হযরত আয়েশা (রা) কে ছিলেন ? ইমানের পরিচয় দিন।
অশ্লীলতা, পরনিন্দুক, অভিসম্পাতকারী, নিকৃষ্ট।
অনুবাদ
হযরত ‘আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন : নিশ্চয় ঐ ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট
যার অশ্লীলতার ভয়ে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে।
শব্দার্থ
شر -নিকৃষ্ট। الناس-মানুষ। الناس تركه-মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে। فحشه -যার অশ্লীলতা।
ব্যাখ্যা
আলোচ্য হাদিসে রাসূলে করীম (স) অশ্লীলতাকে একটি মারাত্মক ও ঘৃণ্য চারিত্রিক দোষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যে
ব্যক্তি অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় মানুষকে গালাগালি করে, মানুষ তাকে ঘৃনার চোখে দেখে। কেউ তাকে কোন কাজে
লাগাতে চায় না এবং কোন কাজে তার সহকর্মী, সহযোগী এবং সহগামী হতে চায় না। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা একটি
মারাত্মক কবীরা গুনাহ। রাসূলুল্লাহ (স) অশ্লীল চরিত্রের মানুষকে মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে ঘোষণা করেছেনÑ
“পরনিন্দুক, অভিসম্পাতকারী, অশ্লীল ও নির্লজ্জ চরিত্রের ব্যক্তি মুমিন নয়।” (তিরমিযী)
অশ্লীল বাক্যে মুখ অপবিত্র হয়, মনকে কলুষিত করে, মান-সম্মান ও ব্যক্তিত্ব বিনষ্ট করে। মানুষকে পশুর স্তরে নিপতিত
করে। রাসূলুল্লাহ (স) অশ্লীলতাকে মুনাফিকির একটি চিহ্ন ও নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ কারণেই রাসূলে
করীম (স) যার চরিত্র অশ্লীলতা দোষে দুষ্ট, তাকে মানব জাতির মধ্যে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
যার চরিত্র এই দোষে দুষ্ট, সে যদি তা ত্যাগ করে ভালো হতে চায় তবে তাকে সালাতে অভ্যস্ত করতে হবে। কেননা
একমাত্র নামায তাকে এ দোষ থেকে মুক্তি দিতে পারে। এ মর্মে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে ঘোষণা করেছেনÑ
“ নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত-৪৫)
শিক্ষা
হাদিসের শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছেÑ
১. অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা নিন্দনীয় এবং জঘন্য অপরাধ।
২. অশ্লীল ও লজ্জাহীন ব্যক্তি নিকৃষ্টতম।
৩. যে ব্যক্তি অন্যায় অশ্লীল কাজে অভ্যস্ত, আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল তাকে ঘৃনা করেন।
৬. এ দোষ হতে মুক্ত ও পবিত্র হতে চাইলে নামাযের অভ্যাস করতে হবে। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে আলোচ্য হাদিসের শিক্ষা গ্রহণে তাওফিক দান করুন। (আমীন)।
সারসংক্ষেপ
লজ্জাশীলতা ও শালীনতা মানবচরিত্রের ভ‚ষণ। আর অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা মন্দ চরিত্রের মধ্যে জঘন্যতম। এ নিকৃষ্ট
স্বভাব মানুষকে পশুর চেয়ে অধম করে। যার ঈমান নেই- তার লজ্জা নেই। আর যার লজ্জা নেই তার দ্বারা এমন কোনো
মন্দ কাজ নেই যা সে করতে পারে না। কাজেই অশ্লীলতা পরিহার করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। অশ্লীলতা কেমন কাজ ?
(ক) ঘৃনার কাজ (খ) আধুনিক কাজ
(গ) উত্তমকাজ (ঘ) অপছন্দনীয় কাজ।
২। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা কী ধরনের গুনাহ ?
(ক) ছগীরা গুনাহ (খ) কবীরা গুনাহ
(গ) মোটামুটি গুনাহ (ঘ) বেশি গুনাহ
৩। অশ্লীল বাক্য ব্যবহারে
(ক) মানুষ ভয় পায়। (খ) মানুষ সমীহ করে
(গ) মুখ অপবিত্র হয় (ঘ) মানুষ ঘৃনা করে
৪। ইসলামে কীসের স্থান নেই ?
(ক) ভদ্রতার (খ) অশ্লীলতার
(গ) ঘৃনার (ঘ) বিপদের
৫। যার মধ্যে অশ্লীলতা আছে সের. মুমিন নয় রর. অশ্লীলতা মুনাফিকির লক্ষণ
ররর. অশ্লীলতা ব্যক্তিত্ব বিনষ্ট করে.
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র (খ) র ও রর
(গ) রর ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
উদ্দীপকটি পড়–ন এবং ৬ ও ৭নং প্রশ্নের উত্তর দিননিশ্চয় নামায মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে।
৫। কোন মানুষ সবেচেয়ে নিকৃষ্ট ?
(ক) যার মধ্যে অশ্লীলতা বিদ্যমান (ক) যিনি দেখতে কালো
(গ) যিনি অন্ধ (ঘ) যিনি পঙ্গু
৬। মুমিনের বৈশিষ্ঠ্য হলোর. যিনি পর নিন্দা হতে মুক্ত রর. যিনি অশ্লীলতা হতে মুক্ত
ররর. যিনি নির্লজ্জ চরিত্র হতে মুক্ত
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র ও রর (খ) রর ও রর
(গ) র ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক,
মুমতাহানার বাবা ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের একজন শিক্ষক। মুমতাহানা একজন হিজাবধারী শিক্ষার্থী। হিজাব পরেই সে
কলেজে যায়। একদিন কলেজ থেকে ফেরার সময় তার বান্ধবী সুমাইয়াকে বাসায় নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর মুমতাহানার
বাবাও বাসায় উপস্থিত হন। তিনি মেয়ের বান্ধবীকে অনৈসলামিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি
মেয়েটিকে কিছুই বললেন না। মেযেটি যাওয়ার সময় ইসলামে পর্দার গুরুত্ব সম্পর্কিত একটি বই উপহার দিলেন।
পরবর্তীতে বাবা তাঁর মেয়েকে অশালীন মেয়ের সংগ ত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন।
ক. হযরত আয়েশা (রা) কে ছিলেন ? ১
খ. ইমানের পরিচয় দিন। ২
গ. বাবা কেন তার মেয়েকে অশালীন মেয়ের সংগ ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ? বুঝিয়ে লিখুন। ৩
ঘ. অশ্লীলতার কুফল হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। ক ২। খ ৩। গ ৪। খ ৫। ঘ ৬। ক ৭। ঘ
অনুবাদ
হযরত ‘আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন : নিশ্চয় ঐ ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট
যার অশ্লীলতার ভয়ে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে।
শব্দার্থ
شر -নিকৃষ্ট। الناس-মানুষ। الناس تركه-মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে। فحشه -যার অশ্লীলতা।
ব্যাখ্যা
আলোচ্য হাদিসে রাসূলে করীম (স) অশ্লীলতাকে একটি মারাত্মক ও ঘৃণ্য চারিত্রিক দোষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যে
ব্যক্তি অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় মানুষকে গালাগালি করে, মানুষ তাকে ঘৃনার চোখে দেখে। কেউ তাকে কোন কাজে
লাগাতে চায় না এবং কোন কাজে তার সহকর্মী, সহযোগী এবং সহগামী হতে চায় না। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা একটি
মারাত্মক কবীরা গুনাহ। রাসূলুল্লাহ (স) অশ্লীল চরিত্রের মানুষকে মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে ঘোষণা করেছেনÑ
“পরনিন্দুক, অভিসম্পাতকারী, অশ্লীল ও নির্লজ্জ চরিত্রের ব্যক্তি মুমিন নয়।” (তিরমিযী)
অশ্লীল বাক্যে মুখ অপবিত্র হয়, মনকে কলুষিত করে, মান-সম্মান ও ব্যক্তিত্ব বিনষ্ট করে। মানুষকে পশুর স্তরে নিপতিত
করে। রাসূলুল্লাহ (স) অশ্লীলতাকে মুনাফিকির একটি চিহ্ন ও নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ কারণেই রাসূলে
করীম (স) যার চরিত্র অশ্লীলতা দোষে দুষ্ট, তাকে মানব জাতির মধ্যে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
যার চরিত্র এই দোষে দুষ্ট, সে যদি তা ত্যাগ করে ভালো হতে চায় তবে তাকে সালাতে অভ্যস্ত করতে হবে। কেননা
একমাত্র নামায তাকে এ দোষ থেকে মুক্তি দিতে পারে। এ মর্মে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে ঘোষণা করেছেনÑ
“ নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত-৪৫)
শিক্ষা
হাদিসের শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছেÑ
১. অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা নিন্দনীয় এবং জঘন্য অপরাধ।
২. অশ্লীল ও লজ্জাহীন ব্যক্তি নিকৃষ্টতম।
৩. যে ব্যক্তি অন্যায় অশ্লীল কাজে অভ্যস্ত, আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল তাকে ঘৃনা করেন।
৬. এ দোষ হতে মুক্ত ও পবিত্র হতে চাইলে নামাযের অভ্যাস করতে হবে। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে আলোচ্য হাদিসের শিক্ষা গ্রহণে তাওফিক দান করুন। (আমীন)।
সারসংক্ষেপ
লজ্জাশীলতা ও শালীনতা মানবচরিত্রের ভ‚ষণ। আর অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা মন্দ চরিত্রের মধ্যে জঘন্যতম। এ নিকৃষ্ট
স্বভাব মানুষকে পশুর চেয়ে অধম করে। যার ঈমান নেই- তার লজ্জা নেই। আর যার লজ্জা নেই তার দ্বারা এমন কোনো
মন্দ কাজ নেই যা সে করতে পারে না। কাজেই অশ্লীলতা পরিহার করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। অশ্লীলতা কেমন কাজ ?
