২ ডিসেম্বর ১৮০৪: নেপোলিয়ন নিজেকে সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন।

প্রায় ২৭৫০ জন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ব্যক্তিকে বিদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করে
গিলোটিনের মাধ্যমে মৃত্যুদÐ কার্যকর করা হয়। অনেক অভিজাত এবং শিক্ষিত
ব্যক্তিও অরাজকতার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে গিয়ে গিলোটিনের শিকার হন।
২৭ জুলাই ১৭৯৪:
ক্রমশ স্বৈরশাসক হয়ে ওঠা রোবেসপিয়ারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ রোবেসপিয়ারকে তার অপরাধের শাস্তি হিসেবে প্রায় ১৫০
জন সঙ্গীসহ মৃত্যুদÐ দেয়া হয়।
তৃতীয় ধাপ: রুটির দামের নির্ধারিত মূল্য উঠিয়ে নেয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রতিক্রিয়াশীল বিভিন্ন দলের হাতে বিপ্লবীরা
প্রচÐ মার খায়। বিভিন্ন স্থানে আক্রমণের শিকার বিপ্লবীরা এই সময় দিশেহারা হয়ে পড়ে।
১২ নভেম্বর ১৭৯৪: গণপরিষদের বিশেষ আইন জারির মধ্য দিয়ে বিপদের মুখে পড়ে জ্যাকোবিনরা।
১ জানুয়ারি ১৭৯৫: খ্রিস্টানদের ধর্মীয় আরাধনার জন্য চার্চ নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করে।
মে - জুন ১৭৯৫: দক্ষিণে শুরু হয় শ্বেত সন্ত্রাস।
৮ জুন ১৭৯৫:
জেলহাজতে ডাফিনের মৃত্যু হয়। কোঁৎ দ্য প্রোভেন্সি অষ্টাদশ লুই এর খেতাব লাভ
করে।
২২ আগস্ট১৭৯৫: তিন বছরের বিশেষ সংবিধান চালু করে ডাইরেক্টরির পত্তন।
৫ অক্টোবর ১৭৯৫: সরকার পরিবর্তন নিয়ে অভিজাতরা নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে যার সুযোগ গ্রহণ করেন
নেপোলিয়ন।.
২৬ অক্টোবর ১৭৯৫: সংবিধান স্থগিত করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন জারি করা হয়।
২ ফেব্রæয়ারি ১৭৯৬: ইতালিতে ফরাসি বাহিনীর সেনাধ্যক্ষ হিসেবে নেপোলিয়নের সাফল্যলাভ।
২৬ ফেব্রæয়ারি ১৭৯৬: ডিরেক্টরগণ প্যানথিয়নের জনসভা নিষিদ্ধ করে দেয়।
১০ মে ১৭৯৬: অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৭ সেপ্টেম্বর ১৭৯৬: বাবিউফের প্রায় শতাধিক সমর্থক ডিরেক্টরদের প্রাসাদ আক্রমণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।
২৭মে ১৭৯৭: দোষী সাব্যস্ত হয়েও অনেক বাবিউফ সমর্থক প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়।
মে ১৭৯৭: ১৭৯৮-৯৯ সালের নির্বাচন ডিরেক্টরদের আরো অসহনীয় করে তোলে।
১৮ জুন ১৭৯৯: ডাইরেক্টরির পতন।
৯ নভেম্বর ১৭৯৯: কনসাল জেনারেলের সভা আহবান করে ফ্রান্সের ক্ষমতা নিয়ে নেন নেপোলিয়ন।
২ ডিসেম্বর ১৮০৪: নেপোলিয়ন নিজেকে সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন।

সারাংশ
সামন্ত্রতান্তিক ফ্রান্সের নতুন ধনিক শ্রেণি বা বুর্জোয়াদের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত ছিল। ফলে তারা পেছন
থেকে ফরাসি বিপ্লবের নেতৃত্বদানে এগিয়ে আসে। এই সময় অর্থনৈতিক দৈন্য থেকে শুরু করে নানা কারণে জীবনপণ
সংগ্রামে লিপ্ত ছিল ফ্রান্সের দরিদ্র শ্রেণি। এই ধরনের একটি প্রেক্ষাপট বিপ্লব অনিবার্য করে তোলে যারা শুরুটা হয় সশস্ত্র
সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। দরিদ্রশ্রেণির এই সংগ্রাম ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে ‘সাঁকুলেৎ’ বা দরিদ্র শ্রেণির সর্বাত্মক
সংগ্রাম নামে। এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শুধু ফ্রান্সের রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে এমনটি নয়। বরং পুরো ইউরোপের
রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এসেছে অন্যরকম এক জোয়ার, বদলে গিয়েছিল রাজনীতির গতি প্রকৃতি।