শেরশাহের রাজ্য বিস্তার
চৌসা ও বিলগ্রামের যুদ্ধে শেরশাহ মোগল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করেন। ফলে তিনি দিল্লি, আগ্রার একচ্ছত্র
অধিপতি হন। ভারতবর্ষ থেকে মোগলদের বিতাড়িত করে তিনি রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। হুমায়ুনের
ভাই কামরান ইতোমধ্যে পাঞ্জাব ছেড়ে দিয়ে শেরশাহের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন। পাঞ্জাব বিজয়ের পর শেরশাহ
ঝিলাম ও সিন্ধুর মধ্যবর্তী গাক্কার অঞ্চল অধিকার করেন। তিনি সিন্ধু, মুলতান প্রভৃতি অঞ্চলও জয় করেন।
১৫৪১ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ বাংলা আক্রমণ করে বাংলার সুলতান খিজির খানকে পরাজিত ও বিতাড়িত করেন। বাংলায় যাতে
বিদ্রোহ সংঘটিত হতে না পারে সে জন্য তিনি বাংলাকে ১৯টি সরকারে বিভক্ত করে প্রত্যেকটির শাসনভার একজন
আমিনের উপর ন্যস্ত করেন। পশ্চিম ভারতে রাজপুত শক্তি খানুয়ার পরাজয়ের পর নতুন করে শক্তি লাভ করতে থাকে।
শেরশাহ রাজপুতদেরকে দমন করার কাজে হাত দেন। তিনি ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে মালব জয় করে গোয়ালিওর দুর্গ অবরোধ
করেন। দীর্ঘ দুই বছর অবরোধের পর দুর্গটি তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। মালব শেরশাহের সাম্রাজ্যভুক্ত হলেও মালবের রাইসিন
দুর্গাধিপতি পুরনমল তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেন নি। ১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ পুরনমলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করেন।
পুরনমল দেশের স্বাধীনতা ও সর্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিশাল রাজপুত বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন কিন্তু যুদ্ধে তিনি
শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। শেরশাহ উজ্জয়িনী ও রণথম্ভোরও জয় করেন।
রাজপুতদের মধ্যে যোধপুরের মাড়ওয়াড়ের
অধিপতি মালদেব খুব শক্তিশালী ছিলেন। ১৫৪৪
খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ মালদেবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা
করেন। এই যুদ্ধে তিনি রাজপুতদের প্রবল বাধার
সম্মুখীন হন। অবশেষে এ যুদ্ধেও শেরশাহ জয়ী
হন। মালদেবের পরাজয়ের ফলে সমগ্র রাজস্থান
শেরশাহের বশ্যতা স্বীকার করে। রাজপুতনা জয়ের
পর শেরশাহ ১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে বুন্দেলখÐের কালিঞ্জর
দুর্গ অধিকারের চেষ্টা করেন। এই দুর্গের অধিপতি
কিরাত সিং তাঁকে এক বছর পর্যন্ত বাধা দেন। এ
দুর্গ অবরোধ চলাকালীন বারুদের বিস্ফোরণে ১৫৪৫
খ্রিস্টাব্দে ২২ মে শেরশাহ মৃত্যুবরণ করেন।
বিহারের সাসারামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
সম্রাট হুমায়ুনের কাছ থেকে দিল্লি ও আগ্রা অধিকারের পর শেরশাহ পাঞ্জাব, সিন্ধু ও মুলতান জয় করেন। তিনি
বাংলাকেও তাঁর অধিকারে আনেন। এরপর শেরশাহ রাজপুতনা অধিকার করেন। বুন্দেলখÐের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধের
সময় তিনি বারুদের বিস্ফোরণে মৃত্যু বরণ করেন।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন।
১। শেরশাহ কত খ্রিস্টাব্দে বাংলা আক্রমন করেন?
ক) ১৫৪০ খ) ১৫৪১ গ) ১৫৪২ ঘ) ১৫৪৩
২। শেরশাহ বাংলাকে কয়টি সরকারে বিভক্ত করেছিলেন?
ক) ১৯ খ) ২০ গ) ২১ ঘ) ২২
৩। কার পরাজয়ের ফলে সমগ্র রাজস্থান শেরশাহের বশ্যতা স্বীকার করে?
ক) পুরনমল খ) মাল দেব
গ) কিরাত সিং ঘ) সংগ্রাম সিংহ
বুন্দেলখÐের কালিগঞ্জ দুর্গ দখল করতে এসে শেরশাহ মারা যান
বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ^বিদ্যালয় ইতিহাস ১ম পত্র
ইউনিট ২ পৃষ্ঠা ১৭
উদ্দীপকটি পড়ে ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তর দিন।
জসিম কোম্পানিতে একজন সামান্য ক্লার্ক হিসেবে চাকরি নিয়ে স্বীয় প্রতিভা ও দূরদর্শিতার গুণে কোম্পানীর
ম্যানেজারকে হার মানিয়ে কোম্পানিতে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন।
৪। উদ্দীপকের জসিমের সাথে পাঠ্য পুস্তকের কোন সুর আফগান শাসকের সাদৃশ্য আছে?
ক) হাসান খান সুর খ) শেরশাহ সুর
গ) সোলায়মান খান সুর ঘ) জামাল খান
৫। উক্ত শাসক যে যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে দিল্লির সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হনÑ
র. বিল গ্রামের যুদ্ধ
রর. সুরুজ গড়ের যুদ্ধ
ররর. চৌসার যুদ্ধ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র খ) র ও রর গ) র ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
অধিপতি হন। ভারতবর্ষ থেকে মোগলদের বিতাড়িত করে তিনি রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। হুমায়ুনের
ভাই কামরান ইতোমধ্যে পাঞ্জাব ছেড়ে দিয়ে শেরশাহের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন। পাঞ্জাব বিজয়ের পর শেরশাহ
ঝিলাম ও সিন্ধুর মধ্যবর্তী গাক্কার অঞ্চল অধিকার করেন। তিনি সিন্ধু, মুলতান প্রভৃতি অঞ্চলও জয় করেন।
১৫৪১ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ বাংলা আক্রমণ করে বাংলার সুলতান খিজির খানকে পরাজিত ও বিতাড়িত করেন। বাংলায় যাতে
বিদ্রোহ সংঘটিত হতে না পারে সে জন্য তিনি বাংলাকে ১৯টি সরকারে বিভক্ত করে প্রত্যেকটির শাসনভার একজন
আমিনের উপর ন্যস্ত করেন। পশ্চিম ভারতে রাজপুত শক্তি খানুয়ার পরাজয়ের পর নতুন করে শক্তি লাভ করতে থাকে।
শেরশাহ রাজপুতদেরকে দমন করার কাজে হাত দেন। তিনি ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে মালব জয় করে গোয়ালিওর দুর্গ অবরোধ
করেন। দীর্ঘ দুই বছর অবরোধের পর দুর্গটি তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। মালব শেরশাহের সাম্রাজ্যভুক্ত হলেও মালবের রাইসিন
দুর্গাধিপতি পুরনমল তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেন নি। ১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ পুরনমলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করেন।
পুরনমল দেশের স্বাধীনতা ও সর্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিশাল রাজপুত বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন কিন্তু যুদ্ধে তিনি
শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। শেরশাহ উজ্জয়িনী ও রণথম্ভোরও জয় করেন।
রাজপুতদের মধ্যে যোধপুরের মাড়ওয়াড়ের
অধিপতি মালদেব খুব শক্তিশালী ছিলেন। ১৫৪৪
খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ মালদেবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা
করেন। এই যুদ্ধে তিনি রাজপুতদের প্রবল বাধার
সম্মুখীন হন। অবশেষে এ যুদ্ধেও শেরশাহ জয়ী
হন। মালদেবের পরাজয়ের ফলে সমগ্র রাজস্থান
শেরশাহের বশ্যতা স্বীকার করে। রাজপুতনা জয়ের
পর শেরশাহ ১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে বুন্দেলখÐের কালিঞ্জর
দুর্গ অধিকারের চেষ্টা করেন। এই দুর্গের অধিপতি
কিরাত সিং তাঁকে এক বছর পর্যন্ত বাধা দেন। এ
দুর্গ অবরোধ চলাকালীন বারুদের বিস্ফোরণে ১৫৪৫
খ্রিস্টাব্দে ২২ মে শেরশাহ মৃত্যুবরণ করেন।
বিহারের সাসারামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
সম্রাট হুমায়ুনের কাছ থেকে দিল্লি ও আগ্রা অধিকারের পর শেরশাহ পাঞ্জাব, সিন্ধু ও মুলতান জয় করেন। তিনি
বাংলাকেও তাঁর অধিকারে আনেন। এরপর শেরশাহ রাজপুতনা অধিকার করেন। বুন্দেলখÐের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধের
সময় তিনি বারুদের বিস্ফোরণে মৃত্যু বরণ করেন।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন।
১। শেরশাহ কত খ্রিস্টাব্দে বাংলা আক্রমন করেন?
ক) ১৫৪০ খ) ১৫৪১ গ) ১৫৪২ ঘ) ১৫৪৩
২। শেরশাহ বাংলাকে কয়টি সরকারে বিভক্ত করেছিলেন?
ক) ১৯ খ) ২০ গ) ২১ ঘ) ২২
৩। কার পরাজয়ের ফলে সমগ্র রাজস্থান শেরশাহের বশ্যতা স্বীকার করে?
ক) পুরনমল খ) মাল দেব
গ) কিরাত সিং ঘ) সংগ্রাম সিংহ
বুন্দেলখÐের কালিগঞ্জ দুর্গ দখল করতে এসে শেরশাহ মারা যান
বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ^বিদ্যালয় ইতিহাস ১ম পত্র
ইউনিট ২ পৃষ্ঠা ১৭
উদ্দীপকটি পড়ে ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তর দিন।
জসিম কোম্পানিতে একজন সামান্য ক্লার্ক হিসেবে চাকরি নিয়ে স্বীয় প্রতিভা ও দূরদর্শিতার গুণে কোম্পানীর
ম্যানেজারকে হার মানিয়ে কোম্পানিতে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন।
৪। উদ্দীপকের জসিমের সাথে পাঠ্য পুস্তকের কোন সুর আফগান শাসকের সাদৃশ্য আছে?
ক) হাসান খান সুর খ) শেরশাহ সুর
গ) সোলায়মান খান সুর ঘ) জামাল খান
৫। উক্ত শাসক যে যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে দিল্লির সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হনÑ
র. বিল গ্রামের যুদ্ধ
রর. সুরুজ গড়ের যুদ্ধ
ররর. চৌসার যুদ্ধ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র খ) র ও রর গ) র ও ররর ঘ) র, রর ও ররর