শিল্প বিপ্লবের সংজ্ঞা সম্পর্কে বিভিন্ন মতগুলো আলোচনা করুন।
শিল্প বিপ্লবের কারণগুলির বর্ণনা দিন।


আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিল্প বিপ্লব বিষয়টি খুবই বিতর্কিত। এর সংজ্ঞা, শিল্প বিপ্লব কখন
শুরু হয়, শিল্পোৎপাদন সত্যই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল কিনা এসব প্রশ্লে ঐতিহাসিকগণ দীর্ঘ
দিন ধরে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করে আসছেন। শিল্প বিপ্লবের প্রধান কারণ কি সে বিষয়েও
ঐতিহাসিক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
শিল্প বিপ্লবের সংজ্ঞা
ঐতিহাসিক ও অর্থনীতিবিদগণ শিল্প-বিপ্লবের সংজ্ঞা সম্পর্কে বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। এসব
মতকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। একদল ঐতিহাসিক শিল্প বিপ্লবকে এমনভাবে
সংজ্ঞায়িত করেছেন যাতে আঠার শতকের শেষভাগে ইংল্যান্ডের কৃষি, শিল্প, খনিজ সম্পদ আহরণ,
যাতায়াত ব্যবস্থায় ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল সামগ্রিকভাবে তা বুঝানো
যায়। অর্থাৎ শিল্প বিপ্লব শব্দটি তারা ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। অপর দলটি এ সময়ে শুধু
শিল্পোৎপাদন ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল শিল্প বিপ্লব শব্দটি দ্বারা শুধুতাকে বুঝাতে
চেয়েছেন। অর্থাৎ এ দল শব্দটিকে সীমিত অর্থে ব্যবহার করেছেন।
আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। তারা শিল্প বিপ্লব শব্দটি দ্বারা কৃষি
ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল সেগুলোকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। ফিলিস
ডিন এ দলের একজন উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক। তাঁর মতে ইংল্যান্ডের অর্থনীতিতে নি¤œলিখিত
পরিবর্তনগুলোকে শিল্প বিপ্লব বুঝায়: (ক) কুটীর শিল্পের পরিবর্তে যন্ত্রচালিত পুঁজিবাদী শিল্পের
বিকাশ। অর্থাৎ পুঁজিপতি শ্রেণীর মূলধন দ্বারা কারখানা স্থাপন করে এতে শিল্প-পণ্য উৎপাদনের
ব্যবস্থা, (খ) উৎপাদনের কাজে নতুন যন্ত্রপাতির ব্যবহার, (গ) যন্ত্র চালানোর জন্যে বাষ্পের
ব্যবহার, (ঘ) কারখানায় পণ্য উৎপাদনের জন্যে শ্রমিক নিয়োগ, (ঙ) উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত
করে মুনাফা অর্জন এবং (চ) মূলধন যোগানের জন্য ব্যাংক প্রভৃতি অর্থনৈতিক সংস্থার উদ্ভব।
সংক্ষেপে শিল্প বিপ্লব বলতে বুঝায় পুঁজিপতি কর্তৃক কারখানা স্থাপন এবং এতে শ্রমিক ও বাষ্প
চালিত যন্ত্রের সাহায্যে ব্যাপক হারে শিল্প-পণ্য উৎপাদন।
শিল্প বিপ্লবের সংজ্ঞা সম্পর্কে শেষোক্ত মতটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। অবশ্য এ
প্রসংগে আবার উল্লেখের প্রয়োজন যে একটি অনুন্নত বা স্থবির অর্থনীতিতে হঠাৎ করে এ বিপ্লবের
সূত্রপাত হয়নি-অনেকদিন আগে থেকেই ক্রমে ক্রমে শিল্পোৎপাদন ক্ষেত্রে, তথা সমগ্র অর্থনীতিতে
ব্যাপক অগ্রগতির পথ সুগম হচ্ছিল।

শিল্পে বিপ্লব সূচনাকারী আবিষ্কারসমূহ
ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে প্রথমে এ আবিস্কারগুলো ঘটে। ১৭৩৩ সালে জনকে ফ্লাইং শাটল
আবিষ্কার করেন। ১৭৬৪ সালে হারগ্রিভস সুতা উৎপাদনের যন্ত্র স্পিনিং জেনি আবিষ্কার করেন।
এর ফলে হাতের পরিবর্তে যন্ত্রের সাহায্যে সুতা উৎপাদনের ব্যবস্থা হয় এবং একজন ব্যক্তি একই
সংগে অনেকগুলো টাকুচালাতে সমর্থ হয়। ১৭৬৮ সালে রিচার্ড আর্করাইট জলশক্তি নিয়োগ করে
সুতা কাটার আর একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। এ যন্ত্রটি ওয়াটার ফ্রেম (ডধঃবৎ ঋৎধসব) নামে
পরিচিত। ১৭৭৯ সালে স্যামুয়েল ক্রম্পটন অপর একটি যন্ত্র আবিস্কার করে হারগ্রিভস ও
আর্করাইটের উদ্ভাবিত প্রণালীর সমম্বয় করেন। ক্রম্পটনের এ যন্ত্র মিউল (গঁষব) নামে পরিচিত।
এসব আবিষ্কারের ফলে সুতার উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। অত:পর এডমন্ড কার্টরাইট ১৭৮০
সালে শক্তি তাঁত (চড়বিৎ খড়ড়স) আবিষ্কার করে বয়ন শিল্পে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধন করেন।
এ পরিবর্তন সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায় তুলা আমদানির পরিমান থেকে। ১৭৬৪ সালে
ইংল্যান্ডে তুলা আমদানির পরিমান ছিল চার মিলিয়ন পাউন্ড, ১৮৩৩ সালে এ আমদানির পরিমান
দাঁড়ায় চার হাজার মিলিয়ন পাউন্ডে।
নতুন যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করার জন্যে লোহা ও কয়লার প্রয়োজন হয় এবং উন্নত উপায়ে খনি থেকে
কয়লা তোলার ব্যবস্থা হয়। রোবাক ও হেনরিকোর্ট লৌহ শিল্পের প্রভ‚ত উন্নতি সাধন করেন১৭৪০
সালে। এ খাতে উৎপাদনের পরিমান ছিল ১৭০০০ হাজার টন, ১৭৮৮ সালের মধ্যে উৎপাদন
চারগুণ এবং ১৮৬০ সালের মধ্যে ১৫ গুণ বৃদ্ধি পায়। ১৭৭৭ সালে প্রথম লৌহ সেতুএবং ১৭৯০
সালে লৌহপোত নির্মিত হয়। এভাবে ইংল্যান্ডে লৌহ যুগের সূত্রপাত হয় এবং ইতিপূর্বে বিরল
বসতির খনি অঞ্চলে সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে উঠে।
অন্যান্য আবিষ্কার
এ যুগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হচ্ছে বাষ্পীয় শক্তির ব্যবহার প্রবর্তন। ১৭৬৯ সালে
জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন (ঝঃবধস বহমরহব) আবিস্কার করেন। অল্পকালের মধ্যেই বয়ন শিল্প
এবং পরিবহন খাতে বাষ্প শক্তি ব্যবহৃত হতে থাকে। রেলগাড়ি, ষ্টিমার মুদ্রণযন্ত্র ইত্যাদি বাষ্প
