এগার দফার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করতে পারবে

মুখ্য শব্দ গণ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, গণজাগরণ, ছাত্র সমাজ
ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ১৯৬৯ সালের ছাত্র-সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৬৬ সালের ছয় দফার জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। এ মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব
পাকিস্তান ছাত্র সমাজ আইয়ুব বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৮ সালের ৫ জানুয়ারি পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগ,
ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্রæপ) এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
গঠিত হয়। ডাকসুর তৎকালীন ভিপি ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এর সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদে
আরো নেতৃত্ব প্রদান করেন মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন প্রমুখ। ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি নি¤œরূপ:-
১. বিশ্ববিদ্যালয় কালাকানুন বাতিল, শিক্ষা ব্যয় হ্রাস, অফিস-আদালতে বাংলা ভাষা চালু, নারী শিক্ষা প্রসার।
২. সর্বজনীন ভোটাধিকার ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
৩. ছয় দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
৪. বেলুচিস্তান, সিন্ধু ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশকে নিয়ে সাব-ফেডারেশন গঠন।
৫. ব্যাংক, বীমা, পাট, ব্যবসা ও বৃহৎ শিল্প জাতীয়করণ।
৬. কৃষকের খাজনা ও ট্যাক্সের হার হ্রাস করা, বকেয়া খাজনা ও ঋণ মওকুফ, সার্টিফিকেট প্রথা বাতিল। পাটের দাম মন
প্রতি সর্বনি¤œ ৪০ টাকা ও আখের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ।
৭. শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও বোনাস প্রদান এবং শিল্প, বাসস্থান চিকিৎসা ইত্যাদির সুব্যবস্থা করা।
৮. পূর্ব পাকিস্তানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদের সার্বিক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা।
৯. জরুরি আইন প্রত্যাহার, নিরাপত্তা আইন ও অন্যান্য নির্যাতনমূলক আইন প্রত্যাহার।
১০. সিয়াটো-সেন্টো, পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলপূর্বক জোট বর্হিভূত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি কায়েম।
১১. দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক সকল ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক, রাজনৈতিককর্মী ও নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে মুক্তি, গ্রেফতারি
পরোয়ানা ও হুলিয়া এবং আগরতলা মামলাসহ রাজনৈতিক কারণে জারিকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার।
১১ দফা দাবির গুরুত্ব
ছাত্রদের ১১ দফা কর্মসূচিতে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১১ দফা দাবি এবং ১১ দফা ভিত্তিক আন্দোলন শুধু ছাত্র সমাজের
ভেতর সীমাবদ্ধ ছিল না। ১১ দফা এক পর্যায়ে আইয়ুব বিরোধী গণ আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। ১১ দফার মূল লক্ষ্য ছিল
কৃষক-শ্রমিক তথা মেহনতি জনগণের সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণ করা। ১১ দফা দাবি উদ্ভ‚ত গণঅভ্যুত্থানের পরিণতিতে সরকার
বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহযোগীদের মুক্তি দেয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করে। সর্বোপরি, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
সারসংক্ষেপ
আইয়ুব খানের অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি এগার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এই কর্মসূচির বদৌলতে শাসক চক্রের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষ গণবিক্ষোভে রূপান্তরিত হয়। বিক্ষোভ দমনে সরকার
যতই নির্যাতন বৃদ্ধি করতে থাকে ততই আন্দোলনরত জনগণ মরিয়া হয়ে উঠতে থাকে। ১১ দফা কর্মসূচির কারণেই ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন সংঘটিত হয়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-২.৭
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। এগারো দফা দাবি মূলত কাদের ছিল?
(ক) ছাত্র সমাজের (খ) বুদ্ধিজীবি সমাজের
(গ) কৃষক সমাজের (ঘ) শ্রমিক সমাজের
২। ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবি ছিল-
(ক) আইয়ুব খান বিরোধী (খ) জুলফিকার আলী ভূট্টো বিরোধী
(গ) খাজা নাজিম উদ্দিন বিরোধী (ঘ) ইয়াহিয়া খান বিরোধী
৩। ১৯৬৯ সালে কেন্দ্রিয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (খ) তোফায়েল আহমেদ
(গ) শেখ মুজিবুর রহমান (ঘ) শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক