সুশাসনে নারীর ক্ষমতায়নের ভ‚মিকা

মুখ্য শব্দ দুর্নীতি, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার
যে কোন রাষ্ট্রের উন্নয়ন আর অগ্রযাত্রার মূল কাঠি সুশাসন। সুশাসন নিশ্চিত না হলে কোন রাষ্ট্র কল্যাণমূলক
রাষ্ট্র হতে পারে না। সুশাসন বলতে সাধারণত কিছু নিয়মনীতিকে বুঝায় যেগুলো সরকারি সংগঠনসমূহের
আচার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সুশাসন দুর্নীতি কমাতে সাহায্য করে। সমাজের বর্তমান এবং ভবিষ্যত চাহিদা পূরণের দায়বদ্ধতা শাসন ব্যবস্থার উপরই বর্তায়।
একটি রাষ্ট্রে সুশাসন তখনই নিশ্চিত হয় যখন সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হয়। সুশাসন নিশ্চিত
করতে হলে কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রবেশসহ ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। উভয়ের সহযোগিতায়ই অর্জিত হয় সুশাসন। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী তাই নারীদেরকে ব্যতিরেকে কোন শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা সম্ভব নয়।
নারীর ক্ষমতায়ন বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। নারীর ক্ষমতায়নের মূল কথা হচ্ছে জেন্ডার
বৈষম্যহীন এক পৃথিবী গড়ে তোলা। যেখানে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারী তাঁর নিজের জীবনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম
হবে। নারী ক্ষমতায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারী বিদ্বেষী ক্ষমতার উৎস ও কাঠামোর পরিবর্তন, নারীর সুপ্ত প্রতিভা এবং
সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ।
অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন তাঁর গবেষণায় তুলে ধরেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের তৃণমূল
পর্যায়ের নারীরা অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন তখনই হবে যখন কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের
অংশগ্রহণ থাকবে। সেটা ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পর্যায়ে হতে পারে। একজন কর্মক্ষম নারী শ্রমের বিনিময়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী
হলে পরিবার, সমাজ তাঁর সিদ্ধান্তের গুরুত্ব দেবে। তিনি সামাজিক কর্মকান্ডে ভ‚মিকা রাখতে সক্ষম হবেন। এভাবেই নারীর উন্নয়নের মধ্য দিয়ে মানব উন্নয়ন সাধিত হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাতে (এসডিজি) নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে
স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে যেকোনো নীতি নির্ধারণে এখন নারীরা গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয় সরকার, বিশেষ
করে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নারীর উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়ছে। তৈরি 
 কর্মরত সিংহভাগ শ্রমিক নারী। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে মোট কর্মজীবীর মধ্যে ১
কোটি ৬২ লাখ নারী।
নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও, নারীর প্রতি সামাজিক ও কাঠামোগত বৈষম্য ও বৈরিতার অবসান হয় নি। নারীর
প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে বটে। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ
প্রক্রিয়ায় এখনও সক্ষমতা অর্জন হয় নি। এখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীর মতামত খুব বেশি গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়
না। পরিস্থিতির উন্নয়নে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক কাঠামোতে আরো পরিবর্তন 
। বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা
প্রদানের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে 
। নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক আইন সংযোজন করতে হবে। শুধু তাই নয়,
বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগও ঘটাতে হবে। মোট কথা, নারীর ক্ষমতায়নে রাষ্ট্রকে আরও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে।
সারসংক্ষেপ
সুশাসনের সাথে নারীর ক্ষমতায়ন ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। সুশাসনের একটি পূর্বশর্ত হচ্ছে নারী ও পুরুষের সম
অংশগ্রহণ। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছে অবিরাম। কিন্তু নারী বিদ্বেষী
শক্তিগুলোর কারণে এখনো বাংলাদেশের নারীদেরকে নানা রকমের বাধা বিঘেœর মধ্য দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপের জন্য রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ভ‚মিকা নিতে হবে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১০.৩
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা কত?
(ক) দেড় কোটির বেশি (খ) দুই কোটির বেশি
(গ) এক কোটির কম (ঘ) কোনটিই নয়
নিচের উদ্দীপকটি পড়–ন এবং ২নং প্রশ্নের উত্তর দিন
পপী বেগম একজন গৃহিণী। সংসারে কোন মতামত দেবার অধিকার তাঁর নেই। সংসারে অভাব অনটন লেগেই
থাকে। অন্যদিকে সালমা বেগম গার্মেন্টসে কাজ করে। প্রতি মাসে সংসারের খরচ বাবদ তিনি স্বামীর হাতে টাকা
তুলে দেন। স্বামী তাঁর সিদ্ধান্ত বা মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। কারণ তার স্ত্রী সংসারে অর্থনেতিক ক্ষেত্রে অবদান
রাখছে। অর্থনৈতিক অবদান রাখতে না পারায় সংসারে পপি বেগমের কোন মতামতই থাকছে না।
২। এর মূল কারণ হচ্ছে :
র. অর্থনেতিক স্বাবলম্বিতার অভাব
রর. রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতার অভাব
ররর. সিদ্ধান্ত নেবার অধিকারের অভাব
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) র ও রর (খ) রর ও ররর (গ) র ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর