১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহী বিদ্রোহ


খ্রি. পলাশীর প্রান্তরে যে ইংরেজ শাসনের মূলভিত্তি ভারতে প্রোথিত হয়েছিল তা সর্বপ্রথম প্রচন্ডভাবে
আলোড়িত হয়েছিল এই সিপাহী বিদ্রোহে। পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে কখনও দ্রুতগতিতে কখনও বা
ধীরগতিতে কখনও যুদ্ধের সাহায্যে কখনও কূটনৈতিক চালের দ্বারা সর্বত্র ভারতবর্ষের ওপর ব্রিটিশ প্রভুত্ব
এবং সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী নীতি এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন
শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন ভারতবাসীর চিরাচরিত জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক,
অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, প্রশাসনিক প্রভৃতি কারণে ক্রমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সকল শ্রেণীর ভারতবাসীর মধ্যে
বিক্ষোভ দেখা দেয়।১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পূর্ববর্তী একশত বৎসরে বহু সংখ্যক বিদ্রোহ এবং
গণঅভ্যুত্থান প্রধানত আঞ্চলিক ভিত্তিতেই সংঘটিত হয়েছিল বলেই ব্রিটিশ শাসকদের পক্ষে সেগুলো দমন
করা সম্ভবপর হয়েছিল। এই বিদ্রোহগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হল, সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ
(১৭৭২), চুঁয়াড় বিদ্রোহ (১৭৯৯), বেরিলির বিদ্রোহ (১৮১৬), কোল বিদ্রোহ (১৮৩১), সাঁওতাল বিদ্রোহ
(১৮৫৫), ফরায়েজি ও ওয়াহাবি বিদ্রোহ এবং বৃটিশ সৈন্যবাহিনীভুক্ত ভারতীয় সিপাহীদের একাধিক
বিদ্রোহ।
সিপাহী বিদ্রোহের কারণ
সিপাহী বিদ্রোহের কারণ সম্বন্ধে সমসাময়িক ইংরেজদের মধ্যেও মতবিরোধ ছিল। স্যার জন লরেন্স একে
সামরিক বিদ্রোহ হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মতে, এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কার্তুজ সংক্রান্ত
বিষয়। কিন্তু লর্ড স্যলসবেরির মতে, এইরূপ একটি ব্যাপক ও শক্তিশালী বিদ্রোহ কেবলমাত্র কার্তুজের ঘটনা
থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল তা বিশ্বাস করা কঠিন। অপরদিকে জেমস্ আউট্রাস একে একটি সুপরিকল্পিত
ষড়যন্ত্র এবং এর মূল উদ্দেশ্য ভারত থেকে ইংরেজ শাসনের অবসান বলে মনে করতেন। তাঁর নিকট এটি
ছিল হিন্দুদের সহযোগিতায় মুসলমানদের ষড়যন্ত্র। পরবর্তীকালেও অনেক সময় চর্বি মাখানো কার্তুজের
বিষয়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে এই বিদ্রোহকে গুরুত্বহীন করবার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের
বিদ্রোহ সম্বন্ধে বহু ঐতিহাসিক বিবরণ লিখিত হয়েছে। ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পূর্ববর্তীকালে যে সকল
বিবরণ লিখিত হয় সেগুলো প্রধানত ব্রিটিশ শাসকদের দৃষ্টিভঙ্গিকে অনুসরণ করায় পরাজিতদের পক্ষ সমর্থন
করে সমসাময়িক কোন বিবরণ পাওয়া যায় না। এ কারণে এই অভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য এবং গুরুত্ব কি তা



আমাদের অনুধাবন করা বিশেষ কষ্টসাধ্য। কিন্তু এ সত্তে¡ও নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সিপাহী বিদ্রোহের মূল
কারণ বহু গভীরে প্রোথিত ছিল। এর সঙ্গে ভারতে ইংরেজ শাসনের চরিত্র অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল।
