স্নায়ূযুদ্ধের অবসান

প্রথমদিকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বিশ্বের অন্যান্য সব সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের থেকে অনন্য।
পরবর্তীকালে বলতে গেলে বিশ্বের নানা স্থানে গড়ে ওঠা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এক অর্থে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অনুসরণ
করতো। ধীরে ধীরে বিশ্বের অনেকগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই আদর্শ। বিশ্বের নানা স্থানে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাফল্য
যুক্তরাষ্ট্রের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করে। ফলে বিশ্বের নানা স্থানে যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলায়
সোচ্চার হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা প্রকাশের যে দ্বৈরথ তা ধীরে ধীরে এক পর্যায়ে এসে স্নায়ুযুদ্ধকে
স্তিমিত করে তোলে। বিশেষ করে বিশ্বের নানা স্থানে কমিউনিজম প্রতিরোধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা সফল হয়। তারা
রাশিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত অনেকগুলো দেশে তাদের পছন্দের মানুষকে ক্ষমতায় বসাতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে এসব
রাষ্ট্রগুলো ধীরে ধীরে সমাজতান্ত্রিক মতবাদ থেকে সরে আসে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় এবং রাশিয়ার পরাজয় নিশ্চিত করতে
সোচ্চার হয় বিশ্বের অনকেগুলো দেশ। বলতে গেলে তাদের পরস্পর দ্বৈরথ এক পর্যায়ে ¯œায়ুযুদ্ধের অবসানের সুযোগ সৃষ্টি
করেছিল।
¯œায়ুযুদ্ধ বন্ধের কারণগুলো পর্যালোচনা করতে গেলে সবার আগে আমলে নিতে হবে অস্ত্রের মহড়া বন্ধের মানসিকতাকে।
এক্ষেত্রে রাশিয়া কিংবা আমেরিকার প্রত্যেকে বুঝতে সক্ষম হয় যে বিশাল অস্ত্রভাÐার কিংবা নিরাপত্তার ঝুঁকি নিরসনের
দুশ্চিন্তা তাদের সমস্যা সমাধানে যথেষ্ঠ নয়। দীর্ঘ যুদ্ধের ডামাডোলে দুই একবারের জয় তাদের জন্য শান্তি আনতে পারবে
না এটা দেরিতে হলেও তারা বুঝতে পেরেছিল। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক সন্দেহ অবিশ্বাস দূর করে সরাসরি
চুক্তির চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ¯œায়ুযুদ্ধ সৃষ্টিতে যেমন কতগুলো জোটের ভূমিকা ছিল তেমনি এর
অবসানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন জোটের ভূমিকাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাটো এর
ভূমিকাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের যুদ্ধের
মহড়া বন্ধের চেষ্টা। তারা এই যুদ্ধের মহড়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পেরেছিল বলে ¯œায়ুযুদ্ধ অবসানের সুযোগ সৃষ্টি
হয়েছিল। বিশেষত, সোভিয়েত ইউনিয়ন বিরোধী রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রয়োজন সামনে রেখে আমেরিকার কাছ থেকে সাহায্য
প্রার্থনা করে। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলো আমেরিকা থেকে সাহায্য নেয়ার মাধ্যমে সরাসরি তাদের
বিরোধিতা করে বসে। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহের অপরাধে তাদের দমন করতে
পারেনি। ফলে এক পর্যায়ে স্তিমিত হয়ে পড়ে ¯œায়ুযুদ্ধের মহড়া।
সারাংশ
রাশিয়া এবং আমেরিকায় দুই শক্তির দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত আত্মপ্রকাশ করে স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে। এক অর্থে ধরতে গেলে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালের রাজনীতি এবং এ ¯œায়ুযুদ্ধ অনেকটাই সমর্থক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার পাশাপাশি তাদের
সমর্থনপুষ্ট রাষ্ট্রগুলোর রাজনীতি একার্থে আবর্তিত হয়েছিল এই ¯œায়ুযুদ্ধকে কেন্দ্র করেই। বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্র ক্ষমতার
উত্থান-পতন রাজনীতির রূপান্তর ও পরিবর্তন থেকে জন্ম নেয় বিভিন্ন দেশের মধ্যে সন্দেহ, উত্তেজনা এবং সম্পর্কের
টানাপোড়েন। এই সম্পর্কের শীতলতা এক অর্থে নির্ধারিত হয়েছে রাশিয়া এবং আমেরিকার প্রত্যক্ষ সমর্থন কিংবা
অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে স্নায়ু যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা
প্রশমিত হলেও তা এক অর্থে বিলুপ্ত হয়নি। স¤প্রতি সিরিয়া সংকট নিয়ে নতুন করে যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে তাকে
স্নায়ুযুদ্ধের নতুন রূপ বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তবে আভিধানিক অর্থে ¯œায়ুযুদ্ধ বলতে যা বোঝায়
তার নিরসন ঘটেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে।