হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অর্থনৈতিক সংস্কার
মুখ্য শব্দ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, হারাম, সুদ, পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা, আল ফাই, আল-গানিমাহ,
জিজিয়া, খারাজ, যাকাত ও সদকা
একটি রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সুসংহত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আবশ্যক। মহানবী (সা.) তাঁর পরিচালিত
মদীনা রাষ্ট্রে একটি সুষ্ঠু অর্থনৈতিক কাঠামো সৃষ্টি করেন এবং সেই সাথে প্রাক ইসলামী যুগের প্রচলিত বিভিন্ন
অর্থ উপার্জন পন্থায় সংস্কার আনয়ন করেন।
বৈধ উপার্জনের আহবান
মহানবী (সা.) বৈধভাবে উপার্জনের আহবান জানান। হালাল পথে অর্থ উপার্জনের নির্দেশ দেন। অর্থ উপার্জনে প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াকে হারাম বলে ঘোষণা করেন।
লুটতরাজ উচ্ছেদ
প্রাক-ইসলামী যুগে চুরি, ডাকাতি, লুটতরাজ করাই ছিল অধিকাংশের প্রধান জীবিকা। তিনি সমাজ থেকে জোরপূর্বক অর্থ
আদায় ও লুটতরাজ উচ্ছেদ করে সমাজকে কলুষমুক্ত করেন।
সুদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা
প্রাক-ইসলামী আরব সমাজে জঘন্য সুদ প্রথার প্রচলন ছিল। ঋনদাতা চড়া সুদ গ্রহণ করত। সুদ গ্রহীতা তা পরিশোধ
করতে না পারলে তার সকল সহায় সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হত। এমনকি তার পরিবারের সদস্যদের কে দাস হিসেবে বিক্রি
করে দেওয়া হত। মহানবী (সা.) এই জঘন্য প্রথাকে সমাজ হতে দূর করেন। তিনি সুদকে হারাম বলে ঘোষণা করেন।
প্রতারণা নিষিদ্ধ
মহানবী (সা.) অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। প্রতারণা দ্বারা অর্থ আয়ের
যাবতীয় উৎসকে বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন যে, “যে ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নেবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”
মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ
প্রাক-ইসলামী আরব সমাজে জুয়া ও মদের ব্যবসার ব্যাপক প্রচলন ছিল। মহানবী (সা.) মদ ও জুয়া সমাজ ও রাষ্ট্র হতে
নিষিদ্ধ করেন।
পুজিবাদের উৎখাত
মহানবী (সা.) পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার উৎখাত করেন। তিনি সাম্যের ভিত্তিতে সমাজের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত
করেন। অবৈধভাবে সম্পদ উপার্জনকে তিনি হারাম ঘোষণা করেন। হক এবং হালাল পথে অর্থ উপর্জনে উৎসাহিত করেন।
যাকাত ও সদকা
সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে মহানবী (সা.) ধনীদের উপর যাকাত ফরজ করেন। যাকাত প্রদানের
মাধ্যমে একদিকে যেমন গচ্ছিত সম্পদের পবিত্রতা রক্ষা হয় অপরদিকে সমাজে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে সাহায্য
করে। মহানবী (সা.) গরীব ও দুস্থদের মাঝে যাকাত ও সদকা প্রদানের নির্দেশ দেন। যাকাত প্রদান করা প্রত্যেক
সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য আবশ্যিক। এই প্রসংগে পবিত্র কুরআনের ভাষা হচ্ছে “তোমরা সালাত আদায় কর ও যাকাত দাও।”
ইসলামী রাজস্ব ব্যবস্থার প্রণয়ন
মদীনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর মহানবী (সা.) ইসলামী রাজস্ব ব্যবস্থা প্রণয়ন করেন। এই রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল জনকল্যাণমুখী যা
রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করেছিল। মহানবী (সা.) ভিন্ন ভিন্ন রাজস্বের উৎস নির্ধারিত করেছিলেন -
ক্স যাকাত : ধনী ও অবস্থাসম্পন্ন মুসলিমের উপর ফরয। সঞ্চিত উদ্বৃত্ত সম্পদের পরিমাণ যদি স্বর্ণের হিসেবে ৭.৫ তোলা
ও রৌপ্যের হিসেবে ৫২.৫ তোলা হয় তাহলে উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত আদায় করা আব্যশ্যক।
ক্স খারাজ : মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম কৃষকদের উপর রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত ভূমিকর।
ক্স জিযিয়া : মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী যিম্মি বা অমুসলিমদের নিকট হতে প্রাপ্ত সামরিক বা নিরাপত্তা কর।
ক্স আল-গানিমাহ : যুদ্ধলব্ধ সম্পত্তি, যার একভাগ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হত এবং চারভাগ যুদ্ধের সৈনিকদের মধ্যে
বন্টন করা হত।
ক্স আল ফাই : রাষ্ট্রের বিভিন্ন সম্পত্তি যেমন: পতিত জমি, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি, অরণ্য হতে যে অর্থের আগমন ঘটত, সেই
অর্থ রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যয় করা হত। এই উৎসটি আল ফাই নামে পরিচিত।
সারসংক্ষেপ:
মহানবী (সা.) প্রাক ইসলামী যুগের নানাবিধ অর্থনৈতিক অনাচার সমাজ হতে দূর করেন । তিনি বৈধভবে অর্থ উপার্জনে
উৎসাহিত করেন। বিভিন্ন প্রকার পরিমিত রাজস্ব উৎসের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন।
১. কোন্ ধরনের সম্পদের উপর যাকাত প্রদান করতে হয়?
ক) ধারকৃত সম্পদ খ) মোট অর্জিত সম্পদ
গ) সঞ্চিত উদ্বৃত্ত সম্পদ ঘ) অন্যের রক্ষিত সম্পদ
২. মহানবী (সা.) যাকাত বাধ্যতামূলক করেন-
ক) নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওায়র জন্য খ) বিত্তবানদের উচিত শিক্ষা দিতে।
গ) জনগণ যাকাত দিতে চেয়েছিল ঘ) রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য
৩. মহানবী (সা.) এর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সংস্কারর) যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক করা রর) জিযিয়া কর
ররর) খারাজ কর
নিচের কোনটি সঠিক
ক) র, ররর খ) রর, ররর গ) র ঘ) র, রর, ররর
চূড়ান্ত মূল্যায়ন
সৃজনশীল প্রশ্ন:
শুক্রবারে জুমুআর খুতবায় ইমাম সাহেব মহানবী (সা.) এর সময়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাবলি বর্ণনা করেন। তিনি আফসোস
করে বলেন- প্রত্যেক মুসলমান, যাদের উপর যাকাত ফরয তারা যদি যাকাত শোধ করত এবং ইসলামী বিধি মোতাবেক
অর্থনৈতিক কর্মকাÐ পরিচালনা হতো তাহলে কোন রাষ্ট্রে অভাব অনটন থাকতো না।
ক) যাকাত কোন ধরনের ইবাদত ? ১
খ) কোন মুসলিম কখন যাকাত পরিশোধ করবে ? ২
গ) মহানবী (সা.) এর রাজস্বের উৎসগুলো আলোচনা করুন ? ৩
ঘ) “মহানবী (সা.) মদীনা রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন” ব্যাখ্যা করুন। ৪
জিজিয়া, খারাজ, যাকাত ও সদকা
একটি রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সুসংহত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আবশ্যক। মহানবী (সা.) তাঁর পরিচালিত
মদীনা রাষ্ট্রে একটি সুষ্ঠু অর্থনৈতিক কাঠামো সৃষ্টি করেন এবং সেই সাথে প্রাক ইসলামী যুগের প্রচলিত বিভিন্ন
অর্থ উপার্জন পন্থায় সংস্কার আনয়ন করেন।
বৈধ উপার্জনের আহবান
মহানবী (সা.) বৈধভাবে উপার্জনের আহবান জানান। হালাল পথে অর্থ উপার্জনের নির্দেশ দেন। অর্থ উপার্জনে প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াকে হারাম বলে ঘোষণা করেন।
লুটতরাজ উচ্ছেদ
প্রাক-ইসলামী যুগে চুরি, ডাকাতি, লুটতরাজ করাই ছিল অধিকাংশের প্রধান জীবিকা। তিনি সমাজ থেকে জোরপূর্বক অর্থ
আদায় ও লুটতরাজ উচ্ছেদ করে সমাজকে কলুষমুক্ত করেন।
সুদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা
প্রাক-ইসলামী আরব সমাজে জঘন্য সুদ প্রথার প্রচলন ছিল। ঋনদাতা চড়া সুদ গ্রহণ করত। সুদ গ্রহীতা তা পরিশোধ
করতে না পারলে তার সকল সহায় সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হত। এমনকি তার পরিবারের সদস্যদের কে দাস হিসেবে বিক্রি
করে দেওয়া হত। মহানবী (সা.) এই জঘন্য প্রথাকে সমাজ হতে দূর করেন। তিনি সুদকে হারাম বলে ঘোষণা করেন।
প্রতারণা নিষিদ্ধ
মহানবী (সা.) অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। প্রতারণা দ্বারা অর্থ আয়ের
যাবতীয় উৎসকে বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন যে, “যে ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নেবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”
মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ
প্রাক-ইসলামী আরব সমাজে জুয়া ও মদের ব্যবসার ব্যাপক প্রচলন ছিল। মহানবী (সা.) মদ ও জুয়া সমাজ ও রাষ্ট্র হতে
নিষিদ্ধ করেন।
পুজিবাদের উৎখাত
মহানবী (সা.) পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার উৎখাত করেন। তিনি সাম্যের ভিত্তিতে সমাজের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত
করেন। অবৈধভাবে সম্পদ উপার্জনকে তিনি হারাম ঘোষণা করেন। হক এবং হালাল পথে অর্থ উপর্জনে উৎসাহিত করেন।
যাকাত ও সদকা
সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে মহানবী (সা.) ধনীদের উপর যাকাত ফরজ করেন। যাকাত প্রদানের
মাধ্যমে একদিকে যেমন গচ্ছিত সম্পদের পবিত্রতা রক্ষা হয় অপরদিকে সমাজে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে সাহায্য
করে। মহানবী (সা.) গরীব ও দুস্থদের মাঝে যাকাত ও সদকা প্রদানের নির্দেশ দেন। যাকাত প্রদান করা প্রত্যেক
সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য আবশ্যিক। এই প্রসংগে পবিত্র কুরআনের ভাষা হচ্ছে “তোমরা সালাত আদায় কর ও যাকাত দাও।”
ইসলামী রাজস্ব ব্যবস্থার প্রণয়ন
মদীনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর মহানবী (সা.) ইসলামী রাজস্ব ব্যবস্থা প্রণয়ন করেন। এই রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল জনকল্যাণমুখী যা
রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করেছিল। মহানবী (সা.) ভিন্ন ভিন্ন রাজস্বের উৎস নির্ধারিত করেছিলেন -
ক্স যাকাত : ধনী ও অবস্থাসম্পন্ন মুসলিমের উপর ফরয। সঞ্চিত উদ্বৃত্ত সম্পদের পরিমাণ যদি স্বর্ণের হিসেবে ৭.৫ তোলা
ও রৌপ্যের হিসেবে ৫২.৫ তোলা হয় তাহলে উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত আদায় করা আব্যশ্যক।
ক্স খারাজ : মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম কৃষকদের উপর রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত ভূমিকর।
ক্স জিযিয়া : মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী যিম্মি বা অমুসলিমদের নিকট হতে প্রাপ্ত সামরিক বা নিরাপত্তা কর।
ক্স আল-গানিমাহ : যুদ্ধলব্ধ সম্পত্তি, যার একভাগ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হত এবং চারভাগ যুদ্ধের সৈনিকদের মধ্যে
বন্টন করা হত।
ক্স আল ফাই : রাষ্ট্রের বিভিন্ন সম্পত্তি যেমন: পতিত জমি, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি, অরণ্য হতে যে অর্থের আগমন ঘটত, সেই
অর্থ রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যয় করা হত। এই উৎসটি আল ফাই নামে পরিচিত।
সারসংক্ষেপ:
মহানবী (সা.) প্রাক ইসলামী যুগের নানাবিধ অর্থনৈতিক অনাচার সমাজ হতে দূর করেন । তিনি বৈধভবে অর্থ উপার্জনে
উৎসাহিত করেন। বিভিন্ন প্রকার পরিমিত রাজস্ব উৎসের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন।
১. কোন্ ধরনের সম্পদের উপর যাকাত প্রদান করতে হয়?
ক) ধারকৃত সম্পদ খ) মোট অর্জিত সম্পদ
গ) সঞ্চিত উদ্বৃত্ত সম্পদ ঘ) অন্যের রক্ষিত সম্পদ
২. মহানবী (সা.) যাকাত বাধ্যতামূলক করেন-
ক) নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওায়র জন্য খ) বিত্তবানদের উচিত শিক্ষা দিতে।
গ) জনগণ যাকাত দিতে চেয়েছিল ঘ) রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য
৩. মহানবী (সা.) এর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সংস্কারর) যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক করা রর) জিযিয়া কর
ররর) খারাজ কর
নিচের কোনটি সঠিক
ক) র, ররর খ) রর, ররর গ) র ঘ) র, রর, ররর
চূড়ান্ত মূল্যায়ন
সৃজনশীল প্রশ্ন:
শুক্রবারে জুমুআর খুতবায় ইমাম সাহেব মহানবী (সা.) এর সময়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাবলি বর্ণনা করেন। তিনি আফসোস
করে বলেন- প্রত্যেক মুসলমান, যাদের উপর যাকাত ফরয তারা যদি যাকাত শোধ করত এবং ইসলামী বিধি মোতাবেক
অর্থনৈতিক কর্মকাÐ পরিচালনা হতো তাহলে কোন রাষ্ট্রে অভাব অনটন থাকতো না।
ক) যাকাত কোন ধরনের ইবাদত ? ১
খ) কোন মুসলিম কখন যাকাত পরিশোধ করবে ? ২
গ) মহানবী (সা.) এর রাজস্বের উৎসগুলো আলোচনা করুন ? ৩
ঘ) “মহানবী (সা.) মদীনা রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন” ব্যাখ্যা করুন। ৪