প্রধানত রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক এবং সামরিক কারণের সমন¦য়ে এই
বিদ্রোহের উদ্ভব হয়েছিল ও তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল।
রাজনৈতিক কারণ
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রধানত লর্ড ডালহৌসির অনুসৃত সাম্রাজ্যবাদী নীতি ভারতবর্ষের রাজন্যবর্গের মধ্যে চরম
অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। তাঁর স্বত্ববিলোপ নীতি সমগ্র ভারতেই তুমুল বিক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। এই নীতির
মধ্য দিয়ে ডালহৌসি যে নির্লজ্জ পররাজ্য লোলুপতার পরিচয় দিয়েছিলেন তাতে দেশীয় রাজন্যবর্গের মধ্যে
ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব তীব্রতা লাভ করেছিল। সাম্রাজ্য বিস্তার করতে গিয়ে লর্ড ডালহৌসি ভারতীয়দের
চিরাচরিত প্রথা ও সংস্কারকে কোন মর্যাদা দেননি। পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাও- এর দত্তকপুত্র নানা
সাহেবকে বৃত্তিদান বন্ধ করে দেওয়ায় হিন্দুদের মধ্যে আক্রোশের সৃষ্টি হয়েছিল। কুশাসনের অভিযোগে
যখন ডালহৌসি অযোধ্যা রাজ্যটি গ্রাস করেন এবং দিল্লির মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহকে তাঁর পূর্বপুরুষদের
রাজপ্রাসাদ লালকেল্লা থেকে বহিষ্কার করেন তখন মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ব্রিটিশ বিরোধী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি
হয়েছিল। ডালহৌসির নীতি শুধুমাত্র রাজন্যবর্গকেই অসন্তুষ্ট করেনি, তাঁর অনুসৃত নীতির ফলে রাজানুগৃহীত
কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ এবং শঙ্কার ভাব সৃষ্ট হয়। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, অযোধ্যার ওপর
প্রত্যক্ষ ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হবার পর যে রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় তাতে পূর্বতন তালুকদার ও
অন্যান্য মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণীসমূহ বিপদের সম্মুখীন হয় এবং তাদের অসংখ্য অনুচর চরম দুর্দশায় পড়ে।
বোম্বাই অঞ্চলে ইনাম কমিশন এর কার্যকলাপে প্রায় বিশ হাজার ভ‚স্বামী জমির অধিকারচ্যুত হন। ফলে
উত্তর ও পশ্চিম ভারতের প্রায় সর্বত্র জনসাধারণের মনে বৃটিশ রাজস্ব সম্বন্ধে বিদ্বেষ, বিতৃষ্ণা ও বিক্ষোভ
বৃদ্ধি পেতে থাকে। স্থানীয় কর্মচারী, স্থানীয় শাসকের সৈন্যবাহিনী প্রত্যেকেই ব্রিটিশ শাসকের উগ্রনীতিতে
আশঙ্কিত হয়ে পড়ে। এক কথায় উচু-নীচু, ধনী-দরিদ্র, হিন্দু-মুসলমান সকলের মধ্যে এক বিচিত্র শঙ্কা,
ভীতি এবং বিদ্বেষভাব সৃষ্টি হতে থাকে।
সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ
উল্লেখিত রাজনৈতিক আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত হয় সামাজিক ও ধর্মীয় আশঙ্কা। ব্রিটিশ শাসনের মধ্য দিয়ে
ভারতবর্ষের যে সকল সামাজিক কুপ্রথা দূর করা হয়েছিল তা রক্ষণশীল হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে তীব্র
প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। স্বধর্মনাশ ও খ্রিস্টধর্ম প্রচারের ফলে তাদের মধ্যে একটা ভীতির সঞ্চার হয়েছিল।
সতীদাহ নিবারণ, বিধবা-বিবাহ প্রবর্তন, গঙ্গাসাগরে সন্তান নিক্ষেপ বেআইনী ঘোষণা, হিন্দু ধর্মত্যাগীদের
সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার প্রথাকে নিষিদ্ধকরণ প্রভৃতি সামাজিক সংস্কার, রেলপথ নির্মাণ, টেলিগ্রাফের
প্রবর্তন, দেশীয় শিক্ষার পরিবর্তে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তন প্রভৃতি আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এদেশের
জনসাধারণের মধ্যে এই ধারণাই বদ্ধমূল হয় যে, ইংরেজরা এদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে
বদ্ধপরিকর। স্বভাবতই তারা এতে ভীত হয়ে পড়ে। এছাড়া এই সময়ে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারকরা ভারতীয়দের
খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্যে সক্রিয় নীতি গ্রহণ করতে থাকেন। সুতরাং ভারতীয়রা স্বভাবতই
ইংরেজদের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সনি¦গ্ধ ও আশঙ্কিত হয়ে পড়ে। এছাড়া দেশীয় রাজন্যবর্গ তাঁদের পূর্ব ক্ষমতা ও
প্রাধান্য হারালে দেশীয় শিল্পী ও কারিগরগণ তাদের জীবিকা অর্জনের সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
এমনকি দেশীয় রাজন্যবর্গের অনুগৃহীত পন্ডিত ও মৌলভিগণ সরকারি অর্থানুক‚ল্য থেকে বঞ্চিত হন। ফলে
অর্থনৈতিক কারণে এই দুই শ্রেণী ব্রিটিশ শাসনের চরম শত্রু হয়ে ওঠে এবং বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ


করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ইংরেজ কর্মচারীদের ঔদ্ধত্য ও উচ্চপদ থেকে এদেশীয়দের বঞ্চিত করায়
এদেশীয়দের মনোগত বিক্ষোভ।
শাসন সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক কারণ
ভারতে বৃটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হবার ফলে এদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের ওপর নিদারুণ
প্রতিক্রিয়া সৃষ্ট হয়।ভারতীয় অভিজাত সম্প্রদায় তাদের পূর্বতন প্রভাব ও মর্যাদা হারায়।নতুন শাসনব্যবস্থায়
তাঁদের উচ্চপদ লাভের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে তিরোহিত হয়। কেননা সকল সরকারি উচ্চপদ একমাত্র
ইউরোপীয়দের জন্যে নির্দিষ্ট রাখা হয়। যদিও ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দের কোম্পানির সনদে উচ্চপদে ভারতীয়দের
নিয়োগের নীতি গৃহীত হয়েছিল, তথাপি তা কার্যে পরিণত করা হয়নি। সামরিক বিভাগেও উচ্চপদ লাভের
কোন সম্ভাবনা ছিল না। একজন ভারতীয়ের পক্ষে মাসিক ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেতনের সুবাদারের পদ
লাভই যথেষ্ট মনে করা হতো। বেসামরিক বিভাগে সর্বাপেক্ষা উচ্চপদ যা একজন ভারতীয়ের পক্ষে লাভ
করা সম্ভব ছিল তা হল সদর আমিনের পদ। নতুন শাসনব্যবস্থায় এদেশীয়দের পদোন্নতির সম্ভাবনা প্রায়
ছিল না।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত সংক্রান্ত অর্থনৈতিক নীতি ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্যকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
কোম্পানি তার বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা ভারতীয় হস্তশিল্পকে বিলুপ্ত করে এবং
ভারতের সকল উৎপাদনকেই বিদেশী শোষণের বস্তুতে পরিণত করে। ভারতের শিল্পোৎপাদন ধ্বংস হবার
ফলে কৃষি এবং ভ‚মির ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়ে। কৃষির অগ্রগতির সম্ভাবনা রুদ্ধ হয়ে যায় এবং এতে
দেশের দারিদ্র্য ক্রমান¦য়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
অষ্টাদশ শতাব্দী সম্বন্ধে তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থ ‘সিয়ার-উল-মুতাখখেরিন' থেকে জানা যায় যে, বৃটিশ শাসকগণ
এদেশের মানুষকে ঘৃণা করতেন এবং তাদের সংশ্রব যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলতেন। ওয়ারেন হেস্টিংস এই
বৈষম্যের কারণ সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন, কিন্তু লর্ড কর্নওয়ালিস থেকে লর্ড ডালহৌসি পর্যন্ত যে পরম্পরা
চলতে থাকে তাতে ভারতবাসী সম্পর্কে শাসকগোষ্ঠীর অবজ্ঞাই প্রকাশ পায়। এই বৈষম্যের ফলে উভয়
পক্ষের মানসিক আবহাওয়া এমনই দূষিত হয়ে পড়ে যে, সরকারের সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে
সাধারণ মানুষ দূরভিসন্ধি খুঁজে পায়। এদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক আচরণ সম্বন্ধে ইংরেজদের অবজ্ঞা এতই
প্রকট ছিল যে, সতীদাহ প্রথা বন্ধের মতো হিতকর প্রশাসনিক পদক্ষেপকে মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করতে
দ্বিধাবোধ করে। ভারতে বৃটিশ শাসনের মূলগত উদ্দেশ্য যে বাণিজ্যিক ও সামাজিক স্বার্থসিদ্ধি তা বুঝতে
যেমন ভারতবাসী বিলম্ব করেনি তেমনি সঙ্গে সঙ্গে তারা সন্দেহ করে যে, এদেশের বহু যুগব্যাপী
পরম্পরাকে চুর্ণ করার পরিকল্পনাও তাদের ছিল। এ থেকে বোঝা যায় যে, ভারতবাসী ও ইংরেজ শাসকদের
মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কি রূপ এসে দাঁড়িয়েছিল।
সামরিক কারণ
এভাবে যখন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে তীব্র আশঙ্কার মনোভাব সৃষ্টি হয়েছিল তখন সামরিক
বাহিনীর অসন্তোষই বিদ্রোহের দাবানল সৃষ্টি করে। সিপাহীদের অসন্তোষ এই বিদ্রোহের একটি প্রধান ও
প্রত্যক্ষ কারণ। ভারতে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠায় ভারতীয় সিপাহীদের অবদান ছিল অপরিসীম। ভারতীয়
সিপাহীদের মধ্যে বহু ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছিল।এই সৈন্যবাহিনীকে বহু দূরবর্তী অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ
করতে হতো। এই সেনাবাহিনীর মধ্যে ইংরেজ ও ভারতীয়দের সংখ্যায় বিরাট তারতম্য ছিল। যদি সামরিক
বাহিনীতে ইউরোপীয়দের সংখ্যা অধিক হতো তাহলে হয়তো অসন্তোষ এরূপ তীব্র আকার ধারণ করতো
না। এছাড়া সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিয়মানুবর্তিতাও শিথিল হয়ে পড়েছিল। এই বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে
উত্তর ভারতের উচ্চবর্ণের হিন্দু সৈনিকদের সংখ্যাই ছিল অধিক। তারা সমুদ্র যাত্রাকে অশাস্ত্রীয় কাজ বলে
মনে করতো। হিন্দুদের সমুদ্রযাত্রার প্রতি এই আপত্তি অগ্রাহ্য করে ১৮৫৬ খ্রি. লর্ড ক্যানিং ‘এবহবৎধষ


ঝবৎারপবং ঊহষরংঃসবহঃ অপঃ’ নামে একটি আইন প্রবর্তন করেন এবং এর দ্বারা সিপাহীদের যে কোন
স্থানে যুদ্ধ করতে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। তাছাড়া সিপাহীদের অসন্তোষের একটি প্রধান কারণ ছিল
তাদের স্বল্প বেতন।সিপাহীদের বেতন বৃদ্ধির দাবি বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। সর্বশেষে ইংরেজ উচ্চপদস্থ
কর্মচারীদের ভারতীয় সিপাহীদের প্রতি দুর্ব্যবহার তাদের মনে তীব্র ইংরেজ বিরোধী মনোভাব সৃষ্টি
করেছিল। এই অবস্থায় একটি বিশেষ গুজব দেশের সর্বত্রই বিস্তৃত হয় যে, পলাশীর যুদ্ধের একশত বৎসর
পরে ভারতে বৃটিশ শাসনের অবসান ঘটবে।এই বিশ্বাস সিপাহীদের মধ্যে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ
করেছিল।
যখন সকল দিক দিয়েই বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের ক্ষেত্র প্রস্তুত, তখন এক বিশেষ ধরনের বন্দুক ও কার্তুজের
প্রবর্তনে বিস্ফোরণ ঘটে। এনফিল্ড বন্দুকের কার্তুজ মুখে কেটে বন্দুকে ভরতে হতো। এই সময় এক গুজব
প্রচারিত হয় যে, এই কার্তুজগুলোতে গরু ও শুকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। স্বভাবতই এই প্রচার হিন্দুমুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কারে তীব্র আঘাত করে। সমগ্র দেশে ঝটিকা গতিতে অসন্তোষ ও বিশৃ´খলা বিস্তৃত
হয়ে পড়ে। ২৯ মার্চ, ১৮৫৭ খ্রি. ব্যারাকপুরে মঙ্গল পান্ডে নামক জনৈক সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা
করে। তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রাণদন্ডে দন্ডিত করে বিদ্রোহ দমন করতে চেষ্টা করা হয়।
বিদ্রোহের বিস্তার ও দমন
সিপাহীদের বিদ্রোহ ব্যারাকপুর থেকে দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহী সিপাহীগণ দিল্লিতে মুঘল সম্রাট
বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতের সম্রাট বলে ঘোষণা দেয়। অতপর ক্রমে ফিরোজপুর, মুজাফফরনগর,
পাঞ্জাব, নৌসেরা, হতমর্দান, অযোধ্যা, মথুরা, লক্ষেèৗ, মোরাদাবাদ, আজমগড়, কানপুর, এলাহাবাদ,
ফৈজাবাদ, ফতেপুর, ফতেহগড়, বাংলা, বিহার প্রভৃতি স্থানে বিদ্রোহ বিস্তৃতি লাভ করে। স্থানে স্থানে কিছু
কিছু জনসাধারণ, সম্পত্তিচ্যুত তালুকদার, নির্যাতিত কৃষক এই বিদ্রোহে যোগদান করে।কানপুরের
নানাসাহেব, তাঁতিয়া তোপী, আজিম উল্লাহ, জগদীশপুরের রাজপুত দলপতি কুনওয়ার সিং, ফৈজাবাদের
মৌলভী আহমদ উল্লাহ, ঝাঁসির রাণী এই বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ইংরেজরা চরম নৃশংসতার
মধ্য দিয়ে এই বিদ্রোহ দমন করে। মাত্র চার মাস যুদ্ধ করে ইংরেজগণ দিল্লি পুনরুদ্ধার করে; বৃটিশ শাসক
বৃদ্ধ বাহাদুর শাহকে যুদ্ধ অপরাধী বলে দক্ষিণ বার্মার মান্দালয়ে নির্বাসিত করে। তিনি সেখানে ১৮৬২ খ্রি.
৮৭ বৎসর বয়সে মারা যান।

FOR MORE CLICK HERE
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস মাদার্স পাবলিকেশন্স
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস ১ম পর্ব
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস
আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাস মধ্যযুগ
ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস
মুঘল রাজবংশের ইতিহাস
সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি
অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষ
পৌরনীতি ও সুশাসন
অর্থনীতি
অনার্স ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত
অনার্স দর্শন পরিচিতি প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]