সহীহ বুখারি কী ধরনের গ্রন্থ ? হাদিস কত প্রকার ও কী কী ?

বৃক্ষরোপণ, সাদাকাহ, মরুকরণ, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, প্রাকৃতিক ভারসাম্য, ইনসান।
অনুবাদ
১০. হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: যদি কোন মুসলিম একটি বৃক্ষ রোপণ করে
অথবা কোন শস্য ফলায় এবং তা হতে কোন মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু আহার করে, তবে তা তার জন্য সাদাকা
হিসেবে গণ্য হবে। (বুখারি ও মুসলিম)
শব্দার্থ
مسلم-েকান মুসলিম। ع يزر-েরাপণ করে, লাগায়। غرس-চারা, গাছ। او-অথবা। ع يزر-বপন করে, ফলায়। ازر-বীজ,
শস্য। لঠفيا-অতঃপর খায়, ভক্ষণ করে। منه لঠفيا-অতঃপর তা থেকে খায়, ভক্ষণ করে। نسبحن ا-মানুষ। الطير-পাখি।
بهيمة-পশু। صدقةদ -ান, সাদাকা।
ব্যাখ্যা
এ হাদিসে রাসূলূল্লাহ (স) প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করাসহ পশু-পাখির
প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন। গাছ বিশেষ করে, ফলজ গাছ মানুষের অত্যন্ত উপকারী
বন্ধু। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গাছের অবদান সর্বাধিক। অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, মরুকরণ, নদী ভাঙন ইত্যাদি প্রতিরোধে
গাছের অবদান অনস্বীকার্য। তাছাড়া গাছ মানুষকে ছায়া, জ্বালানি, গৃহনির্মাণ সামগ্রী, খাদ্য পুষ্টি ও অতি প্রয়োজনীয়
অক্সিজেন সরবরাহ করে ও বিষাক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস শোষণপূর্বক মানুষের জীবন রক্ষা করে। প্রাকৃতিক পরিবেশের
ভারসাম্য রক্ষায় গাছ ও বনের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনের কথা বর্তমান সভ্য জগৎ বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে এসে বুঝলেও
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) তা দেড় হাজার বছর পূর্বে উপলব্ধি করেছিলেন বলেই বৃক্ষরোপণের প্রতি তিনি এত গুরুত্বারোপ করেছেন।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব এবং আল্লাহর প্রতিনিধি। খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে সমস্ত পশুপাখি ও অন্যান্য সৃষ্ট জীবের
লালন-পালন ও সেবা যতেœর দায়িত্ব মানুষের ওপর অর্পিত। সুতরাং এ উদ্দেশে মানুষ যদি কোন বৃক্ষ রোপণ করে অথবা
জমিতে ফসল ফলায় এবং এ বৃক্ষের ফল ও জমির ফসল কোন মানুষ, পশু অথবা কোন পাখি খায় তবে তা রোপণকারীর জন্য সাদাকা স্বরূপ গণ্য হবে।
শিক্ষা
আলোচ্য হাদিসের মূল শিক্ষা হচ্ছে- শ্রমের মর্যাদা এবং বৃক্ষ রোপণ, কৃষিকাজ এবং সৃষ্টি জীবের প্রতি মানব জাতির দায়িত্ব-
কর্তব্য সম্পর্কে উদ্বুদ্ধকরণ।
১. মহানবী (স)- এ হাদিসে মানুষকে শ্রমের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। নিজে ভোগ করুক বা অপরে ভোগ করুক বা
অন্য সৃষ্টি জীব তা ভোগ করুক সে সাওয়াব পাবে।
২. বৃক্ষ মানুষের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় সৃষ্টি। বৃক্ষ খাদ্য, ছায়া, আশ্রয় দেয়, ও অক্সিজেন দেয়, পরিবেশ সুন্দর ও
দূষণমুক্ত রাখে। সর্বোপরি বৃক্ষের কাছে আমাদের প্রয়োজন অনেক। তাই বৃক্ষ রোপণ করার জন্য মহানবী (স) এ
হাদিসে আমাদেরকে তাকিদ প্রদান করেছেন।
৩. যে কেউ ভক্ষণ করুক তাতে সাদকা দানের সমতুল্য সাওয়াব হবে।
৪. এ হাদিসে মহান আল্লাহর সৃষ্ট জীবের প্রতি মানব জাতির দায়িত্ব, কর্তব্য ও দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন এবং সাথে
সাথে কর্মীর কোন শ্রমই বৃথা যায় না, সে দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
সর্বশেষে আমরা বলতে পারি, আমরা অধিক পরিমাণে গাছ লাগাব, তার যতœ নেব, ক্ষেত-খামারে অধিক ফসল ফলানোর
চেষ্টা করব এবং এর বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাওয়াবের অধিকারী হব।
সারসংক্ষেপ
এ হাদিসের শিক্ষণীয় বিষয় এই যে, পশু-পাখির প্রয়োজন পূরণ ও এদের উপকার করলে আল্লাহ খুশি হন এবং তাকে
কিয়ামতের দিন উত্তম পুরস্কারে ভ‚ষিত করবেন। মানুষ ও পশু-পাখি সকলেরই খাদ্যের প্রয়োজন। তাই পশু-পাখির প্রতি
দয়া প্রদর্শন, তাদের খাদ্যের যোগান দেওয়াও মানুষের কর্তব্য। এ কর্তব্য পালন করতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে
দান-খয়রাতের পুরস্কারে ভ‚ষিত করবেন। অতএব প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পশু-পাখির খিদমত এসব বিবিধ কারণেই বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১. বৃক্ষ রোপনের প্রয়োজন আছে কী ?
(ক) নাই (খ) অনর্থক
(গ) লাগানো ভালো (ঘ) অবশ্যই প্রয়োজন
২. বৃক্ষ রোপণ কিসের কাজ ?
(ক) নেকির কাজ (খ) সময় অপচয়
(গ) অনর্থক কাজ (ঘ) গুনাহের কাজ
৩. কারো রোপিত বৃক্ষ থেকে ফল খেলে সাওয়াব হবে ?
(ক) নিজে খেলে (খ) অন্য মানুষ খেলে
(গ) পশু-পাখি খেলে (ঘ) সব কটি সঠিক
৪. পশু-পাখির উপকার করলে কে খুশি হয় ?
(ক) মানুষ খুশি হয় (খ) ফেরেশতা খুশি হন
(গ) আল্লাহ খুশি হন (ঘ) শয়তান খুশি হয়

নিচের উদ্দীপকটি পড়–ন এবং ৫ ও ৬নং প্রশ্নের উত্তর দিন
রহিম সাহেব একজন দীনদার মানুষ্ তিনি মানুষের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে খুবই সচেতন। প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নতির
জন্য তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকেন্
৫। রহিম সাহেবের কাজ কোন হাদীসের কোন আমলের ইঙ্গিত করে ?
(ক) সাদকা (খ) যাকাত
(গ) রোযা (ঘ) হজ্জ
৬। রহিম সাহেব কাজ প্রমাণ করের. তিনি আল্লাহর প্রতিনিধি রর. তিনি আল্লাহর প্রিয় বান্দা
ররর. তিনি মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার উপযুক্ত
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র ও রর (খ) রর ও রর
(গ) র ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক,
জনাব হাফিজউদ্দীন একজন ঈমানদার মানুষ। তিনি ইসলামের ফরয-ওয়াজিব, হালাল-হারাম,ন্যায়-অন্যায়
ইত্যাদি মেনে চলার চেষ্টা করেন। তার পরিবারের অন্যান্য লোকজনও খুব ধার্মিক। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর
আদর্শকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। হাফিজউদ্দীন সাহেব ব্যক্তিগত জীবনে একজন ব্যবসায়ী। তবে তিনি অন্য
দশজন ব্যবসায়ী থেকে আলাদা। তিনি ওজনে কম দেন না এবং পণ্যেও কোন ধরনের ভেজাল মেশান না। তাই
অল্প দিনের মধ্যেই তাঁর সুনাম ও সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার দোকানে সব সময় ক্রেতাদের ভীড় লেগেই
থাকে। আয়-উপার্জনও খুব ভালো। কর্মচারিদের তিনি ভালো বেতন দিয়ে থাকেন। ফলে ক্রেতা ও কর্মচারিদের
কাছে তিনি বেশ সমাদৃত রাসূলুল্লাহ (স) এমন ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে সুসংবাদ দিয়েছেন।
ক. সহীহ বুখারি কী ধরনের গ্রন্থ ? ১
খ. হাদিস কত প্রকার ও কী কী ? ২
গ. জনাব হাফিজউদ্দীন এর কর্মকান্ডে কোন হাদিসের প্রতিফলন ঘটেছে ? ৩
ঘ. মানব জীবনে হাদিস পাঠের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। ২। ৩। ৪।