শানে নুযুল কাকে বলে, বলতে পারবেন সূরা আল-বাকারা নাযিলের কারণ উল্লেখ করতে পারবেন;
শানে নুযুল, বাকারা, নাযিল, তাফসীর, উসূলে তাফসীর, ইয়াহুদি, খ্রিস্টান, প্রেক্ষাপট,
মুনাফিক, বিশ্ব মানবতা।
শানে নুযুল কী?
২.১. কুরআন মাজীদ অন্যান্য আসমানি কিতাবের মত একত্রে নাযিল হয়নি। জীবন সমস্যা ও ঘটনার
আলোকে অল্প-অল্প করে সমাধানমূলক বক্তব্যসহ তেইশ বছরে নাযিল হয়েছে। উসূলে তাফসীরের পরিভাষায় একে সাবাবে
নুযুল বা শানে নুযুল বলা হয়। তাফসীরকারকদের পরিভাষায় কুরআনের আয়াতগুলো নাযিলের কারণ ও প্রেক্ষাপটকে শানে
নুযুল বলা হয়। যেমন- হুদায়বিয়ার সন্ধির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে“নিশ্চয় আমরা আপনাকে মহান বিজয় দান করেছি।” (সূরা আল-ফাতহ ৪৮ :১)
এভাবে যে আয়াত বা সূরা যে কারণে নাযিল হয়েছে সেটি সে আয়াত বা সূরার শানে নুযুল।
শানে নুযূলের গুরুত্ব
আল-কুরআন নাযিলের প্রেক্ষাপটের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন শানে নুযুল যদি সাহাবী হতে বর্ণিত হয়, তাহলে তা
হাদিসে মারফু-এর পর্যায়ভুক্ত হবে এবং তা গ্রহণযোগ্য হবে। তবে আয়াতটি শানে নুযূলের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। শানে নুযুল
জানা থাকলে আয়াতের সঠিক মর্ম, বিধান ও হুকুম ভালভাবে বোঝা যায়। মুফাসসিরগণ বলেন, কুরআনের মর্ম বোঝার
জন্য শানে নুযুল হলো একটি উত্তম উপায়। আইন-বিধান প্রণয়নের জন্য শানে নুযূলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
২.২. সূরা আল-বাকারা নাযিলের পটভ‚মি
এ সূরা নাযিলের ঐতিহাসিক পটভ‚মি হচ্ছেমহানবী (স) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে আসার ফলে ইসলাম প্রচার ব্যাপক হতে থাকে। তখন কুরাইশদের সাথে
সাথে ইয়াহুদি, খ্রিস্টান এবং মুনাফিকরা ইসলামের গতিরোধ করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা ইসলামের প্রতি
অমূলক নানারকম অপবাদ প্রচার করতে থাকে। এমনকি তারা পবিত্র কুরআন আল্লাহর বাণী হওয়ার ব্যাপারে নানারূপ
সন্দেহমূলক উক্তি করতে থাকে। তখন আল্লাহ তা‘আলা কাফির, মুশরিক, ইয়াহুদি, খ্রিস্টান ও মুনাফিকদের সেই মিথ্যা
অপবাদের প্রতিবাদে সূরা আল-বাকারা নাযিল করেন। এ সূরায় ইসলাম বিদ্বেষীদের সমস্ত অপবাদের জবাব দেওয়া হয়।
কুরআন যে একান্ত আল্লাহ তা‘আলারই সত্য বাণী, ইসলাম যে বিশ্বমানবতার একমাত্র দিশারী তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা
হয়। (তাফসীরে হাক্কানী)
তাফসীরে নুরুল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে- এ সূরার শানে নুযুল হল এই যে, মালিক ইবন সাইফ নামক এক ইয়াহুদি
কুরআনের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালাতো যে-এটা সেই পবিত্র গ্রন্থ নয়, যার নাযিল হওয়ার সুসংবাদ পূর্ববর্তী আসমানি
কিতাবে দেওয়া হয়েছিল। তখন পবিত্র কুরআন সম্পর্কে যাবতীয় সন্দেহ দূর করার জন্য এ সূরা নাযিল করা হয়। এতে
দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করা হয়- এটা সেই কিতাব,যাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহের অবকাশ নেই।
সারসংক্ষেপ
আল-কুরআনের সবচেয়ে দীর্ঘতম সূরা হচ্ছে সূরা আল-বাকারা। তবে এ সূরার বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময় নাযিল হয়েছে।
কারো মতে, এটা মদীনায় নাযিল হওয়া প্রথম সূরা। এ সূরার আয়াতগুলো সব ধারাবাহিকভাবে নাযিল হয়নি এবং এ
সূরাটি সম্পূর্ণ না হতেই অন্যান্য সূরার আয়াতসমূহ নাযিল হতে শুরু করে। এ সূরাগুলোর সকল আয়াত একত্রে এবং ধারাবাহিকভাবেও নাযিল হয়নি।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। কুরআন কীভাবে নাযিল হয়েছে ?
(ক) অল্প অল্প করে (খ) একসাথে
(গ) একদিনে (ঘ) একমাসে
২. শানে নুযুল অর্থ কী ?
(ক) নাযিলের সময়কাল (খ) নাযিলের কারণ
(গ) নাযিলের পূর্বকাল (ঘ) নাযিলের পরের কাল
৩. কুরআন মজীদের দীর্ঘ সূরা কোনটি ?
(ক) সূরা ইয়াসীন (খ) সূরা মুহাম্মদ
(গ) সূরা আন-নিসা (ঘ) সূরা আল-বাকারা
৪। সূরা আল-বাকারা মাদানি জীবনের কোন সময় নাযিল হয় ?
(ক) হিজরতের পূর্বে (খ) রাসূল (স)-এর জন্মের পূর্বে
(গ) হিজরতের পরে (ঘ) রাসূল (স)-এর ইন্তেকালের পরে
সৃজনশীল প্রশ্ন :
উদ্দীপক,
আকমল ও মুনির সাহেবের মধ্যে সূরা আল-বাকারার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। আকমল সাহেব বললেন,
কুরআন শরীফের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। সূরা আল-বাকারার শুরুতেই আল্লাহ সে কথাটি অত্যন্ত
স্পষ্টভাবেই বলেছেন। মুনির সাহেব বললেন, ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক করা সবচেয়ে বড় পাপ। তাই গো-বৎসের পূজা
কিংবা অন্য কোন মূর্তির পূজা করা ইসলাম সমর্থন করে না। সূরা আল-বাকারায় এ বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই বলে
দেওয়া হয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না।
ক. দুটি আসমানি গ্রন্থের নাম লিখুন । ১
খ. শানে নুযুল কাকে বলা হয় ? ২
গ. কারা গো-বৎসের পুঁজা করেছিল ? ৩
ঘ. উদ্দীপকে মুনির সাহেবেব বক্তব্যের আলোকে সূরা আল-বাকারা নাযিলের পটভূমি বর্ণনা করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। ক ২। খ ৩। ঘ ৪। গ
মুনাফিক, বিশ্ব মানবতা।
শানে নুযুল কী?
২.১. কুরআন মাজীদ অন্যান্য আসমানি কিতাবের মত একত্রে নাযিল হয়নি। জীবন সমস্যা ও ঘটনার
আলোকে অল্প-অল্প করে সমাধানমূলক বক্তব্যসহ তেইশ বছরে নাযিল হয়েছে। উসূলে তাফসীরের পরিভাষায় একে সাবাবে
নুযুল বা শানে নুযুল বলা হয়। তাফসীরকারকদের পরিভাষায় কুরআনের আয়াতগুলো নাযিলের কারণ ও প্রেক্ষাপটকে শানে
নুযুল বলা হয়। যেমন- হুদায়বিয়ার সন্ধির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে“নিশ্চয় আমরা আপনাকে মহান বিজয় দান করেছি।” (সূরা আল-ফাতহ ৪৮ :১)
এভাবে যে আয়াত বা সূরা যে কারণে নাযিল হয়েছে সেটি সে আয়াত বা সূরার শানে নুযুল।
শানে নুযূলের গুরুত্ব
আল-কুরআন নাযিলের প্রেক্ষাপটের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন শানে নুযুল যদি সাহাবী হতে বর্ণিত হয়, তাহলে তা
হাদিসে মারফু-এর পর্যায়ভুক্ত হবে এবং তা গ্রহণযোগ্য হবে। তবে আয়াতটি শানে নুযূলের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। শানে নুযুল
জানা থাকলে আয়াতের সঠিক মর্ম, বিধান ও হুকুম ভালভাবে বোঝা যায়। মুফাসসিরগণ বলেন, কুরআনের মর্ম বোঝার
জন্য শানে নুযুল হলো একটি উত্তম উপায়। আইন-বিধান প্রণয়নের জন্য শানে নুযূলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
২.২. সূরা আল-বাকারা নাযিলের পটভ‚মি
এ সূরা নাযিলের ঐতিহাসিক পটভ‚মি হচ্ছেমহানবী (স) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে আসার ফলে ইসলাম প্রচার ব্যাপক হতে থাকে। তখন কুরাইশদের সাথে
সাথে ইয়াহুদি, খ্রিস্টান এবং মুনাফিকরা ইসলামের গতিরোধ করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা ইসলামের প্রতি
অমূলক নানারকম অপবাদ প্রচার করতে থাকে। এমনকি তারা পবিত্র কুরআন আল্লাহর বাণী হওয়ার ব্যাপারে নানারূপ
সন্দেহমূলক উক্তি করতে থাকে। তখন আল্লাহ তা‘আলা কাফির, মুশরিক, ইয়াহুদি, খ্রিস্টান ও মুনাফিকদের সেই মিথ্যা
অপবাদের প্রতিবাদে সূরা আল-বাকারা নাযিল করেন। এ সূরায় ইসলাম বিদ্বেষীদের সমস্ত অপবাদের জবাব দেওয়া হয়।
কুরআন যে একান্ত আল্লাহ তা‘আলারই সত্য বাণী, ইসলাম যে বিশ্বমানবতার একমাত্র দিশারী তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা
হয়। (তাফসীরে হাক্কানী)
তাফসীরে নুরুল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে- এ সূরার শানে নুযুল হল এই যে, মালিক ইবন সাইফ নামক এক ইয়াহুদি
কুরআনের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালাতো যে-এটা সেই পবিত্র গ্রন্থ নয়, যার নাযিল হওয়ার সুসংবাদ পূর্ববর্তী আসমানি
কিতাবে দেওয়া হয়েছিল। তখন পবিত্র কুরআন সম্পর্কে যাবতীয় সন্দেহ দূর করার জন্য এ সূরা নাযিল করা হয়। এতে
দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করা হয়- এটা সেই কিতাব,যাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহের অবকাশ নেই।
সারসংক্ষেপ
আল-কুরআনের সবচেয়ে দীর্ঘতম সূরা হচ্ছে সূরা আল-বাকারা। তবে এ সূরার বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময় নাযিল হয়েছে।
কারো মতে, এটা মদীনায় নাযিল হওয়া প্রথম সূরা। এ সূরার আয়াতগুলো সব ধারাবাহিকভাবে নাযিল হয়নি এবং এ
সূরাটি সম্পূর্ণ না হতেই অন্যান্য সূরার আয়াতসমূহ নাযিল হতে শুরু করে। এ সূরাগুলোর সকল আয়াত একত্রে এবং ধারাবাহিকভাবেও নাযিল হয়নি।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। কুরআন কীভাবে নাযিল হয়েছে ?
(ক) অল্প অল্প করে (খ) একসাথে
(গ) একদিনে (ঘ) একমাসে
২. শানে নুযুল অর্থ কী ?
(ক) নাযিলের সময়কাল (খ) নাযিলের কারণ
(গ) নাযিলের পূর্বকাল (ঘ) নাযিলের পরের কাল
৩. কুরআন মজীদের দীর্ঘ সূরা কোনটি ?
(ক) সূরা ইয়াসীন (খ) সূরা মুহাম্মদ
(গ) সূরা আন-নিসা (ঘ) সূরা আল-বাকারা
৪। সূরা আল-বাকারা মাদানি জীবনের কোন সময় নাযিল হয় ?
(ক) হিজরতের পূর্বে (খ) রাসূল (স)-এর জন্মের পূর্বে
(গ) হিজরতের পরে (ঘ) রাসূল (স)-এর ইন্তেকালের পরে
সৃজনশীল প্রশ্ন :
উদ্দীপক,
আকমল ও মুনির সাহেবের মধ্যে সূরা আল-বাকারার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। আকমল সাহেব বললেন,
কুরআন শরীফের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। সূরা আল-বাকারার শুরুতেই আল্লাহ সে কথাটি অত্যন্ত
স্পষ্টভাবেই বলেছেন। মুনির সাহেব বললেন, ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক করা সবচেয়ে বড় পাপ। তাই গো-বৎসের পূজা
কিংবা অন্য কোন মূর্তির পূজা করা ইসলাম সমর্থন করে না। সূরা আল-বাকারায় এ বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই বলে
দেওয়া হয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না।
ক. দুটি আসমানি গ্রন্থের নাম লিখুন । ১
খ. শানে নুযুল কাকে বলা হয় ? ২
গ. কারা গো-বৎসের পুঁজা করেছিল ? ৩
ঘ. উদ্দীপকে মুনির সাহেবেব বক্তব্যের আলোকে সূরা আল-বাকারা নাযিলের পটভূমি বর্ণনা করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। ক ২। খ ৩। ঘ ৪। গ