পূর্ব বাংলা থেকে মুক্তিযুদ্ধ (১৯৪৭-১৯৭১)
১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করাকে কেন্দ্র
করে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ভাষা আন্দোলন হলোÑ ধর্ম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ থেকে ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী
চেতনায় রূপান্তর ও বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ। দীর্ঘ দু'শো বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণের পর ভারত ও পাকিস্তান নামের
দু’টি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলা অঞ্চল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। কলকাতাসহ হিন্দু
সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ভারতের অধীনে এবং ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বেশি দিন পর্যন্ত অখÐ থাকতে পারে নি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী
সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটারের অধিক ভৌগোলিক ব্যবধান নিয়ে
সৃষ্ট নতুন রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ভাষী নেতা। সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ আজকের
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনো সহানুভূতি ছিল না। তারা শুধু এ দেশকে শোষণ করতে চেয়েছিল। পাকিস্তানের
মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্তে¡ও সংখ্যালঘিষ্ট মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পশ্চিম
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্তে¡ও পূর্ব
পাকিস্তানের প্রতি আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য এ অঞ্চলের জনমনে প্রবল অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
ফলে শুরু থেকেই স্বাধিকারের প্রশ্নে এই অঞ্চলের জনগণকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। সূচিত হয় ভাষা আন্দোলন।
১৯৪৮ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে উর্দু ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রথমেই
প্রতিবাদ মুখর হলো বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ। তারা এই অন্যায় বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। এভাবেই ভাষা
আন্দোলনের সূত্রপাত। দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে উঠে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রথম শহীদ
হলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে। রক্তের বিনিময়ে পূর্ববাংলা অর্জন করে ভাষার অধিকার। তথাপি
পূর্বাঞ্চলের প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের নীতির কোনো পরিবর্তন হয় নি। ফলে পূর্ববাংলায় আন্দোলন বিস্তৃতি লাভ করে।
এরই পথ ধরে দানা বাঁধে ছয় দফা ও এগার দফার আন্দোলন। পরিণতিতে সংঘটিত হয় ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যূত্থান।
পাকিস্তানি শাসনযন্ত্রের হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র পূর্বপাকিস্তানিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
করে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ভাষা আন্দোলন হলোÑ ধর্ম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ থেকে ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী
চেতনায় রূপান্তর ও বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ। দীর্ঘ দু'শো বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণের পর ভারত ও পাকিস্তান নামের
দু’টি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলা অঞ্চল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। কলকাতাসহ হিন্দু
সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ভারতের অধীনে এবং ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বেশি দিন পর্যন্ত অখÐ থাকতে পারে নি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী
সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটারের অধিক ভৌগোলিক ব্যবধান নিয়ে
সৃষ্ট নতুন রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ভাষী নেতা। সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ আজকের
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনো সহানুভূতি ছিল না। তারা শুধু এ দেশকে শোষণ করতে চেয়েছিল। পাকিস্তানের
মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্তে¡ও সংখ্যালঘিষ্ট মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পশ্চিম
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্তে¡ও পূর্ব
পাকিস্তানের প্রতি আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য এ অঞ্চলের জনমনে প্রবল অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
ফলে শুরু থেকেই স্বাধিকারের প্রশ্নে এই অঞ্চলের জনগণকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। সূচিত হয় ভাষা আন্দোলন।
১৯৪৮ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে উর্দু ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রথমেই
প্রতিবাদ মুখর হলো বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ। তারা এই অন্যায় বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। এভাবেই ভাষা
আন্দোলনের সূত্রপাত। দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে উঠে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রথম শহীদ
হলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে। রক্তের বিনিময়ে পূর্ববাংলা অর্জন করে ভাষার অধিকার। তথাপি
পূর্বাঞ্চলের প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের নীতির কোনো পরিবর্তন হয় নি। ফলে পূর্ববাংলায় আন্দোলন বিস্তৃতি লাভ করে।
এরই পথ ধরে দানা বাঁধে ছয় দফা ও এগার দফার আন্দোলন। পরিণতিতে সংঘটিত হয় ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যূত্থান।
পাকিস্তানি শাসনযন্ত্রের হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র পূর্বপাকিস্তানিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।