বিশ্বগ্রামের ধারণা ব্যাখ্যা কর বিশ্বগ্রামের সুবিধা বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ বর্ণনা কর
সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে মানুষের চিন্তার বিকাশ ঘটেছে। সেই সাথে বিকাশ ঘটতে থাকে মানুষের জীবনযাত্রার
কৌশল ও পদ্ধতির। নিত্য নতুন আবিষ্কার মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করছে। বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য ও
যোগাযোগ প্রযুক্তি বা Information & Communication Technology (ICT) এর যুগ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে গোটা পৃথিবী আজ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। আজ যারা এই প্রযুক্তিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে পারছে তারাই সাফল্য লাভ করছে।
এই ইউনিটে মূলত বিশ্বগ্রামের ধারণা, বিশ্বগ্রামের ধারণার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদানসমূহ, টেলিকনফারেন্সিং এবং
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রবণতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিকতা, সমাজ
জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভাব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আলোচনা করা হয়েছে। বিশ্বগ্রাম
গ্রাম বা Village শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। বর্তমানে এর সাথে Global শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে
Global Village নামক একটি নতুন ধরণা প্রচলিত হয়েছে যার অর্থ হলো বৈশ্বিক গ্রাম বা বিশ্বায়ন। বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া
বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর ব্যাপক ব্যবহার ও প্রভাবে আজ বিশ্বের যে কোন দেশের মানুষ অন্য দেশের
মানুষের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারছে। গ্রামে যেমন আমরা সহজেই আশেপাশের মানুষের খবর জানতে
পারি তেমনি বর্তমানে আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে এক দেশে বসে অন্য দেশে প্রতিবেশির মতো তথ্য
বিনিময় করতে পারি। এটাই মূলত বিশ্বগ্রামের ধারণা।
কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক মারশেল ম্যাকলুহান (Marshall McLuhan) সর্বপ্রথম গেøাবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম কথাটি ব্যবহার করেন। মারশেল ম্যাকলুহান ১৯১১ সালের ২১
জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৬২ সালে তাঁর রচিত ‘Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic গ্রন্থে বিশ্বগ্রামের ধারণা দেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে Understanding Media’ গ্রন্থে বিশ্বগ্রাম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, “ ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির
মাধ্যমে সারা বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করাই হল বিশ্বগ্রাম। যার মাধ্যমে খুব সহজেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের
মানুষের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা সম্ভব।” এখানে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি বলতে ইন্টারনেটকে বুঝানো হয়েছে।
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসা হলো গেøাবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম।
বিষয়টিকে আর একটু পরিষ্কার করা যেতে পারে যেমন কোন একটি অঞ্চলের অথবা দেশের অধিবাসীরা যেমন নিজেদের
মধ্যে ভাবের আদান প্রদানে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ থাকে ঠিক তেমনি সারা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট কিংবা স্যাটেলাইট টেলিভিশন ইত্যাদির মাধ্যমে একটি একক স¤প্রদায় তথা যৌথ সমাজ হিসেবে
আবদ্ধ হতে পারে। আর এটিই হলো গেøাবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম।
২.১.২ বিশ্বগ্রামের সুবিধা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে মানুষ গেøাবাল ভিলেজে
প্রবেশ করছে। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে অনেক সুবিধা ভোগ করছে। গেøাবাল ভিলেজের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা নি¤œরূপ: তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ বর্তমানে সারা বিশ্বের সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারছে।
মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
মানুষের কাজের দক্ষতা ও গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনলাইনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ইÑকমার্সের মাধ্যমে ব্যবসাÑবাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছে।
টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই দক্ষ চিকিৎসকের সেবা নিতে পারছে।
ইÑলার্নিং এর মাধ্যমে ঘরে বসেই বিশ্বের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষসেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। বিশ্ব ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হচ্ছে; ইত্যাদি।
২.১.৩ বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ
বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ হলো
হার্ডওয়্যার (Hardware)
সফটওয়্যার (Software)
কানেকটিভিটি (ঈড়হহবপঃরারঃু)
উপাত্ত ও তথ্য (Data and Information)
সক্ষমতা (Capacity)
হার্ডওয়্যার : বিশ্বগ্রামে যে কোন ধরনের তথ্য আদানÑপ্রদানের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত হার্ডওয়্যার সামগ্রীর। হার্ডওয়্যারের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার এবং এর সাথে যুক্ত পেরিফেরাল যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট, অডিওÑভিডিও রেকর্ডার, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি। সফ্টওয়্যার : বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি প্রয়োজন সফ্টওয়্যার। সফ্টওয়্যারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সিস্টেম সফটওয়্যার, এ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়্যার, ব্রাউজিং সফটওয়্যার, কমিউনিকেটিং সফ্টওয়্যার, প্রোগ্রামিং ভাষা ইত্যাদি।
কানেকটিভিটি : বিশ্বগ্রামের প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদে তথ্য ও উপাত্ত আদানÑপ্রদান করতে পারে এবং পরস্পরের সাথে
যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য প্রয়োজন নেটওয়্যার্ক বা কানেকটিভিটি। বিশ্বের তথ্য ভান্ডারের সাথে সার্বক্ষণিকভাবে বা
প্রয়োজনে যুক্ত থেকে তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানেকটিভিটি মূল ভূমিকা পালন করে।
উপাত্ত ও তথ্য : উপাত্তকে প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমেই ব্যবহারযোগ্য তথ্যে পরিণত করা হয়। বিশ্বগ্রামে উপাত্ত ও
তথ্যকে মানুষের প্রয়োজনে একে অপরের সাথে বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে শেয়ার করতে হয়।
সক্ষমতা : বিশ্বগ্রামের উপাদানগুলোর মধ্যে মানুষের সক্ষমতা অন্যতম। যেহেতু বিশ্বগ্রাম মূলত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর তাই এ
বিষয়ে মানুষের সচেতনতা, স্বাক্ষরতা ও সক্ষমতা ইত্যাদির উপর এর প্রয়োগ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ নিয়ে দল গঠনপূর্বক আলোচনা করুন এবং পোস্টারে উপস্থাপন করুন।
সারসংক্ষেপ
বিশ্বগ্রাম বলতে সমগ্র বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট যে জাল বিস্তার করেছে তাকে বুঝানো হয়। কানাডিয়ান
লেখক হারবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্বগ্রাম বা গেøাবাল ভিলেজ শব্দটিকে সকলের সামনে তুলে ধরেন। বিশ্বগ্রামের মাধ্যমে খুব সহজেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা যায়। বিশ্বগ্রামে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতি সফ্টওয়্যার ব্যবহৃত হয়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-২.১
সঠিক উত্তরের পাশে টিক () চিহ্ন দিন
১। বিশ্বগ্রাম বা গেøাবাল ভিলেজ ধারণার উদ্ভাবকক. বিল গেইটস খ. মার্শাল ম্যাকলুহান
গ. স্টিভ জবস ঘ. মার্ক জুকারবার্গ
২। বিশ্বগ্রাম কি?
ক. তথ্য ও প্রযুক্তি ভরা বিশ্ব খ. বিশ্বের গ্রামাঞ্চল
গ. একটি গ্রাম ঘ. প্রযুক্তিহীন বিশ্ব
কৌশল ও পদ্ধতির। নিত্য নতুন আবিষ্কার মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করছে। বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য ও
যোগাযোগ প্রযুক্তি বা Information & Communication Technology (ICT) এর যুগ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে গোটা পৃথিবী আজ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। আজ যারা এই প্রযুক্তিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে পারছে তারাই সাফল্য লাভ করছে।
এই ইউনিটে মূলত বিশ্বগ্রামের ধারণা, বিশ্বগ্রামের ধারণার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদানসমূহ, টেলিকনফারেন্সিং এবং
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রবণতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিকতা, সমাজ
জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভাব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আলোচনা করা হয়েছে। বিশ্বগ্রাম
গ্রাম বা Village শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। বর্তমানে এর সাথে Global শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে
Global Village নামক একটি নতুন ধরণা প্রচলিত হয়েছে যার অর্থ হলো বৈশ্বিক গ্রাম বা বিশ্বায়ন। বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া
বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর ব্যাপক ব্যবহার ও প্রভাবে আজ বিশ্বের যে কোন দেশের মানুষ অন্য দেশের
মানুষের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারছে। গ্রামে যেমন আমরা সহজেই আশেপাশের মানুষের খবর জানতে
পারি তেমনি বর্তমানে আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে এক দেশে বসে অন্য দেশে প্রতিবেশির মতো তথ্য
বিনিময় করতে পারি। এটাই মূলত বিশ্বগ্রামের ধারণা।
কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক মারশেল ম্যাকলুহান (Marshall McLuhan) সর্বপ্রথম গেøাবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম কথাটি ব্যবহার করেন। মারশেল ম্যাকলুহান ১৯১১ সালের ২১
জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৬২ সালে তাঁর রচিত ‘Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic গ্রন্থে বিশ্বগ্রামের ধারণা দেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে Understanding Media’ গ্রন্থে বিশ্বগ্রাম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, “ ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির
মাধ্যমে সারা বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করাই হল বিশ্বগ্রাম। যার মাধ্যমে খুব সহজেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের
মানুষের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা সম্ভব।” এখানে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি বলতে ইন্টারনেটকে বুঝানো হয়েছে।
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসা হলো গেøাবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম।
বিষয়টিকে আর একটু পরিষ্কার করা যেতে পারে যেমন কোন একটি অঞ্চলের অথবা দেশের অধিবাসীরা যেমন নিজেদের
মধ্যে ভাবের আদান প্রদানে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ থাকে ঠিক তেমনি সারা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট কিংবা স্যাটেলাইট টেলিভিশন ইত্যাদির মাধ্যমে একটি একক স¤প্রদায় তথা যৌথ সমাজ হিসেবে
আবদ্ধ হতে পারে। আর এটিই হলো গেøাবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম।
২.১.২ বিশ্বগ্রামের সুবিধা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে মানুষ গেøাবাল ভিলেজে
প্রবেশ করছে। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে অনেক সুবিধা ভোগ করছে। গেøাবাল ভিলেজের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা নি¤œরূপ: তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ বর্তমানে সারা বিশ্বের সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারছে।
মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
মানুষের কাজের দক্ষতা ও গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনলাইনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ইÑকমার্সের মাধ্যমে ব্যবসাÑবাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছে।
টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই দক্ষ চিকিৎসকের সেবা নিতে পারছে।
ইÑলার্নিং এর মাধ্যমে ঘরে বসেই বিশ্বের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষসেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। বিশ্ব ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হচ্ছে; ইত্যাদি।
২.১.৩ বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ
বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ হলো
হার্ডওয়্যার (Hardware)
সফটওয়্যার (Software)
কানেকটিভিটি (ঈড়হহবপঃরারঃু)
উপাত্ত ও তথ্য (Data and Information)
সক্ষমতা (Capacity)
হার্ডওয়্যার : বিশ্বগ্রামে যে কোন ধরনের তথ্য আদানÑপ্রদানের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত হার্ডওয়্যার সামগ্রীর। হার্ডওয়্যারের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার এবং এর সাথে যুক্ত পেরিফেরাল যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট, অডিওÑভিডিও রেকর্ডার, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি। সফ্টওয়্যার : বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি প্রয়োজন সফ্টওয়্যার। সফ্টওয়্যারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সিস্টেম সফটওয়্যার, এ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়্যার, ব্রাউজিং সফটওয়্যার, কমিউনিকেটিং সফ্টওয়্যার, প্রোগ্রামিং ভাষা ইত্যাদি।
কানেকটিভিটি : বিশ্বগ্রামের প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদে তথ্য ও উপাত্ত আদানÑপ্রদান করতে পারে এবং পরস্পরের সাথে
যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য প্রয়োজন নেটওয়্যার্ক বা কানেকটিভিটি। বিশ্বের তথ্য ভান্ডারের সাথে সার্বক্ষণিকভাবে বা
প্রয়োজনে যুক্ত থেকে তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানেকটিভিটি মূল ভূমিকা পালন করে।
উপাত্ত ও তথ্য : উপাত্তকে প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমেই ব্যবহারযোগ্য তথ্যে পরিণত করা হয়। বিশ্বগ্রামে উপাত্ত ও
তথ্যকে মানুষের প্রয়োজনে একে অপরের সাথে বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে শেয়ার করতে হয়।
সক্ষমতা : বিশ্বগ্রামের উপাদানগুলোর মধ্যে মানুষের সক্ষমতা অন্যতম। যেহেতু বিশ্বগ্রাম মূলত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর তাই এ
বিষয়ে মানুষের সচেতনতা, স্বাক্ষরতা ও সক্ষমতা ইত্যাদির উপর এর প্রয়োগ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ নিয়ে দল গঠনপূর্বক আলোচনা করুন এবং পোস্টারে উপস্থাপন করুন।
সারসংক্ষেপ
বিশ্বগ্রাম বলতে সমগ্র বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট যে জাল বিস্তার করেছে তাকে বুঝানো হয়। কানাডিয়ান
লেখক হারবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্বগ্রাম বা গেøাবাল ভিলেজ শব্দটিকে সকলের সামনে তুলে ধরেন। বিশ্বগ্রামের মাধ্যমে খুব সহজেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা যায়। বিশ্বগ্রামে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতি সফ্টওয়্যার ব্যবহৃত হয়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-২.১
সঠিক উত্তরের পাশে টিক () চিহ্ন দিন
১। বিশ্বগ্রাম বা গেøাবাল ভিলেজ ধারণার উদ্ভাবকক. বিল গেইটস খ. মার্শাল ম্যাকলুহান
গ. স্টিভ জবস ঘ. মার্ক জুকারবার্গ
২। বিশ্বগ্রাম কি?
ক. তথ্য ও প্রযুক্তি ভরা বিশ্ব খ. বিশ্বের গ্রামাঞ্চল
গ. একটি গ্রাম ঘ. প্রযুক্তিহীন বিশ্ব