ইরান (Iran) সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ইরান
(Iran)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে ইরান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ১৯৩৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্বের মানচিত্রে ইরান পারস্য নামে পরিচিত ছিল । ১৯৩৫ সালে ইরানের শাসক রেজা শাহ পাহলভী দেশের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ইরান । ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির সরকারি নাম হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইরানের আয়তন ১৬,৪৮,০০০ বর্গ কি.মি. । ভাষা-ফার্সি এবং জাতীয়তা ইরানিয়ান ।
ইরানের রয়েছে এক সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাস। বহু প্রাচীন রাজবংশ পারস্যে রাজত্ব করে সংস্কৃতি ও সভ্যতা গড়ে তোলে । সর্বপ্রাচীন একামেনীয় বংশের প্রতাপশালী সম্রাট সাইরাস ও দারায়ুস তৎকালীন গ্রীক সাম্রাজ্যের জন্য ছিলেন বিভীষিকা। একামেনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী পার্সিপলিস ধ্বংস করে গ্রিক দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজাণ্ডার খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৯ অব্দে পারস্য দখল এবং তার সেনাপতি সেলুকাস সেলুসিড বংশ স্থাপন করেন। এ সময় থেকে পারস্যে পাশ্চাত্য প্রভাব অনুপ্রবেশ করতে থাকে । এমনকি পার্থিয়ান (খ্রি: পূর্ব ২৫০-২২৬ খ্রি.) এবং সাসানীয় (২২৫- ২৫২ খ্রি.) যুগেও প্রাচ্য ও প্রতিচ্যের মিলন ঘটে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ইরানে মানব সভ্যতায় বিকাশ ঘটেছিল। আর্যদের আগমনের পূর্বেই ইরানে উন্নত সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে ইরানে আর্যদের অনুপ্রবেশ ঘটে। আর্য জাতির দুটি শাখা পারসিক ও মেডিসরা উত্তর-পশ্চিম পারস্যে তাদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। পারসিকরা পারস্যে একটি কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করে। খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দে পারসকি দলপতি আকামেনিস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য তার নামানুসারে আকামেনিয়া সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দে এ সাম্রাজ্যের রাজা হন সাইরাস। তিনিই প্রথমে মেডিসদের রাজ্যসহ-প্রতিবেশী অন্যান্য অঞ্চলের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। এবং প্রথম বারের মত সমগ্ৰ পারস্যের সম্রাট হন ।
বিভিন্ন রাজবংশ কর্তৃক ইরান শাসিত হয়েছে। পার্থিয়ান রাজবংশ ১৫০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ২২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পারস্যশাসন করে। পার্থিয়ানদের পর সামানিড
রাজবংশ ২২৬-৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পারস্য শাসন করে। ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে আরবদের বিজয়ের পর থেকে ১০৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি বিজয় পর্যন্ত বেশ কিছু রাজবংশ পারস্য শাসন করে । তুর্কিরা ১০৩৭-১২১৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পারস্য শাসন করার পর ১২১৯- ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মোঙ্গলরা পারস্য শাসন করে। মোঙ্গলদের পর ১৫০০-১৭২২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পারসিক সাফাভী রাজবংশ পারস্য শাসন করে। ১৭৮১ সালে কাইজার রাজবংশ পারস্যের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বেশ কিছু যাযাবর গোত্র পারস্য শাসন করে। ১৯২৫ সালে রেজা শাহ কর্তৃক কাইজার রাজবংশের পতন ঘটে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় পাহলভী রাজবংশ। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পূর্ব পর্যন্ত এ রাজবংশ ইরানের শাসন ক্ষমতায় ছিল।
মহান সম্রাট দারিয়ুস, কবি ওমর খৈয়াম, ফেরদৌসী, শেখ সাদি ও হাফিজসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ ইরানে জন্মগ্রহণ করেন । যারা ইরানকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন।
(Iran)
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে ইরান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ১৯৩৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্বের মানচিত্রে ইরান পারস্য নামে পরিচিত ছিল । ১৯৩৫ সালে ইরানের শাসক রেজা শাহ পাহলভী দেশের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ইরান । ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির সরকারি নাম হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইরানের আয়তন ১৬,৪৮,০০০ বর্গ কি.মি. । ভাষা-ফার্সি এবং জাতীয়তা ইরানিয়ান ।
ইরানের রয়েছে এক সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাস। বহু প্রাচীন রাজবংশ পারস্যে রাজত্ব করে সংস্কৃতি ও সভ্যতা গড়ে তোলে । সর্বপ্রাচীন একামেনীয় বংশের প্রতাপশালী সম্রাট সাইরাস ও দারায়ুস তৎকালীন গ্রীক সাম্রাজ্যের জন্য ছিলেন বিভীষিকা। একামেনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী পার্সিপলিস ধ্বংস করে গ্রিক দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজাণ্ডার খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৯ অব্দে পারস্য দখল এবং তার সেনাপতি সেলুকাস সেলুসিড বংশ স্থাপন করেন। এ সময় থেকে পারস্যে পাশ্চাত্য প্রভাব অনুপ্রবেশ করতে থাকে । এমনকি পার্থিয়ান (খ্রি: পূর্ব ২৫০-২২৬ খ্রি.) এবং সাসানীয় (২২৫- ২৫২ খ্রি.) যুগেও প্রাচ্য ও প্রতিচ্যের মিলন ঘটে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ইরানে মানব সভ্যতায় বিকাশ ঘটেছিল। আর্যদের আগমনের পূর্বেই ইরানে উন্নত সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে ইরানে আর্যদের অনুপ্রবেশ ঘটে। আর্য জাতির দুটি শাখা পারসিক ও মেডিসরা উত্তর-পশ্চিম পারস্যে তাদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। পারসিকরা পারস্যে একটি কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করে। খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দে পারসকি দলপতি আকামেনিস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য তার নামানুসারে আকামেনিয়া সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দে এ সাম্রাজ্যের রাজা হন সাইরাস। তিনিই প্রথমে মেডিসদের রাজ্যসহ-প্রতিবেশী অন্যান্য অঞ্চলের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। এবং প্রথম বারের মত সমগ্ৰ পারস্যের সম্রাট হন ।
বিভিন্ন রাজবংশ কর্তৃক ইরান শাসিত হয়েছে। পার্থিয়ান রাজবংশ ১৫০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ২২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পারস্যশাসন করে। পার্থিয়ানদের পর সামানিড
রাজবংশ ২২৬-৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পারস্য শাসন করে। ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে আরবদের বিজয়ের পর থেকে ১০৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি বিজয় পর্যন্ত বেশ কিছু রাজবংশ পারস্য শাসন করে । তুর্কিরা ১০৩৭-১২১৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পারস্য শাসন করার পর ১২১৯- ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মোঙ্গলরা পারস্য শাসন করে। মোঙ্গলদের পর ১৫০০-১৭২২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পারসিক সাফাভী রাজবংশ পারস্য শাসন করে। ১৭৮১ সালে কাইজার রাজবংশ পারস্যের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বেশ কিছু যাযাবর গোত্র পারস্য শাসন করে। ১৯২৫ সালে রেজা শাহ কর্তৃক কাইজার রাজবংশের পতন ঘটে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় পাহলভী রাজবংশ। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পূর্ব পর্যন্ত এ রাজবংশ ইরানের শাসন ক্ষমতায় ছিল।
মহান সম্রাট দারিয়ুস, কবি ওমর খৈয়াম, ফেরদৌসী, শেখ সাদি ও হাফিজসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ ইরানে জন্মগ্রহণ করেন । যারা ইরানকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন।