নেটওয়ার্ক টপোলজি কি বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজি বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজি এর সুবিধা ও অসুবিধা
নেটওয়ার্ক টপোলজি
দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে ক্যাবল, হাব বা সুইচ ইত্যাদি দ্বারা নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার জন্য যুক্তি
নির্ভর পথের ডিজাইন এবং ব্যবস্থাপনাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলা হয়। অর্থাৎ যে ব্যবস্থায় কম্পিউটারসমূহ বা নোডসমূহ
পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে। ব্যবহারের ক্ষেত্র, তথ্য আদান প্রদানের গতি ও
নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলি বিভিন্ন ভাবে সংযুক্ত থাকে।
নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য টপোলজি হচ্ছেÑ
১। বাস টপোলজি (Bus Topology)
২। রিং টপোলজি (Ring Topology)
৩। স্টার টপোলজি (Star Topology)
৪। ট্রি টপোলজি ((Tree Topology)
৫। মেস টপোলজি (Fully Inter-connected Topology) ও
৬। হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)
৪.৫.২ বাস টপোলজি
যে টপোলজিতে একটি মূল ক্যাবলের সাথে সব কয়েকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি
বলে। একে অনেক সময় লিনিয়ার বাস টপোলজিও বলা হয়। এখানে মূল ক্যাবল বা তারটিকে বলা হয় ব্যাকবোন Backbone। মূল ক্যাবলের উভয় প্রান্তে টারমিনেটর ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। এখানে কোন কেন্দ্রিয় কম্পিউটার
থাকে না। প্রতিটি কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন মূল বাসের সাথে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে।
৪.৫.৩ রিং টপোলজি
এ ধরনের সংগঠনে কম্পিউটারগুলো পরস্পর বৃত্তাকারে যুক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে (চিত্র ৪.৫.২)। প্রতিটি কম্পিউটার
দুই দিকের দুইটি কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত থাকে। কম্পিউটারগুলোকে এমনভাবে সংযোগ দেয়া হয় যেন রিংয়ের
সর্বশেষ কম্পিউটারটি প্রথমটির সাথে যুক্ত থাকে। এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে পাঠানো ডাটা বা সংকেত
বৃত্তাকার পথে (একমুখী প্রবাহ) কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ঘুরতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্দিষ্ট কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ করে।
রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটারের গুরুত্ব সমান। প্রত্যেকটি কম্পিউটার স্বাধীন।
৪.৫.৪ স্টার টপোলজি
এ ধরনের সংগঠনে একটি কেন্দ্রিয় ডিভাইস এর সাথে অন্যান্য কম্পিউটারগুলো সংযুক্ত থাকে (চিত্র ৪.৫.৩)। কেন্দ্রিয়
ডিভাইসটি হতে পারে একটি হাব বা সুইচ। হাব বা সুইচ এর মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন
করতে পারে। ডাটা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে হাব বা সুইচ । এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটার এ ডাটা স্থানান্তরের জন্য
প্রথমে কেন্দ্রিয় ডিভাইসে প্রেরণ করতে হয়। এরপর কেন্দ্রিয় ডিভাইস ডাটা গ্রহণকারী কম্পিউটারে ডাটা পাঠিয়ে দেয়।
৪.৫.৫ ট্রি টপোলজি
ট্রি টপোলজি সংগঠনে ওয়ার্ক স্টেশন বা কম্পিউটারগুলো বিভিন্ন স্তরে সংযুক্ত থাকে। বিভিন্ন স্তরের ক¤িপউটারগুলোকে হাবের মাধ্যমে একটির সঙ্গে অন্যটি সংযুক্ত থাকে। প্রথম স্তরের কম্পিউটারকে দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট বলে।
আবার দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারগুলোকে তৃতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট বলে। মূল হোস্ট অবশ্যই শক্তিশালী কম্পিউটার হতে হয়।
৪.৫.৬ মেশ টপোলজি
মেশ টপোলজির প্রত্যেকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটারের একাধিক সংযোগ ব্যবস্থা থাকে এবং প্রতিটি কম্পিউটার আলাদা
লিংক ব্যবস্থাধীন থাকে (চিত্র ৪.৫.৫)। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি কম্পিউটার সরাসরি যে কোন কম্পিউটারে ডাটা আদানÑপ্রদান
করতে পারে। এ ধরনের নেটওয়ার্কভূক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগকে পয়েন্ট টু পয়েন্ট লিংক বলে।
৪.৫.৭ হাইব্রিড টপোলজি
এ ধরনের টপোলজিতে কয়েক প্রকার টপোলজির সংমিশ্রণ দেখা যায় তাই একে হাইব্রিড টপোলজি বলে। সব ধরনের
সংগঠনে কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। এ জন্য হাইব্রিড টপোলজি কয়েক ধরনের টপোলজির সমন্বয়ে তৈরী হয়।
রিং টপোলজি স্টার টপোলজি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত টপোলজি
ইন্টারনেটকে কোন ধরনের টপোলজির সাথে তুলনা করা যায়? আপনার বিস্তারিত মতামত লিখুন।
সারসংক্ষেপ
নেটওয়ার্ক সংগঠন বা টপোলজি বলতে একটি কম্পিউটার বা নোড হতে অন্যান্য এক বা একাধিক কম্পিউটারের বা
নোডের পারস্পারিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বুঝায়। তথ্য আদান প্রদানের গতি ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ভিত্তিতে
কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো বা নোডসমূহ বাস, স্টার, রিং, মেশ, ট্রি, হাইব্রিড ইত্যাদির যে কোনটিতে সংযুক্ত থাকে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.৫
সঠিক উত্তরের পাশে টিক () চিহ্ন দিন
১। কোন টপোলজির কম্পিউটারগুলো পরস্পর এমনভাবে যুক্ত হয় যেন একটি বৃত্তাকার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে?
ক) রিং টপোলজি খ) বাস টপোলজি
গ) স্টার টপোলজি ঘ) সবগুলোই
২। কোন ধরনের টপোলজিতে কয়েক প্রকার টপোলজির সংমিশ্রণ দেখা যায় ?
ক) রিং টপোলজি খ) বাস টপোলজি
গ) স্টার টপোলজি ঘ) হাইব্রিড টপোলজি
দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে ক্যাবল, হাব বা সুইচ ইত্যাদি দ্বারা নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার জন্য যুক্তি
নির্ভর পথের ডিজাইন এবং ব্যবস্থাপনাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলা হয়। অর্থাৎ যে ব্যবস্থায় কম্পিউটারসমূহ বা নোডসমূহ
পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে। ব্যবহারের ক্ষেত্র, তথ্য আদান প্রদানের গতি ও
নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলি বিভিন্ন ভাবে সংযুক্ত থাকে।
নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য টপোলজি হচ্ছেÑ
১। বাস টপোলজি (Bus Topology)
২। রিং টপোলজি (Ring Topology)
৩। স্টার টপোলজি (Star Topology)
৪। ট্রি টপোলজি ((Tree Topology)
৫। মেস টপোলজি (Fully Inter-connected Topology) ও
৬। হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)
৪.৫.২ বাস টপোলজি
যে টপোলজিতে একটি মূল ক্যাবলের সাথে সব কয়েকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি
বলে। একে অনেক সময় লিনিয়ার বাস টপোলজিও বলা হয়। এখানে মূল ক্যাবল বা তারটিকে বলা হয় ব্যাকবোন Backbone। মূল ক্যাবলের উভয় প্রান্তে টারমিনেটর ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। এখানে কোন কেন্দ্রিয় কম্পিউটার
থাকে না। প্রতিটি কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন মূল বাসের সাথে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে।
৪.৫.৩ রিং টপোলজি
এ ধরনের সংগঠনে কম্পিউটারগুলো পরস্পর বৃত্তাকারে যুক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে (চিত্র ৪.৫.২)। প্রতিটি কম্পিউটার
দুই দিকের দুইটি কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত থাকে। কম্পিউটারগুলোকে এমনভাবে সংযোগ দেয়া হয় যেন রিংয়ের
সর্বশেষ কম্পিউটারটি প্রথমটির সাথে যুক্ত থাকে। এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে পাঠানো ডাটা বা সংকেত
বৃত্তাকার পথে (একমুখী প্রবাহ) কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ঘুরতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্দিষ্ট কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ করে।
রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটারের গুরুত্ব সমান। প্রত্যেকটি কম্পিউটার স্বাধীন।
৪.৫.৪ স্টার টপোলজি
এ ধরনের সংগঠনে একটি কেন্দ্রিয় ডিভাইস এর সাথে অন্যান্য কম্পিউটারগুলো সংযুক্ত থাকে (চিত্র ৪.৫.৩)। কেন্দ্রিয়
ডিভাইসটি হতে পারে একটি হাব বা সুইচ। হাব বা সুইচ এর মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন
করতে পারে। ডাটা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে হাব বা সুইচ । এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটার এ ডাটা স্থানান্তরের জন্য
প্রথমে কেন্দ্রিয় ডিভাইসে প্রেরণ করতে হয়। এরপর কেন্দ্রিয় ডিভাইস ডাটা গ্রহণকারী কম্পিউটারে ডাটা পাঠিয়ে দেয়।
৪.৫.৫ ট্রি টপোলজি
ট্রি টপোলজি সংগঠনে ওয়ার্ক স্টেশন বা কম্পিউটারগুলো বিভিন্ন স্তরে সংযুক্ত থাকে। বিভিন্ন স্তরের ক¤িপউটারগুলোকে হাবের মাধ্যমে একটির সঙ্গে অন্যটি সংযুক্ত থাকে। প্রথম স্তরের কম্পিউটারকে দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট বলে।
আবার দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারগুলোকে তৃতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট বলে। মূল হোস্ট অবশ্যই শক্তিশালী কম্পিউটার হতে হয়।
৪.৫.৬ মেশ টপোলজি
মেশ টপোলজির প্রত্যেকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটারের একাধিক সংযোগ ব্যবস্থা থাকে এবং প্রতিটি কম্পিউটার আলাদা
লিংক ব্যবস্থাধীন থাকে (চিত্র ৪.৫.৫)। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি কম্পিউটার সরাসরি যে কোন কম্পিউটারে ডাটা আদানÑপ্রদান
করতে পারে। এ ধরনের নেটওয়ার্কভূক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগকে পয়েন্ট টু পয়েন্ট লিংক বলে।
৪.৫.৭ হাইব্রিড টপোলজি
এ ধরনের টপোলজিতে কয়েক প্রকার টপোলজির সংমিশ্রণ দেখা যায় তাই একে হাইব্রিড টপোলজি বলে। সব ধরনের
সংগঠনে কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। এ জন্য হাইব্রিড টপোলজি কয়েক ধরনের টপোলজির সমন্বয়ে তৈরী হয়।
রিং টপোলজি স্টার টপোলজি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত টপোলজি
ইন্টারনেটকে কোন ধরনের টপোলজির সাথে তুলনা করা যায়? আপনার বিস্তারিত মতামত লিখুন।
সারসংক্ষেপ
নেটওয়ার্ক সংগঠন বা টপোলজি বলতে একটি কম্পিউটার বা নোড হতে অন্যান্য এক বা একাধিক কম্পিউটারের বা
নোডের পারস্পারিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বুঝায়। তথ্য আদান প্রদানের গতি ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ভিত্তিতে
কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো বা নোডসমূহ বাস, স্টার, রিং, মেশ, ট্রি, হাইব্রিড ইত্যাদির যে কোনটিতে সংযুক্ত থাকে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.৫
সঠিক উত্তরের পাশে টিক () চিহ্ন দিন
১। কোন টপোলজির কম্পিউটারগুলো পরস্পর এমনভাবে যুক্ত হয় যেন একটি বৃত্তাকার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে?
ক) রিং টপোলজি খ) বাস টপোলজি
গ) স্টার টপোলজি ঘ) সবগুলোই
২। কোন ধরনের টপোলজিতে কয়েক প্রকার টপোলজির সংমিশ্রণ দেখা যায় ?
ক) রিং টপোলজি খ) বাস টপোলজি
গ) স্টার টপোলজি ঘ) হাইব্রিড টপোলজি