ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের ফলাফল ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
মুখ্য শব্দ ক্ষমতা হস্তান্তর, স্বাধীনতা আইন, ডোমিনিয়ন গণপরিষদ, কমনওয়েলথ, স্বাধীন রাষ্ট্র।
পটভূমি
ব্রিটিশরা তাদের ‘ভাগ কর শাসন কর’ নীতির মাধ্যমে ভারতবর্ষে তাদের শাসন প্রলম্বিত করলেও, শেষ পর্যন্ত
তারা ঐক্যবদ্ধ ভারতের পক্ষে ছিল যার প্রমাণ ছিল মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা। কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের পরস্পর
বিরোধী অবস্থান এ পরিকল্পনাকে অকার্যকর করে দেয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাড়তে থাকে। উদ্ভ‚ত
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধানকল্পে ব্রিটিশ সরকার স্থায়ীভাবে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে
দেবার ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ৩ জুন একটি
পরিকল্পনা ঘোষিত হয়। এ পরিকল্পনার আলোকে ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাস হয়। এই আইন
অনুযায়ী ভারতবর্ষে প্রায় ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।
বৈশিষ্ট্য
ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নি¤œরূপ :
১. এ আইনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়। উভয় রাষ্ট্র
ডোমিনিয়নের মর্যাদা লাভ করে।
২. এ আইনে বৃহৎ দু’টি প্রদেশ বাংলা ও পাঞ্জাবকে হিন্দু ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান
রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।
৩. এ আইন অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ গণপরিষদ গঠন করবে এবং তাদের কাছে সংবিধান রচনার ক্ষমতা
দেয়া হয়। আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, সংবিধান রচনার পূর্ব পর্যন্ত এই দুই পরিষদ নিজ নিজ দেশের সার্বভৌম
কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ রূপে কাজ করবে।
৪. এ আইনের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত থাকবে কিনা সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পূর্ণ অধিকার
দেয়া হয়।
৫. ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ভারত সচিব পদ বিলুপ্ত করে।
৬. এ আইনের মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলোর হাতে নিজ অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ অধিকার দেয়া হয়।
৭. এ আইনে ভারত সচিব কর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীগণকে ভারত ও পাকিস্তানের অধীনে চাকুরি করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত
গ্রহণের অধিকার দেয়া হয়।
৮. ভারত ও পাকিস্তানের গণপরিষদ কর্তৃক নিজ নিজ দেশের সংবিধান রচিত না হওয়া পর্যন্ত নি¤œলিখিত সংশোধন ও
পরিবর্তন সাপেক্ষে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার পরিচালিত হবে।
(ক) মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নর তাদের সকল প্রকার কাজ পরিচালনা করবেন।
(খ) স্ব স্ব ডোমিনিয়নের মন্ত্রি পরিষদের পরামর্শক্রমে ব্রিটিশ রাজ গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করবেন।
(গ) মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী গভর্নর জেনারেল প্রাদেশিক গভর্নর নিযুক্ত করবেন।
ফলাফল ও তাৎপর্য :
১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ এবং
সর্বশেষ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমেই ভারতের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ নামক দু’টি
রাষ্ট্রের জন্ম হয়। অবসান হয় ভারতীয় উপমহাদেশে সুদীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের। যদিও মহাত্মা গান্ধী অবিভক্ত ভারতের জন্য
চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর দলের কিছু সদস্যের অনমনীয় মনোভাবের কারণে তিনি পূর্বের অবস্থান হতে সরে
আসেন। এ আইনে মূল লাহোর প্রস্তাবকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলশ্রæতিতে ভারত বিভক্তি এ অঞ্চলে স্থায়ী সমাধান
দিতে পারেনি। পরবর্তীকালে পুনরায় পাকিস্তানের বিভক্তি ঘটে এবং অভ্যুদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
শিক্ষার্থীর কাজ ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব লিখুন।
সারসংক্ষেপ
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে দীর্ঘ ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। সৃষ্টি
হয় দু’টি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র- ভারত ও পাকিস্তান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বাস্তবতাতে ভারতবর্ষেও ভবিষ্যৎ নিয়ে
ব্রিটিশরা ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শুরু করে। তাছাড়া ভারতবর্ষে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনেকটা ব্রিটিশদের
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। এমতাবস্থাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের উপায় হিসেবে লর্ড মাউন্টব্যাটন ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ঘোষণা করেন।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১.১৭
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। কোন পরিকল্পনায় ভারতীয় স্বাধীনতা আইন বাস্তবরূপ পায়?
(ক) মন্ত্রিপরিষদ পরিকল্পনা (খ) ৩ জুন পরিকল্পনা
(গ) ভারত পরিকল্পনা (ঘ) ক্রিপস পরিকল্পনা
২। ভারতের সর্বশেষ ইংরেজ গভর্নর জেনারেল কে?
(ক) লর্ড মিন্টো (খ) লর্ড কার্জন
(গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন (ঘ) লর্ড লিটন
৩। ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের ফলাফল-
র. ইংরেজ শাসনের অবসান
রর. মুসলিম শাসনের পুনর্জাগরণ
ররর. ভারত বিভক্তি
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) র ও রর (খ) র ও ররর
(গ) রর ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
পটভূমি
ব্রিটিশরা তাদের ‘ভাগ কর শাসন কর’ নীতির মাধ্যমে ভারতবর্ষে তাদের শাসন প্রলম্বিত করলেও, শেষ পর্যন্ত
তারা ঐক্যবদ্ধ ভারতের পক্ষে ছিল যার প্রমাণ ছিল মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা। কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের পরস্পর
বিরোধী অবস্থান এ পরিকল্পনাকে অকার্যকর করে দেয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাড়তে থাকে। উদ্ভ‚ত
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধানকল্পে ব্রিটিশ সরকার স্থায়ীভাবে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে
দেবার ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ৩ জুন একটি
পরিকল্পনা ঘোষিত হয়। এ পরিকল্পনার আলোকে ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাস হয়। এই আইন
অনুযায়ী ভারতবর্ষে প্রায় ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।
বৈশিষ্ট্য
ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নি¤œরূপ :
১. এ আইনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়। উভয় রাষ্ট্র
ডোমিনিয়নের মর্যাদা লাভ করে।
২. এ আইনে বৃহৎ দু’টি প্রদেশ বাংলা ও পাঞ্জাবকে হিন্দু ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান
রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।
৩. এ আইন অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ গণপরিষদ গঠন করবে এবং তাদের কাছে সংবিধান রচনার ক্ষমতা
দেয়া হয়। আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, সংবিধান রচনার পূর্ব পর্যন্ত এই দুই পরিষদ নিজ নিজ দেশের সার্বভৌম
কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ রূপে কাজ করবে।
৪. এ আইনের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত থাকবে কিনা সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পূর্ণ অধিকার
দেয়া হয়।
৫. ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ভারত সচিব পদ বিলুপ্ত করে।
৬. এ আইনের মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলোর হাতে নিজ অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ অধিকার দেয়া হয়।
৭. এ আইনে ভারত সচিব কর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীগণকে ভারত ও পাকিস্তানের অধীনে চাকুরি করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত
গ্রহণের অধিকার দেয়া হয়।
৮. ভারত ও পাকিস্তানের গণপরিষদ কর্তৃক নিজ নিজ দেশের সংবিধান রচিত না হওয়া পর্যন্ত নি¤œলিখিত সংশোধন ও
পরিবর্তন সাপেক্ষে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার পরিচালিত হবে।
(ক) মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নর তাদের সকল প্রকার কাজ পরিচালনা করবেন।
(খ) স্ব স্ব ডোমিনিয়নের মন্ত্রি পরিষদের পরামর্শক্রমে ব্রিটিশ রাজ গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করবেন।
(গ) মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী গভর্নর জেনারেল প্রাদেশিক গভর্নর নিযুক্ত করবেন।
ফলাফল ও তাৎপর্য :
১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ এবং
সর্বশেষ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমেই ভারতের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ নামক দু’টি
রাষ্ট্রের জন্ম হয়। অবসান হয় ভারতীয় উপমহাদেশে সুদীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের। যদিও মহাত্মা গান্ধী অবিভক্ত ভারতের জন্য
চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর দলের কিছু সদস্যের অনমনীয় মনোভাবের কারণে তিনি পূর্বের অবস্থান হতে সরে
আসেন। এ আইনে মূল লাহোর প্রস্তাবকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলশ্রæতিতে ভারত বিভক্তি এ অঞ্চলে স্থায়ী সমাধান
দিতে পারেনি। পরবর্তীকালে পুনরায় পাকিস্তানের বিভক্তি ঘটে এবং অভ্যুদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
শিক্ষার্থীর কাজ ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব লিখুন।
সারসংক্ষেপ
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে দীর্ঘ ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। সৃষ্টি
হয় দু’টি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র- ভারত ও পাকিস্তান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বাস্তবতাতে ভারতবর্ষেও ভবিষ্যৎ নিয়ে
ব্রিটিশরা ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শুরু করে। তাছাড়া ভারতবর্ষে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনেকটা ব্রিটিশদের
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। এমতাবস্থাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের উপায় হিসেবে লর্ড মাউন্টব্যাটন ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ঘোষণা করেন।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১.১৭
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। কোন পরিকল্পনায় ভারতীয় স্বাধীনতা আইন বাস্তবরূপ পায়?
(ক) মন্ত্রিপরিষদ পরিকল্পনা (খ) ৩ জুন পরিকল্পনা
(গ) ভারত পরিকল্পনা (ঘ) ক্রিপস পরিকল্পনা
২। ভারতের সর্বশেষ ইংরেজ গভর্নর জেনারেল কে?
(ক) লর্ড মিন্টো (খ) লর্ড কার্জন
(গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন (ঘ) লর্ড লিটন
৩। ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের ফলাফল-
র. ইংরেজ শাসনের অবসান
রর. মুসলিম শাসনের পুনর্জাগরণ
ররর. ভারত বিভক্তি
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) র ও রর (খ) র ও ররর
(গ) রর ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর