মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন সম্পর্কে ধারণা অর্জন কর

মূখ্য শব্দ সালিমার উদ্যান, দিউয়ান-ই-খাস, দিউয়ান-ই-আম, শীষমহল, আগ্রা দুর্গ ও মতি মসজিদ
মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন
শিল্পকলার প্রতি মুঘলদের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল সর্বজনবিদিত। সমগ্র মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের এক নব যুগের
সূচনা হয়। কয়েকজন মুঘল শাসক স্থাপত্যশিল্পে তাদের নিজস্বতা প্রকাশ করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। ভারতীয়
উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশে স¤্রাটরা যে আকর্ষণীয় স্থাপত্যশৈলী নির্মাণ করেন, সেগুলো তাদের রুচি এবং সংস্কৃতিক অগ্রগতির প্রমাণ।
সম্রাট বাবর ও হুমায়ুন প্রাথমিকভাবে স্থাপত্যশিল্পের সূচনা করেন
কিন্তু সম্রাট আকবরের সময় হতে স্থাপত্যশিল্প এক নতুন রূপ
লাভ করে। আকবরের রাজধানী ফতেহপুর সিক্রি স্থাপত্যশিল্পের
অন্যতম উদাহরণ। আকবর তার স্থাপত্যে লাল রং এর বেলে
পাথর ব্যবহার করেছিলেন। ফতেহপুর সিক্রিতে তিনি বহু
অট্টালিকা নির্মাণ করেন। এই সমস্ত ভবনের মধ্যে জামে
মসজিদ, বুলন দরওয়াজা, শেখ সেলিম চিশ্তীর সমাধি,
দিওয়ান-ই-খাস, সোনাহালা মকান, আম্বর প্রাসাদ, যোধবাঈয়ের
প্রাসাদ এবং খাওয়াবগাহ উল্লেখযোগ্য। আগ্রা নগরীরতে তিনি
দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, আগ্রা ফোর্ট - নির্মাণ করেন।
সেকেন্দায় অবস্থিত আকবরের সমাধি অপূর্ব স্থাপত্যকর্মের
নিদর্শন। সম্রাট জাহাঙ্গীর চিত্রকলায় বেশি উৎসাহী ছিলেন। তথাপি তিনি কাবুল ও লাহোরের মনোরম প্রাসাদ ও উদ্যান
তৈরী করেছিলেন। জাহাঙ্গীরের রাজত্ব কালে বেগম নূরজাহান আগ্রাতে তাঁর পিতা ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধিতে একটি
সৌধ নির্মাণ করেন। এটি স¤্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থাপত্য কীর্তি। এই সৌধে পিত্রাভুরা অর্থাৎ বিভিন্ন রংএর মূল্যবান পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।
নামে খ্যাত মুঘল সম্রাট শাহজাহান ছিলেন স্থাপত্যের বরপুত্র। তার শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আগ্রার তাজমহল।
এছাড়া (লাল কেল্লা), সালিমার উদ্যান, দিউয়ান-ই-খাস, দিউয়ান-ই-আম, শীষমহল, আগ্রা দুর্গ, মতি মসজিদ
ইত্যাদি অমূল্য স্থাপনা রেখে গেছেন। তার স্থাপত্যে শ্বেত মর্মর পাথরের ব্যবহার স্থাপত্য শিল্পে এক নতুন সংযোজন।
এছাড়াও তিনি দিল্লি জামে মসজিদ ও ঐঁসধুঁহ ঞড়সন ইত্যাদি বিখ্যাত স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। মুঘলদের মসজিদ,
উদ্যান, দুর্গ, প্রাসাদ ও সমাধিক্ষেত্র আজও ভারতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করছে এবং মুঘলদের আভিজাত্য ও মেধার উজ্জ্বল
দৃষ্টান্ত হয়ে টিকে আছে।
স¤্রাট শাহ্জাহান নির্মিত তাজমহল
সারাংশ
স্থাপত্য বিদ্যায় মুঘলদের অবদান ছিল মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এতে মিলেমিশে আছে
মধ্যএশিয়া ও ভারতীয় উপমহাদেশের যোগসূত্র। তাই মুঘল স্থাপত্যনিদর্শন মুঘল ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৩.১২
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন।
১। ফতেহপুর সিক্রি নগরী নির্মাণ করেন-
ক) আকবর খ) বাবর গ) হুমায়ূন ঘ) সেলিম
২। তাজমহল নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছিল
ক) লাল পাথর খ) ইট গ) শ্বেত মার্বেল ঘ)
৩। মুঘলদের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন হলোÑ
ক) লালকেল্লা খ) দিউয়ান-ই-খাস গ) শিশমহল ঘ) তাজমহল
চূড়ান্ত মূল্যায়ন
সৃজনশীল প্রশ্ন:
আবু সাঈদ ভারতে বেড়াতে গেলে মধ্যযুগের একটি রাজবংশের বিভিন্ন নিদর্শন, স্থাপত্যশিল্প দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন।
বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি স্থাপনা যেটি ছিল স্ত্রীর প্রতি প্রেমের নিদর্শন স্বরূপ, সেটি দেখে আবু সাইদ ভাবলেন এমন অনিন্দ্য
সুন্দর স্থাপনা সত্যিই সেই বংশের স্মৃতিকে আজও বহন করে আছে।
১. ময়ুর সিংহাসনের স্থপতি কে ছিলেন? ১
২. মুঘল শাসনের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিন। ২
৩. উদ্দীপকে উল্লিখিত সপ্তাশ্চর্যটি মুঘল বংশের কোন শাসকের স্মৃতি বহন করে আছে ব্যাখ্যা করুন। ৩
৪. স¤্রাট শাহজাহানের কৃতিত্ব সেখানে ইট-সুরকির মধ্যে” এ মতের স্বপক্ষে যুক্তি দিন। ৪
উত্তরমালা
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.১ ঃ ১। গ ২। ঘ ৩। গ ৪। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.২ ঃ ১। গ ২। ঘ ৩। ঘ ৪। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.৩ ঃ ১। ক ২। গ ৩। গ ৪। গ ৫। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.৪ ঃ ১। গ ২। খ ৩। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.৫ ঃ ১। গ ২। খ ৩। গ ৪। ক
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.৬ ঃ ১। ঘ ২। ক ৩। গ ৪। ক
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.৭ ঃ ১। গ ২। ঘ ৩। ক ৪। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.৮ ঃ ১। গ ২। খ ৩। ক ৪। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.৯ ঃ ১। গ ২। ঘ ৩। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.১০ ঃ ১। ক ২। ক ৩। গ ৪। ক
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.১১ ঃ ১। ক ২। ৩। ক ৪। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৩.১২ ঃ ১। ক ২। গ ৩। ঘ