দুর্নীতি কি দুর্নীতির কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারবেন।
মুখ্য শব্দ দুর্নীতি, মূল্যবোধ, কৌশল, আইন, প্রশাসন, সচেতনতা।
দুর্নীতি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি। যেসব সমস্যা আমাদের সমাজের সর্বত্র মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে চলেছে
তার মধ্যে দুর্নীতি অন্যতম। গোটা সমাজই আজ দুর্নীতি নামক ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত। গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত
ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজের একজন সাধারণ নাগরিকের সম্পর্কেও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। দুর্নীতি অতীতেও ছিল। প্রাচীন ভারতের পন্ডিত কোটিল্য প্রায় দু‘হাজার বছর আগে তাঁর অর্থশাস্ত্রে দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
দুর্নীতির ধারণা
দুর্নীতির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা বেশ জটিল। কারণ সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের
পার্থক্য দেখা দেয়। দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ
দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়। সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়। দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান
ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে। এর অর্থ ধ্বংস
বা ক্ষতিসাধন। দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হল নীতির বিরুদ্ধে আচরণ।
‘ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’ মনে করে ‘‘সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি। জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল
অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
বাংলাদেশের ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, ‘‘ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা
ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।’’ যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি
ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ,
স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।
এক কথায় স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।
দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব
দুর্নীতি সমাজকে কলুষিত করে। দুর্নীতি জাতীয় সম্পদের বেআইনী বন্টন ও অপচয় ঘটায়। ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের
(টিআইবি) ২০১৬ সালের প্রতিবেদন মোতাবেক, বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে ত্রয়োদশতম দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ। দুর্নীতির ফলে
এক শ্রেণির মানুষ রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে। ফলে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা দেখা
দেয়। ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত ২০১৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ২০১৪-
২০১৫ অর্থ বছরে সমগ্র দেশে ৮৮২৮ কোটি টাকা ঘুষ দেনদেন হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬%। দুর্নীতি সরকারি আইনকানুনের ব্যতয় ঘটায়। নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে। রাষ্ট্রের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধা গ্রস্থ হয় এবং ভবিষৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত ও বঞ্চিত হয়।
দুর্নীতির কারণ
নি¤েœ দুর্নীতির কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হল :- (১) বেকারত্ব, (২) রাজনৈতিক প্রভাব (৩) পারিবারিক সংস্কৃতি (৪)
আইনের দুর্বলতা (৫) দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের অভাব (৬) অর্থনেতিক অসচ্ছলতা (৭) আমলাদের প্রভুসুলভ মানসিকতা
(৮) নৈতিক শিক্ষার অভাব (৯) রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ইত্যাদি। উল্লেখিত কারণগুলো থেকে সৃষ্ট দুর্নীতির দ্বারা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়
দুর্নীতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়। দুর্নীতি সরকারি নীতিসমূহকে কলুষিত করে ও সম্পদের বে-আইনী বন্টন ঘটায়।
দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, আইনের সংশোধন ও যথাযথ বাস্তবায়ন, মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ জরুরি। দুর্নীতিকে বর্জন করার জন্য
জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, রাজনৈতিক নেতৃবৃেন্দর সৎ ও নির্দেশনামূলক পরামর্শ, সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের শিক্ষা খুব
গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে ‘দুর্নীতি’ নামক বিষয়টি দূরীভ‚ত হবে।
সারসংক্ষেপ
দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি। বিশ্বের অধিকাংশ উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশই এই ব্যাধিতে আক্রান্ত। দুর্নীতি হল,
ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার। দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য শক্তিশালী
দুর্নীতি দমন কমিশন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাহলেই সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর হবে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১০.৪
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। ‘ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি’- এই সংজ্ঞা কোন সংস্থার?
(ক) মানবাধিকার কমিশন (খ) জাতিসংঘ
(গ) আন্তর্জাতিক আদালত (ঘ) দুদক
২। দুর্নীতি একটি সর্বগ্রাসী-
(ক) শারীরিক ব্যাধি (খ) মানসিক ব্যাধি
(গ) সামাজিক ব্যাধি (ঘ) চিন্তামূলক ব্যাধি
৩। দুর্নীতি শব্দটি এসেছে ?
(ক) ল্যাটিন শব্দ ঈড়ৎৎঁঢ়ঃঁং থেকে
(খ) গ্রীক শব্দ ঈড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ থেকে
(গ) ইংরেজি শব্দ উধসধমব অর্থ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন থেকে
নিচের উদ্দীপকটি পড়ুন এবং ৪ ও ৫নং প্রশ্নের উত্তর দিন।
বড় ভাইয়ের বিপুল প্রতিপত্তি দেখে ছোট ভাই মনোয়ার সব সময় হীনমন্যতায় ভোগে। মনোয়ারের স্ত্রী ও তার স্বামীর টাকা
পয়সা না থাকার কারণে বড় ভাইয়ের সাথে তুলনা করে। বিপুল ধনসম্পদ থাকায় বড় ভাই সমা
সকলের কাছে
শ্রদ্ধাভাজন। মনোয়ার এসব দেখে মনে মনে ইর্ষান্বিত হয়। এক পর্যায়ে সে দুর্নীতির পথে পা বাড়ায়।
৪। উদ্দীপকে মনোয়ার কোন বিষয়টির দ্বারা দুর্নীতিতে প্রভাবিত হয়?
(ক) মানসিক হীনমন্যতা (খ) উচ্চভিলাষী জীবনের মোহ
(গ) সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি (ঘ) সব কয়টি
৫। উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের ঘটনা দুর্নীতির বিস্তার ঘটায়
র) অসম অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করায়
রর) অর্থকে প্রধান মানদন্ড বিবেচনা করায়
ররর) সামাজিক মর্যাদা লাভের আশায়
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) র ও রর (খ) রর ও ররর (গ) র ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
দুর্নীতি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি। যেসব সমস্যা আমাদের সমাজের সর্বত্র মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে চলেছে
তার মধ্যে দুর্নীতি অন্যতম। গোটা সমাজই আজ দুর্নীতি নামক ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত। গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত
ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজের একজন সাধারণ নাগরিকের সম্পর্কেও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। দুর্নীতি অতীতেও ছিল। প্রাচীন ভারতের পন্ডিত কোটিল্য প্রায় দু‘হাজার বছর আগে তাঁর অর্থশাস্ত্রে দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
দুর্নীতির ধারণা
দুর্নীতির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা বেশ জটিল। কারণ সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের
পার্থক্য দেখা দেয়। দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ
দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়। সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়। দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান
ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে। এর অর্থ ধ্বংস
বা ক্ষতিসাধন। দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হল নীতির বিরুদ্ধে আচরণ।
‘ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’ মনে করে ‘‘সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি। জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল
অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
বাংলাদেশের ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, ‘‘ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা
ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।’’ যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি
ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ,
স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।
এক কথায় স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।
দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব
দুর্নীতি সমাজকে কলুষিত করে। দুর্নীতি জাতীয় সম্পদের বেআইনী বন্টন ও অপচয় ঘটায়। ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের
(টিআইবি) ২০১৬ সালের প্রতিবেদন মোতাবেক, বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে ত্রয়োদশতম দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ। দুর্নীতির ফলে
এক শ্রেণির মানুষ রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে। ফলে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা দেখা
দেয়। ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত ২০১৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ২০১৪-
২০১৫ অর্থ বছরে সমগ্র দেশে ৮৮২৮ কোটি টাকা ঘুষ দেনদেন হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬%। দুর্নীতি সরকারি আইনকানুনের ব্যতয় ঘটায়। নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে। রাষ্ট্রের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধা গ্রস্থ হয় এবং ভবিষৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত ও বঞ্চিত হয়।
দুর্নীতির কারণ
নি¤েœ দুর্নীতির কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হল :- (১) বেকারত্ব, (২) রাজনৈতিক প্রভাব (৩) পারিবারিক সংস্কৃতি (৪)
আইনের দুর্বলতা (৫) দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের অভাব (৬) অর্থনেতিক অসচ্ছলতা (৭) আমলাদের প্রভুসুলভ মানসিকতা
(৮) নৈতিক শিক্ষার অভাব (৯) রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ইত্যাদি। উল্লেখিত কারণগুলো থেকে সৃষ্ট দুর্নীতির দ্বারা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়
দুর্নীতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়। দুর্নীতি সরকারি নীতিসমূহকে কলুষিত করে ও সম্পদের বে-আইনী বন্টন ঘটায়।
দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, আইনের সংশোধন ও যথাযথ বাস্তবায়ন, মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ জরুরি। দুর্নীতিকে বর্জন করার জন্য
জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, রাজনৈতিক নেতৃবৃেন্দর সৎ ও নির্দেশনামূলক পরামর্শ, সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের শিক্ষা খুব
গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে ‘দুর্নীতি’ নামক বিষয়টি দূরীভ‚ত হবে।
সারসংক্ষেপ
দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি। বিশ্বের অধিকাংশ উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশই এই ব্যাধিতে আক্রান্ত। দুর্নীতি হল,
ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার। দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য শক্তিশালী
দুর্নীতি দমন কমিশন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাহলেই সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর হবে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১০.৪
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। ‘ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি’- এই সংজ্ঞা কোন সংস্থার?
(ক) মানবাধিকার কমিশন (খ) জাতিসংঘ
(গ) আন্তর্জাতিক আদালত (ঘ) দুদক
২। দুর্নীতি একটি সর্বগ্রাসী-
(ক) শারীরিক ব্যাধি (খ) মানসিক ব্যাধি
(গ) সামাজিক ব্যাধি (ঘ) চিন্তামূলক ব্যাধি
৩। দুর্নীতি শব্দটি এসেছে ?
(ক) ল্যাটিন শব্দ ঈড়ৎৎঁঢ়ঃঁং থেকে
(খ) গ্রীক শব্দ ঈড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ থেকে
(গ) ইংরেজি শব্দ উধসধমব অর্থ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন থেকে
নিচের উদ্দীপকটি পড়ুন এবং ৪ ও ৫নং প্রশ্নের উত্তর দিন।
বড় ভাইয়ের বিপুল প্রতিপত্তি দেখে ছোট ভাই মনোয়ার সব সময় হীনমন্যতায় ভোগে। মনোয়ারের স্ত্রী ও তার স্বামীর টাকা
পয়সা না থাকার কারণে বড় ভাইয়ের সাথে তুলনা করে। বিপুল ধনসম্পদ থাকায় বড় ভাই সমা
সকলের কাছে
শ্রদ্ধাভাজন। মনোয়ার এসব দেখে মনে মনে ইর্ষান্বিত হয়। এক পর্যায়ে সে দুর্নীতির পথে পা বাড়ায়।
৪। উদ্দীপকে মনোয়ার কোন বিষয়টির দ্বারা দুর্নীতিতে প্রভাবিত হয়?
(ক) মানসিক হীনমন্যতা (খ) উচ্চভিলাষী জীবনের মোহ
(গ) সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি (ঘ) সব কয়টি
৫। উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের ঘটনা দুর্নীতির বিস্তার ঘটায়
র) অসম অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করায়
রর) অর্থকে প্রধান মানদন্ড বিবেচনা করায়
ররর) সামাজিক মর্যাদা লাভের আশায়
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) র ও রর (খ) রর ও ররর (গ) র ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর