টেলিকন্ফারেন্সিং এর ধারণা বর্ণনা কর ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারণা বিশ্লেষণ কর প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব মূল্যায়ন কর

টেলিকন্ফারেন্সিং
টেলিকন্ফারেন্সিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন সভা, সেমিনার বা দলবদ্ধভাবে যোগাযোগ করা যায়। ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে কিছু ব্যক্তি অবস্থান করে টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে কোন সভা অথবা সেমিনার অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বলা হয় টেলিকন্ফারেন্সিং।
বিশ্বের যে কোন জায়গা থেকে যে কোন ব্যক্তিই টেলিফোন মাধ্যম ব্যবহার করে টেলিকন্ফারেন্স করতে পারে।
টেলিকন্ফারেন্স বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন: পাবলিক কন্ফারেন্স, ক্লোজড কন্ফারেন্স এবং রিড অনলি কন্ফারেন্স। পাবলিক কন্ফারেন্স সবার জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ এই কন্ফারেন্সে অংশগ্রহণ করতে পারে। ক্লোজড কন্ফারেন্স সবার জন্য উন্মুক্ত নয়; পাসওয়ার্ড প্রটেকটেড। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে এই কন্ফারেন্সে অংশগ্রহণ করা যায়। টেলিকন্ফারেন্সিং সফ্টওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
২.৩.২ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হচ্ছে হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যারের সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বস্তু, ঘটনা বা
পরিবেশের বাস্তবভিত্তিক বা ত্রিমাত্রিক চিত্রভিত্তিক রূপায়ণ। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্যোগকারী
বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্তে¡র উপর
প্রতিষ্ঠিত। কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা ব্যবহারকারীর কাছে সত্য ও
বাস্তব মনে হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রি-মাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভবপর হয়।
ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশের সময় একজন ব্যবহারকারীকে মাথায় হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে , হাতে একটা ডাটা বা একটি পূর্ণাঙ্গ বডি স্যুইট পরতে হয় এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি তাকে কোনো রকম শারীরিক ঝুঁকি বা বিপদ ছাড়াই বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
২.৩.৩ প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার ও প্রয়োগক্ষেত্র উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের কয়েকটি ক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হলো -
চিকিৎসা ক্ষেত্রে
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনেক ক্ষেত্রেই আজ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের ভুল ও ঝুঁকি এড়ানো
সম্ভব হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে ডাক্তারদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষানবীশ সার্জনদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সবচাইতে বড় সুযোগ হলো অভিজ্ঞ কোনো সার্জনের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।
এক্ষেত্রে নতুন চিকিৎসকরা ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে মেডিক্যাল ট্রেনিং টুল হিসেবে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারে। এর সাহায্যে তারা একেবারে অপারেশন থিয়েটারে রোগীর অপারেশন পরিচালনার মতোই বাস্তবিক অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার মানও উন্নত করা যায়। ভার্চুয়াল অপারেটিং কক্ষে ছাত্ররা কৌশলগত দক্ষতা, অপারেশন ও রোগ সম্পর্কিত তাত্তি¡ক বিষয়াদির কার্যপ্রণালি অনুশীলন করতে সক্ষম হয়।
খেলাধুলা ও বিনোদনের ক্ষেত্রে
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কল্যাণে মানুষ বিভিন্ন খেলাধুলার নিয়মÑকানুন সম্পর্কে জানতে পারছে। কম্পিউটারের সাথে কোন একটি গেমে অংশগ্রহণ বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি একই গেমে অংশগ্রহণ করতে পারছে। দ্বিমাত্রিক বা
ত্রিমাত্রিক সিমুলেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কার্টুন, ঐতিহাসিক ছবি, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা পূরাণিক কাহিনীনির্ভর ছবি নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে
কম্পিউটারের সাহায্যে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এখন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সড়ক, আকাশ, রেল
এবং জলপথে চলাচলকারী যানবাহনের পরিচালনায় এখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রতিটি যান চালক গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চালকগণ যদি তাদের যান চালনায়
পারদর্শী হয়, তাহলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হয়।
রেলপথ এবং জলপথে চলাচলকারী যানের ক্ষেত্রে একইভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ
পদ্ধতিতে রেল চালককে রেল চালনার রুট, জরুরি মুহূর্তে করণীয় বিষয়াবলি পূর্বেই শেখানো যায়। জলযানের ক্ষেত্রে
সঠিক গন্তব্যে সাবধানতার সাথে কীভাবে তা পরিচালনা করা যায় তার কাল্পনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে যান চলাচলে
গতিশীলতা সৃষ্টি করা সম্ভব। বন্দরে জলযানের সার্বিক কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব।
ফ্লাইট সিমুলেশনের ক্ষেত্রে
ফ্লাইট সিমুলেশন হলো এমন একটি কাজ যা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কৌশল প্রয়োগ করে বেসরকারি বা সামরিক বিমান
চালকদের কোনো ধরনের সত্যিকার উড়োজাহাজ ব্যবহার না করে শুধুমাত্র স্পর্শকাতর কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে
বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ প্রদান করে। উন্নত বিশ্বের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা কিংবা সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিমান
পরিচালনা প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করছে। এজন্য ফ্লাইট সিমুলেটর ব্যবহার করা হয়। ফলে বিমান চালকগণ
অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিমান পরিচালনার নতুন নতুন দক্ষতার উন্নয়ন, নতুন বিমানের ফ্লাইট বৈশিষ্ট্যাবলি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
বিশেষ এক ধরনের প্রযুক্তির কল্যাণেই কম্পিউটারের চিন্তাভাবনাগুলো মানুষের মতই? এখানে কোন ধরনের প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে? সেই প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধার ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করুন।
সারসংক্ষেপ
ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে কিছু ব্যক্তি অবস্থান করে টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে কোন সভা অথবা
সেমিনার অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বলা হয় টেলিকন্ফারেন্সিং। আর ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হচ্ছে হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যারের
সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বস্তু, ঘটনা বা পরিবেশের বাস্তবভিত্তিক বা ত্রিমাত্রিক চিত্রভিত্তিক রূপায়ণ।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-২.৩
সঠিক উত্তরের পাশে টিক () চিহ্ন দিন
১। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি তৈরি করে?
ক. বাস্তবভাবে কৃত্রিমজগৎ খ. বাস্তবভাবে কাল্পনিক জগৎ
গ. কৃত্রিমভাবে বাস্তব জগৎ ঘ. কাল্পনিকভাবে কৃত্রিম জগৎ
৩। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার লক্ষ্যণীয় কোন ক্ষেত্রে ?
ক. দাবা খেলায় খ. চলচিত্রে
গ. অনলাইন ব্যাংকিং-এ ঘ. ই-বুকে