লক্ষ্নৌ চুক্তি থেকে ভারত বিভাগ (১৯১৬-১৯৪৭ খ্রি.)

বিশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতের রাজনীতিতে বেশকিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ও
সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি ভারতীয়দের মধ্যে স্বার্থ আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা জাগে। বঙ্গভঙ্গ রদের পরে
মুসলমানরা ইংরেজদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তারা হিন্দুদের সঙ্গে সহযোগিতার পথে পা বাড়ায় এবং
স্বরাজ অর্জনকে তাদের লক্ষ্য বলে ঘোষণা করে। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দের লক্ষৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ শাসনতান্ত্রিক
সংস্কারের প্রশ্নে এক যৌথ দাবিনামায় চুক্তিবদ্ধ হয়। মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারে সে দাবির কিছু প্রতিফলন থাকলেও
ভারতীয়দের আশা-আকাক্সক্ষার সম্পূর্ণ প্রতিফলন তাতে ছিল না। বাংলার নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস হিন্দু মুসলিম
ঐক্যের জন্য ‘বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তি’ করলেও এটা ক্ষণস্থায়ী হয়। পুনরায় ভারতের রাজনীতিতে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে ঘটে
বিভেদের সূত্রপাত। শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বৃটিশ সরকার সাইমন কমিশন গঠন, গোল টেবিল বৈঠক
আহবান ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ভারতীয়দের উদ্যোগে নেহেরু রিপোর্ট, জিন্নাহ্র চৌদ্দ দফা ইত্যাদিও সমস্যার
সুরাহা করতে পারে নি। পরে আসে ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাবের
মাধ্যমে উপমহাদেশের মুসলমানরা নিজেদের জন্য একাধিক স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। ভারতের রাজনীতি
সুস্পষ্টভাবে অনৈক্যের পথে ধাবিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে বৃটিশ সরকার একটি শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে
উপমহাদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য নানা উপায়ে চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো চেষ্টাই ফলপ্রসূ হয় নি। হিন্দু মুসলিম অনৈক্য ও
সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটলে শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়। অভ্যুদয় ঘটে পাকিস্তান ও ভারত
নামে দুটি রাষ্ট্রের।
এ ইউনিট পাঠ করে আপনি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ পরবর্তী ভারতের হিন্দু মুসলিম রাজনৈতিক ধারা সম্পর্কে জানবেন; ভারতের
শাসনতান্ত্রিক সংকট সমাধানের চেষ্টা সম্পর্কে অবহিত হবেন এবং ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত বিভক্তির পটভ‚মি আলোচনা
করতে সক্ষম হবেন।