অপারেশন অগাস্ট স্টর্ম

যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার নৌঘাঁটিতে হামলার পর মিত্রবাহিনীর তরফ হতে যুক্তরাষ্ট্রকে উপযুক্ত জবাব দেয়াটা জরুরি ছিল।
১৯৪৫ সালে জাপানে রুশ হামলাকে অনেকটা জাপানকে সতর্ক করে দেয়ার চেষ্টাও বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে রুশরা
এখনকার মাঞ্চুরিয়া, কোরিয়ার মেনজিয়াং, শাখালিন ও কুরিল দ্বীপপুঞ্জে সামরিক অভিযান চালায়। এখনকার চীনের অংশ
মাঞ্চুরিয়া তখন জাপান দখল করে নিয়েছিল আর অক্ষশক্তির অন্যতম অংশীদার হিসেবে জাপানের উপর প্রথম আঘাতটা
যেদিক থেকে আসে মাঞ্চুরিয়া এর মধ্যে অন্যতম। অনেকগুলো ফ্রন্টে একের পর এক হারতে থাকা জাপানি রাজকীয়
বাহিনী শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করত আর যাই হোক অন্তত হোম গ্রাউন্ডে এসে তাদের হারিয়ে দেয়া মিত্রবাহিনীর পক্ষে অতটা
সহজ হবে না যতটা না বাইরের ফ্রন্টগুলোতে জয়লাভ করা তাদের জন্য সহজ হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত চতুর্মুখী হামলার
সামনে আর শেষটা সুখকর হয়নি জাপানি রাজকীয় বাহিনীর। সবক্ষেত্রে পর্যুদস্ত হতে হয় তাদের। আর জাপানের
আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই মূলত আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের।
হিরোশিমা ও নাগাসাকির ট্র্যাজেডি
বিভিন্ন ধরনের কূটকৌশল থেকে শুরু করে বিবিধ আক্রমণ চালিয়ে জাপানের সাথে কিছুতেই পেরে ওঠেনি মিত্রবাহিনী।
পশ্চিমে জার্মানদের সাথে তাল মিলিয়ে এশিয়ার রণাঙ্গণে একাই লড়ে যাচ্ছিল জাপানি রাজকীয় বাহিনীর দুর্ধর্ষ সৈন্যরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবারে হামলার জন্য মিত্রবাহিনীর অন্যতম অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের চরম ক্ষোভ ছিল জাপানের
ওপর। কিন্তু যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যে এতটা নির্মম ও জঘন্য হবে তা কেউ চিন্তা করতে পারেনি। মানুষের ইতিহাসে
সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনার নজির স্থাপন করে ৬ ও ৯ আগস্ট যথাক্রমে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা হয়
লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান নামের দুটি ধ্বংসাত্মক আনবিক বোমা। ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হিরোশিমায় প্রথম
বোমাটি নিক্ষেপ করা হলে তাৎক্ষণিক প্রাণ যায় ১ লাখ বিশ হাজার মানুষের। আর তার দ্বিগুণ মানুষ মারা যায় এর একটু
পরে। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেনরি এস ট্রুম্যান আনবিক বোমা নিক্ষেপের এ পাশবিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। এনোলা গে
নামের বিমানটি থেকে যখন হিরোশিমায় প্রথম পারমাণবিক বোমাটি নিক্ষেপ করা হয় তখন থমকে গিয়েছে বিশ্ব মানবতা
এর ধ্বংসযজ্ঞ দেখে। অন্তত পরপর দুটি আঘাত সইতে না পেরেই জাপানিরা ১৫ আগস্ট এসে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য
হয়। ১৯৪৫ সালের ৮ মে জার্মানি যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করলেও জাপানে সম্রাট হিরোহিতোর বাহিনী ছিল নাছোড়বান্দা। তারা
সমান তালে লড়ে যাচ্ছিল মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে, কিন্তু তাদের দুটি সমৃদ্ধ শহরের এমন করুণ পরিণতি তাদের থমকে দেয়
সেখানেই; জাপানিরাও বাধ্য হয় আত্মসমর্পণে।
ব্যাটল অব বার্লিন
বার্লিন পতন ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ ঘটনা। এক্ষেত্রে লড়াই হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে
জাতীয়তাবাদী জার্মানের। বলতে গেলে ১৯৪৫ সালের শুরুতেই বিভিন্ন ফ্রন্ট থেকে পিছু হটতে শুরু করে জার্মান সৈন্যরা।
তাদের দুর্ধর্ষ পাঞ্জার ডিভিশন হামলা করে অনেক এলাকা দখল করে নিলেও সেটাকে দখলে রাখার মত লোকবল কিংবা
সামরিক শক্তি দীর্ঘদিনের যুদ্ধে খুইয়ে বসেছে জার্মানরা। এ অবস্থায় রুশরা অনেকটা মরণকামড় দিয়ে বসে জার্মানিকে।
বার্লিন দখল করতে এক সোভিয়েত ইউনিয়নেরই প্রায় ২৫ লাখ সৈন্য এসে উপস্থিত হয়। ৪১ হাজার ৬০০ কামানের
পাশাপাশি ৬২২৫টি ট্যাংক থেকে সমানে গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে রুশরা। এতেই বলতে গেলে প্রায় ছত্রখান হওয়ার
যোগাড় হয় জার্মানদের। তাদের ১০ লক্ষাধিক সৈন্য সেখানে মরণপণ লড়াই করেও শেষরক্ষা করতে পারেনি। অবশেষে
পতন ঘটে বার্লিন নগরীর। আর এক যুগের ত্রাস ছড়ানো থার্ড রাইখের পতন ঘটে এসময়েই।