ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (র) ও তাঁর মাযহাব

বাগদাদ, মুসনাদ, রক্ষণশীল, উচ্চাদর্শ, হাম্বল।
৯.১ জীবনী ও কর্ম
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র.) ইসলামি ফিক্হ শাস্ত্রের চতুর্থ মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হিজরি ১৬৪
মোতাবেক ৭৮০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবন হাম্বল নামে সুপরিচিত। তৎকালীন অনেক
অভিজ্ঞ আলিমের নিকট থেকে তিনি শিক্ষা লাভ করেন। তিনি হাদিসের ওপর ব্যাপক গবেষণা করেন। হাদিসের ওপর তাঁর
বিখ্যাত গ্রন্থ আল-মুসনাদ। এতে প্রায় ত্রিশ হাজার হাদিস আছে। পুরোপুরি হাদিসের ওপর নির্ভর করতেন বলে তিনি
ব্যক্তিগত বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগের প্রতি তেমন জোর দিতেন না।
তিনি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যুক্তি কম প্রয়োগ করতেন। দুর্বলতম হাদিসকেও তিনি উপেক্ষা করেননি। কোন
আকস্মিক ব্যাপার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উৎস সন্ধান যখন সম্ভব হত না, কেবল তখনই তিনি যুক্তি প্রয়োগের সাহায্য
গ্রহণ করতেন। হাদিসের ওপর নির্ভর করা এবং যুক্তি প্রয়োগের পক্ষপাতি না হওয়ায় তাঁর মাযহাব অত্যন্ত কঠিন ও
কষ্টসাধ্য ছিল। একথা সুস্পষ্ট যে, ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (র)-এর মাযহাবে যুক্তির প্রয়োগ যথাসম্ভব কম ছিল। এর
ফলে তিনি চার ইমামের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম আযম আবু হানিফা (র)-এর উচ্চাদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন। ইমাম আবু
হানিফা (র) অবাধে যুক্তি প্রয়োগ করতেন। কুরআনের আলোকে যুক্তির সাহায্যে যে কোন প্রশ্নের মীমাংসায় পৌঁছবার চেষ্টা করতেন।
ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (র) রক্ষণশীল ছিলেন। মুতাযিলা মতবাদের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করায় মুতাযিলা মতবাদের
পৃষ্ঠপোষক খলিফা মুনতাসির বিল্লাহ তাঁকে কারারুদ্ধ করেন। কিন্তু মুতাওয়াক্কিল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তাঁকে কারামুক্ত
করেন। ৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে তিনি বাগদাদে ইনতিকাল করেন। আইন প্রণয়নের ব্যাপারে কড়াকড়ি নীতি
অনুসরণের জন্য হাম্বলী মাযহাবের তেমন প্রসার হয়নি।
ঐতিহাসিক ইবন খাল্লিকান-এর মতে, ইমাম আহমদ ইবন হাম্বলের (র) জানাযায় প্রায় আট লক্ষ পুরুষ ও ষাট হাজার
মহিলা উপস্থিত হয়েছিলেন। জানাযাতে এই বিরাট সমাবেশ তাঁর জনপ্রিয়তার কথাই প্রমাণ করে।
৯.২ হাম্বলি মাযহাবের বৈশিষ্ট্য
১. ইমাম আহমদের ফিক্হে কুরআন ও হাদিসের বাহ্যিক প্রতিফলন ঘটেছে।
২. তিনি হাদিসে মারফ‚ ও মাওকুফকে সমমর্যাদা দিয়ে ফিক্হ রচনা করেছেন।
৩. যথাসম্ভব তিনি কিয়াস বর্জন করেছেন।
৪. তাঁর ফিক্হ খুবই সহজ সরল।
৫. বুদ্ধি ও যুক্তিতর্কের স্থান তাঁর মাযহাবে অতি কম ছিল।
সারসংক্ষেপ
শতাব্দীর গুলিস্তানে যারা ক্ষণিকের পুষ্পরাজ হয়ে আগমন করেন ইমাম আহমদ (র) ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তাঁর
চিন্তাধারা ও দর্শন মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত হয়। তিনি নিজ কর্মের মাঝে চির অ¤øান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফিকহি মাযহাবের নাম
হাম্বলি মাযহাব। তিনি ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ, তেমনি ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধিকারী এবং হাম্বলী বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১. ইসলামি ফিক্হ শাস্ত্রের চতুর্থ ইমামের নাম কী ?
(ক) ইমাম বুখারী (র.) (খ) ইমাম আবূ হানিফা (র.)
(গ) ইমাম শাফিঈ (র.) (ঘ) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.)
২ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল কোন নামে বেশি পরিচিত ছিলেন ?
(ক) ইমাম (র.) (খ) ইমাম আহমদ (র.)
(গ) ইবনে হাম্বল (র.) (ঘ) ইমাম আযম (র.)
৩. আইন প্রণয়ণের ক্ষেত্রে যুক্তি প্রয়োগ করতেন কোন ইমাম ?
(ক) ইমাম বুখারী (র.) (খ) ইমাম আবূ হানিফা (র.)
(গ) ইমাম শাফিঈ (র.) (ঘ) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.)
নানা তার নাতি-নাতনীদের নিয়ে “ইসলামী জ্ঞানের” প্রতিযোগীতার আয়োজন করলেন। নানা বললেন- তোমরা
কি এমন একজন ইমামের নাম বলতে পারবে- যিনি হাদিসের ওপর আমল করতেন, বিচার-বুদ্ধির ওপর জোর
দিতেন না।
৪। নানা তার নাতি-নাতনিদের নিকট কোন ইমামের নাম জানতে চেয়েছেন ?
(ক) ইমাম আবু হানিফা (র.) (খ) ইমাম শাফেঈ (র.)
(গ) ইমাম মালেক (র.) (ঘ) ইমাম আহমাদ (র.)
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক,
অধ্যাপক আবদুর রহমান ইবনে হোছাইন একটি সেমিনারে বলেন- আল-কুরআন ও হাদিসে ইসলামের মৌলিক
বিষয় বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইসলামের খুঁটি-নাটি বিষয় সম্পর্কে বিশ্লেষণ করার জন্য ইসলামি আইন শাস্ত্রের জগতে
খ্যাতনামা কয়েকজন মুসলিম মনীষীর জন্ম হয়। ইসলামের ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান
অপরিসীম। তাঁরা ছিলেন জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা, মেধায় অতুলনীয় ও অপ্রতি›দ্বী ব্যক্তিত্ব। তাঁদের যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য ও
লেখনির মধ্য দিয়ে শরয়ী বিধান গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
ক. ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.) ইসলামি ফিক্হ শাস্ত্রের কততম ইমাম ? ১
খ. ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের (র.) মাযহাব প্রসার না হওয়ার কারণ কী ? ২
গ. উদ্দীপকে কোন কোন মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ? তাঁদের নাম উল্লেখ করুন। ৩
ঘ. হাম্বলী মাযহাবের বৈশিষ্টগুলো বিশ্লেষণ করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। ঘ ২। গ ৩। ঘ ৪। ঘ