(ক) ঘৃনার কাজ (খ) আধুনিক কাজ
(গ) উত্তমকাজ (ঘ) অপছন্দনীয় কাজ।
২। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা কী ধরনের গুনাহ ?
(ক) ছগীরা গুনাহ (খ) কবীরা গুনাহ
(গ) মোটামুটি গুনাহ (ঘ) বেশি গুনাহ
৩। অশ্লীল বাক্য ব্যবহারে
(ক) মানুষ ভয় পায়। (খ) মানুষ সমীহ করে
(গ) মুখ অপবিত্র হয় (ঘ) মানুষ ঘৃনা করে
৪। ইসলামে কীসের স্থান নেই ?
(ক) ভদ্রতার (খ) অশ্লীলতার
(গ) ঘৃনার (ঘ) বিপদের
৫। যার মধ্যে অশ্লীলতা আছে সের. মুমিন নয় রর. অশ্লীলতা মুনাফিকির লক্ষণ
ররর. অশ্লীলতা ব্যক্তিত্ব বিনষ্ট করে.
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র (খ) র ও রর
(গ) রর ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
উদ্দীপকটি পড়–ন এবং ৬ ও ৭নং প্রশ্নের উত্তর দিননিশ্চয় নামায মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে।
৫। কোন মানুষ সবেচেয়ে নিকৃষ্ট ?
(ক) যার মধ্যে অশ্লীলতা বিদ্যমান (ক) যিনি দেখতে কালো
(গ) যিনি অন্ধ (ঘ) যিনি পঙ্গু
৬। মুমিনের বৈশিষ্ঠ্য হলোর. যিনি পর নিন্দা হতে মুক্ত রর. যিনি অশ্লীলতা হতে মুক্ত
ররর. যিনি নির্লজ্জ চরিত্র হতে মুক্ত
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র ও রর (খ) রর ও রর
(গ) র ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক,
মুমতাহানার বাবা ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের একজন শিক্ষক। মুমতাহানা একজন হিজাবধারী শিক্ষার্থী। হিজাব পরেই সে
কলেজে যায়। একদিন কলেজ থেকে ফেরার সময় তার বান্ধবী সুমাইয়াকে বাসায় নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর মুমতাহানার
বাবাও বাসায় উপস্থিত হন। তিনি মেয়ের বান্ধবীকে অনৈসলামিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি
মেয়েটিকে কিছুই বললেন না। মেযেটি যাওয়ার সময় ইসলামে পর্দার গুরুত্ব সম্পর্কিত একটি বই উপহার দিলেন।
পরবর্তীতে বাবা তাঁর মেয়েকে অশালীন মেয়ের সংগ ত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন।
ক. হযরত আয়েশা (রা) কে ছিলেন ? ১
খ. ইমানের পরিচয় দিন। ২
গ. বাবা কেন তার মেয়েকে অশালীন মেয়ের সংগ ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ? বুঝিয়ে লিখুন। ৩
ঘ. অশ্লীলতার কুফল হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। ক ২। খ ৩। গ ৪। খ ৫। ঘ ৬। ক ৭। ঘ