ফরয কী ?‘নিজ হাতে উপার্জন করার চেয়ে উত্তম খাবার কেউই খায়নি’ হালাল উপার্জনের গুরুত্ব
ফরয, হালাল, উপার্জন, হারাম উপার্জন, পবিত্র বস্তু।
অনুবাদ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন : (অন্যান্য) ফরযের পর হালাল
উপার্জনও একটি ফরয। (বায়হাকী)
শব্দার্থ
كسب -উপার্জন। الحلال -হালাল। فريضة -ফরয। بعد -পরে।
ব্যাখ্যা
সালাত, রোযা, যাকাত, হজ্জ, জ্ঞান অর্জন করা, জিহাদে অংশগ্রহণ করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ হতে
নিজেকে দূরে রাখা ইত্যাদি মুসলিমদের ওপর ফরয, । আর এর মাঝে অন্যতম ফরয হলো সম্পদ উপার্জনে হালাল পথ
অবলম্বন করা। হাদিস দ্বারা ইসলামে জীবিকা নির্বাহের অবৈধ পথকে হারাম করা হয়েছে।
শিক্ষা
এ হাদিসের বক্তব্য থেকে বাস্তব জীবনে যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি তা হলো১. মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পূর্বশর্ত হলো হালাল উপার্জন।
২. উপার্জনে সৎপথ অবলম্বন করাকে ইসলাম ফরয করে দিয়েছে।
৩. হারাম পথে সম্পদ উপার্জন হালাল সম্পদকে কলুষিত করে।
৪. মহান আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের সবার উচিত হালাল পথে সম্পদ উপার্জন করা।
৫. রাসূলুল্লাহ (স) নিজ হাতে খাদ্য উপার্জন করার জন্য তাকিদ প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনÑ “নিজ হাতে
উপার্জন করার চেয়ে উত্তম খাবার কেউই খায়নি। আল্লাহর নবী দাউদ (আ) নিজ হাতে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ
করতেন।” (বুখারি)
৬. হারাম উপার্জনকারীর ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
৭. হারাম উপার্জনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সারসংক্ষেপ
আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে হারাম উপার্জন ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ জারি করেছেন। আল্লাহ বলেনÑ “হে
মানব জাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু আছে তোমরা তা থেকে আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ
করো না”। (সূরা বাকারা-২:১৬৮) একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জীবিকা নির্বাহের সকল উপকরণ বৈধ ও
সঠিকভাবে হওয়া উচিত। হারাম পথে সম্পদ উপার্জন করে আল্লাহর ধ্যানে পীর-সন্ন্যাসী হলেও পরকালে নাজাত পাওয়া
সম্ভব নয়। সে কারণেই আমাদেরকে উপার্জনে হালাল পথ অবলম্বন করতে হবে।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। ‘হালাল’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) বৈধ (খ) অবৈধ
(গ) জোরপূর্বক উপার্জন (ঘ) নীতিহীন
২। ‘ফরয’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) ইচ্ছাধীন (খ) অত্যাবশ্যক
(গ) কম গুরুত্বপূর্ণ (ঘ) গুরুত্বপূর্ণ নয়
৩। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পূর্ব শর্ত কোনটি ?
(ক) হালাল উপার্জন (খ) বাড়ি নির্মাণ
(গ) গাড়ি ক্রয় (ঘ) জমি ক্রয়
৪। কোন ফরয আদায়ের পর হালাল উপার্জনের স্থান ?
র. নামায রর. রোযা ররর. হজ্জ
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র (খ) র ও রর
(গ) রর ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
নিচের উদ্দীপকটি পড়–ন এবং ৫ ও ৬নং প্রশ্নের উত্তর দিনইসলামের দৃষ্টিতে হারাম উপার্জন করা অবৈধ। সুতরাং হারামভাবে উপার্জিত সম্পদ ভোগ করা হারাম। রাসূলুল্লাহ (স)
বলেন- যে ব্যক্তির শরীরের রক্ত-মাংস হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা ঘঠিত- সেই শরীর জান্নাতে যেতে পারবে না।
৫। হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা কী ?
(ক) ফরয (খ) হারাম
(গ) সুন্নাত (ঘ) মুস্তাহাব
৬। যে ব্যক্তির রক্ত-মাংস হারাম দ্বারা ঘঠিত সে কোথায় প্রবেশ করবে ?
(ক) বেহেশতে (খ) জাহান্নামে
(গ) মসজিদে (ঘ) ঘরে
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক,
হারুন সাহেব একজন বড় চাল ব্যবসায়ী। তিনি চালের আরতে বিভিন্ন মূল্যের নানা রকম চাল বিক্রি করেন। পাইকারী
কিংবা খুচরা কোন ক্রেতার নিকটই চালের দোষ-ত্রæটি গোপন করেন না। এক ধরনের চাল দেখিয়ে অন্য ধরনের চাল বিক্রি
করেন না। অপর দিকে তেল ব্যবসায়ী গণি মিয়া প্রথম দিকে খাঁটি তেল বিক্রি করলেও দোকান চালু হয়ে যাবার পর খাঁিট
তেলের সাথে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফার দিকে মন দেয়, এমনকি ওজনেও কম দিতে থাকে । একদিন হারুন সাহেব
তেল ব্যবসায়ী গণি মিয়াকে ডেকে বললেন সৎভাবে ব্যবসায় করা ফরয।
ক. ফরয কী ? ১
খ. ‘নিজ হাতে উপার্জন করার চেয়ে উত্তম খাবার কেউই খায়নি’- হাদিসের আলোকে
ব্যাখ্যা করুন। ২
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত হারুন সাহেব ও গণি মিয়ার চরিত্রের পার্থক্য কোথায় ? ৩
ঘ. হাদিসের আলোকে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করুন । ৪
উত্তরমালা: ১। ক ২। খ ৩। ক ৪। ঘ ৫। ক ৬। খ
অনুবাদ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন : (অন্যান্য) ফরযের পর হালাল
উপার্জনও একটি ফরয। (বায়হাকী)
শব্দার্থ
كسب -উপার্জন। الحلال -হালাল। فريضة -ফরয। بعد -পরে।
ব্যাখ্যা
সালাত, রোযা, যাকাত, হজ্জ, জ্ঞান অর্জন করা, জিহাদে অংশগ্রহণ করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ হতে
নিজেকে দূরে রাখা ইত্যাদি মুসলিমদের ওপর ফরয, । আর এর মাঝে অন্যতম ফরয হলো সম্পদ উপার্জনে হালাল পথ
অবলম্বন করা। হাদিস দ্বারা ইসলামে জীবিকা নির্বাহের অবৈধ পথকে হারাম করা হয়েছে।
শিক্ষা
এ হাদিসের বক্তব্য থেকে বাস্তব জীবনে যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি তা হলো১. মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পূর্বশর্ত হলো হালাল উপার্জন।
২. উপার্জনে সৎপথ অবলম্বন করাকে ইসলাম ফরয করে দিয়েছে।
৩. হারাম পথে সম্পদ উপার্জন হালাল সম্পদকে কলুষিত করে।
৪. মহান আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের সবার উচিত হালাল পথে সম্পদ উপার্জন করা।
৫. রাসূলুল্লাহ (স) নিজ হাতে খাদ্য উপার্জন করার জন্য তাকিদ প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনÑ “নিজ হাতে
উপার্জন করার চেয়ে উত্তম খাবার কেউই খায়নি। আল্লাহর নবী দাউদ (আ) নিজ হাতে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ
করতেন।” (বুখারি)
৬. হারাম উপার্জনকারীর ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
৭. হারাম উপার্জনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সারসংক্ষেপ
আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে হারাম উপার্জন ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ জারি করেছেন। আল্লাহ বলেনÑ “হে
মানব জাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু আছে তোমরা তা থেকে আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ
করো না”। (সূরা বাকারা-২:১৬৮) একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জীবিকা নির্বাহের সকল উপকরণ বৈধ ও
সঠিকভাবে হওয়া উচিত। হারাম পথে সম্পদ উপার্জন করে আল্লাহর ধ্যানে পীর-সন্ন্যাসী হলেও পরকালে নাজাত পাওয়া
সম্ভব নয়। সে কারণেই আমাদেরকে উপার্জনে হালাল পথ অবলম্বন করতে হবে।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। ‘হালাল’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) বৈধ (খ) অবৈধ
(গ) জোরপূর্বক উপার্জন (ঘ) নীতিহীন
২। ‘ফরয’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) ইচ্ছাধীন (খ) অত্যাবশ্যক
(গ) কম গুরুত্বপূর্ণ (ঘ) গুরুত্বপূর্ণ নয়
৩। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পূর্ব শর্ত কোনটি ?
(ক) হালাল উপার্জন (খ) বাড়ি নির্মাণ
(গ) গাড়ি ক্রয় (ঘ) জমি ক্রয়
৪। কোন ফরয আদায়ের পর হালাল উপার্জনের স্থান ?
র. নামায রর. রোযা ররর. হজ্জ
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র (খ) র ও রর
(গ) রর ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
নিচের উদ্দীপকটি পড়–ন এবং ৫ ও ৬নং প্রশ্নের উত্তর দিনইসলামের দৃষ্টিতে হারাম উপার্জন করা অবৈধ। সুতরাং হারামভাবে উপার্জিত সম্পদ ভোগ করা হারাম। রাসূলুল্লাহ (স)
বলেন- যে ব্যক্তির শরীরের রক্ত-মাংস হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা ঘঠিত- সেই শরীর জান্নাতে যেতে পারবে না।
৫। হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা কী ?
(ক) ফরয (খ) হারাম
(গ) সুন্নাত (ঘ) মুস্তাহাব
৬। যে ব্যক্তির রক্ত-মাংস হারাম দ্বারা ঘঠিত সে কোথায় প্রবেশ করবে ?
(ক) বেহেশতে (খ) জাহান্নামে
(গ) মসজিদে (ঘ) ঘরে
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক,
হারুন সাহেব একজন বড় চাল ব্যবসায়ী। তিনি চালের আরতে বিভিন্ন মূল্যের নানা রকম চাল বিক্রি করেন। পাইকারী
কিংবা খুচরা কোন ক্রেতার নিকটই চালের দোষ-ত্রæটি গোপন করেন না। এক ধরনের চাল দেখিয়ে অন্য ধরনের চাল বিক্রি
করেন না। অপর দিকে তেল ব্যবসায়ী গণি মিয়া প্রথম দিকে খাঁটি তেল বিক্রি করলেও দোকান চালু হয়ে যাবার পর খাঁিট
তেলের সাথে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফার দিকে মন দেয়, এমনকি ওজনেও কম দিতে থাকে । একদিন হারুন সাহেব
তেল ব্যবসায়ী গণি মিয়াকে ডেকে বললেন সৎভাবে ব্যবসায় করা ফরয।
ক. ফরয কী ? ১
খ. ‘নিজ হাতে উপার্জন করার চেয়ে উত্তম খাবার কেউই খায়নি’- হাদিসের আলোকে
ব্যাখ্যা করুন। ২
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত হারুন সাহেব ও গণি মিয়ার চরিত্রের পার্থক্য কোথায় ? ৩
ঘ. হাদিসের আলোকে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করুন । ৪
উত্তরমালা: ১। ক ২। খ ৩। ক ৪। ঘ ৫। ক ৬। খ