স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য সম্পর্কে জানতে পারবে
মুখ্য শব্দ নিবিড় সম্পর্ক, বিকেন্দ্রীকরণ, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আশা-আকাঙ্খা, প্রতিনিধি,
জনকল্যাণ।
কোন দেশের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সাথে মাঠ প্রশাসনের নিবিড় সম্পর্কের ওপর।
যেহেতু, মাঠ ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উপর বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত, সেহেতু বাংলাদেশের
উন্নয়ন উভয় প্রশাসনের সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও
স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও
সেবা পৌঁছে দিতে সরকারকে প্রতিনিয়ত প্রচুর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এজন্যই সরকারকে সারা দেশে স্থানীয়
প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। বাংলাদেশ সরকার বিকেন্দ্রীকরণের নিয়ম মেনে বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত
করেছে এবং এই প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে।
মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন মূলত কেন্দ্রীয় সরকার প্রণীত নিয়ম-নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের সাথে
কেন্দ্রীয় সরকারের সুসম্পর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। তাদের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা প্রশাসনিক কাজের সফলতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে
উঠতে পারে। তবে কখনও কখনও কর্মকর্তাগণের মধ্যকার কর্মবন্টন প্রক্রিয়া যথোপযুক্ত না হওয়ার দরুন প্রশাসনিক কাজে
স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়। এই কারণে প্রশাসনের এই দুই স্তরের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।
রাজনৈতিক উন্নয়নের তাগিদে মাঠ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্যকার সুসম্পর্ক থাকা দরকার। রাজনৈতিক উন্নয়ন হল
জাতি গঠনে অনুকূল রাজনৈতিক সংগঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সৃষ্টি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ ও
স্থিতিশীল পরিবেশ রক্ষা করা। রাজনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য
কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের সম্পর্ক থাকা জরুরি।
রাষ্ট্র যন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে প্রশাসন ব্যবস্থা। যে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থা জনগণের যত কাছাকাছি, সে দেশের
জনগণের আশা-আকাঙ্খা তত বেশি পূরণ হয়। কেননা এর মাধ্যমে প্রশাসন ব্যবস্থা থেকে মাঠ পর্যায়ে সেবা পৌঁছানো
সম্ভব হয়। মাঠ পর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে মাঠ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা
হয়েছে, যার মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসন তিনটি স্তরে বিভক্ত, এগুলো হচ্ছে, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। বিভাগীয় নির্দেশনা
মোতাবেক জেলা প্রশাসনের কার্যাদি ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা পরিষদের কার্যাদি সংগঠিত হয়।
কর্মকর্তাদের এই কার্যপ্রক্রিয়ায় কোন ধরনের জটিলতা লক্ষ্য করা গেলে সেক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের
মাধ্যমে ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা উপজেলা পর্যায়ের সকল ব্যবধান হ্রাস করা হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের
সাথে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্যকার যোগাযোগ রচিত হয়।
জনগণের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম শর্ত। উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের
সাথে জনগণের অংশগ্রহণ সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনও শক্তিশালী হয়। আর তা কেন্দ্রীয় প্রশাসন কর্তৃক
দারুণভাবে গৃহীত হয়। এভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নিবিড় সম্পর্ক রচিত হয়।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সম্পর্কের উপর দারুণভাবে নির্ভরশীল।
শিক্ষার্থীর কাজ কেন্দ্রিয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্পর্কে আলোচনা করুন।
সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যকার সম্পর্ক নিবিড় হওয়ার দরুণ নিয়মমাফিক সকল প্রকার কর্মকান্ড
সম্পাদিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন মূলত: সাধিত হয়েছে এই দুটি প্রশাসনিক স্তরের মধ্যকার
সুসস্পর্কের মধ্য দিয়ে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফলপ্রসূ হয় শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। স্থানীয়
প্রশাসনের প্রতিনিধিগণ কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অংশীদারিত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে কেন্দ্রিয় প্রশাসনে
উত্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে এই দুইটি প্রশাসনের মধ্যকার সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়, যা
জনকল্যাণের সহায়ক হিসেবে দেখা দেয়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১৩
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। স্থানীয় ও কেন্দ্রিয় প্রশাসনের সমন্বিত রূপ হল-
(ক) আইন বিভাগ (খ) শাসন বিভাগ
(গ) বিচার বিভাগ (ঘ) কোনটি নয়
২। স্থানীয় ও কেন্দ্রিয় প্রশাসনের সমন্বয় করেন?
(ক) মন্ত্রী (খ) সচিব
(গ) স্পীকার (ঘ) প্রধান বিচারপতি
৩। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলর. জনগণের সেবা করা
রর. শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা
ররর. অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তদারকি করা
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) র ও রর (খ) রর ও ররর (গ) র ও ররর (ঘ) সবকটি
চূড়ান্ত মূল্যায়ন
১। ‘ক’ রাষ্ট্রটি দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। নির্বাহী প্রধান রাষ্ট্রের নাগরিকদের সকল
অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দেশটিতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে। তিনি বলেন সরকারের ক্ষমতার মালিক হবে
জনগণ। জনগণকে অধিকতর সেবা পৌঁছে দেবার জন্য প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করলেন। সেখানে বিভিন্ন স্তরে
সরকারি কার্যালয়গুলোকে জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি বিভাগের মাধ্যমে
সরকারি কর্মচারীদেরকে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য একটি বিভাগের মাধ্যমে
সরকারের সকল কর্মকাÐ এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা আইনের মাধ্যমে তা বলবৎ
করার বিধান রাখা হয়েছে।
ক. সরকারের কয়টি বিভাগ থাকে?
খ. প্রশাসনিক কাঠামো কি? এটি সাধারণত কোন বিভাগের?
গ. উদ্দীপকের আলোকে সরকারের তিনটি বিভাগের সমন্বয় সম্পর্কে আলোচনা করুন।
ঘ. উদ্দীপকে একটি বিভাগের মাধ্যমে শাসন বিভাগের জবাবদিহিতার কথা বলা হয়েছে। এই জবাবদিহিতা কীভাবে
নিশ্চিত করা হয়? আলোচনা করুন?
২। গ্রাম এলাকায় একজন শিক্ষক ছাত্রদেরকে সচিবালয় সম্পর্কে পড়াচ্ছিলেন। তিনি ছাত্রদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁদের
কেউ কখনো উপজেলা প্রশাসনে গিয়েছে কিনা? ছাত্রদের অনেকেই বলল গিয়েছে। তাঁরা সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের
কর্মকর্তাদের সাইনবোর্ড দেখেছে। সে প্রেক্ষিতে শিক্ষক বলল বাংলাদেশ সচিবালয়ও অনেকটা এ রকমই। সেটি হল বিভিন্ন
দপ্তরের কেন্দ্রিয় দপ্তর বা মন্ত্রণালয়। যার সাচিবিক দায়িত্বে থাকেন সচিবগণ। অর্থাৎ কেন্দ্রিয় সচিবালয়েরই স্থানীয় একটি
রূপ হল উপজেলা প্রশাসন।
ক. বাংলদেশ সরকারের প্রধান কে?
খ. বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো দুটি স্তর কী কী?
গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ সচিবালয় সম্পর্কে আলোচনা করুন।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে কেন্দ্রিয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করুন।
উত্তরমালা :
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১ ঃ ১। গ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.২ ঃ ১। খ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৩ ঃ ১। খ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৪ ঃ ১। খ ২। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৫ ঃ ১। গ ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৬ ঃ ১। খ ২। ঘ ৩। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৭ ঃ ১। ক ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৮ ঃ ১। গ ২। ক
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৯ ঃ ১। খ ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১০ ঃ ১। গ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১১ ঃ ১। গ ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১২ ঃ ১। গ ২। ঘ ৩। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১৩ ঃ ১। খ ২। ক ৩। ঘ
জনকল্যাণ।
কোন দেশের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সাথে মাঠ প্রশাসনের নিবিড় সম্পর্কের ওপর।
যেহেতু, মাঠ ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উপর বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত, সেহেতু বাংলাদেশের
উন্নয়ন উভয় প্রশাসনের সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও
স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও
সেবা পৌঁছে দিতে সরকারকে প্রতিনিয়ত প্রচুর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এজন্যই সরকারকে সারা দেশে স্থানীয়
প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। বাংলাদেশ সরকার বিকেন্দ্রীকরণের নিয়ম মেনে বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত
করেছে এবং এই প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে।
মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন মূলত কেন্দ্রীয় সরকার প্রণীত নিয়ম-নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের সাথে
কেন্দ্রীয় সরকারের সুসম্পর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। তাদের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা প্রশাসনিক কাজের সফলতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে
উঠতে পারে। তবে কখনও কখনও কর্মকর্তাগণের মধ্যকার কর্মবন্টন প্রক্রিয়া যথোপযুক্ত না হওয়ার দরুন প্রশাসনিক কাজে
স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়। এই কারণে প্রশাসনের এই দুই স্তরের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।
রাজনৈতিক উন্নয়নের তাগিদে মাঠ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্যকার সুসম্পর্ক থাকা দরকার। রাজনৈতিক উন্নয়ন হল
জাতি গঠনে অনুকূল রাজনৈতিক সংগঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সৃষ্টি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ ও
স্থিতিশীল পরিবেশ রক্ষা করা। রাজনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য
কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের সম্পর্ক থাকা জরুরি।
রাষ্ট্র যন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে প্রশাসন ব্যবস্থা। যে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থা জনগণের যত কাছাকাছি, সে দেশের
জনগণের আশা-আকাঙ্খা তত বেশি পূরণ হয়। কেননা এর মাধ্যমে প্রশাসন ব্যবস্থা থেকে মাঠ পর্যায়ে সেবা পৌঁছানো
সম্ভব হয়। মাঠ পর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে মাঠ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা
হয়েছে, যার মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসন তিনটি স্তরে বিভক্ত, এগুলো হচ্ছে, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। বিভাগীয় নির্দেশনা
মোতাবেক জেলা প্রশাসনের কার্যাদি ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা পরিষদের কার্যাদি সংগঠিত হয়।
কর্মকর্তাদের এই কার্যপ্রক্রিয়ায় কোন ধরনের জটিলতা লক্ষ্য করা গেলে সেক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের
মাধ্যমে ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা উপজেলা পর্যায়ের সকল ব্যবধান হ্রাস করা হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের
সাথে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্যকার যোগাযোগ রচিত হয়।
জনগণের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম শর্ত। উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের
সাথে জনগণের অংশগ্রহণ সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনও শক্তিশালী হয়। আর তা কেন্দ্রীয় প্রশাসন কর্তৃক
দারুণভাবে গৃহীত হয়। এভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নিবিড় সম্পর্ক রচিত হয়।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সম্পর্কের উপর দারুণভাবে নির্ভরশীল।
শিক্ষার্থীর কাজ কেন্দ্রিয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্পর্কে আলোচনা করুন।
সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যকার সম্পর্ক নিবিড় হওয়ার দরুণ নিয়মমাফিক সকল প্রকার কর্মকান্ড
সম্পাদিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন মূলত: সাধিত হয়েছে এই দুটি প্রশাসনিক স্তরের মধ্যকার
সুসস্পর্কের মধ্য দিয়ে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফলপ্রসূ হয় শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। স্থানীয়
প্রশাসনের প্রতিনিধিগণ কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অংশীদারিত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে কেন্দ্রিয় প্রশাসনে
উত্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে এই দুইটি প্রশাসনের মধ্যকার সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়, যা
জনকল্যাণের সহায়ক হিসেবে দেখা দেয়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১৩
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। স্থানীয় ও কেন্দ্রিয় প্রশাসনের সমন্বিত রূপ হল-
(ক) আইন বিভাগ (খ) শাসন বিভাগ
(গ) বিচার বিভাগ (ঘ) কোনটি নয়
২। স্থানীয় ও কেন্দ্রিয় প্রশাসনের সমন্বয় করেন?
(ক) মন্ত্রী (খ) সচিব
(গ) স্পীকার (ঘ) প্রধান বিচারপতি
৩। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলর. জনগণের সেবা করা
রর. শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা
ররর. অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তদারকি করা
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) র ও রর (খ) রর ও ররর (গ) র ও ররর (ঘ) সবকটি
চূড়ান্ত মূল্যায়ন
১। ‘ক’ রাষ্ট্রটি দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। নির্বাহী প্রধান রাষ্ট্রের নাগরিকদের সকল
অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দেশটিতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে। তিনি বলেন সরকারের ক্ষমতার মালিক হবে
জনগণ। জনগণকে অধিকতর সেবা পৌঁছে দেবার জন্য প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করলেন। সেখানে বিভিন্ন স্তরে
সরকারি কার্যালয়গুলোকে জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি বিভাগের মাধ্যমে
সরকারি কর্মচারীদেরকে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য একটি বিভাগের মাধ্যমে
সরকারের সকল কর্মকাÐ এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা আইনের মাধ্যমে তা বলবৎ
করার বিধান রাখা হয়েছে।
ক. সরকারের কয়টি বিভাগ থাকে?
খ. প্রশাসনিক কাঠামো কি? এটি সাধারণত কোন বিভাগের?
গ. উদ্দীপকের আলোকে সরকারের তিনটি বিভাগের সমন্বয় সম্পর্কে আলোচনা করুন।
ঘ. উদ্দীপকে একটি বিভাগের মাধ্যমে শাসন বিভাগের জবাবদিহিতার কথা বলা হয়েছে। এই জবাবদিহিতা কীভাবে
নিশ্চিত করা হয়? আলোচনা করুন?
২। গ্রাম এলাকায় একজন শিক্ষক ছাত্রদেরকে সচিবালয় সম্পর্কে পড়াচ্ছিলেন। তিনি ছাত্রদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁদের
কেউ কখনো উপজেলা প্রশাসনে গিয়েছে কিনা? ছাত্রদের অনেকেই বলল গিয়েছে। তাঁরা সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের
কর্মকর্তাদের সাইনবোর্ড দেখেছে। সে প্রেক্ষিতে শিক্ষক বলল বাংলাদেশ সচিবালয়ও অনেকটা এ রকমই। সেটি হল বিভিন্ন
দপ্তরের কেন্দ্রিয় দপ্তর বা মন্ত্রণালয়। যার সাচিবিক দায়িত্বে থাকেন সচিবগণ। অর্থাৎ কেন্দ্রিয় সচিবালয়েরই স্থানীয় একটি
রূপ হল উপজেলা প্রশাসন।
ক. বাংলদেশ সরকারের প্রধান কে?
খ. বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো দুটি স্তর কী কী?
গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ সচিবালয় সম্পর্কে আলোচনা করুন।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে কেন্দ্রিয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করুন।
উত্তরমালা :
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১ ঃ ১। গ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.২ ঃ ১। খ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৩ ঃ ১। খ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৪ ঃ ১। খ ২। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৫ ঃ ১। গ ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৬ ঃ ১। খ ২। ঘ ৩। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৭ ঃ ১। ক ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৮ ঃ ১। গ ২। ক
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৯ ঃ ১। খ ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১০ ঃ ১। গ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১১ ঃ ১। গ ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১২ ঃ ১। গ ২। ঘ ৩। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১৩ ঃ ১। খ ২। ক ৩। ঘ