দ্বারা চালিত হয়। ইংল্যান্ডে প্রথম স্টিমার বা বাষ্প জলপোত নির্মিত হয় ১৮১২ সালে। এর দুবছর
পর স্টিফেনসন চলমান ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন। ১৮১৫ সালে হামফ্রে ডেভি খনিগর্ভে কাজ করার
জন্যে সেফটি ল্যাম্প (ঝধভবঃু খধসঢ়) আবিষ্কার করেন।
১৬৬০ সাল থেকে ১৭২৯ সাল পর্যন্ত সরকারি অফিসে নিবন্ধনকৃত উৎপাদনের কৌশলের সংখ্যা
ছিল ২৭০। অপর দিকে ১৭৬০ সাল থেকে ১৭৮৯ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০০। এ
থেকেই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আঠার শতকের দ্বিতীয়ভাগে কি হারে পরিবর্তন এসেছিল সে সম্পর্কে কিছু
ধারণা করা যায়।
যাতায়াত ব্যবস্থা
বর্ধিত হারে উৎপাদিত শিল্প পণ্য এবং যন্ত্রপাতি একস্থান থেকে অন্যস্থানে দ্রæত ও সহজে নেয়ার
জন্যে পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে নতুন নতুন রাস্তা
নির্মিত হয়, জলপথের সম্প্রসারণ ঘটে, রেলগাড়ির প্রবর্তন হয়। জলপথের উন্নয়নের জন্যে খাল
খননের কাজ আরম্ভ হয় ১৭৫৯ সালে। ডিউক অব ব্রিজওয়াটারের ইঞ্জিনিয়ার ব্রিন্ডলে ঐ বছর
উরসলি এবং ম্যানচেষ্টারকে সংযোগকারী বিখ্যাত ব্রিজওয়াটার খাল খনন করেন। ক্রমাম্বয়ে দেশের

বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের জল পথের বন্দোবস্ত করা হয়। আঠার শতক শেষ হওয়ার আগেই দুই
হাজার মাইলেরও অধিক জলপথ নির্মিত হয়।
রাস্তা তৈরির কাজেও ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। ইতিপূর্বে ইংল্যান্ডের অধিকাংশ রাস্তা শীতের পর
এমন কর্দমাক্ত হয়ে যেতো যে যানবাহনের চলাচলে খুব অসুবিধা হতো। টেলফোর্ড ও ম্যাকডম
রাস্তা নির্মাণের নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেন এবং ফলে এ সমস্যার সমাধান হয়। ১৮০২ সালে
স্টিমার চালানোর ব্যবস্থা হয় এবং সব শেষে বাষ্পীয় ইঞ্জিনের সাহায্যে রেলগাড়ির প্রবর্তন করা
হয়। রেলগাড়ি প্রবর্তনের ক্ষেত্রে জর্জ স্টিফেনসনের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য।
শিল্প বিপ্লবের সূচনা নিয়ে বিতর্ক
দীর্ঘদিন যাবৎ যে মতটি প্রচলিত ছিল তা হলো এই যে শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয় ১৭৬০ সালে। কিন্তু
এক শতাব্দীতে এ সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ অনেক মত প্রকাশ করেছেন। চার্লস উইলসনের মতে
প্রকৃত পক্ষে শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয় অনেক আগে, ১৬৬০ সালে। সস্প্রতিকালে ফিলিস ডিন ও
আর্থার কোল এ মতের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে শিল্প বিপ্লবের সূত্রপাত হয়েছিল ১৭৪০
সালে। কিন্তুতাঁর মত গ্রহণযোগ্য নয় বলে যুক্তি দেখিয়েছেন জে, ইউ নেফ এবং টি. এইচ.
এ্যাশটন। এঁদের বক্তব্য হলো এই যে শিল্প বিপ্লবের সূত্রপাত হয়েছিল ১৭৮০ সালে। উইলিয়াম
রস্টো অনুরূপ মত প্রকাশ করেছেন বলা যায়। তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে শিল্প বিপ্লব শুরু
হয় ১৭৬০ এবং চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে ১৮৫০ সালে।
শিল্প বিপ্লবের কারণ
ঐতিহাসিকগণ শিল্প বিপ্লবের অনেকগুলি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হচ্ছে (ক) শিল্প
স্থাপনের জন্যে মূলধনের প্রয়োজন হয়ে থাকে। অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত
হওয়ার ফলে বণিক পূঁজির বিকাশ লাভ করে। এ ছাড়া উন্নত প্রথায় কৃষিখামার পরিচালিত হওয়ায়
এক শ্রেণীর ভ‚-স্বামী অর্থশালী হয়। একই সংগে উন্নতর অর্থনৈতিক সংগঠনের (যেমন ব্যাংক ও
স্টক এক্সচেঞ্জ) উদ্ভব জনগণের সঞ্চয়কে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিনিয়োগে সাহায্য করে। এর
পাশাপাশি মুনাফার হার বৃদ্ধির ফলে উঠতি শিল্পপতিদের হাতে নতুনভাবে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের
সমাগম হয়।
(খ) আঠার শতকের শেষভাগে শিল্প পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এটি সম্ভব হয়েছিল প্রধানত তিনটি
কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জনগণের মাথাপিছুগড় আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ।
১৭৫০ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল খুবই কম, কিন্তুঅত:পর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রæত
বাড়তে থাকে। এটি সম্ভব হয়েছিল জন্মের হার বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর হার কমে যাওয়ার ফলে।
১৭৫১ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মোট জনসংখ্যা ছিল ৬.১ মিলিয়ন, ১৮৩১ সালে এ সংখ্যা
দাঁড়ায় ১৪.২ মিলিয়নে। বর্ধিত চাহিদা একই সময় জনগণের মাথাপিছুআয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের
ক্রয় ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। উপরোক্ত দুটি কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশেও
উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। বর্ধিত চাহিদা শিল্প বিপ্লবের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত
হয়েছে।

(গ) প্রযুক্তির উন্নতি শিল্প বিপ্লবের অপর একটি বড় কারণ। বাষ্প চালিত যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে
বড় বড় ফ্যাক্টরি গড়ে উঠে এবং শিল্পোৎপাদনের হার বৃদ্ধি পায়। একথা বিশেষভাবে বয়ন শিল্পের
ক্ষেত্রে সত্য । প্রকৃতপক্ষে, উইলিয়াম রস্টো এ শিল্পকে শিল্প বিপ্লবের প্রধানতম খাত (খবধফরহম
ংবপঃড়ৎ) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
(ঘ) ইংল্যান্ডের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলি শিল্প বিপ্লবের সহায়ক হয়েছিল বলে অনেক
ঐতিহাসিক মত প্রকাশ করেছেন। দেশের স্যাঁৎসেঁতে আবহাওয়া বয়ন শিল্পের উন্নয়নে সাহায্য
করেছিল, কেননা এর ফলে বুনার সময় সুতা ছিঁড়ে যেতো না। মাটির নীচে কয়লা ও লোহার
অফুরন্ত সঞ্চয় এবং কয়লা ও লৌহ খনিগুলো পরস্পরের কাছাকাছি হওয়ায় এগুলোর আহরণ সহজ
হয়েছিল। দেশের খালগুলি বিভিন্ন নদ-নদীকে যুক্ত করায় জলপথের উন্নয়ন সহজ হয়েছিল।
(ঙ) কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে ইংল্যান্ডে বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, পিউরিটান
বিপ্লব, যুক্তিবাদও ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যবোধের উদ্ভব, মুক্ত পরিবেশে বিজ্ঞান ও দর্শনের চর্চা সাহিত্য ও
সংস্কৃতিতে অগ্রগতি, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক অবাধ নীতি অনুসরণ শিল্প বিপ্লবের জন্যে
অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।
(চ) কৃষি বিপ্লব ঃ কয়েকজন ঐতিহাসিক এ মর্মে মত প্রকাশ করেছেন যে কৃষি বিপ্লব ছিল শিল্প
বিপ্লবের পূর্ব শর্ত। অর্থাৎ কৃষি বিপ্লব ছিল শিল্প বিপ্লবের অন্যতম প্রধান কারণ। কেননা এ বিপ্লবের
ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং শ্রমিক হিসেবে কারখানায় নিয়োগের জন্য জনশক্তির অভাব হয়
নি। অধিকাংশ ঐতিহাসিক উল্লেখিত কারণগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক কারণসমূহকে প্রাধান্য
দিয়েছেন। কেননা তাদের মতে অর্থনৈতিক কারণগুলো অপেক্ষাকৃত অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা
পালন করেছিল। কিন্তুএসব কারণের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে ঐতিহাসিকদের
মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। যেমন, কোনো কোনো ঐতিহাসিক চাহিদা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বলে চিহ্নিত করেছেন। অপর দিকে কিছুসংখ্যক ঐতিহাসিক সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং তজ্জনিত কারণে
মূলধনের প্রাচুর্য বা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে প্রধানতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসংগে যে
কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ্য তা হচ্ছে উল্লেখিত সব কারণই ছিল কম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের
সৌভাগ্য এই যে, একই সময় শিল্প বিপ্লবের জন্যে সহায়ক সবগুলো উপাদানের সমম্বয় ঘটেছিল।
অর্থাৎ যে সময়ে শিল্পজাত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় সে সময়ে মূলধনের প্রাচুর্য দেখা দেয়, বর্ধিত
পরিমান উৎপাদনের জন্যে বাষ্প চালিত যন্ত্রপাতির আবিষ্কার হয় এবং বাড়তি উৎপাদনের দায়িত্ব
গ্রহণের জন্যে একদল উদ্যোক্তার আবির্ভাব ঘটে।

সারসংক্ষেপ
শিল্প বিপ্লবের সংজ্ঞা, এ বিপ্লব কখন শুরু হয় এবং কি কি কারণে এ বিপ্লব সম্ভব হয়েছিল
ইত্যাদি প্রশ্নে ঐতিহাসিক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মত পার্থক্য আছে। তবে সংজ্ঞা সম্পর্কে যে
মতটি সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য বলে মনে হয় তা হলো এই যে, যন্ত্রের ব্যবহার প্রবর্তনের ফলে
শিল্পোৎপাদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে শিল্প বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা
যায়। শিল্প বিপ্লব কখন শুরু হয় এ প্রশ্নে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ ভাষ্যকারের মতে এটির
সূত্রপাত হয় আঠার শতকের মধ্যভাগে। কারণ সম্পর্কে যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য তা হচ্ছে এই
যে, ঐতিহাসিক কর্তৃক উল্লেখিত বিভিন্ন কারণের প্রায় সবগুলোই কম বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ক. নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশ্বে টিক () চিহ্ন দিন।
১। স্পিনিং জেনি কে আবিষ্কার করেন?
(ক) রিচার্ড আর্করাইট (খ) হারগ্রিভস
(গ) ক্রম্পটন (ঘ) এদের কেউ নন।
২। কত সালে লৌহপোত নির্মিত হয়?
(ক) ১৭৯০ (খ) ১৭৮৮
(গ) ১৭৮৭ (ঘ) ১৭৮৩
৩। ১৬৬০ সালে শিল্প বিপ্লব শুরু হয় বলে কে মত প্রকাশ করেছেন?
(ক) ফিলিস ডিন (খ) চার্লস উইলসন
(গ) জে.ইউ. নেফ (ঘ) এদের কেউ নন
৪। ১৮৩১ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের জনসংখ্যা কত ছিল?
(ক) ১৪.২ মিলিয়ন (খ) ১৩.৬ মিলিয়ন
(গ) ১৩.০ মিলিয়ন (ঘ) ১২.৮ মিলিয়ন
৫। বয়ন শিল্পকে শিল্প বিপ্লবের প্রধান খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কে?
(ক) টি.এইচ.এ্যাশটন (খ) আরনল্ড টয়েনবি
(গ) উইলিয়াম রস্টো (ঘ) ফিলিস ডিন
খ. রচনামূলক প্রশ্ন
১। শিল্প বিপ্লবের সংজ্ঞা সম্পর্কে বিভিন্ন মতগুলো আলোচনা করুন।
২। শিল্প বিপ্লবের কারণগুলির বর্ণনা দিন।
গ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১। শিল্প বিপ্লবের সূত্রপাত সম্পর্কে বিভিন্ন মত কি?
২। ফিলিস ডিনের মতে শিল্প বিপ্লব বলতে কোন কোন পরিবর্তনকে বুঝায়?

FOR MORE CLICK HERE
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস মাদার্স পাবলিকেশন্স
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস ১ম পর্ব
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস
আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাস মধ্যযুগ
ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস
মুঘল রাজবংশের ইতিহাস
সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি
অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষ
পৌরনীতি ও সুশাসন
অর্থনীতি
অনার্স ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত
অনার্স দর্শন পরিচিতি প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]