সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থের নাম কী ?

ইবাদাত, জাগতিক কর্ম, মানব জাতি, আল্লাহভীরু, মুক্তির দিশারী, হিদায়াত, রহমত,
ইলমুল আহকাম, ইলমুত তাযকীর, ইলমুল মুখাসামা, মাউত।
৩.১ আল-কুরআনের আলোচ্য বিষয়
মানব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। এ সকল বিষয়ের মধ্যে কিছু বিষয়
বিস্তারিতভাবে উল্লিখিত হয়েছে আর কিছু বিষয় সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর কোন-কোনটি বিভিন্ন জাগতিক
কর্ম তৎপরতার সাথে সম্পর্কিত এবং কোন কোনটি ইবাদাতের সাথে সম্পর্কিত।
আল-কুরআনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় মানব জাতি। কুরআনের উদ্দেশ্য হলো মানব জাতিকে আল্লাহর দেওয়া জীবন
ব্যবস্থার দিকে পথ প্রদর্শন করা, যাতে মানুষ দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ লাভ করতে পারে এবং আখিরাতে সুখময় জীবনের অধিকরী হতে পারে।
কুরআনের প্রথমেই ঘোষণা করা হয়েছে <
এ তো সেই কিতাব ; এতে কোন সন্দেহ নেই, আল্লাহভীরু লোকদের জন্য এ কিতাব নির্দেশক” (সূরা বাকারা-২: ২)
মহান আল্লাহ বলেন, <
“আমি তো তোমাদের প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যাতে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে; তবুও কি তোমরা বুঝবে না ?”
(সূরা আম্বিয়া-২১ : ১০)
আরো বর্ণিত হয়েছে-
“আর অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এ কুরআনে বিভিন্ন উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কুফরী করা
ব্যতীত ক্ষান্ত হলো না।” (সূরা বনী ইসরাইল-১৭ :৮৯)
আরো বলা হয়েছেأ الذي رمضان شھر
“রামাযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন নাযিল
হয়েছে।” (সূরা বাকারা- ২: ১৮৫)
মহান আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেনذ ِ إ ھو إن
“এটা তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশমাত্র।” (সূরা আন‘আম-৬:৯০)
“আমি মুসলিমদের জন্য প্রত্যক বিষয় সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সু সংবাদরূপে তোমার প্রতি কিতাব নাযিল
করলাম।” (সূরা নাহল-১৬ : ৮৯)
এভাবে আরো বলা হয়েছেماَ
“এ কিতাব, এটা তোমার প্রতি নাযিল করেছি যাতে তুমি মানবজাতিকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে অন্ধকার থেকে
আলোর দিকে বের করে আনতে পারো, তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী প্রশংসনীয়” (সূরা ইবরাহীম-১৪ : ১)
“হে মানব! তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যা আছে তার
আরোগ্য এবং বিশ্ববাসীদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত” (সূরা ইউনুস- ১০: ৫৭)
মনে রাখুন
এসব আয়াতে পবিত্র কুরআনের আলোচ্য বিষয় বা উদ্দেশ্য কি, তা সুষ্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। যার সার কথা হলো-
ক্স মানব জাতির উন্নতি ও কল্যাণ সাধন করাই যেহেতু পবিত্র কুরআনের মূল উদ্দেশ্য ও প্রতিপাদ্য বিষয়, তাই মানব
জীবনের সকল বিভাগ নিয়েই পবিত্র কুরআনে আলোচনা করা হয়েছে। মানুষের ব্যক্তি জীবন এবং আধ্যাত্মিকতায়
উৎকর্ষ সাধনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, ধর্ম-সংস্কৃতি-রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, মানবাধিকার সমরনীতি,
যুদ্ধ-শান্তি, সন্ধি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ের উল্লেখ কুরআনে আছে। মূলত এসব আলোচ্য
বিষয় কুরআনের কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তুর সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত।
আল-কুরআনের আলোচ্য বিষয়ের শ্রেণি বিভাগ
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলবী (র) পবিত্র কুরআনের আলোচ্য বিষয়সমূহকে প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন১.ইলমুল আহকাম বা সংবিধান সংক্রান্ত জ্ঞান
পবিত্র কুরআনে ইবাদত-বন্দেগী, পারস্পরিক মু‘আমালাত, আচার-ব্যবহার, দাম্পত্য জীবন, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থ, যুদ্ধ-সন্ধি
প্রভৃতি মানব জীবনের যাবতীয় প্রয়োজন ও বিষয় সংক্রান্ত বিধি-বিধান ও নির্দেশাবলি আলোচিত হয়েছে। ফরয, ওয়াজিব,
মুস্তাহাব, হালাল-হারাম-মাকরূহ মুবাহ এবং যাবতীয় আদেশ-নিষেধ এর অন্তর্ভুক্ত।
২.ইলমুল মুখাসামা বা তর্ক শাস্ত্র
ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, কাফির-মুশরিক ও মুনাফিক এ চার শ্রেণির পথভ্রষ্ট মানুষের সাথে বিতর্ক সম্পর্কিত জ্ঞান। এ পর্যায়ে
তাদের আকিদা-বিশ্বাস এবং মতবাদের ভ্রান্ততা প্রমাণ করা হয়েছে। সাথে সাথে তাদের ভ্রান্ত ও অযৌক্তিক মতাদর্শের প্রতি
জনমনে ঘৃণা জাগ্রত করা হয়েছে। এদের কুসংস্কার ও ভ্রান্ত মতবাদের অসারতা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। সেগুলোর জবাব দান করা হয়েছে।
৩.ইলমুত্ তাযকীর-বি-আ’লা ইল্লাহ বা ¯্রষ্টাতত্ত¡
বিশ্ব ¯্রষ্টা ও নিয়ন্তা হিসেবে মহান আল্লাহর পরিচয়, অনুগ্রহ, অবদান এবং কুদরতী নিদর্শনাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান। এ ছাড়াও
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি রহস্য, দৈনন্দিন জীবনে প্রাপ্ত বান্দার অভিজ্ঞান, সর্বোপরি ¯্রষ্টার সর্ববিধ গুণাবলির পরিচয় সম্পর্কিত আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে।
৪.ইলমুত্ তাযকীর-বি-আইয়্যামিল্লাহ বা সৃষ্টিতত্ত¡
আল্লাহর সৃষ্টিবস্তুর অবস্থা সংক্রান্ত জ্ঞান। এতে হক ও বাতিল, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে অতীত সংঘর্ষ ও রেষা-রেষির ইতিহাস
আলোচনা করা হয়েছে। সেই সাথে হক ও সত্যপ্রিয়তার শুভ পরিণাম, মিথ্যা ও বাতিলের শোচনীয় পরিণতি এবং মিথ্যার
জন্য সতর্ক ও সাবধান করা হয়েছে।
৫.ইলমুত্ তাযকীর বিল-মাউত বা পরকাল সংক্রান্ত জ্ঞান
পবিত্র কুরআনে সৃষ্টিলোকের লয়, মানুষের মৃত্যু, অক্ষমতা এবং মৃত্যুর পর অনন্ত জীবন-জান্নাত বা জাহান্নামের দৃশ্যের
প্রত্যক্ষ বর্ণনা রয়েছে। রহমত ও আযাবের ফেরেশতাদের উপস্থিতি, কিয়ামতের আলামত, হযরত ঈসা (আ) -এর
অবতরণ, দাজ্জাল- ইয়াজুজ-মা’জুজের আবির্ভাব, ইসরাফিলের শিঙ্গায় ফুঁকের উল্লেখ। হাশর-নশর, হিসাব-নিকাশ, পাপপুণ্যের জ্ঞান, আমলনামা, মু’মিনগণের আল্লাহর সাথে দীদার ইত্যাদির বর্ণনা। তাছাড়া আযাব ও শাস্তির নানা রকম
ভীতিপ্রদ বর্ণনা। জান্নাতের নয়নাভিরাম দৃশ্য ও নিয়ামত রাশির বিবরণ। মানব জাতিকে আত্মসচেতন ও সদা সতর্ক করার
জন্য এবং আল্লাহ তা’আলার দাসত্ব ও আনুগত্যের জন্য উৎসাহিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
সারসংক্ষেপ
পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের এ অফুরন্ত জ্ঞান ভাÐারে সব কিছুরই মৌলিক বর্ণনা ও জ্ঞান আলোচিত হয়েছে।
মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণের যাবতীয় বিষয়ের এমন পরিপূর্ণ বর্ণনা আর কোথাও নেই। সংক্ষিপ্ত পরিসরে কুরআনের
আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো:
(১) আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব, (২) আল্লাহর একত্ববাদ তথা তাওহীদের প্রমাণ, (৩) আল্লাহ তা’আলার পূত-পবিত্রতা,
(৪) অদৃশ্য জ্ঞান, (৫) শিরক, (৬) তাকওয়া, (৭) রিসালাত, (৮) রাসূলের অনুসরণ (৯) জিহাদ বা দ্বীন প্রতিষ্ঠার
সর্বাত্মক চেষ্টা, (১০) সালাত, (১১) যাকাত, (১২) সাওম, (১৩) হজ্জ, (১৪) আদল-ইনসাফ তথা ন্যায়বিচার, (১৫)
সুদ, (১৬) চরিত্র (১৭) অর্থনীতি, (১৮) মজলিসের শিষ্টাচার, (১৯) রাসূলের সাথে আদব, (২০) জ্ঞান-বিজ্ঞান ও
জ্ঞানার্জনের প্রতি উৎসাহদান ও এর মর্যাদা, (২১) বিবেক-বুদ্ধির চর্চা, (২২) দÐবিধি, (২৩) লুটতরাজ ও ডাকাতির
শাস্তি, (২৪) চুরির শাস্তি, (২৫) অপবাদ দেওয়ার শাস্তি, (২৬) যিনা-ব্যভিচার ও ধর্ষণের শাস্তি, (২৭) মাপ বা ওযনে
সঠিকতা, (২৮) সৎকর্মের আদেশ ও অসৎ কর্মের নিষেধ, (২৯) অপরকে সাহায্য করা, (৩০) ঈমান, (৩১)
মানবাধিকার, (৩২) তাকওয়া অর্জন, (৩৩) দান-সদকা, (৩৪) জান্নাত, (৩৫) জাহান্নাম, (৩৬) উত্তরাধিকারীদের প্রতি সম্পদ বণ্টন প্রভৃতি।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১. আল-কুরআনের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে-
(ক) জান্নাত-জাহান্নাম (খ) মানবজাতি
(গ) আসমানি কিতাব (ঘ) দুনিয়ার সুখ-শান্তি
২. আল-কুরআনের আলোচ্য বিষয় কয়ভাগে বিভক্ত ?
(ক) ৪ ভাগে (খ) ৩ ভাগে
(গ) ৫ ভাগে (ঘ) ৭ভাগে
৩. ইলমুল আহকাম শব্দের অর্থ কী ?
(ক) ফিকহ সংক্রান্ত জ্ঞান (খ) সংবিধান সংক্রান্ত জ্ঞান
(গ) সমাজ বিষয়ক জ্ঞান (ঘ) শিক্ষা সংক্রান্ত জ্ঞান
৪. আল-কুরআনের আয়াত সংখ্যা কত ?
(ক) ৩৩ টি (খ) ৬২৩৬ টি
(গ) ৫০০ টি (ঘ) ১০০০ টি
উদ্দীপক,
আব্দুল আলিম একজন আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়ী। তিনি চীন এবং রাশিয়ার সাথে ব্যবসায়-বাণিজ্য করেন। বছরের অধিকাংশ
সময় উক্ত দুই দেশেই কাটান। তিনি তার ছেলে-মেয়েকে আলোকিত মানুষ রূপে গড়ে তোলার জন্য ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত না করে
ইউরোপিয়ান স্কুলে ভর্তি করান। মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তাদেরকে রাশিয়ার স্কুলে ভর্তি করান। তারা সেদেশের কৃষ্টিকালচার ও লেখা-পড়া রপ্ত করে কুরআন শরীফ না পড়ার কারণে কুরআনের কিছুই জানে না। তারা আল-কুরআনকে আল্লাহর বাণী
হিসেবে গ্রহণ করতে সন্দেহ প্রকাশ করে। তারা মনে করে, কুরআনের শিক্ষা মানুষের জন্য দরকার নেই। আব্দুল আলিমের ছেলে-
মেয়েরা দেশে আসার পর তাদের আচার-আচরণ দেখে এলাকাবসাী স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। ঘটনাটি এলাকার বিশিষ্ট আলিম মুফতি
সাদরুল আমিন সাহেবকে জানানো হয়। মুফতি সাহেব তাদেরকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে বুঝানোর পর তারা বুঝতে সক্ষম হয় যে, আলকুরআন ব্যতীত মানবজাতির কোনো কল্যাণ নেই। তারা বলে আমাদের ভ‚ল ভেঙ্গেছে; আমরা কুরআনের পথে থাকবো এবং মানুষকে
এ পথে ডাকবো। তিনি এলাকার শিক্ষিত মানুষের জন্য কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।
ক. সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থের নাম কী ? ১
গ. আল-কুরআনের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী কেমন মানুষ ? ২
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আব্দুল আলিমের ছেলে-মেয়েদের ধারণা কী যথার্থ ? ৩
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মুফতি সাহেব যে কাজটি করেছেন, ইসলামের আলোকে তা মূল্যয়ন করুন ৪
উত্তরমালা: ১। খ, ২। গ, ৩। খ, ৪। খ