনরি উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহন করেন। তবে গৃহযুদ্ধ আরো কিছু
দিন চলতে থাকে। রাজা উগ্রপন্থী ক্যাথলিকদের বিদ্রোহ দমন করে নিজেকে ক্যাথলিক হিসেবে
ঘোষণা দেন যা ছিলো সুচিন্তিত কাজ। ১৫৯৩ সালে ২৫ জুন সেন্ট ডেনিশ চার্চে তিনি
ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেন। প্রোটেস্টান্ট হিসেবে ফরাসি জনগণ তাঁকে মেনে নিতে রাজি ছিলো
না। তবে এরপর অনেকেই তার সমর্থনে এগিয়ে আসে। ১৫৯৪ সালে তাকে রাজা হিসেবে
ঘোষণা করা হয় এবং সমগ্র ফ্রান্স তা মেনে নেয়। ১৫৯৮ সালে স্পেনের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিলো।

তবে দ্বিতীয় ফিলিপ এই যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং ফ্রান্সে একজন ক্যাথলিক শাসক ক্ষমতায়
আছেন এই অজুহাতে তিনি চতুর্থ হেনরিকে ফ্রান্সের বৈধ রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
২। চতুর্থ হেনরির অধীনে ফ্রান্স অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক নীতি
চতুর্থ হেনরি ফ্রান্সের অন্যতম জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। তিনি ছিলেন
যথেষ্ট বৃদ্ধিমান এবং সমসাময়িক সকলে তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতো। তিনি
রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় অস্থিরতা থেকে ফ্রান্সকে মুক্ত করে স্থিতিশীলতা আনয়ন করেন এবং
হ্যাপসবার্গদের যেকোন আক্রমণকে প্রতিহত করে তিনি ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনেন।
১৫৯৮ সালে স্পেনের সঙ্গে ভার্ভিন চুক্তি সম্পাদন করে যুদ্ধ এবং বৈদেশিক শত্রট্টর হাত থেকে
রক্ষা করেন। এ ছাড়াও হেনরি প্রোটেস্টান্ট ধর্মত্যাগ করে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করলেও তিনি
প্রোটেস্টান্টদের রক্ষার্থে ১৫৯৮ সালের ১৩ এপ্রিল এডিক্ট অব নানটেস ইস্যু করেন। এর
মাধ্যমে বিভিন্ন শহরে প্রোটেস্টান্টদের পূর্বের অধিকারসমূহ যেমন- উপাসনা করার অধিকার,
প্রোটেস্টান্টদের মত প্রকাশের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়। প্রোটেস্টান্ট স্কুল
খোলার সুযোগ দেয়। এ ভাবেই এটি ধর্মীয় এবং সামগ্রিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের
সূচনা করে।
গৃহ যুদ্ধের সময় ফ্রান্সকে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়;
১। ধর্মীয় বিভক্তি বা অসন্তোষ;
২। বিদ্রোহী অভিজাত শ্রেণী নিজেদের স্বার্থে দেশে বিভক্তি আনয়নের চেষ্টা করে;
৩। দুর্নীতিবাজ অফিসার ব্যবসা বাণিজ্যে সবর্তোভাবে উদাসীন ছিলো। এর ফলে
রাজকোষে অশনি সংকেত বেজে উঠে।
ব্যবসা, বাণিজ্য, শিল্প মারাতœকভাবে ব্যহত হয়। সর্বত্র মানুষের জীবন নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠে।
চতুর্থ হেনরি দুটি ঘটনাকে গুরুত্ব দেন।
ক) রাজকীয় ক্ষমতা পুনপ্রতিষ্ঠা করা।
খ) কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প ক্ষেত্রে উন্নতির চেষ্টা করেন।
চতুর্থ হেনরি তাঁর অর্থমন্ত্রী ডিউক সালির কাছ থেকে সকল সাহায্য সহযোগিতা, বুদ্ধি বিবেচনা
গ্রহণ করেন। তিনি ফ্রান্সকে অর্থনৈতিক দৈন্যদশা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করেন। এডিক্ট অব
নানটিস এর সামাজিক এবং ধর্মীয় অসংগতি দূর করে। হেনরির বৈদেশিক নীতি তেমন বৃদ্ধি
পায়নি। অভ্যন্তরীণ এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে ফ্রান্সের পুণর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয় যা রিশল্যু এবং
ম্যাজারিন কর্তৃক সাফল্যমন্ডিত হয়ে চতুর্দশ লুই ফ্রান্সকে ইউরোপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তিতে
পরিণত করেন।
ভার্ভিন চুক্তি সম্পাদনের পর চতুর্থ হেনরি তার অভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ব মিটিয়ে শান্তি পুনস্থাপন করতে
এগিয়ে আসেন। হেনরি তাঁর সুযোগ্য মন্ত্রী সালির সাহায্যে অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনে
এগিয়ে আসেন। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নতিতে যে সব নীতি অনুসরণ করেন তা হলো।

প্রথমত : তিনি দুর্নীতিবাজ অফিসারদের অবৈধ কর ত্মসাতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
তিনি অবৈধ চাকুরীর নিয়োগগুলি বাতিল করেন। ফলে সরকারের অনেক অর্থের সাশ্রয় হয়।
দ্বিতীয়ত: তিনি কর আদায়ের পুরানো ব্যবস্থাকে বাতিল করে তাতে ত্রট্টট-বিচ‚্যতি দূর করেন।
তিনি কেন্দ্রীয় গভর্ণরদের অনুমতি ছাড়া প্রাদেশিক গভর্নরদের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে
নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফ্রান্সে কর আদায়ের নীতিটা ছিলো ব্যক্তিগত লোকদের তত্ত¡াবধানে।
তিনি সরকারি হিসাবের ব্যাপারে কঠোর নিরীক্ষণের ব্যবস্থা করেন। চার্চ এবং অভিজাত শ্রেণী
ফ্রান্সে কর দানে মুক্ত থাকলে ও জরুরি অবস্থায় তাদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায়ের নীতি
স্বীকৃত হয়। এ ছাড়াও অভিজাত শ্রেণীর বিদ্রোহ দমনের জন্য ক্ষুদ্র সৈন্যবাহিনী রাখা হয় এবং
সমগ্র দেশে আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়। এভাবে সালির নেতৃত্বে পরিচালিত সংস্কারের
ফলে ১৬১০ সালে জাতীয় ঋণ শুধু কমে নাই বরং জাতীয় সঞ্চয় ১০,০০০ লিভারস এ বেড়ে
যায়।
এ ছাড়াও ডিউক সালি ফ্রান্সের উন্নতির বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। হেনরি এবং সালি দুজনেই
কৃষিক্ষেত্রে উন্নতির লক্ষে কাজ করেন। কৃষির উন্নতির জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের কর ব্যবস্থাকে
বাতিল করেন এবং খাদ্যশস্য এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশ মুক্তভাবে চলাচলের অনুমতি
দেন। তিনি বনভ‚মি ধ্বংসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি জমিতে কর্ষণ বা চাষের সূচনা
করেন এবং পশুপাখি প্রজননে উৎসাহিত করেন। ১৫৯৫ সালে তিনি পুরানো অধ্যাদেশ উঠিয়ে
কৃষককে গৃহপালিত পশুপালনে উৎসাহিত করেন। কৃষি কাজে উন্নতির জন্য তিনি খাল খনন
কর্মসূচি গ্রহণ করেন, ব্যাপক জলাভ‚মি পরিষ্কার করে কৃষিকে সমগ্র ফ্রান্সে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
কৃষি কাজে উন্নতির জন্য তিনি রাস্তাঘাট এবং সেতু নির্মাণ করেন।
সালি যখন কৃষির উন্নতির ব্যাপারে কাজ করছিলেন তখন হেনরি শিল্প প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হয়ে
উঠেন। তিনি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মার্কেন্টাইল নীতি অনুসরণ করেন। তার মূল লক্ষ্য ছিলো
দেশে অর্থ ধরে রাখা যা প্রতি বছর বাইরে চলে যেতো রপ্তানি পণ্যের মাধ্যমে। এ লক্ষে তিনি
কার্পেট স‚ক্ষ গ- াস, ভেলভেট, কাপড়, সিল্ক, পর্দা ইত্যাদির কারখানা তৈরি করেন। এভাবে
দেশের শিল্প উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনয়নে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
সালি কৃষি ক্ষেত্রে খুবই উৎসাহিত হয়ে উঠলেও রাজা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প প্রসারের চেষ্টা
করেন। তিনি নৌবহর এবং নৌবাণিজ্যের সরকারি সাহায্য দিয়েছিলেন। স্পেন, ইংল্যান্ড এবং
হল্যান্ডের মতো ফ্রান্সও দূরবর্তী দেশে বাণিজ্য শুরু করেছিলো। বিভিন্ন স্থানে ফরাসি বাণিজ্য
কুঠি স্থাপিত হয়। এ ছাড়াও এই সময় ফ্রান্স নতুন পৃথিবীতে উপনিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা
এবং ভারতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
হেনরির সময় প্যারিসকে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তিনি
প্যারিসের নোংরা আবর্জনা বিদূরিত করে রাস্তাঘাট সংস্কার করেন, আধুনিক ঘর-বাড়ি গড়ে
তোলেন, সেতু কালভার্ট ব্রিজ নির্মাাণ করেন। প্যারিসকে আধুনিক শহরে পরিণত করার ক্ষেত্রে
আবাসিক এলাকা এবং প্যারিসের সর্বত্র সুন্দর শহর পল্লী গড়ে তোলেন। ইটের ঘরের মধ্যে
পাথরের কাজ দিয়ে অপূর্ব সৌন্দয ফুটিয়ে তোলা হয়।

খ) চতুর্থ হেনরির বৈদেশিক নীতি
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্স প্রথম শ্রেণীর ইউরোপীয শক্তির মর্যাদা হারায়। স্পেনের
সাম্রাজ্য ইউরোপে চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিলো। হ্যাপসবার্গ অঞ্চল দ্বারা ফ্রান্সের সীমান্ত চতুর্দিকে
ঘেরা ছিলো। সুতরাং ফ্রান্সের সম্মান বৃদ্ধির জন্য তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করে বিশ বছর শাসনে
রাজা চতুর্থ হেনরি ফরাসিদের সম্মান, মান, মর্যাদা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সর্বাÍক চেষ্টা
করেন। তিনি অস্ট্রিয়া এবং স্পেনের সম্মানকে অতিক্রম করে নিজ দেশের সম্মান বৃদ্ধির
সর্বতো চেষ্টা করেন। তিনি জার্মানির স্থানীয় বিশেষত ক্লিভ এবং জুলিখ অঞ্চলের উত্তরাধিকার
সংক্রান্ত ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্টান্টদের মধ্যে যে দ্ব›দ্ব ছিলো তা থেকে সুযোগ নেবার চেষ্টা
করেন। ১৬০৬ সালে জার্মানিতে যে প্রোটেস্টান্ট ইউনিয়ন গড়ে উঠেছিলো তার প্রতিও তার
সমর্থন ছিলো। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দশকে চতুর্থ হেনরি ডাচদের গোপনে সাহায্য করতে
থাকেন যেখানে তারা সুইস, স্পেনিশ এবং জার্মান হ্যাপসবার্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। চতুর্থ
হেনরির গুপ্ত হত্যার পর এই নীতি স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীকালে রিশল্যু এবং ম্যাজারিন
কর্তৃক তাঁর আমলের নীতি অনুসরণ করা হয়।
২। চতুর্দশ লুই : (১৬৪৩ - ১৭১৫) ক্ষমতা আরোহন
১৬৬১ সালে ম্যাজারিনের মৃত্যুর পর চতুদর্শ লুই ফ্রান্সের শাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৬৩৮ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬৪৩ সালে পাঁচ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
প্রায় অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় তিনি ফ্রান্সকে গৌরব ও সম্মানের আসনে তুলে ধরেন। একজন
শক্তিশালী ও আদর্শ স্থানীয় রাজা হিসেবে তিনি সকল ইউরোপীয় শাসকের মডেল হিসেবে
আবিভর্‚ত হন এবং তার সময়ে ফ্রান্সের ক্ষমতা, রাজ্যসীমা, শৌর্য-বীর্য ও গৌরব সবকিছুই বৃদ্ধি
পেতে থাকে। বলা যায এই সময় ইউরোপে ফ্রান্সের বিজয় সূচিত হয় এবং এই সময়কে
চতুর্দশ লুই এর যুগ বলে ঘোষণা করা হয়।
১৬০০ সালে বুরবোঁ বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফরাসিদের অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্রনীতির
সূচনাকারী চতুর্থ হেনরি আততায়ীর হাতে আকস্মিকভাবে প্রাণ হারালে ফরাসি ইতিহাসে এক
সঙ্কটময় মুহূর্ত উপস্থিত হয়। চতুর্থ হেনরির নাবালক পুত্র ত্রয়োদশ লুই এর বয়স তখন নয়
বছর ছিল। রানীমাতা মারিয়া ডি মেডিচি নিজেই নাবালক পুত্রের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন।
১৬১৪ খ্রি: ফরাসি জাতীয় সভা স্টেটস জেনারেলের সভায় আমন্ড ডি রিশল্যু নামে জনৈক
ফরাসি যাজক প্রতিনিধির বিচক্ষণতা এবং বাগ্মিতায় মুগ্ধমুদ্ধ হয়ে তাকে শাসকার্যে সহায়তার
জন্য অনুরোধ করা হয়। ১৬২৪ থেকে ১৬৪২ ঘ্রি : রিশল্যুর মৃত‚্যর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন
ফরাসি রাষ্ট্রের সুদক্ষ কর্ণধার। রিশুল্যুর মৃত্যুর কয়েক মাসের মধ্যেই ত্রয়োদশ লুইও মৃত্যুমুখে
পতিত হন। তার পুত্র চতুদর্শ লুইকে অভিভাবক সভার এক উইল দ্বারা তিনি উত্তরাধিকার
নিযুক্ত করে গিয়েছিলেন। তবে লুই-এর নাবালোকত্বের কারণে রানীমাতা এ্যানতা অব অস্ট্রিয়া
তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। ম্যাজারিন তখন ফ্রান্সের রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারপ্রাপ্ত ছিলেন।
১৬৬১ সালে ম্যাজারিনের মৃত্যু হলে ইউরোপের সবর্ত্র ফরাসি রাজতন্ত্রের ভবিষ্যত সম্পর্কে
নানা প্রকার জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে। রিশল্যু ও ম্যাজারিনের ন্যায় কোনো মন্ত্রী ফ্রান্সে

আছেন কিনা ইত্যাদি বিষয়ে ইউরোপে দারুন উৎসাহের সৃষ্টি হয়। এ সময়ে চতুর্দশ লুই
ঘোষণা করলেন যে তিনি নিজেই ফ্রান্সের রাজা এবং ম্যাজারিন তাঁর প্রধানমন্ত্রী হবেন।
শাসনের প্রথম থেকেই লুই ছিলেন একচ্ছ অধিপতি।
চতুর্দশ লুই একজন মহান রাজা বা ‘গ্র্যান্ড মনার্ক’ হিসেবে সমগ্র ইউরোপের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্মান
নিয়ে আসেন। তাঁর সুদীর্ঘ রাজত্বকালে চতুর্দশ লুই ফরাসি রাষ্ট্র এবং জাতির উপর সর্বময়
কর্তৃত্ব রেখে গেছেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ছিলো, ‘রাষ্ট্র? আমিই রাষ্ট্র’।
চতুদর্শ লুই ছিলেন বিনয়ী, বিচক্ষণ, এবং সুদর্শন। সাত বছর বয়সে ফিলিপ কটির নামক
শিক্ষকের অধীনে তিনি শিক্ষা লাভ করেন। ইতিহাস, ভ‚গোল, পৌরাণিক, নীতিশাস্ত্র, তর্কশাস্ত্র,
ইত্যাদি বিষয়ের উপর গ্রন্থাদি তিনি পাঠ করতেন। ঐতিহাসিক রিফিক্সের নিকট ল্যাটিন ভাষা,
সিজারের কমেন্টারি, কার্ভেন্টিসের ডনকুইকজট রোমান কমিকস ইত্যাদিও পাঠ করেন। একটি
বৃহৎ দেশের রাজা হিসেবে, তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ক্ষমতায়, কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা,
নিয়ামানুবর্তিতা তাঁকে ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসকে পরিণত করে।
চতুর্দশ লুইয়ের অভ্যন্তরীণ নীতি : রাজশক্তির সর্বাত্মক আধিপত্য
তিনি ছিলেন নি:সন্দেহে একজন স্বৈরাচারী শাসক। তার অতৃপ্ত উচ্চাকাংক্ষা ছিলো যেন তাঁর
সময় ফ্রান্স ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনে যেন, সক্ষম হয়। তিনি কারো
সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি রাষ্ট্রকে তাঁর নিজ সত্তার সঙ্গে মিশিয়ে
ফেলেছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন তার কার্যের জন্য তিনি একমাত্র ঈশ্বরের নিকট দায়ী
থাকবেন। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে চতুর্দশ লুই-এর স্বৈরাচারী নীতির উদ্দেশ্যে ছিলো ফ্রান্সের
আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা রাজশক্তিকে রাষ্ট্র ও ধর্ম উভয় ক্ষেত্রে সর্বময় করে তোলা।
চতুদর্শ লুইয়ের অভ্যন্তরীণ শাসন নীতির মূলমন্ত্রই ছিলো স্বৈরাচার। স্বৈরাচারী ক্ষমতা
বাস্তবায়নে তিনি কিছু নীতি গ্রহণ করেছিলেন।
প্রথমত, একনায়কতন্ত্র সুলভ ক্ষমতার প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে
সচেষ্ট হন।
দ্বিতীয়, চতুদর্শ লুই ধর্মীয় সংস্থাকে রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগের ন্যায় একটি বিভাগে পরিণত
করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই উদ্দেশ্যে পোপের প্রাধান্য খর্ব করে ফরাসি চার্চকে স্বাধীন
করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
তৃতীয়, রাজকীয় মর্যাদা সম্পর্কে তার ধারণাকে কার্যকরী করবার উদ্দেশ্যে ভার্সাই নামক স্থানে
রাজসভা গঠন করেন।
চতুর্থ, জনসাধারণের মধ্যে রাজতন্ত্র সম্পর্কে শ্রদ্ধা এবং আনুগত্য সৃষ্টি করা।

চতুদর্শ লুই-এর আমলে জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজতন্ত্র চ‚ড়ান্তভাবে স্বৈরাচারী হয়ে
উঠেছিলো। চতুদর্শ লুই-এর সময় ফ্রান্সে কোনো প্রাধানমন্ত্রী ছিলো না। তিনি নিজেই ছিলেন
নিজের প্রধানমন্ত্রী। চতুদর্শ লুই কেন্দ্র ও প্রদেশের সকল স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহের
সকল রাজনৈতিক ক্ষমতা হরণ করেন এবং পার্লামন্ট অব প্যারিস নামক বিচার সভাকে এর
রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন। রাজ্যশাসন ব্যবস্থা কার্যকরী করার জন্য কয়েকজন
উপদেষ্টা নিয়ে রাজ্য সভা গঠন করেন। চতুর্দশ লুই কয়েকটি বিভাগ দ্বারা শাসনকার্য
পরিচালনা করতেন সেগুলো হচ্ছে।
১। কাউন্সিল অব স্টেট : এটি ছিলো রাজার স্বার্থরক্ষার্থে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
রাজার পররাষ্ট্রসহ সকল কার্য সম্পর্কিত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল;
২। কাউন্সিল এব ডেসপ্যাচ: এটি প্রাদেশিক ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলো;
৩। কাউন্সিল অব ফিন্যান্স : বিভিন্ন বিভাগের ব্যয় বরাদ্দকারী প্রতিষ্ঠান,
৪। প্রিভি কাউন্সিল : বিচার সম্পর্কিত কার্য সম্পাদনা করতো।
রাজার অধীন ও অনুগত কর্মচারীদের দ্বারা পরিচালিত কার্যনির্বাহক তিনটি ভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত
ছিলো যথা - কেন্দ্রীয় শাসন ও প্রাদেশিক শাসন, রাজস্ব আদায় ও বিচার। রাজ্য শাসনব্যবস্থা
কার্যকরী করার জন্য কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়ে রাজসভা গঠন করা হতো। উপদেষ্টারা ছিলেন
তার পূর্বনিয়ন্ত্রাধীন কেরাণীর পর্যায়ভুক্ত। চতুদর্শ লুই শাসনকার্যে মন্ত্রীদের প্রাধান্যের অবসান
ঘটিয়ে সব স্তরে রাজার প্রভুত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। প্রত্যেক মন্ত্রীই রাজার
আদেশ মেনে নিতে বাধ্য ছিলো। রাজার অনুমতি ছাড়া মন্ত্রীরা কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে
পারতো না। সকল রাষ্ট্রীয় বিভাগ থেকে যে কোনো সিদ্ধান্ত রাজার সম্মুখেই নিতে হতো। তাঁর
ব্যক্তিগত কর্মচারী কোনো বিষয়ে তাঁর পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতো না।
স্বৈরাচারী ক্ষমতাকে কার্যকরী করতে গিয়ে রাজা আমলা শ্রেণীর সৃষ্টি করেন। লুই অভিজাত
শ্রেণীকে তাদের স্বীয়- ভ‚সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে তাঁর নির্মিত প্রাসাদে ভার্সাইতে বসবাস করতে
আহবান জানান। এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো তাদের দুর্বল করা এবং তাদের উপর নজর রাখা।
কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় রাজা এবং রাজসভা ভিন্ন চ্যান্সেলরকে অর্থনীতি ও অন্যান্য বিভাগের
নিয়ন্ত্রণ করতেন। চ্যান্সেলর ছিলেন রাজার আইনের ব্যাপারে পরামর্শ দাতা এবং বিচার
বিভাগের বুদ্ধি মন্ত্রণাদাতা। কন্ট্রোলার অব ফিনান্স রাজস্ব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজার
সম্পূর্ণ অধীনে ছিলেন। এভাবে চতুর্থ হেনরির আমল থেকে রাজতন্ত্রকে সর্বময় করে তুলবার
যে চেষ্টা শুরু হয় চতুর্দশ লুই এর আমলে তা পরিণতি লাভ করে।
প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা
ফরাসি প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা তখন পর্যন্ত অপরিবর্তনীয় অবস্থায় রয়ে যায়। রিশল্যু
সংস্কারে পরিকল্পনা নিলেও তা পূর্ববর্তী অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয় নাই। প্রাদেশিক শাসন
ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে কার্যকরী হতো। ইনটেন্টডেন্টদের মাধ্যমে তারা সরকার
এবং রাজাকে প্রতিনিয়ত খবর দিতো। রাজার অনুমোদন ছাড়া স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে
পারতোনা। লুই অভিজাত শ্রেণীর ক্ষমতাকে খর্ব করতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি অভিজাত

শ্রেণীকে ইনটেনডেন্টস হিসেবে দায়িত্ব দেন। তারা রাজার নির্দেশ, আদেশ বা ইচ্ছা অনুযায়ী
কাজ করতো। এভাবে অভিজাত শ্রেণীর ক্ষমতা খর্ব করা হয়। এছাড়াও লুই পার্লামেন্টের
ক্ষমতা কমানোর জন্য ১৬৪১ সালের পর আর পার্লামেন্ট বা এসটেট জেনারেলের সভা
আহবান করেননি। প্রত্যেক প্রদেশেই একটি করে পার্লামেন্ট ছিলো, প্যারিসেও বিশেষ
পার্লামেন্ট ছিলো।
লুই-এর সময়ে বিচার ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়। বিচারকগণ নিজ নিজ পদ
ক্রয় করতে এবং এই পদে আজীবন অধিষ্ঠিত থাকতে পারতেন। প্রতিটি জেলা বা শহরে
একটি করে প্রভোস্ট বা বিচারলয় ছিলো। এই সকল বিচারালয়ের বিচারকগণ বংশানুক্রমে
বিচারপতির কাজ করতেন। উক্ত বিচারলয় থেকে প্রাদেশিক পার্লামেন্টের নিকট আপীল করা
যেতো। প্রজায় প্রজায় দ্ব›েদ্বর বিচার সততা এবং ন্যায় পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত হতো।
এভাবে শাসন ব্যবস্থার প্রতি স্তরে রাজশক্তির আধিপত্য স্থাপিত হওয়ায় ফ্রান্সের বুকে
অরাজকতা বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে দূরীভ‚ত হয়েছিলো।
চতুদর্শ লুইয়ের অর্থনৈতিক নীতি
লুইয়ের একানায়কতন্ত্র এবং শক্তিশালী রাজার অভিব্যক্তি তাঁর অর্থনৈতিক নীতিতে প্রতিফলিত
হয়েছিলো। শক্তিশালী রাজকোষ পিছনে না থাকলে স্বৈরাচার কার্যকর করা যাবে না। এই
বিবেচনা থেকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি নতুন নীতি প্রবর্তন করেন। ১৬৮৩ সালে লুইয়ের
শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিনব্যাপটিস্ট কোলবার্টের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করেন। ফ্রান্সে
মার্কেন্টাইলবাদ অত্যন্ত সাফল্যমন্ডিত হয়ে উঠে এবং বিশৃঙ্খল কর ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল পথে
নিয়ে আসা হয়। মার্কেন্টাইলবাদের যে দুটি তত্ত¡ ছিলো তা হলো অর্থনীতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ
নিয়ে আসা। দ্বিতীয়ত, সোনা ও রুপার পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা। কোলবার্ট প্রথম থেকেই
অবৈধ বা বিশৃঙ্খল কর ব্যবস্থার সংশোধনের দিকে নজর দেন। কোলবার্ট ব্যক্তিগতভাবে
নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টদের মধ্যে অযোগ্য এবং অসৎ খাজনা আদায়কারীদের চাকুরী থেকে
বরখাস্ত করেন এবং সৎলোকের মাধ্যমে নুতনলোক নিয়োগ করেন, কর ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা
আনয়ন করেন। অভিজাত শ্রেণীর কর থেকে রেহাই দেবার যে নীতি ছিল তা বাতিল করা হয়।
তিনি কৃষকের উপর প্রত্যক্ষ কর কমিয়ে দেন এবং অভিজাত শ্রেণীর উপর অপ্রত্যক্ষ কর ধার্য
করেন।
বাণিজ্যিক সংষ্কার
কোলবার্ট বাণিজ্যের উন্নতির জন্য এমন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যার ফলে দেশের সমৃদ্ধি দ্রæত
বৃদ্ধি পেতে থাকে। মার্কেন্টালবাদের মূলতত্ত¡ হচেছ গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় শিল্পকে গড়ে তোলা।
এক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সাহায্য লাভ এবং বিদেশী প্রতিযোগিতা থেকে তাদের রক্ষা করা
হয়। ১৬৬৭ এবং ১৬৬৮ সালে ফ্রান্স বিদেশী পণ্যের রপ্তানিকে অনুৎসাহিত করে। বিদেশী পণ্য
আমদানির উপর কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়। বিদেশী জাহাজের উপরও শুল্ক ধার্য করা হয়।
এভাবে তিনি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার জন্য অর্থ সাহায্য দিতেন এবং আমদানিকে
নিরুৎসাহিত করেন। এভাবে গ- াস, সিল্ক, পর্দা, মদের ফ্যাক্টরি গুরুত্ব সহকারে গড়ে উঠে।
কষি ক্ষেত্রে উন্নতি

কৃষির উন্নতির জন্যও চতুর্দশ লুই ব্যাপক ব্যবস্থা নেন। কৃষককে করের বোঝা থেকে মুক্ত
করার জন্য প্রত্যক্ষ কিছু কর শিথিল করা হয়। কৃষকদের মধ্যে যারা কর থেকে মুক্ত হয়েছিলো
তারা কৃষি পণ্য উৎপাদনে অধিকতর উৎসাহী হয়ে উঠে। তিনি ঘোড়া, গরু, ভেড়া ও অন্যান্য
গবাদি পশুর উৎপাদন এবং প্রজননে সাহায্য করেন। কৃষি পণ্যের সরবরাহের জন্য রাস্তাঘাট ও
সেতু গড়ে তুলেন, আন্তবাণিজ্য পথের উন্নতি সাধনের চেষ্টা করেন। পরিবহন ব্যবস্থা প্রভূত
উন্নতি করেন। তাঁর সময়ে বহু বিখ্যাত খালনির্মিত হয়-যেমন ভ‚মধ্যসাগর থেকে গ্যারনা নদীর
যোগসূত্র স্থাপন করে আটলান্টিকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এভাবে কোলবার্ট প্রবর্তিত
নীতিসমূহের মাধ্যমে ফ্রান্স কৃষি এবং শিল্প-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠে।
উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা
কোলবার্ট বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন বাণিজ্য এবং উপনিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে।
মার্কেন্টাইল নীতি উপনিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সহায়তা করে, যার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক দেশ
বাণিজ্য ক্ষেত্রে একচেটিয়া অধিকার ভোগ করে। বাণিজ্য যুদ্ধে তিনি প্রতিবেশী হল্যান্ড এবং
ইংল্যান্ডের মত বাণিজ্যিক সমিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই লক্ষ্যে ফরাসি নৌবাহিনী
অত্যন্ত দক্ষভাবে গড়ে তোলেন। ফরাসি জাহাজসমূহ কয়েকশো থেকে হাজারে উন্নীত হয়।
উপনিবেশ কাঁচামাল তৈরি করে দিতো, প্রস্তুতকৃত পণ্য আবার ঔপনিবেশিক বাজারে নিয়ে
আসতো। এ ছাড়াও ইংল্যান্ডের মত ফরাসি ইস্ট এবং ফরাসি ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোম্পানি গঠন
করে। ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের কোম্পানির প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে আবিভর্‚ত
হয়। পশ্চিমভারতীয় দ্বীপ, লুসিয়ানা, কানাডা, আফ্রিকাতে প্রভাব বিস্তার করে। এ ছাড়াও
ভারত, সেনেগাল, মাদাগাস্কারে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
ফরাসি ঐতিহাসিক বসেট এর মতানুয়ায়ী লুই নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি মনে করতেন এবং
নিজেকে সকল বিষয়ের সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে ধর্মীয় ক্ষেত্রেও তার পূর্ণ কর্তৃত্ব আছে বলে মনে
করতেন। লুইয়ের মতে ধর্মানুষ্ঠানের উপর প্রাধান্য সৃষ্টি রাজার একটি অপরিহার্য নীতি। তাঁর
ধর্ম নীতির উদ্দেশ্য ছিল :
১। ফরাসি (গ্যালিকান) চার্চকে সম্পূর্ণ রাজশক্তির অধীনে স্থাপন করা এবং এই উদ্দেশ্যে
পোপের প্রাধান্য থেকে ফরাসি চার্চকে মুক্ত করা।
২। ধর্মনৈতিক ঐক্যস্থাপন করা এবং সেই জন্যে হিউগিনটদের ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত করা
এবং জেনেসিস্ট কুইনসিস্ট নামক ক্যাথলিক পন্থীদের দমন করা। ইংল্যান্ডের অষ্টম হেনরি
যেমন পোপের অধীনতা থেকে মুক্ত জাতীয় চার্চে পরিণত করেছিলেন তেমনি চতুর্দশ লুইও
ফরাসি চার্চকে জাতীয় চার্চে পরিণত করার চেষ্টা করেন। পোপ সপ্তম আলেকজান্ডারের ভ্রাতা
১৬৬২ সালে রোমের ফরাসি দূত ক্রেকিরপতœীও অনুচরদের আক্রমণ করেছে এই অভিযোগে
লুই পোপকে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে এবং নিজ ভ্রাতাকে নির্বাসনে পাঠাতে বাধ্য করেন।
এভাবে ১৬৭৩ সালে লুই এবং পোপের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়। রাজার অধীনস্থ
কোনো চার্চের বিশপ পদ সাময়িকভাবে শূন্য হলে ঐ সময়কার আয় রাজারা প্রাপ্ত হতো। এই
প্রাপ্তিকে ‘রিগেল’ বলা হতো। তবে লুই দাবি করেন যে রিগেলের ক্ষমতা শুধু রাজার অধীনস্থ
অঞ্চলসমূহে নয় বরং ফ্রান্সের সকল বিশপারি অঞ্চলের উপরেই বর্তাবে এবং বিশপারি পদসমূহ
রাজা কর্তৃক মনোনীত হবে। এছাড়াও গ্যালিকান চার্চের আন্দোলনের মূল সমর্থনকারী ছিলেন
তিনি। দাবিসমূহ ছিলো :

১। পার্থিব কোনো ব্যাপরেই রাজাগণের উপর পোপের প্রাধান্য নেই;
২। পোপ ফরাসি চার্চের প্রচলিত নীতি বা ক্যাথলিক ধর্মনীতিবেিরাধী আদেশ জারি করতে
পারবে না;
৩। পোপের আদর্শ সর্বজন গ্রাহ্য হতে হলে পাশ্চাত্যের সমগ্র ক্যাথলিক চার্চের সমর্থন
প্রয়োজন হবে।
ফ্রান্সের সৈন্যবাহিনীর উন্নতিকরণে লুই সর্বশক্তি ব্যয় করেন। তিনি ফ্রান্সের সৈন্যবাহিনীকে
ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ বাহিনীতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। তার সুযোগ্য সহকর্মী ল্যুভ এর
নেতৃত্বে তিনি একটি জাতীয় সৈন্যবাহিনী গঠন করেন, পুরানো ব্যবস্থাকে পরিমার্জন করে
ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা দ্বারা তিনি সেনাবহিনীতে কঠোর নিয়মশৃঙ্খলা নিয়ে আসেন। তিনি
সৈন্যবাহিনীতে অভিন্ন আইন বা নিয়মনীতির সূচনা করেন। ল্যুভ ছাড়াও ভত্তবন ছিলেন
একজন প্রকৌশলী। তিনি উত্তর পূর্ব সীমান্তে বিভিন্ন দুর্গনির্মাণ করেন। এছাড়াও তাঁর বিখ্যাত
জেনারেলদের মধ্যে কনডি, টুরিন ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধে খুবই কৃতিত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন
করেছিলেন। শত্রট্টপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ এবং শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
তিনি ফ্রান্সকে শৌর্য-বীর্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলেন।
১৬৮৫ সাল পর্যন্ত লুই অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্রনীতিতে দিগি¦জয়ী হয়ে ওঠেন। এছাড়াও
সমসাময়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, রীতি এবং উৎকর্ষে তিনি রাজতন্ত্রকে জড়িয়ে ফেলেন। তাঁর
সভা ইউরোপীয় সংস্কৃতির মূলকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিলো। তার সময়ে বিখ্যাত দার্শনিক,
সাহিত্যিক, জ্ঞানী গুণী ব্যক্তির মধ্যে ছিলেন মলিয়ে, নাট্যকার বেসিন সোয়াইন,ম্যাডাম দি
মনটেইন প্রমুখ বিখ্যাত সাহিত্যিক শিল্পী। ফ্যাশন এবং ক‚টনীতির ভাষা হিসেবে ফরাসি ভাষা
পরিচিতি লাভ করে। শালি মোর্জাট সঙ্গীত সৃষ্টিতে বিখ্যাত হয়ে আছেন। শিল্প ও স্থাপত্যে ডি,
এম নসার্ট ছিলেন বিখ্যাত। তিনি ভার্সাইয়ের মূল প্রাসাদের নকশা তৈরি করেন। এভাবে
লুইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ভার্সাই ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানীতে এবং ফ্যাশন
ও উন্নত জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলো।
চতুদর্শ লুই প্রাচুর্যপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল জীবনের প্রতি উৎসাহী ছিলেন। তিনি এমন একটি প্রাসাদ
তৈরিতে সচেষ্ট হয়ে উঠেন যা রাজোচিত এবং যা তার নামও শক্তির সঙ্গে একীভ‚ত হয়ে
উঠেছিল। তিনি প্যারিস থেকে প্রায় ২২ মাইল দূরে প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে
এটিই হয়ে উঠে ফ্রান্সের শক্তিশালী রাজতন্ত্রের প্রতীক। বিখ্যাত স্থপতি মানসার্ট রাজকীয়
সাহিত্যের প্রাসাদ গড়ে তোলেন এবং ফরাসি জীবনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এটি গড়ে উঠে। ত্রিশ
হাজার মানুষ, ৬০০০ ঘোড়া প্রতিদিন এখানে ব্যস্ত থাকত। এর ছাদ এবং বড়নালাগুলি ছিল
৫,৪১৫ ফুট দীর্ঘ এবং ১৪০ ফিট প্রশস্ত। ২৫ হাজার অভিজাত পরিবার, ১ লক্ষ মধ্যবিত্ত
পরিবার এবং ১ হাজার পরিচারিকা এখানে কাজ করত। এটি ছিল শিল্প সাহিত্যের মূর্ত
প্রতীক। এটির পার্ক, ঝরণা, দামী ফার্নিচার, দরবার হল ইউরোপের আশ্চর্য জনক এবং
দর্শনীয় বস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এ ছাড়াও স্থাপত্য শিল্পে এটি ছিলো নান্দনিক
স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ অবদান।

১৬৮২ সালে লুই ভার্সাইয়ে আসেন এবং এখানে কোর্ট গঠন করেন, তার মন্ত্রী ফরাসি
অভিজাত শ্রেণী এবং শিল্পীও সভাসদ সবাইকে তিনি ভার্সাইয়ে নিয়ে আসেন। এর মুল উদ্দেশ্য
ছিল অভিজাত শ্রেণীকে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে রাখা। এতে তিনি সম্পূর্ণভাবে সাফল্যমন্ডিত
হয়েছিলেন।
যুদ্ধ এবং কূটনীতি ছিলো চতুর্দশ লুইয়ের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। সিংহাসনে আরোহনের পর
পরই তিনি ফ্রান্সকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। পররাষ্ট্রনীতির
ক্ষেত্রে চতুর্দশ লুইয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিলো হ্যাপসবার্গ বংশ দ্বারা স্পেন ও অস্ট্রিয়ার শক্তি হ্রাস
করে ইউরোপের রাজনীতির ক্ষেত্রে ফ্রান্সের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করা। এ ছাড়াও তিনি
চেয়েছিলেন ফরাসি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুবিন্যস্ত করতে। তিনি প্রাকৃতিক সীমারেখা তত্ত¡টি সর্ব
প্রথম ব্যবহার করেন। যদি কোনো বিদেশী রাজা এই প্রাকৃতিক সীমারেখা দাবি করে তাকে
সমূচিত শাস্তি দিতে হবে। চতুদর্শ লুই-এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো রাইন নদীর পশ্চিম তীরস্থ সকল
স্থান অধিকার করে রাইন নদীকে ফ্রান্সের পূর্বসীমায় পরিণত করা এবং উত্তর পূর্বদিকে
নেদারল্যান্ড অধিকার নিয়ে শেল্ট নদীর মোহনা পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া। কারণ প্রাকৃতিক
সীমারেখা লাভের মধ্য দিয়েই লুই হ্যাপসবার্গ পরিবারের ক্ষমতা হ্রাস এবং ইউরোপে একছত্র
আধিপত্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়। মূলত ইউরোপের রাজনৈতিক অবস্থা ফ্রান্সকে তার
আগ্রাসী বৈদেশিক নীতি অনুসরণে সহায়তা করে। ত্রিশবছর যুদ্ধের পর পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য
দুর্বল হয়ে পড়ে।
১৬৮৫ সালে চর্তুদশ লুই নান্টিক এডিক্ট বাতিল করেন। এই সময় থেকে তার বিদেশ নীতিতে
উগ্র ক্যাথলিক মনোবৃত্তির প্রকাশ ঘটে। হাজার হাজার হুগনেটকে হত্যা করেন। তাদেরকে
আমেরিকা এবং হল্যান্ডে বিতাড়ন করেন। এর ফলে অসংখ্য কারিনর বিশেষজ্ঞ দেশত্যাগে
বাধ্য হন। এরা মূল্যাবান সম্পদ ও অর্থকড়িত নিয়ে যায় যা ফ্রান্সের শিল্প ও বাণিজ্যের
উন্নতিতে ভ‚মিকা রাখতে পারতো। ফ্রান্স কার্যত এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হল।
ফ্রান্স এ সময়ে একের পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। লুই-এর ধারণা ছিল এ সব যুদ্ধের মধ্যদিয়ে
তিনি রাইন নদীর বাম তীরে ফ্রান্সের সীমানা বৃদ্ধি করতে পারবেন। ১৬৮১ থেকে ১৬৯৭ পর্যন্ত
সময়ে লুই হল্যান্ড, স্পেন, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, ব্যাভারিয়াসহ বিভিন্ন ভ‚খন্ডে ছোট বড় বেশ কিছু
অভিযান প্রেরণ করেন। তবে স্থলযুদ্ধে তিনি সফল হলেও নৌযুদ্ধে বরং তিনি পরাজিত হতে
থাকেন। ইউরোপের প্রায় সকল শক্তিই চতুর্দশ লুইয়ের বিরুদ্ধে বা জোটগতভাবে দাঁড়ায়।
তবে ফ্রান্সের সঙ্গে স্পেনের উত্তরাধিকার নিয়ে যুদ্ধ চলে ১৭০১ থেকে ১৭১৪ সাল পর্যন্ত। এটি
ছিল ঐ সময়ে ইউরোপে সব চাইতে দীর্ঘ মেয়াদী এবং আলোচিত যুদ্ধ। ১৭০০ সালে স্পেনের
রাজা দ্বিতীয় চার্লস মারা গেলে উত্তরাধিকার নির্বাচন নিয়ে তিনটি পক্ষ দাবিদার হয়। এক
পক্ষে ফ্রান্সের লুই চতুদর্শ তার নাতী ফিলিপ অ্যাঞ্জো, দ্বিতীয় পক্ষ অস্ট্রিয়ার হ্যাবসবার্গ সম্রাট
লিওপল্ডের দ্বিতীয় পুত্র চার্লস, তৃতীয় দাবিদার ছিলেন ব্যাভারিয়ার ইলেক্টর ম্যাক্সিমিলিয়ানের
পুত্র যোসেফ ফার্ডিনান্দ। লুই বিয়ে করেছিলেন স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপের দ্বিতীয় পক্ষের
কন্যা মার্গারেট থেরেসাকে। ফলে স্পেনের রাজা ফিলিপের কন্যা এবং নাতœীকে বিয়ে করার
সুবাদে ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া ও ব্যাভারিয়া স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকরের দাবিদার হয়ে উঠে।
ইংল্যান্ড, হল্যান্ড এবং ইউরোপীয় অন্যান্য দেশ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অবস্থা নেওয়ায় যুদ্ধটি

