পরিবেশ দূষণ কি ও এর কারণ বল, পরিবেশ দূষণ এর ক্ষতিকর দিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পরিবেশ দূষণের প্রভাব পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বল

মুখ্য শব্দ জৈবিক, অজৈবিক, পরিবেশ দুষণ, পানি দূষণ, ভূগর্ভস্থ আর্সেনিক।
বর্তমান বিশ্বে যে সমস্ত সমস্যাগুলি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তার মধ্যে পরিবেশ দুষণ অন্যতম।
সাধারণভাবে বলা যায় যে, কোন ক্ষতিকর পদার্থের আধিক্যের কারণে পরিবেশের মধ্যে যদি কোন
ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয় তখন তাকে পরিবেশ দুষণ বলে। পরিবেশ দুষণ বলতে, পরিবেশের মধ্যে মানুষ বা অন্য প্রাণীর
স্বাভাবিক জীবনাচারণের জন্য ক্ষতিকর বস্তুর প্রবেশ ও বৃদ্ধি বোঝায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এর মতে, ‘‘পরিবেশে স্বাভাবিক অবস্থায় যে উপাদানগুলো বিদ্যমান থাকে তাদের একটি, দুটি
বা সবগুলোর পরিমাণ বা ঘনত্ব যখন বেড়ে যায় তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে’’।
ম্যাচাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বিশদ সংজ্ঞা দিয়েছে। সংস্থাটির মতে ‘‘দ্রব্য বা
পরিসেবা উৎপাদন ও ভোগের যে কোনো পর্যায়ে যেসব বর্জ্য বা অবশিষ্ট পদার্থ সৃষ্টি হয় সেগুলি যখন বায়ুমন্ডলে, সমুদ্রে বা পার্থিব পরিবেশের কোথাও ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে তখন তাকে পরিবেশ দুষণ বলে”। সাধারণভাবে পরিবেশ দুষিত হলে পানি, বায়ু, মাটি, শব্দ অর্থাৎ প্রাকৃতিক সকল উপাদানই দূষিত হয়।
পরিবেশ দূষণের কারণ
প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট এই দুইভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটে থাকে। প্রাকৃতিক কারণের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়,
জলোচ্ছাস, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যেৎপাত অন্যতম। তবে বর্তমানে মানবসৃষ্ট কারণই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দূষণের উল্লেখযোগ্য কারণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক স¤পদ জল, মাটি, বায়ুর
ওপর প্রচন্ড চাপ পড়ে। শুরু হয় বন স¤পদ বিনষ্টের মহড়া। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উদ্ভিদ জগৎ ও প্রাণী জগৎ। বর্তমানে
প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য এক সংকটজনক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান হারে শক্তি উৎপাদনের চাহিদা। শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে নির্গত হয় মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ-দূষক নানা রাসায়নিক দ্রব্য। দূষিত রাসায়নিক দ্রব্যই নানা দুরারোগ্য ব্যাধির দ্রæত প্রসারণের কারণ। এতে বায়ু-জল-খাদ্য দ্রব্য মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
বর্ধিত জনসংখ্যার জীবন ও জীবিকার তাগিদে শিল্পায়ন দ্রæততর হচ্ছে,পরিকল্পিত উপায়ে না হওয়ার ফলে তা প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে, দূষিত পরিবেশ হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে সমগ্র পৃথিবীকে।
পরিবেশ দুষণ ও সুশাসন
পরিবেশ দূষণের ফলাফল সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। পরিবেশ দূষণের ফলে কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরপাত্তা, স্বাস্থ্য, আবাসনসহ নানাবিধ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। যেমন ২০১১ সালে জাপানে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে
বিস্তৃত এলাকায় পরিবেশ দূষণ করে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। পরিবেশ দূষণে মারাত্মকভাবে
স্বাস্থ্য ঝুকি তৈরি হয়। বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলের নদী-নালা, জলাশয়গুলো চরম মাত্রায় দূষিত। বিশেষ করে ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরের পার্শ্ববর্তী নদীর পানি দূষিত হয়ে এলাকার জন-জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। প্রায়শই নানাবিধ
চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভ‚গছে মানুষ। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাষ্ট্র কর্তৃক মানব উন্নয়নে বিনিয়োগ
বাধাগ্রস্ত হয়। যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার গতি ধীর করে দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবেশ বিপর্যয় বাংলাদেশের উপক‚লীয়
আঞ্চলের জনগণের জীবন-জীবিকা ও আবাসস্থল বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ ধরণের প্রায় ২ কোটি জনগণের জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, আবাসন সমস্যা সমাধান যেকোন শাসনের জন্য চ্যালেঞ্জস্বরূপ।
পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের উপায়
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা কমিয়ে আনা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ গৃহিত হচ্ছে। এটি আজ বিশ্ব
আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে নি¤েœাক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়-
(১) আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা এবং এর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
(২) জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ন।
(৩) জনসচেতনতা সৃষ্টি করা
(৪) বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা উদ্ভাবন ও প্রয়োগ
(৫) ব্যাপক হারে বৃক্ষ রোপন ও বন সংরক্ষণ।
সারসংক্ষেপ
বর্তমান বিশ্বে যে কয়টি সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তার মধ্যে পরিবেশ দূষণ অন্যতম। স্বাভাবিকভাবে বলা
যায়, ক্ষতিকর পদার্থের আধিক্যের কারণে পরিবেশের মধ্যে যদি কোন ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়, তখন তাকে পরিবেশ
দূষণ বলে। আর এর প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার। সর্বোপরি এ সংক্রান্ত আইন মেনে চলা উচিত। পরিবেশের অতিদূষণ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিঘœ সৃষ্টি করে তেমনি সুশাসন নিশ্চিত করে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে প্রতিরোধ সম্ভব।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১০.৮
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। “পরিবেশে স্বাভাবিক অবস্থায় যে উপাদানগুলো বিদ্যমান থাকে, তাদের একটি, দুটি বা সবগুলোর পরিমাণ বা ঘনত্ব
যখন বেড়ে যায় তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে”- উক্তিটি কার?
(ক) ঊট (খ) ডঐঙ
(গ) টঘঊঝঈঙ (ঘ) ঋঅঙ
২। পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ীর. অপরিকল্পিত শিল্পায়ন
রর. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ররর. বনাঞ্চল ধ্বংস
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) র (খ) র ও রর
(গ) রর ও ররর (ঘ) সবকটি।
১। নিচের উদ্দীপকটি পড়ুন এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।
নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান করিম সরকারের প্রশাসনিক বিভাগে চাকরি পেয়ে রাতারাতি বদলে যায়। বড়লোক বন্ধুদের
সাথে পাল্লা দিয়ে অল্প সময়েই বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে যায়। তার এ অবস্থা দেখে সমাজের অনেকেই তাকে নিয়ে
সমালোচনা করতে শুরু করে।
(ক) খাদ্যে ভেজাল কি ধরণের অপরাধ?
(খ) খাদ্যে ভেজালের ধারণা ব্যাখ্যা কর?
(গ) উদ্দীপকের করিমের কর্মকান্ডে দূর্নীতির কোন কারণটিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করুন।
(ঘ) উক্ত কারণই দূর্নীতির একমাত্র কারণ নয়-বিশ্লেষণ করুন।
২। নিচের উদ্দীপকটি পড়ুন এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।
জনাব ফরহাদ ফলের ব্যবসায়ী। তিনি অধিক মুনাফার লোভে দোকানের বিভিন্ন প্রকার ফলে কার্বাইড ও ফরমালিন দিয়ে
থাকেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের কাজ খারাপ নয়। তিনি অবগত নন যে, কাজটি অনৈতিক ও প্রতিনিয়ত ভোক্তা
অধিকার হরণ করছেন। যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।
(ক) জলবায়ু পরিবর্তন কি?
(খ) গ্রীন হাউজ গ্যাস বলতে কি বোঝায়?
(গ) উদ্দীপকে কোন নাগরিক সমস্যার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা দিন।
(ঘ) উক্ত নাগরিক সমস্যা সমাধানে আপনার সুপারিশ উপস্থাপন করুন।
উত্তরমালা :
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ১০.১ ঃ ১। ঘ ২। খ ৩। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ১০.২ ঃ ১। খ ২। ক ৩। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ১০.৩ ঃ ১। ক ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ১০.৪ ঃ ১। ঘ ২। গ ৩। ক ৪। ঘ ৫। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ১০.৫ ঃ ১। খ ২। ঘ ৩। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ১০.৬ ঃ ১। ক ২। ক ৩। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ১০.৭ ঃ ১। খ, ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ১০.৮ ঃ ১। খ ২। ঘ