বিশ্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির প্রভাব
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে বিশ্ব ব্যবস্থার পুরো চিত্র পাল্টে যায় এবং এ প্রক্রিয়া এখনো ক্রিয়াশীল। রাশিয়ার
প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন মনে করেন ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল বিশ শতকে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক দুর্যোগ। এর
ফলে রাশিয়ার প্রায় ১ কোটি জনগন বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মহামারী আকারে
ছড়িয়ে পড়ে। এর কুফল রাশিয়াকে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত করেছিল। রাশিয়ার জনগণের ব্যক্তিগত সঞ্চয় ধ্বংস হয়ে যায়
এবং পুরনো আদর্শগুলো পরিত্যক্ত হওয়ার ফলে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। পতনের ধাক্কায় আবেগের
বশে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয় কিংবা অসতর্কভাবে পুনর্গঠন করা হয়। এর ফলে সমাজের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
গণদারিদ্র স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাপক দারিদ্র্যের ফলে নানা স্থানে পতিতাবৃত্তির জন্য অসামাজিক পেশা বৃদ্ধি পায়।
রাশিয়ার আভ্যন্তরীণ এ পরিণতির বাইরে বিশ্বব্যাপী তাদের আজ্ঞাবহ দেশগুলোতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আরো
ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত প্রদান করেছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের প্রভাব শুরু থেকেই দৃশ্যমান হয় নানা দেশে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকাল থেকেই
এর প্রভাব বিশ্বকে আন্দোলিত করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর পতনের বহু দশক ধরে তার সুদূরপ্রসারী ফলাফল অনুভূত হয়
বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বিশ্বের সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনজনিত প্রভাবগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। সেখানে
ক. তাৎক্ষণিক প্রভাব খ. সুদুরপ্রসারী প্রভাব কে গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা যায়। তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেব করতে গেলে
প্রথমত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে বিশ্ব দ্বিমেরু বিশিষ্ট রাজনৈতিক পরাশক্তি বলের বিভক্তি থেকে একক
পরাশক্তি বলে রাজনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা করার জন্য কোন আদর্শ
কোন দেশ বা সংস্থার অস্তিত্ব আর রইল না।
দ্বিতীয়ত, পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। ন্যাটোর প্রভাব অপ্রতিদ্ব›দ্বী হয় এবং সোভিয়েত প্রভাব
বিলুপ্ত হওয়ায় পূর্ব ইউরোপ বাল্টিক অঞ্চল প্রভৃতি স্থানে মোতায়েনকৃত বিপুল মার্কিন সৈন্য ও সরঞ্জাম সেখান থেকে
মধ্যপ্রাচ্যে পুনঃ মোতায়েনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তৃতীয়ত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে লাভবান হলেও অর্থনৈতিকভাবে এখনো পর্যন্ত
পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করতে সমর্থ হয়নি। এ সুবিধাটুকু চীন গ্রহণ করতে সমর্থ হয়। ফলে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক
শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। স¤প্রতি চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রথম স্থান
অধিকার করেছে।
চতুর্থত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্তিশালী হয়। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে
সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছে।
বেশ কিছুদিন ধরে তারা অভিন্ন মুদ্রা ইউরো প্রচলন করেছে যা অত্যন্ত শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি আদায় করতে
সমর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে রাশিয়ার কাঁচামাল, সস্তা শ্রম আর স্যাটেলাইট সহযোগিতার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
অর্থনীতির নতুন দ্বার উন্মোচিত করেছিল তার উন্মেষপর্বে। তবে সময়ের আবর্তে তারাও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসা তথা ব্রেক্সিটের মধ্যে দিয়ে একে নানামুখী দুর্দশার মধ্যে পড়তে হয়েছিল।
পঞ্চমত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সবচেয়ে সুবিধা হয়েছে চীনের। চীন একদিকে সোভিয়েত মডেলের
সমাজতন্ত্রের বদলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। অপরদিকে তার সমাজতান্ত্রিক
পার্টি শৃংখলায় সামান্যতম শিথিলতা প্রদর্শন করেনি। তারা চীনে কমিউনিস্ট শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হয়।
ষষ্ঠত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে মধ্য এশিয়ায় কতিপয় মুসলিম রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। মস্কো অতীতে তার মধ্য
এশীয় মুসলিম দেশগুলোর দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে চলত। কিন্তু সোভিয়েত
ইউনিয়নের পতনের ফলে সে ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। এর ফলে বিশ্বের নানা স্থানে মুক্তিকামী রাষ্ট্রগুলোতে বিভিন্ন সম্প্রদায়
বিদ্রোহ করে বসে। সিংহভাগ মুসলিম দেশ এই বিদ্রোহে জড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এদের চিহ্নিত করে
ইসলামিক টেররিস্ট গ্রæপ হিসেবে।
অন্যদিকে সোভিয়েতক ইউনিয়ন পতনের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের মধ্যে ছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সোভিয়েত ইউনিয়ন
পতনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এর মধ্যে প্রথমেই বলা যেতে পারে ইস্টার্ন সোভিয়েত বøকে জাতীয়তাবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী
আন্দোলনের কথা। এর ফলে জাতিগত সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মুক্তিকামী বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, চেসনিয়া ও জর্জিয়ায় বিপ্লব শুরু হয়। সেখানে জাতিগত সংঘাত এখনো ক্রিয়াশীল।
এর বাইরে প্রথমত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আর সমাজতন্ত্রের পতন সমার্থক নয় বলেই অনেকে মনে করেন। কেন
না চীনে এখনো সমাজতন্ত্র বিদ্যমান। অদূর ভবিষ্যতে একক পরাশক্তি মার্কিন তাবেদারিতে বিরক্ত হয়ে বিশ্বের দেশে দেশে
সমাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটবে বলে অনেকে মনে করছেন।
দ্বিতীয়ত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব ঘটায়। এরফলে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে বৈদেশিক
নীতি পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও মার্কিন মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ
হতে থাকে।
তৃতীয়ত, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির স্থলে পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্রæত
অনুসৃত হতে থাকে। কিন্তু অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে সহনীয় করার জন্য ক্রান্তিকাল পার করার প্রয়োজন ছিল। অতি দ্রæত
পুঁজিবাদী অর্থনীতির দিকে ধাবিত হওয়ায় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। এর ফলে বহু বিত্তশালী
ব্যবসায়ী রাতারাতি দরিদ্র হয়ে যায়। পাশাপাশি বহু শিল্প-কারখানা বিকল হয়ে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
চতুর্থত, গর্বাচেভ তার পেরেস্ত্রইকা দ্বারা সোভিয়েত সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যে সিস্টেম কে নির্মাণ
করা হয়েছিল পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে টিকে থাকার জন্য সে সিস্টেমকে কিভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব পেরেস্ত্রইকা নীতি
তা করতে পারেনি। তার আলোকে সোভিয়েত সমাজে পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয় গর্বাচেপের নীতি। পাশাপাশি প্রচলিত
ব্যবস্থাটির সঙ্গে সংঘাত দেশটিকে পঙ্গু করে ফেলে। এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের পাশাপাশি তার মদদপুষ্ট
সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হয়।
প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন মনে করেন ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল বিশ শতকে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক দুর্যোগ। এর
ফলে রাশিয়ার প্রায় ১ কোটি জনগন বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মহামারী আকারে
ছড়িয়ে পড়ে। এর কুফল রাশিয়াকে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত করেছিল। রাশিয়ার জনগণের ব্যক্তিগত সঞ্চয় ধ্বংস হয়ে যায়
এবং পুরনো আদর্শগুলো পরিত্যক্ত হওয়ার ফলে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। পতনের ধাক্কায় আবেগের
বশে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয় কিংবা অসতর্কভাবে পুনর্গঠন করা হয়। এর ফলে সমাজের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
গণদারিদ্র স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাপক দারিদ্র্যের ফলে নানা স্থানে পতিতাবৃত্তির জন্য অসামাজিক পেশা বৃদ্ধি পায়।
রাশিয়ার আভ্যন্তরীণ এ পরিণতির বাইরে বিশ্বব্যাপী তাদের আজ্ঞাবহ দেশগুলোতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আরো
ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত প্রদান করেছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের প্রভাব শুরু থেকেই দৃশ্যমান হয় নানা দেশে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকাল থেকেই
এর প্রভাব বিশ্বকে আন্দোলিত করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর পতনের বহু দশক ধরে তার সুদূরপ্রসারী ফলাফল অনুভূত হয়
বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বিশ্বের সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনজনিত প্রভাবগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। সেখানে
ক. তাৎক্ষণিক প্রভাব খ. সুদুরপ্রসারী প্রভাব কে গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা যায়। তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেব করতে গেলে
প্রথমত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে বিশ্ব দ্বিমেরু বিশিষ্ট রাজনৈতিক পরাশক্তি বলের বিভক্তি থেকে একক
পরাশক্তি বলে রাজনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা করার জন্য কোন আদর্শ
কোন দেশ বা সংস্থার অস্তিত্ব আর রইল না।
দ্বিতীয়ত, পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। ন্যাটোর প্রভাব অপ্রতিদ্ব›দ্বী হয় এবং সোভিয়েত প্রভাব
বিলুপ্ত হওয়ায় পূর্ব ইউরোপ বাল্টিক অঞ্চল প্রভৃতি স্থানে মোতায়েনকৃত বিপুল মার্কিন সৈন্য ও সরঞ্জাম সেখান থেকে
মধ্যপ্রাচ্যে পুনঃ মোতায়েনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তৃতীয়ত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে লাভবান হলেও অর্থনৈতিকভাবে এখনো পর্যন্ত
পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করতে সমর্থ হয়নি। এ সুবিধাটুকু চীন গ্রহণ করতে সমর্থ হয়। ফলে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক
শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। স¤প্রতি চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রথম স্থান
অধিকার করেছে।
চতুর্থত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্তিশালী হয়। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে
সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছে।
বেশ কিছুদিন ধরে তারা অভিন্ন মুদ্রা ইউরো প্রচলন করেছে যা অত্যন্ত শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি আদায় করতে
সমর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে রাশিয়ার কাঁচামাল, সস্তা শ্রম আর স্যাটেলাইট সহযোগিতার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
অর্থনীতির নতুন দ্বার উন্মোচিত করেছিল তার উন্মেষপর্বে। তবে সময়ের আবর্তে তারাও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসা তথা ব্রেক্সিটের মধ্যে দিয়ে একে নানামুখী দুর্দশার মধ্যে পড়তে হয়েছিল।
পঞ্চমত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সবচেয়ে সুবিধা হয়েছে চীনের। চীন একদিকে সোভিয়েত মডেলের
সমাজতন্ত্রের বদলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। অপরদিকে তার সমাজতান্ত্রিক
পার্টি শৃংখলায় সামান্যতম শিথিলতা প্রদর্শন করেনি। তারা চীনে কমিউনিস্ট শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হয়।
ষষ্ঠত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে মধ্য এশিয়ায় কতিপয় মুসলিম রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। মস্কো অতীতে তার মধ্য
এশীয় মুসলিম দেশগুলোর দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে চলত। কিন্তু সোভিয়েত
ইউনিয়নের পতনের ফলে সে ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। এর ফলে বিশ্বের নানা স্থানে মুক্তিকামী রাষ্ট্রগুলোতে বিভিন্ন সম্প্রদায়
বিদ্রোহ করে বসে। সিংহভাগ মুসলিম দেশ এই বিদ্রোহে জড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এদের চিহ্নিত করে
ইসলামিক টেররিস্ট গ্রæপ হিসেবে।
অন্যদিকে সোভিয়েতক ইউনিয়ন পতনের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের মধ্যে ছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সোভিয়েত ইউনিয়ন
পতনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এর মধ্যে প্রথমেই বলা যেতে পারে ইস্টার্ন সোভিয়েত বøকে জাতীয়তাবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী
আন্দোলনের কথা। এর ফলে জাতিগত সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মুক্তিকামী বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, চেসনিয়া ও জর্জিয়ায় বিপ্লব শুরু হয়। সেখানে জাতিগত সংঘাত এখনো ক্রিয়াশীল।
এর বাইরে প্রথমত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আর সমাজতন্ত্রের পতন সমার্থক নয় বলেই অনেকে মনে করেন। কেন
না চীনে এখনো সমাজতন্ত্র বিদ্যমান। অদূর ভবিষ্যতে একক পরাশক্তি মার্কিন তাবেদারিতে বিরক্ত হয়ে বিশ্বের দেশে দেশে
সমাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটবে বলে অনেকে মনে করছেন।
দ্বিতীয়ত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব ঘটায়। এরফলে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে বৈদেশিক
নীতি পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও মার্কিন মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ
হতে থাকে।
তৃতীয়ত, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির স্থলে পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্রæত
অনুসৃত হতে থাকে। কিন্তু অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে সহনীয় করার জন্য ক্রান্তিকাল পার করার প্রয়োজন ছিল। অতি দ্রæত
পুঁজিবাদী অর্থনীতির দিকে ধাবিত হওয়ায় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। এর ফলে বহু বিত্তশালী
ব্যবসায়ী রাতারাতি দরিদ্র হয়ে যায়। পাশাপাশি বহু শিল্প-কারখানা বিকল হয়ে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
চতুর্থত, গর্বাচেভ তার পেরেস্ত্রইকা দ্বারা সোভিয়েত সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যে সিস্টেম কে নির্মাণ
করা হয়েছিল পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে টিকে থাকার জন্য সে সিস্টেমকে কিভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব পেরেস্ত্রইকা নীতি
তা করতে পারেনি। তার আলোকে সোভিয়েত সমাজে পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয় গর্বাচেপের নীতি। পাশাপাশি প্রচলিত
ব্যবস্থাটির সঙ্গে সংঘাত দেশটিকে পঙ্গু করে ফেলে। এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের পাশাপাশি তার মদদপুষ্ট
সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হয়।