সর্বইউরোপীয় হয়ে উঠে। মূলত স্পেনের কলোনিতে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক স্বার্থ
প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল এই উত্তরাধিকার যুদ্ধের অন্যতম কারণ।
চতুদর্শ লুইয়ের অন্যতম ইচ্ছা ছিল স্পেন-ফ্রান্সের সংযুক্তির মাধ্যমে এমন বৃহত্ত একটি রাষ্ট
ব্যবস্থা গড়ে তোলা যার সমকক্ষ কোনো সাম্রাজ্য তৎকালীন পৃথিবীতে ছিল না। উত্তর হল্যান্ডীয়
রাজ্যসমূহ হ্যাবসবার্গ রাজতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত যাওয়ার ভয়ও লুইকে বিশেষভাবে আতঙ্কগ্রস্ত করে
তোলে। সে কারণেই চতুর্থ ফিলিপ্পের উইল বাস্তবায়নের ওপর তিনি চাপ দেন। উক্ত উইল
মোতাবেক পঞ্চম ফিলিপ্প (১৭০০১৭৪৬) নাম ধারণ করে অ্যাঞ্জে ১৭০০ সালের এপ্রিল মাসে
স্পেনের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করতে আসেন।
নানা পরিস্থিতি বিবেচনায় লুই উইলটি গ্রহণ করেন এবং তার পৌত্র ফিলিপ আনজোকে
স্পেনের রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তবে চতুদর্শ লুই উইল গ্রহণের পর যে সকল নীতি গ্রহণ
করলেন তা সমগ্র ইউরোপে ভীতি এবং ক্ষোভের ও সৃষ্টি হয়।
১। লুই ঘোষণা দেন যে বুরবোঁ বংশের ডিউক আঞ্জো স্পেনের সিংহাসন অধিকার করলেও
ফ্রান্সের সিংহাসনের উপর তার দাবি সম্পূর্নভাবে স্বীকৃতি থাকবে।
২। ইংরেজ ও ওলন্দাজ বাণিজ্য পোত স্পেনীয় আমেরিকাস্থ উপনিবেশ গুলিতে প্রবেশ করতে
পারবে না বলে তিনি হুকুম জারি করেন।
৩। অস্ট্রিয়ার সম্রাটের সঙ্গে আপোস মীমাংসায় তিনি অস্বীকৃতি জানালেন।
৪। উইলিয়াম অরেঞ্জকে ইংল্যান্ডের রাজা বলে স্বীকার করলেন না।
তার এই ঘোষণা ইউরোপীয় দেশ গুলোর মধ্যে ভীতি ও সন্দেহ সৃষ্টি করলো। এদিকে লুই
রাইন উইকের চুক্তি ভঙ্গ করে স্পেনিশ নেদারল্যান্ড আক্রমণ করলে ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া,
হল্যান্ড প্রভৃতি শক্তিবর্গ মহান শক্তি সমবায় নামে একটি শক্তি সংগঠিত করে লুইয়ের ঔদ্ধত্যের
উত্তর দিতে প্রস্তুত হয়।
এর ফলে তিনটি মহাদশে ১৭০১ থেকে আরম্ভ করে ১৭১৩ সাল পর্যন্ত, ইউরোপ ও এশিয়া
আমেরিকায় যুদ্ধ চলে। দীর্ঘ ১৩ বছর এই যুদ্ধ চলার পর উভয় পক্ষই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই
ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দুটো ঘটনা যুদ্ধ বিরতিতে কার্যকর ভ‚মিকা রাখে।
প্রথমত : ইংল্যান্ডে উইগ মন্ত্রী সভার পতন ঘটে এবং টোরিরা ক্ষমতায় আসে, টোরিরা যুদ্ধ
চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক ছিলো না।
দ্বিতীয়ত : সম্রাট যোসেফ মারা যায় এবং আর্ত ডিউক চালর্স যষ্ঠ উপাধি ধারণ করে
সিংহাসনে বসেন। চার্লসের ক্ষমতা আরোহনের পর স্পেনের উত্তরাধিকার নিয়ে আগ্রহ আর
রইলো না। এর ফলে ইউট্রেক্ট সন্ধি দ্বারা স্পেনীয় উত্তরাধিকার যুদ্ধের অবসান ঘটে। ইউট্রেক্ট
চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭১৩ সালে। উক্ত চুক্তির বিষয়সমূহ ছিল :

১। লুই এর প্রোপৌত্র ফিলিপ আঞ্জোকে স্পেনের রাজা বলে স্বীকার করে নেয়া হয়। তবে
একই ব্যক্তি স্পেন এবং ফ্রান্স উভয় দেশের সিংহাসন কোনো ভাবেই দাবি করতে পারবে
না।
২। স্পেনের নেদারল্যান্ডীয় এবং ইতালীয় ভ‚খন্ডের কর্তৃত্ব অস্ট্রিয়াকে দেওয়া হলো;
৩। ফ্রান্সকে এ্যালসেস, স্টাসবার্গ এর অধিকার দেয়া হয়;
৪। প্রæশিয়ার ইলেকটরকে রাজা উপাধি দেয়া হয়;
৫। ইংল্যান্ডের সিংহাসনে হ্যানোভার অরেঞ্জ পরিবারের অধিকার স্বীকৃত হয়। এছাড়া স্পেনের
কলোনিতে ইংল্যান্ডের গুরত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এই চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। চুক্তিটি আন্তর্জাতিক
সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় শক্তিকে স্পেনের প্রভাব মুক্ত করে এবং ইংল্যান্ড, রাশিয়া এবং
প্রাশিয়াকে নতুন শক্তি হিসেবে আবিভর্‚ত হতে সুযোগ করে দেয়। ফ্রান্সের অর্থবল ও নৌবল
যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপের ইতিহাসে ফরাসি রাজ্য গ্রাস
নীতির পরিসমাপ্তি ঘটায়। তবে এই সন্ধিতে চতুদর্শ লুই-এর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে
তার প্রোপৌত্র পঞ্চদশ লুই রাজা হন, ফ্রান্স পরবর্তী সময়ের জন্য হ্যাপসবার্গ এর বিপদ থেকে
মুক্ত হয়। তবে ইউট্রেক্ট সন্ধি ফ্রান্সকে ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি বলে স্বীকার করে নেয়।
চতুদর্শ লুই এর পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে, ফ্রান্স ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে
পরিণত হলেও তা ছিল খুবই সাময়িক। তার পররাষ্ট্র নীতি পরবর্তীকালে ফ্রান্সের পতনের
অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

সারসংক্ষেপ
ফ্রান্সের ইতিহাসে বুরবোঁ রাজবংশের উত্থান এক যুগান্তকারী ঘটনা। চতুর্থ হেনরির আমলে বুরবোঁ
শক্তির যে প্রাধান্য বা প্রভাবের গোড়াপত্তন হয়েছিলো চতুদর্শ লুইয়ের আমলে তা সম্পূর্ণতা লাভ করে।
চতুর্থ হেনরি ফ্রান্সে ধর্ম সংক্রান্ত দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটান। আধুনিক ফ্রান্সে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক
কাঠামোর সূচনা করে- চতুর্দশ লুই ফ্রান্সকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেন। চতুদর্শ লুই এর
রাজত্বকাল অভ্যন্তরীণ এবং ইউরোপীয় রাজনীতিতে ফরাসি প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। লুই তার
ব্যক্তিগত ক্ষমতা রাজশক্তি সম্পর্কে তার ধারণা সর্বোপরি সমসাময়িক সাংস্কৃতির উৎকর্ষের সঙ্গে
রাজতন্ত্রকে মিশিয়ে ফ্রান্সের রাজ শক্তিকে অপ্রতিহত এবং মর্যাদা পূর্ণ করে তুলেছিলেন। লুই-এর
কর্মপরায়ণতা, তার রাজোচিত ত্মমর্যাদা ইউরোপীয় রাজতন্ত্রের ইতিহাসে তার চরিত্রকে গৌরবোজ্জ্বল
করে তুলেছিল। কেবলমাত্র ফ্রান্সে নয় সমগ্র ইউরোপের রাজনীতির ক্ষেত্রেও তিনি প্রভাব এবং প্রাধান্য
বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার রাজত্বকালে ইউরোপের ইতিহাস প্রাধানত ফ্রান্সের ইতিহাসে
পরিণত হয়েছিল। তার কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা, তার রাজনৈতিক প্রাধান্য, সর্বোপরি সাংস্কৃতিক ও
অথনৈতিক ক্ষেত্রে তার প্রভাব সবিশেষ উল্লেখ্যযোগ্য। ফরাসি দার্শনিক মতেস্কু চতুর্দর্শ লুই-এর চরিত্রে
আকৃষ্ট হয়ে তাকে মহান রাজা বলে অভিহিত করেন। রাজতন্ত্রকে তিনি এক শিল্পে পরিণত করেছিলেন
এবং এই শিল্পীসত্তার তিনি ছিলেন প্রধানশক্তি। তার প্রভাবে রাজনীতি, ধর্ম, অর্থনীতি, সাংস্কৃতি,
সর্বোপরি জাতীয় জীবনের সবকিছুই রাজার ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছিলো।

পাঠোত্তর মূল্যায়ন
নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন
সঠিক উত্তরে টিক () চিহ্ন দিন
১। ফ্রান্সের প্রোটেস্টান্টদের কি নামে অভিহিত করা হয় ?
ক) এ্যানজেলিস্ট খ) প্রেসব্যাটারিয়ান
গ) হিউগিনেট ঘ) পিউরিটান
২। চতুর্থ হেনরির প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
ক) ডিউক সালি খ) কার্ডিনাল রিশল্যু
গ) কার্ডিনাল ম্যাজারিন ঘ) ডিউক পোপেনহাইম
৩। প্যারিস লীগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ১৫৭২ সালে খ) ১৫৮৫ সালে
গ) ১৫৭৪ সালে ঘ) ১৫৮৯ সালে।
৪। চতুদর্শ লুই রাজতন্ত্র সম্পর্কিত কোন ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন ?
ক) রাজা ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতার অধিকারী
খ) রাজার ক্ষমতা অভিজাত শ্রেণীর মর্যাদার উপর নির্ভরশীল
গ) রাজা গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক
ঘ) রাজা জনগণের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নিবেন
৫। চতুদর্শ লুইয়ের বিখ্যাত অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কে ছিলেন ?
ক) সালি খ) ম্যাজারিন
গ) রিশুল্যু ঘ) কোলবার্ট
৬। চর্তুদশ লুই তার বিখ্যাত প্রাসাদ স্থাপন করেন কোথায় ?
ক) ভার্সাই খ) প্যারিস
গ) ল্যুভ ঘ) তোরিন
৭। স্পেনের উত্তরাধিকার উইলে কাকে স্পেন সাম্রাজ্যের অধিকার দেওয়া হয়?
ক) আর্চ ডিউক চার্লস খ) ব্যাভারিয়ারযুবরাজ যোসেফ ফার্ডিনান্ড
গ) লুইয়ের প্রোপৌত্র আঞ্জো ঘ) ডোভারের পুত্র এলিকনকে।
উত্তরমালা : ১। (গ), ২। (ক), ৩। খ, ৪। (ক), ৫। (ঘ), ৬। (ক), ৭। (গ)।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১। বুবরোঁ রাজবংশের উত্থানের সময় ফ্রান্সের ধর্মীয় সংঘাত সম্পর্কে আলোচনা করুন।
২। চতুর্থ হেনরির বৈদেশিক নীতি আলোচনা করুন।

৩। রাজতন্ত্র সম্পর্কে চতুদর্শ লুইয়ের ধারণা কি ছিলো?
৪। শিল্প ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চতুদর্শ লুইয়ের মূল্যায়ন করুন।
৫। চতুদর্শ লুইয়ের বৈদেশিক নীতির মূল উদ্দেশ্যসমূহ নির্ণয় করুন।
রচনামূলক প্রশ্ন
১। চতুর্থ হেনরির অভ্যন্তরীণ নীতিসমূহ বিশ্লেষণ করুন।
২। চতুদর্শ লুইয়ের অভ্যন্তরীণ সংস্কার আলোচনা করুন।
৩। চতুদর্শ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি বিশ্লেষণ করুন।

FOR MORE CLICK HERE
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস মাদার্স পাবলিকেশন্স
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস ১ম পর্ব
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস
আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাস মধ্যযুগ
ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস
মুঘল রাজবংশের ইতিহাস
সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি
অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষ
পৌরনীতি ও সুশাসন
অর্থনীতি
অনার্স ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত
অনার্স দর্শন পরিচিতি প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]