তথ্য প্রযুক্তির সাথে যোগাযোগ প্রযুক্তির একীভূতকরণ

মুখ্য শব্দ তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ।
তথ্য প্রযুক্তি বলতে সাধারণত তথ্য রাখা এবং একে ব্যবহার করার প্রযুক্তিকেই বোঝানো হয়। তবে বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি আর এ ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন নতুন সব প্রযুক্তির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে তথ্য প্রযুক্তি এক অভিনব রূপ লাভ করেছে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকাই প্রধান। যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ, অডিও ভিডিও কম্পিউটিং, স¤প্রচারসহ আরো বহুবিধ প্রযুক্তি এর সাথে যুক্ত হয়েছে। ফলে তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি এখন আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
চিত্র ১.২.১ : তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তির একীভ‚তকরণ
তথ্য প্রযুক্তি বা ওঞ যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ঈঞ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ওঈঞ
ইন্টারনেট আবিষ্কার নিঃসন্দহে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলপলক। ইন্টারনেটের কল্যাাণে
এখন ঘরে বসেই বিশ্বকে পাওয়া যাচ্ছে হাতের মুঠোয়। প্রচলিত চিঠির বদলে এসেছে ই-মেইল এর ব্যবস্থা যার সাথে
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো সংযুক্ত করে পাঠিয়ে দেয়া যাচ্ছে বিশ্বের যে কোনো স্থানে। ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন টেক্সট, ভয়েস ও ভিডিও চ্যাটিং, ব্রডকাস্টিং, ভিওআইপি, অনলাইন অডিও-ভিডিও স্ট্রিমিং প্রভৃতি কাজগুলো করা সম্ভব হচ্ছে।
অনলাইন রেডিও, অনলাইন টিভির মতো সেবাগুলোও প্রসার লাভ করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি ওয়েবসাইট তথ্যের প্রাপ্যতাকে আরও সহজ করেছে।
টেলিফোনের মাধ্যমে শব্দকে ইলেক্ট্রনিক ডাটায় রূপান্তরিত করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে প্রেরণ করা যায়।
বর্তমানের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু শব্দ নয় লেখা, গ্রাফিক্স, স্থিরচিত্র ও চলচ্চিত্র সবকিছুকেই ডিজিটাল
ফরমেটে নিয়ে ইলেক্ট্রনিক ডাটায় রূপান্তর করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে প্রেরণ করা যায়। মডেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে টেলিফোন লাইনের সংযোগ দিয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আরেক শক্তিশালী উদ্ভাবন হলো মোবাইল টেলিফোন। মুঠোয় ধরে রাখা এ ফোনের মাধ্যমে
আজ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কথা বলা যাচ্ছে। যে কোনো স্থানে এ ফোন বয়েও বেড়ানো যাচ্ছে। আধুনিক স্মার্টফোনগুলো
আরও বেশি সুবিধা দিচ্ছে। হ্যান্ডসেটেই ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সেবা গ্রহণ, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে
ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে প্রকাশ করা যাচ্ছে। এসএমএস বা ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের
যেকোনো স্থানেই পাঠিয়ে দেয়া যাচ্ছে তথ্য। আর এমএমএস এর মাধ্যমে প্রেরণ করা যাচ্ছে মাল্টিমিডিয়া সম্বলিত তথ্য।
শুধু তাই নয় জিপিএস বা গেøাবাল পজিশনিং সিস্টেম এর সেবাও নেয়া যাচ্ছে মোবাইল ফোনে। স্মার্টফোনগুলো আজ চলছে অপারেটিং সিস্টেমে। হ্যান্ডসেটগুলোতে আরও বেশি ইন্টারনেটনির্ভর সুবিধা নিয়ে এসেছে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল
প্রযুক্তি যার সফল বাস্তবায়ন হলো ডরগঅঢ WiMAX (Worldwide Interoperability for Microwave Access) Ges 3GPP LTE (Long Term Evolution) স্ট্যান্ডার্ড।
এতসব প্রযুক্তির সম্মিলনে তথ্য প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি এসেছে সমকেন্দ্রিকতায়। এদের আর এখন আলাদা করে ভাববার কোনো অবকাশ নেই। তাই এখন এই দুই প্রযুক্তি মিলেমিশে একক একটি প্রযুক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে যাকে বলা হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
শিক্ষার্থীর কাজ “তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একটি অপরটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত”- এ সম্পর্কে আপনার বিস্তারিত মতামত তুলে ধরুন।
সারসংক্ষেপ
তথ্য প্রযুক্তি বলতে সাধারণত তথ্য রাখা এবং একে ব্যবহার করার প্রযুক্তিকেই বোঝানো হয়। তবে বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি আর এ ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন নতুন সব প্রযুক্তির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে তথ্য প্রযুক্তি এক
অভিনব রূপ লাভ করেছে। যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ, অডিও ভিডিও কম্পিউটিং, স¤প্রচারসহ আরো বহুবিধ প্রযুক্তি > এর সাথে যুক্ত হয়েছে। ফলে তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি এখন আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১.২
সঠিক উত্তরের পাশে টিক () চিহ্ন দিন
১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক কোনটি ?
ক) মাল্টিমিডিয়া খ) ইন্টারনেট
গ) মোবাইল ঘ) ফ্যাক্স
পাঠ - ১.২ ১ খ