মোগল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা

মোগল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল। এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত
সামরিক শক্তি নির্ভর। তাই একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে
হত। মোগল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে। মোগলরা একটি শক্তিশালী
কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
কেন্দ্রীয় প্রশাসন
মোগল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন ‘পাদশাহ’ বা সম্রাট। এটি ফার্সি শব্দ যা বাংলায় বাদশাহ
হিসেবে ব্যবহৃত। তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন
নিয়ন্ত্রণ করতেন। রাজকর্মচারিরা তাদের স্ব স্ব কর্মকান্ডের জন্য বাদশাহের কাছেই দায়বদ্ধ থাকতেন। কর্মচারিদের চাকরির
কার্যকাল সম্রাটের ইচ্ছা এবং সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করত।
দফতর সৃষ্টি:
মোগল আমলে প্রশাসনিক কর্মকান্ড সুষ্ঠ ভাবে চালানোর উদ্দেশ্যে কতগুলো দফতর বা অফিস সৃষ্টি করা হয়। প্রত্যেক
দফতর একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার দ্বারা পরিচালিত হত।
ওয়াজির বা প্রধানমন্ত্রী:
সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল। তিনি কোনো কোনো সময় রাজস্ব বিভাগও দেখাশুনা করতেন। তবে
মোগল প্রশাসনের ওয়াজিরের পদ অপরিহার্য ছিল না। তাই মোগল আমলে সব সময় ওয়াজির নিযুক্ত হত না।
প্রশাসনিক বিভাগ সমূহ:
১. মোগল আমলের রাজস্ব বিভাগের যাবতীয় কার্যভার দিউয়ানের ওপর ন্যস্ত ছিল। তিনি অর্থনৈতিক বিভাগের পরিচালনা
ও পরিদর্শন করতেন। এছাড়াও তিনি সরকারি অফিসার ও সম্রাটের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি হিসেবে কাজ
করতেন। দিউয়ান-ই-খালাসা, দিউয়ান-ই-জায়গীর ও দিউয়ান-ই-তাউজিব পদবীধারী কর্মকর্তাগণ দিউয়ানকে সহযোগিতা
করতেন।
২. মীর বকসি ছিলেন সামরিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ রাজকর্মচারি। সৈন্য সংগ্রহ, অশ্ব পরিদর্শন, মনসবদার প্রভৃতি
কর্মচারির তালিকা সংরক্ষণ প্রভৃতি তাঁর দায়িত্ব ছিল। এছাড়া মীর-ই-বহর ছিলেন নৌবহরের প্রধান।
৩. মীর-ই-সামান ছিলেন সম্রাটের গৃহ পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত কর্মচারি। তিনি সম্রাটের পরিবারবর্গের প্রয়োজনীয় সামগ্রী,
খাদ্য প্রভৃতি তদারক করতেন।
৪. সদর-উস-সুদূর ছিলেন ধর্মীয় সম্পত্তি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দান বিভাগের অধিকর্তা।
৫. কাজী-উল-কুজ্জাত বা প্রধান কাজী ছিলেন সম্রাটের অধীনে সর্বোচ্চ বিচারপতি। তিনি প্রাদেশিক কাজী নিয়োগ ও
তাদের কাজ তত্ত¡াবধান করতেন। মুফতি তাঁকে আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে প্রয়োজনীয় সাহায্য করতেন।
এছাড়াও অন্যান্য রাজকর্মচারীর মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হতো এবং জনগণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বিধান
করা হত।
প্রাদেশিক শাসন
বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো ‘সুবাহ’ বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল। সুবাহদার
ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক। পদমর্যাদায় সুবাহদারের পরেই ছিল প্রাদেশিক দিউয়ান। প্রদেশের আর্থিক উন্নতি এবং
রাজস্ব প্রশাসন পরিচালনা ছিল দিউয়ানের দায়িত্ব। সুবাহদার ও দিওয়ান তারা উভয়ই সরাসরি বাদশাহের কাছে তাদের
কর্মকাÐের জবাবদিহিতা করতেন এ দুজন প্রধান কর্মকর্তা ছাড়া প্রদেশের অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে সদর ও কাজী, বক্শী,
ওয়াকিয়া নবিস, কোতোয়াল ইত্যাদি ছিল উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তা। মোগল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা
জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল। ফৌজদার ও শিকদার ছিলেন যথাক্রমে সরকার ও পরগণার
প্রধান নির্বাহীকর্তা।
মোগল শাসন ব্যবস্থার ভিত রচনা করেন সম্রাট আকবর। এ শাসন ব্যবস্থা ছিল মূলত এককেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক। সম্রাট
ছিলেন এই শাসন ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু। তবে তিনি তাঁর বিভিন্ন অধীনস্ত কর্মচারির সাহায্যে শাসন কাজ পরিচালনা করতেন।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন।
১। মোগল প্রশাসন ব্যবস্থায় সম্রাটের পরের স্থান ছিল কার?
ক) কাজী-উল-কুজ্জাত খ) প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজির
গ) দিউয়ান ঘ) মীর বক্সি
২। মোগল প্রশাসনে রাজস্ব বিভাগ ন্যাস্ত ছিল কার উপর?
ক) দিউয়ান খ) কাজী-উল- কুজ্জাত
গ) মীর বক্সি ঘ) মীর-ই-সামান
৩। সামরিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ছিলেনÑ
ক) দিউয়ান খ) কাজী
গ) মীর বক্সি ঘ) মীর-ই-সামান
৪। “সুবাহ”-এর প্রধান কার্যনির্বাহক ছিলেন কে?
ক) ফৌজদার খ) শিকদার
গ) সুবাহদার ঘ) দিউয়ান
৫। পরগনাহ প্রধানকে বলা হতোÑ
ক) সুবাহদার খ) শিকদার
গ) ফৌজদার ঘ) দিউয়ান
৬। মোগল শাসন ব্যবস্থায় দিউয়ান কে সাহায্য করতেনÑ
র. দিউয়ান-ই-খালাসা
রর. দিউয়ান-ই-জায়গীর
ররর. দিউয়ান-ই-তাউজিব
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর