ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম কি ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনের ধরনসমূহ বর্ণনা কর

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম (Wireless Communicatiom System)
দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে কোনরূপ ফিজিক্যাল কানেকশন বা ক্যাবল সংযোগ ছাড়াই ডাটা ট্রান্সফার
করার পদ্ধতিকে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন বলা হয়। ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সংযোগকারী ডিভাইসগুলোর
মধ্যকার দূরত্ব টেলিভিশন রিমোট কন্ট্রোলের ন্যায় কয়েক মিটার হতে পারে। আবার দীর্ঘ ও শক্তিশালী রেডিও
কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব কয়েক হাজার মিলিয়ন কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
৩.৭.২ ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনের বৈশিষ্ট্য
○ যে কোন স্থানের কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারকারী এবং নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়া যায়।
○ যে কোন স্থান থেকে কিংবা ভ্রমণ বা চলমান অবস্থায় ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করা যায়।
○ নেটওয়ার্কের মধ্যে যে কোন স্থানে ওয়ারলেস ডিভাইস সহজে বহন করা যায়।
○ ক্যাবলিং করার ঝামেলা ও অতিরিক্ত খরচ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
○ এচঝ এর মাধ্যমে গাড়ি, বিমান, জাহাজ কিংবা ব্যবহারকারীর অবস্থান জানা যায়।
○ পোর্টেবল বা অস্থায়ী ওয়ার্কস্টেশনের সাথে যুক্ত হওয়া যায়।
○ একটি ডিভাইস অনেক ব্যবহারকারী একইসাথে শেয়ার করতে পারে।
৩.৭.৩ ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনের প্রয়োজনীয়তা
যে সমস্ত ক্ষেত্রে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন বেশি প্রয়োজন হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির নাম নিচে দেয়া হলো-
 টিভি, ডিভিডি, এয়ারকন্ডিশনার প্রভৃতি যন্ত্রপাতির রিমোট কন্ট্রোল।
 ট্রাফিক কন্ট্রোল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল।
 কর্ডলেস টেলিফোন, সেলুলার টেলিফোন।
 পেজার (Pager) e বা বীপার (beeper),, ওয়াকিটকি Walkie-talkie)|
 স্যাটেলাইট টেলিভিশন।
 ইনফ্রারেড (Infrared-IR) ও আলট্রাসনিক রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস।
 কর্ডলেস কম্পিউটার পেরিফেরাল ডিভাইস। যেমন- বøুটুথ, ওয়ারলেস USB
 মেরিনVHF †রেডিও।
 Global Positioning System GPS এর মাধ্যমে গাড়ি, বিমান, জাহাজ কিংবা ব্যবহারকারীর অবস্থান চিহ্নিতকরণ।
৩.৭.৪ ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনের ধরন
ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন মূলত ৪ ধরণের। যথা১. ওয়্যারলেস প্যান
২. ওয়্যারলেস ল্যান
৩. ওয়্যারলেস ম্যান ও
৪. ওয়্যারলেস ওয়ান
ওয়্যারলেস প্যান (Wireless Personal Area Network-WPAN)
অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন আইসিটি ডিভাইসের মধ্যে তারবিহীন যোগাযোগ স্থাপন করা হলে তাকে
ওয়্যারলেস পার্সোনাল এরিয়া বা ডচঅঘ বলে। মোবাইল ফোন, পিডিএ, ল্যাপটপ, মাউস, প্রজেক্টর ইত্যাদি ডিভাইস
নিয়ে গঠিত কমিউনিকেশন ব্যবস্থাই হল ওয়্যারলেস প্যান।
ওয়্যারলেস ল্যান (Wireless Local Area Network-WLAN)
একটি নির্দিষ্ট বিল্ডিং বা স্কুলের মধ্যে অবস্থিত দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে স্থাপিত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে ওয়্যারলেস
লোকাল এরিয়া বা WLAN বলে। WLANসংযোগের জন্য সংযোগকারী ডিভাইসের মধ্যে ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) প্রযুক্তি
ব্যবহার করা হয়।
ওয়্যারলেস প্যান (Wireless Metropoliton Area Network-WMAN)
সাধারণত একটি শহর এলাকার বিভিন্ন আইসিটি ডিভাইসের মধ্যে তারবিহীন যোগাযোগ স্থাপন করা হলে তাকে
ওয়্যারলেস মেট্রোপলিটন এরিয়া বা ডগঅঘ বলে।
ওয়্যারলেস ওয়ান (Wireless Wide Area Network-WWAN)
সাধারণত অনেকগুলো শহর এলাকার বিভিন্ন আইসিটি ডিভাইসের মধ্যে তারবিহীন যোগাযোগ স্থাপন করা হলে তাকে
ওয়্যারলেস ওয়াইড এরিয়া বা ডগঅঘ বলে। যেমন- ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা। খাগড়াছড়িতে উচু-নিচু পাহাড়ের মধ্যে কোন ধরনের কমিউনিকেশন মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত বলে আপনি মনে করেন? বিস্তারিত মতামত দিন?
সারসংক্ষেপ
দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে কোন রূপ ফিজিক্যাল কানেকশন বা ক্যাবল ছাড়াই ডাটা আদান প্রদান করার
পদ্ধতিকে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন বলা হয়। এই ধরনের সিস্টেমের সাহায্যে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে অবস্থান করে একে অন্যের সাথে বিভিন্ন প্রকার যোগাযোগ খুব সহজেই দ্রæত সম্পন্ন করা যায়। যেমন- কথা বলা,টেক্সট ম্যাসেজিং, চ্যাটিং ইত্যাদি।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৩.৭
সঠিক উত্তরের পাশে টিক () চিহ্ন দিন
১। ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কয় ধরনের?
ক) ২ খ) ৩
গ) ৪ ঘ) ৫
২। ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কোথায় ব্যবহার করা হয়?
ক) ট্রাফিক কন্ট্রোল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল খ) স্যাটেলাইট টেলিভিশন
গ) বøুটুথ ঘ) সবগুলো