হ্যাপসবার্গ অস্ট্রিয়ার উত্থান সম্প
মারিয়া থেরেসার অভ্যন্তরীণ নীতি মূল্যায়ন করুন।র্কে সংক্ষেপে লিখুন

১। পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য এবং অস্ট্রিয়ার উত্থান
যে বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পূর্ব এবং পশ্চিম ইউরোপকে সেতুবন্ধনে আবদ্ধ করেছিল তা
পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট বা অধিকর্তা পবিত্র
সাম্রাজ্যেরও সম্রাট ছিলেন। হ্যাপসবার্গদের উত্থান ঘটেছিল সুইজারল্যান্ডের একটি ছোট
অঞ্চলের ভ‚-স্বামী হিসেবে। কাউন্টা রুডলফ এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি ১২৭৩
সালে পবিত্র রোমান সম্রাট হিসেবে মনোনীত হন। এই রাজকীয় পদবী পরবর্তী সময়ে
উত্তরাধিকার সূত্রে হ্যাপসবার্গ বংশ বহন করতে থাকে।
‘অস্ট্রিয়া’ নামটি যেসব অঞ্চলের উপর বর্তায় তা হ্যাপসবার্গরা অর্জন করেছিলো মূলত রাজ্য
জয়, উত্তরাধিকার সূত্র অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে। যে সব জাতিগোষ্ঠী এখানে বাস
করতো তন্মধ্যে জার্মানরা ছিলো সাইলেশিয়া বা অস্ট্রিয়ার মূল অংশে, চেকরা ছিল,
বোহেমিয়ারা মোরেবিয়াস, úোভাকরা রুমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, úোভেনিয়া, হাঙ্গেরি এবং তার
অধীনস্থ অঞ্চলে ইতালিয়ানরা মিলানে, টাসকানিতে এবং ওয়ালনসরা নেদারল্যান্ডএ। তবে
দক্ষিণ এবং পশ্চিমাংশের স্পেনিশ সাম্রাজ্য এবং দক্ষিণ পূর্বাংশের অটোম্যান সাম্রাজ্য থেকে
রোমান সাম্রাজ্যের অনৈক্য এবং বিভক্তি ছিলো অনেক বেশি। এটির ছিল না কোনো কেন্দ্রীয়
শাসন, রাজস্ব আদায়ের কোনো একক নীতি, কোনো জাতীয় সেনাবাহিনী। সমগ্র সাম্রাজ্যের
সেতুবন্ধন হিসেবে সম্রাট-যার প্রতি বিরাজ করতো একটি প্রচলিত আনুগত্য। সম্রাট হতেন
অবশ্যই একজন হ্যাপসবার্গ বংশোদ্ভুত। প্রত্যেক অঞ্চলের প্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যবস্থাপক সভা
গঠিত হতো যা নিয়মিত ভাবে রেসেনবার্গে বসতো, তারাই শাসনকার্য পরিচালনা করতো।
তবে ১৬৪৮ সালের পর পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অবস্থা পরিবর্তিত হতে শুরু করে। ত্রিশ
বছরব্যাপী যুদ্ধে এই সাম্রাজ্যের বিশালতা এবং ঐক্য ধ্বংস হয়ে যায়। ওয়েস্টফেলিয়া
শান্তিচুক্তির পর বিভিন্ন জার্মান রাষ্ট্র স্বাধীন সার্বভৌম নীতি অনুসরণ করতে থাকে। সুইডেন
এবং ফ্রান্স জার্মান ডায়েট বা বিধায়ক সভায় অংশগ্রহণের অনুমতি লাভ করায় রোমান
সাম্রাজ্যকে আরো দুর্বল করে তোলে। ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধের পর অস্ট্রিয়ার বৃহৎ রাষ্ট্রগুলি-
যেমন ব্যাভারিয়া, স্যাক্সনি, হ্যানোভার, ব্রানডেনবার্গ এবং অস্ট্রিয়া তাদের রাষ্ট্রের সীমারেখা

যথাসাধ্য বৃদ্ধির চেষ্টা করতে থাকে। উত্তরে ব্রানডেনবার্গ একটি শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে
আবির্ভ ত হয়। স্যাক্সনির রাজা অগাস্টাস ১৬৯৬ সালে পোল্যান্ডের রাজা নিযুক্ত হন। ১৭১৫
সালে হ্যানোভার-এর ইলেকটর গ্রেট বৃটেনের রাজা মনোনীত হন।
এরপর হ্যাপসবার্গরা তাদের ক্ষমতা সংহতকরণ এবং দেশকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যে নীতি
গ্রহণ করে তা হলো দানিয়ুব অঞ্চলসমূহ, উত্তরাধিকার স‚ত্রে শাসিত অঞ্চলগুলি নিয়ে ফ্রান্স
এবং ইংল্যান্ডের মতো এক শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই নীতির প্রধান রূপকার
ছিলেন প্রথম লিওপোল্ড। লিওপোল্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিলো অস্ট্রিয়া, বোহেমিয়া ও হাঙ্গেরিকে
নিয়ে মিলিতভাবে শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে তিনটি অঞ্চলকে একত্রীকরণ
করে তাদের উপর হ্যাপসবার্গের আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৬২৭ সালে হ্যাপসবার্গ রাজাকে
বোহেমিয়ার রাজা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। ১৬৯৯ সালে কার্লউইটজ-এর শান্তিচুক্তি
মোতাবেক অস্ট্রিয়ান হ্যাপসবার্গকে হাঙ্গেরির (উত্তর অংশ ব্যতিরেকে) রাজা হিসেবে ঘোষণা
দেয়া হয়। ইউট্রেক্ট-এর শান্তি চুক্তি (১৭১৩) মোতাবেক অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ইতালির মিলান,
সিসিলি ও নেদারল্যান্ড দখল করে। এ ভাবে দানিয়ুব অঞ্চলে লিওপোল্ড হ্যাপর্সবার্গের অধীনে
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীভ‚ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম
হয়।
১৭১৩ সালে লিওপোল্ড তার পুত্র ষষ্ঠ চালর্সকে অস্ট্রিয়ার বোহেমিয়া ও হাঙ্গেরির সম্রাট হিসেবে
মনোনীত করেন। ঘোষণা দেওয়া হয় যে তিনটি দেশই এককভাবে অস্ট্রিয়ার হ্যাপসবার্গ
রাজার অধীনে শাসিত হবে। সুতরাং অস্ট্রিয়া অষ্টাদশ শতাব্দীতে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে
গড়ে উঠলো যা মূলত রাজ্য জয়, বিবাহ এবং ক‚টনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলকে সংগ্রহ করে
গড়ে উঠেছিলো। যথার্থভাবে এটি একক সাম্রাজ্য ছিলো না। তবে অস্ট্রিয়ার সম্রাটকে পবিত্র
রোমান সাম্রাজ্যের নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়। অস্ট্রিয়ার সাম্রাজ্যের অধীনে শাসিত
অঞ্চলসমূহ ছিলো অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক বোহেমিয়ার রাজা, হাঙ্গেরির রাজা, মিলানের ডিউক,
বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড-এর রাজন্যবর্গ-এরা সকলেই একে অপর থেকে স্বাধীন ছিলো।
স্থানীয় প্রশাসন, রাজ্য শাসননীতিসহ সবকিছুই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হতো।
পবিত্র সামাজ্রের অধীনে যে জাতি গোষ্ঠী সমূহ বাস করতো তাদের মধ্যে ছিলো জার্মান, চেক,
úোভাক, হাঙ্গেরি, রুমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, úোভানিায়া, ইতালীয়ান, ফ্লেমিং এবং ওয়ালেন। তবে
এই সব জাতি নানারকম অনৈক্য এবং বিভাজন সত্তে¡ও অস্ট্রিয়ান হ্যাপসবার্গ পরিবার এদের
বেশ মর্যাদা প্রদান করেছিল।
২। ষষ্ঠ চালর্স এবং প্যাগম্যাটিক স্যাংশন
হ্যাপসবার্গ সাম্রাজ্য অষ্টাদশ শতাব্দীতে হুমকির মুখে পড়ে। ষষ্ঠ চালর্স কোনো পুত্র সন্তান বা
উত্তরাধিকার না রেখেই মারা যান। ষষ্ঠ চালর্সের কন্যা মারিয়া থেরেসা ছাড়া অন্য কোনো
সন্তানাদি ছিলো না। যেহেতু নারীরা সম্রাট হতে পারে না, তাই তার মৃত্যুর পর পবিত্র রোমান
সাম্রাজ্যের উত্তারাধিকার নিয়ে গোলযোগ দেখা দেবে আশঙ্কা থেকে তিনি তাঁর রাজত্বকালের
শেষ কয়েক বছর ইউরোপের রাজাগণের নিকট প্যাগম্যাটিক স্যাংশন নামে একটি অনুমোদন
পত্র স্বাক্ষর করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে হ্যাপসবার্গ সাম্রাজ্য
অবিভাজ্য এবং তা ভাঙ্গা যাবে না। যে নীতি দ্বারা মেয়েরা রাজা হতে পারবে না তা উপেক্ষা

করে তিনি ঘোষণা দেন যে মারিয়া পবিত্র রোমান সম্রাটের সম্রাজ্ঞী না হলেও তার অধীনস্থ
অঞ্চলসমুহের রাণী হিসেবে অধিষ্ঠিত থাকবেন।
ইউরোপের প্রত্যেকটি জাতীয় রাষ্ট্র যেমন প্রাশিয়া, রাশিয়া, গ্রেট বৃটেন, হল্যান্ড পোল্যান্ড, ফ্রান্স
ও স্যাভয়-এর রাজারা প্যাগম্যাটিক স্যাংশনে এই শর্তে স্বাক্ষর দিয়েছিলেন যে মারিয়া থেরেসা
পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী হবেন না বরং তিনি অস্ট্রিয়ার রানী হিসেবে সিংহাসন লাভ
করবেন।
৩। অস্ট্রিয়ার রাণী হিসেবে মারিয়া থেরেসার সমস্যাসমূহ
১৭৪০ সালে সম্রাট ষষ্ঠ চালর্স মারা যান। মারিয়া থেরেসাকে আর্ক অব ডাচেস হিসেবে হাঙ্গেরি
ও বোহেমিয়ার রাণী হিসেবে এবং ইউরোপের অন্যান্য হ্যাপসবার্গের অধীনস্থ অঞ্চলের রাণী
হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।
সিংহাসনে আরোহনের পর পরই মারিয়া থেরেসা অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির সম্মুখে পড়েন।
মারিয়া একটি বিশৃংখলাপূর্ণ, শূন্য রাজকোষ এবং অনিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী সম্পন্ন দেশ লাভ
করেন। সিংহাসনে আরোহনের পর মারিয়া থেরেসা তার স্বামী ফ্রান্সিসকে যুগ্ম শাসক হিসেবে
নিযুক্ত করেন। ফ্রান্সিস ১৭৪৫ সালে রোমান সম্রাট পদে নির্বাচিত হন। মারিয়া তার পিতার
আমলের সকল মন্ত্রীকেই বহাল রেখেছিলেন এবং তার প্রশাসনিক কর্মকান্ডও সচল রাখেন।
তবে তিনি কঠিন উত্তরাধিকার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
বেশিরভাগ ইউরোপীয় রাষ্ট্র প্যাগম্যাটিক স্যাংশন মেনে নিতে রাজি হলেও অস্ট্রিয়ার সামরিক
দুর্বলতা ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার সুযোগে ইউরোপের একাধিক রাষ্ট্রের অধিপতিরা তাদের
পূর্ব প্রতিশ্রæতি ভঙ্গ করে মারিয়া থেরেসার দাবির বিরোধিতা করেন। এদের অনেকেই সম্রাট
ষষ্ঠ চার্লসের মৃত্যুর পর প্যাগম্যাটিক স্যাংশন অনুমোদন করতে অস্বীকার করেন। প্র্যাগম্যাটিক
স্যাংশন-এর ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম বাধসাধেন প্রাশিয়ার উচ্চাকাংক্ষী ফ্রেডারিখ। অস্ট্রিয়ার
অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে তিনি উত্তরাধিকার যুদ্ধ উসকে দেন এবং এটিকে একটি
ইউরোপীয় যুদ্ধে পরিণত করেন।
৪। মারিয়া থেরেসার বৈদেশিক নীতি
ষষ্ঠ চার্লসের মুত্যুর সুযোগ নিয়ে প্রাশিয়ার রাজা ফ্রেডারিখ প্র্যাগম্যাটিক স্যাংশন অগ্রাহ্য করে
মারিয়া থেরেসার কাছে সাইলেশিয়া দাবি করেন। সাইলেশিয়া ছিল উত্তর ওডার অঞ্চলের
একটি উর্বর জার্মান এলাকা। এর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং শিল্প অঞ্চলগুলি প্রাশিয়ার শক্তিমত্তা
এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য প্রয়োজন ছিল। হোহেনজোলার্ন প্রাশিয়ার সঙ্গে সাইলেশিয়াকে
ঐক্যবদ্ধ করে ফ্রেডারিখ প্রাশিয়া তথা জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। অপরদিকে
সাইলেশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে অস্ট্রিয়া জার্মানিতে তার প্রভাব কমাতে বাধ্য হয়।
ফ্রেডারিখ ‘প্র্যাগম্যাটিক স্যাংশন’ অস্বীকার করে মারিয়া থেরেসার কাছে সাইলেশিয়া চাইলেও
মারিয়া সেই দাবি পূরণে অস্বীকার করেন। এরপর ফ্রেডারিখ কোনো যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই

সৈন্যবাহিনীকে সাইলেশিযার অভিমুখে পাঠান এবং ১৭৪০ সালের ডিসেম্বরে তিনি কোনো
প্রতিরোধ ছাড়াই সাইলেশিয়া দখল করেন।
সাইলেশিয়া গ্রহণ করে ফ্রেডারিখ থেরেসার স্বামীকে রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে
মনোনীত করার ক্ষেত্রে কতিপয় শর্ত আরোপ করেন। শর্ত সমূহ হচেছ (১) তাঁর শত্রট্টুপক্ষের
বিরুদ্ধে সামরিক সাহায্য, (২) বিশাল পরিমান (তিন মিলিয়ন গুলডেন) ক্ষতিপূরণ দান।
কিন্তু মারিয়া অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ফ্রেডারিখের সঙ্গে সকল সমঝোতা বাতিল করেন।
কিন্তু ইউরোপীয় দেশসমূহ তাঁকে সাহায্য না করে ১৭৪১ সালের মে মাসে স্পেন,
ফ্রান্স,ব্যাভারিয়া, স্যাক্সনি, স্যাভয়, প্রাশিয়া ও অস্ট্রিয়া বিরোধী জোট গঠন করে। ফ্রেডারিখ
ফ্রান্সের রাজা পঞ্চদশ লুইকে থেরেসার বিরুদ্ধে তার সপক্ষে টেনে নিয়ে আসেন। স্পেনের
সঙ্গে ইংল্যান্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতির কারণে অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধে প্রভাব
বিস্তার করতে থাকে। তবে গ্রেট বৃটেন ফ্রান্সের সঙ্গে সম্ভাব্য অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ড আক্রমণের
ভয়ে ভীত হয়ে প্রাশিয়ার জার্মান রাষ্ট্র হ্যানোভার হস্তগত করার জন্য (যা ছিল বৃটেনের রাজার
অধীনে) অস্ট্রিয়াকে সমর্থন করে, সামরিক এবং আর্থিক সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রæতি দেয়। এই
জোটের প্রাশিয়া, ফ্রান্স, স্পেন, ব্যাভারিয়া, স্যাক্সনি এবং স্যাভয় আস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ছিলো।
অস্ট্রিয়া বিরোধী মৈত্রী জোটে এই দেশসমূহ এই মর্মে ঐক্যবদ্ধ হয় যে, ফ্রান্স অস্ট্রিয়া ও
নেদারল্যান্ড পাবে, স্পেন ইতালির হ্যাপসবার্গ অঞ্চলসমূহ পাবে। মারিয়া থেরেসা শুধু হাঙ্গেরির
উপর তার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে।
তবে অস্ট্রিয়ার অসীম সাহসী এই রাণী এই সময় হাঙ্গেরিতে পালিয়ে যান এবং সাহায্যের
আবেদন করলে হাঙ্গেরির প্রজাদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন। তারা ১ লক্ষ সৈন্য
পাঠায়। প্রতিদানে মারিয়া অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরিতে দ্বৈত রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন।
১৭৪১ সালে অক্টোবরে মারিয়া প্রাশিয়ার ফ্রেডারিখের সঙ্গে গোপনে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি
অনুযায়ী অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মৈত্রী জোট ভেঙ্গে দিলে অস্ট্রিয়া উত্তর সাইলেশিয়ার বৃহৎ অংশ
প্রাশিয়ার নিকট ছেড়ে দেবে। ফ্রেডারিখ ব্যাভারিয়ার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মোরেভিয়া দখল
করেন এবং এর বিনিময়ে সাইলেশিয়া অধিকার করে নেয়। অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রথম
পর্ব এভাবে শেষ হয়।
তবে যুদ্ধ এরপরও চলেছিলো। কারণ সাইলেশিয়া হারালেও তার বিনিময়ে অস্ট্রিয়া ক্ষতিপুরণ
হিসেবে ব্যাভারিয়া পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলো। ইংল্যান্ড এ ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করে।
সেপ্টেম্বরে ওয়ার্মস-এর চুক্তির মাধ্যমে ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সার্ডিনিয়া, পিডমন্ট, ফ্রান্স এবং
ব্যাভারিয়ার বিরুদ্ধে মৈত্রী জোটে আবদ্ধ হয়েছিলো। অস্ট্রিয়ার সৈন্যবাহিনী সাফল্যের সঙ্গে
বোহেমিয়া থেকে ফ্রান্সের সৈন্যকে তাড়িয়ে দেয় এবং ব্যাভারিয়া জয় করে। ব্যাভারিয়ার রাজা
সপ্তম চালর্স মারা গেলে ইলেক্টর মারিয়া থেরেসার স্বামী প্রথম ফ্রান্সিসকে সম্রাট হিসেবে ঘোষণা
দেয়া হয়। থেরেসার সৈন্যবাহিনী ইতালিতে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এবং স্পেনের বিরুদ্ধে সাফল্য
লাভ করে। তবে ইংল্যান্ড ও হল্যান্ডের বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় স্পেন এবং ফ্রান্সের বাহিনীর
কাছে পরাজিত হতে থাকে।

তবে ১৭৪৮ সালে উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে আইয়ে-লা-শ্যাপলের চুক্তি
স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধিতে অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।
মারিয়া থেরেসা সাইলেশিয়া হারালেও তা পুনরুদ্ধার করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধে সাইলেশিয়া পুনরুদ্ধারে প্রচেষ্টা করেও তিনি অকৃতকার্য হলেন। প্যারিস সন্ধি
(১৭৬৩)-এর ফলে পুনরায় তাকে সাইলেশিয়ার অধিকার ত্যাগ করতে হলো। তাঁর পররাষ্ট্র
মন্ত্রী কৌনিজের পরামর্শে তিনি ফ্রান্সের সঙ্গে দুই শতাব্দীর দ্ব›দ্ব মিটিয়ে ফেলে মিত্রতা সূত্রে
আবদ্ধ হন। এটি ‘ ক‚টনৈতিক বিপ্লব’ নামে পরিচিত।
১৭৭২ খ্রি: পোল্যান্ডের প্রথম ব্যবচ্ছেদ তিনি অংশ গ্রহণ করেন। নিজের অইিচ্ছা সত্তে¡ও তিনি
পুত্র যোসেফও মন্ত্রী কৌনিজের পরামর্শে পোল্যান্ড ব্যবচ্ছেদে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এর
ফলে তিনি রেড রাশিয়ার অধিকাংশ এলাকা তথা গ্যালিসিয়া, পোডেলিয়ার একাংশ,
স্যান্ডোমির ও ফ্রাকো অধিকার করেন।
এভাবে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে সাইলেশিয়া হারালেও পোল্যান্ড ব্যবচ্ছেদে মারিয়া থেরেসা নতুন
ভূমি লাভে সক্ষম হন।
৫। মারিয়া থেরেসার অভ্যন্তরীণ সংস্কার
সিংহাসনে আরোহন করার অব্যবহিত পরেই উত্তরাধিকার যুদ্ধে সাইলেশিযা হারিয়ে মারিয়া
থেরেসা অভ্যন্তারীণ সংস্কারের দিকে মনোযোগী হন। সাইলেশিয়া পুনরুদ্ধার কল্পে অভ্যন্তারীণ
শক্তি বৃদ্ধির প্রয়োজন তিনি উপলদ্ধি করলেন। এ সময়ে অভিজাত স¤প্রদায়ের হাতে প্রচুর
ক্ষমতা ছিলো । শক্তিশালী অভিজাত স¤প্রদায় দুর্নীতি এবং স্বার্থপরতায় মগ্ন ছিলো। সামরিক
পদ্ধতি ছিল পুরাতনপন্থী। বিভিন্ন প্রদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল বিভিন্ন ধরনের
এবং প্রায় পরস্পরবিরোধী। প্রিন্স জর্জ অব হগউইজ এবং রুডলফ টোটেফ নামে দুজন মন্ত্রীর
উপর তিনি অভ্যন্তারীণ সংস্কারের ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি নিজেও এই সংস্কার কার্যে
তাদের উৎসাহ দিতেন।
রাজ্য শাসনের ক্ষেত্রে তিনি দশটি নতুন প্রশাসনিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রত্যেকটিরই এক
একটি কমিশন ছিল যারা ভিয়েনায় কেন্দ্রীয় কমিশন দ্বারা নির্বাচিত ও নিয়ন্ত্রিত হতো। এরা
ছিলো ফরাসি ইনটেনডেন্ট অফিসারের মতো। তাছাড়াও শাসন ব্যবস্থাকে কার্যকরও কেন্দ্রীভ‚ত
করবার জন্য তিনি একটি ‘কাউন্সিল অব স্টেট’ স্থাপন করলেন। এই কাউন্সিলের উপর তিনি
চারটি বিভাগের কার্য পরিচালনা এবং পরিদর্শনের ভার দিয়েছিলেন। এই চারটি বিভাগ ছিলো
কার্য নির্বাহক রাজস্ব, সামরিক ও বিচার বিভাগ। কার্য নির্বাহক এবং রাজস্ব বিভাগের
নির্দেশমতো প্রাদেশিক গভর্নর চলতো। বিচার বিভাগের শক্তিশালীকরণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা
নেয়া হয়। সুবিচারের জন্য প্রত্যেক শহর এবং অভিজাতগণের জমিদারীতে অবস্থিত বিচারালয়
থেকে প্রাদেশিক আপীল আদালতে আপীল করার ব্যবস্থা রাখা হয়। সর্বোপরি কেন্দ্রীয়
হাইকোর্টে বিচার প্রার্থী হওয়া যেতো। এভাবে শাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে তিনি পূর্বাপেক্ষা
বহুগুণে কার্যদক্ষ ও সংহতি সম্পন্ন করে গড়ে তোলেন। রাজ্যের সর্বত্র কেন্দ্রীয় সরকারের
প্রাধান্য পূর্ণমাত্রায় স্থাপিত হয়, সকল জমিদারীতেই অভিজাত ব্যক্তিদের ক্ষমতা পূর্বাপেক্ষা

কমানো হয়। কৃষকদেরকে অভিজাত শ্রেণীর অত্যাচার এবং শোষণের হাত থেকে রক্ষার
ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। অভিজাত শ্রেণীকে করদানে বাধ্য করা হয়। সম্পত্তির উপর খাজনা
বাড়ানো হয়।
মারিয়া থেরেসার পররাষ্ট্রনীতির মূল এবং একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো সাইলেশিয়া পুনরুদ্ধার করা।
এজন্য প্রয়োজন ছিল সুসংগঠিত, সুশিক্ষিত এবং শক্তিশালী সৈন্যবাহিনীর। সৈন্যদের শিক্ষার
জন্য একাধিক সামরিক স্কুল স্থাপিত হয়। কয়েক বছরের মধ্যে অস্ট্রিয়ার সৈন্যবাহিনী এক
লক্ষ থেকে দুই লক্ষে পরিণত হয়েছিলো। এভাবে সামরিক বাহিনীকে পেশাদারী এবং
আধুনিকীকরণ করা হয়।
১৭৬৫ থেকে ১৭৮০ সাল পর্যন্ত যুগ্মভাবে মারিয়া তাঁর ছেলে দ্বিতীয় জোসেফের সঙ্গে
সিংহাসনে বসেছিলেন। তাঁরা উভয়েই বিভিন্ন সামাজিক সংস্কার চালিয়ে যান। শিক্ষা, শিল্প ও
বাণিজ্যের ব্যাপারেও মারিয়া থেরেসার আমলে ব্যাপক সংস্কার সাধিত হয়েছিল। দেশের শিক্ষা
বিস্তারের জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিযুক্ত
করার দায়িত্ব মারিয়া থেরেসা নিজ হাতে গ্রহণ করেন। এই সময় থেকেই শিক্ষা বিভাগ ক্রমে
ক্রমে সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রাধীনে চলে আসে। এক্ষেত্রে জেসুইটদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়।
মাধ্যমিক শিক্ষা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাপক কর্মসূচী গৃহীত হয়। থেরেসার
সংস্কার এবং জেসুইটদের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হয়।
মারিয়ার সময়ে জাহাজ নির্মাণ, রাস্তাঘাট, খাল খনন ইত্যাদি নির্মাণ এবং বিভিন্ন ধরনের শিল্প
প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উৎসাহ দেয়া হয়। ভ‚মধ্যসাগর ও আড্রিয়াটিক অঞ্চলের দেশগুলিতে
অস্ট্রিয়ার কনসাল নিযুক্ত করা হয়।
এই সময় ডাক বিভাগের উন্নতিও হয়েছিল। আর্থিক উন্নতি বিধানে আয়কর স্থাপন করা হলো।
ক্রমবর্ধমান নীতিতে পোলট্যাঙ্ক নামে একটি মাথাপিছু কর স্থাপন করা হলো। আয়বৃদ্ধি এবং
ব্যয় হ্রাস করার সকল ব্যবস্থাই অবলম্বন করা হয়।
মারিয়া এবং তাঁর পুত্র জোসেফ রোমান ক্যাথলিক হলেও তাঁরা তাঁদের চার্চের প্রভাব থেকে
রাষ্ট্রকে মুক্ত করেন। চার্চের উপর রাষ্ট্রের অধিকার স্বীকৃত হয়। বিশপদের উপর পূর্ববর্তী
আমলের কর থেকে অব্যহতি দানের যে নীতি ছিল তা তিনি বাতিল করেন এবং চার্চকে রাষ্ট্রীয়
আইনের অধীনে নিয়ে আসেন। এ ছাড়া পূর্বে পোপের হুকুমনামা নামে যে নির্দেশ জারি করা
হতো সেই ক্ষমতাও বাতিল করা হয়, রাষ্ট্রকেই সেই ঘোষণার দায়িত্ব দেয়া হয়।
এভাবে বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে মারিয়া থেরেসা অস্ট্রিয়ার শাসন ক্ষমতাকে শক্তিশালী
করেন। তিনি শাসন ব্যবস্থা কেন্দ্রীভূত করে এক ধরনের স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেও তাঁর সেই
স্বৈরতন্ত্র ছিল জনকল্যাণমূলক যা বিভিন্ন ধরনের সমাজ সংস্কারের নীতিকে অনুসরণ করে
এগিয়ে যায়।

সারসংক্ষেপ
শক্তিশালী রাজতন্ত্রের যুগে মারিয়া থেরেসার নেতৃত্বে অস্ট্রিয়ার উত্থান ইউরোপের ইতিহাসে একটি
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উভয় নীতির ক্ষেত্রেই তিনি অবিস্বরণীয় সাফল্য অর্জনে
সক্ষম হন। ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত ক্লান্ত হাপসবার্গরা সম্রাট লিওপোল্ড এবং ষষ্ঠ চার্লসের
নেতৃত্বে অস্ট্রিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। ষষ্ঠ চালর্স তার কন্যা মারিয়া থেরেসাকে
অস্ট্রিয়ার রাণী হিসেবে স্বীকৃতির জন্য ইউরোপীয় রাজন্যবর্গের কাছ থেকে প্র্যাগম্যাটিক স্যাংশন
অনুমোদন লাভ করেন। তবে তার মৃত্যুর পর ইউরোপীয় রাজন্যবর্গ মারিয়াকে অস্ট্রিয়ার রাণী হিসেবে
অস্বীকার করলে থেরেসা একটি শক্তিশালী বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হন। তিনি তাঁর
বিরুদ্ধবাদী সকল শক্তিতেই পরাজিত ও দমন করতে সক্ষম হন। সাইলেশিয়া হারালেও প্রাশিয়ার
আধিপত্য তিনি একচ্ছত্র হতে দেন নি তার বুদ্ধিমত্তাও যোগ্যতার কারণে। অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রে
তিনি শক্তিশালী রাজতন্ত্রের প্রতিভ‚ ছিলেন। সমসাময়িক ইউরোপের প্রজাহিতৈষী স্বৈরাচারী শাসকদের
মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তাঁর পুত্র এবং পরবর্তী রাজা দ্বিতীয় যোসেফ-এর শাসনকালে আমূল
সংস্কারের পথ প্রদর্শক ছিলেন মারিয়া থেরেসা। মারিয়া থেরেসার পথ অনুসরণ করেই পরবর্তী শাসক
জোসেফ রোমান সম্রাট হিসেবে এবং অস্ট্রিয়ার রাজা হিসেবে সফলভাবে শাসন করতে সক্ষম হন।


নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন
সঠিক উত্তরে টিক () চিহ্ন দিন
১। পবিত্র রোমান সম্রাটের অধিকর্তা হিসেবে কোন বংশের সম্রাটকে মনোনীত করা হয় ?
ক) টিউডর বংশ খ) ওসমানিয়া বংশ
গ) রোমানভ বংশ ঘ) হ্যাপস্বার্গ বংশ
২। ত্রিশবছর ব্যাপী যুদ্ধের কোন সম্রাটের নেতৃত্বে দানিয়ুব অঞ্চল-ভিত্তিক হ্যাপসবার্গ অস্ট্রিয়ার
উত্থান ঘটে ?
ক) সম্রাট লিওপোল্ড খ) মারিয়া থেরেসা
গ) দ্বিতীয জোসেফ ঘ) সম্রাট ফ্রেডারিখ
৩। কোন সম্রাট ইউরোপের রাজন্যবর্গের কাছ থেকে প্র্যাগম্যাটিক স্যাংশন অনুমোদনের জন্য
ব্যস্ত হয়ে পড়েন?
ক) সম্রাট রুডলপ খ) সম্রাট লিওপোল্ড
গ) সম্রাট ফার্ডিনান্ড ঘ) সম্রাট ষষ্ঠ চালর্স
৪। ফ্রেডারিখ মারিয়ার কাছ থেকে কোন গুরুত্বপুর্ণ অঞ্চল দাবি করেন ?
ক) স্যাক্সনি খ) ক্লিস্টউইড
গ) সাইলেশিয়া ঘ) মোরেডিরা
৫। কত সালে ইউরোপে অস্ট্রিয়া বিরোধী মৈত্রী জোট গঠিত হয়?
ক) ১৭৪৭ সালে খ) ১৭৪৩ সালে
গ) ১৭৪৫ সালে ঘ) ১৭৪১ সালে
৬। মারিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধে হ্যাপস্বার্গ অধীনস্ত কোন অঞ্চল থেকে বিপুল সাহায্য
সহযোগিতা পেয়েছিলেন?
ক) বোহেমিয়া খ) বেলজিয়াম নেদারল্যান্ড
গ) মিলান ঘ) হাঙ্গেরি
৭। কোন চুক্তির মাধ্যমে উত্তরাধিকার যুদ্ধ সমাপ্তি হয়?
ক) ওয়ামসের চুক্তি খ) আইয়ে লা শ্যাপেলের চুক্তি
গ) প্যারিসের চুক্তি ঘ) প্রæথের চুক্তি
৮। শাসন ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূতকরণে ‘কাউন্সিল অব স্টেট’ কতটি বিভাগে নিয়ন্ত্রণ করতো?
ক) ৬টি খ) ৪টি
গ) তিনটি ঘ) ৫টি
উত্তর : ১। (ঘ), ২। (ক), ৩। (ঘ), ৪। (গ), ৬। (ঘ), ৭। (খ), ৮। (খ)।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১। হ্যাপসবার্গ অস্ট্রিয়ার উত্থান সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখুন
২। প্র্যাগম্যাটিক সংস্কার বলতে কি বুঝায়? রাজা ষষ্ঠ চালর্সকে কেনো ইউরোপীয় রাজন্যবর্গের
কাছ থেকে এর অনুমোদনের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন?
রচনামূলক প্রশ্ন
১। মারিয়া থেরেসার প্রাথমিক সমস্যাসমূহ কি ছিলো? কীভাবে তিনি তাঁর বৈদেশিক নীতি
পরিচালিত করেন?
২। মারিয়া থেরেসার অভ্যন্তরীণ নীতি মূল্যায়ন করুন।

FOR MORE CLICK HERE
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস মাদার্স পাবলিকেশন্স
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস ১ম পর্ব
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস
আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাস মধ্যযুগ
ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস
মুঘল রাজবংশের ইতিহাস
সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি
অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষ
পৌরনীতি ও সুশাসন
অর্থনীতি
অনার্স ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত
অনার্স দর্শন পরিচিতি প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]