মুত্তাকীর ছয়টি গুণ’ কী কী ? তার একটি পর্যালোচনা করুন।

ইমান, গায়েব, সালাত, রিয্ক, কিতাব, ইয়াকীন, মুফলিহুন।
৩. যারা অদৃশ্যে ইমান আনে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও তাদের যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা হতে ব্যয় করে,
৪. এবং তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তাতে যারা ইমান আনে ও
আখিরাতে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী।
৫. তারাই তাদের প্রতিপালক নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।
শব্দার্থ :
الذين-যারা। يؤمنون-বিশ্বাস করে। ب-প্রতি। الغيب-অদৃশ্য। و-এবং। يقيمون-প্রতিষ্ঠিত করে। صلوة-সালাত,
নামায। و-এবং। مما-যা হতে। رزقنا-আমরা রিযিক দিয়েছি। هم-তাদেরকে। ينفقون-তারা ব্যয় করে। و-এবং।
الذين-যারা। يؤمنون-বিশ্বাস করে। ب-প্রতি। ما-যা। انزل-নাযিল করা হয়েছে। الى-প্রতি। ك-েতামার। و-এবং।
ما-যা। انزل-নাযিল করা হয়েছে। من-হতে। قبل-পূর্বে। ك-েতামার। و-এবং। ب-প্রতি। الاخرة- পরকাল। هم-
তার। يوقنونৃদ-ঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। اولئك-তারা। ৭৮-ওপর। هدى-সৎপথ। من-হতে। رب-প্রতিপালক। همতাদের। و-এবং। اولئك-তারা। هم-তারা। المفلحون-সফলকাম।
ব্যাখ্যা ও শিক্ষা :
৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাকীদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, তারাই মুত্তাকী যারা গায়েব বা অদৃশ্যে বিশ্বাস
করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি (আল্লাহ) যে ধন-সম্পদ তাদের দান করেছি, তা থেকে সৎ পথে ব্যয় করে। অদৃশ্য
বা গায়েব বলতে সাধারণত মানবীয় জ্ঞান-বুদ্ধিতে যে সমস্ত বিষয় বোধগম্য হয় না, সেগুলোই বুঝানো হয়েছে। অদৃশ্য
বিষয়াবলির মধ্যে আল্লাহ, নবী-রাসূল, ফেরেশতা, জান্নাত, জাহান্নাম, আরশ, কুরসী, লাওহ্, কলম, কিয়ামত, পুলসিরাত
ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এ সকল গায়েবের ওপর বিশ্বাস করা ও ইমান আনা মুত্তাকীদের প্রথম বৈশিষ্ট্য।
ঈমানের পর সালাত সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত। ইমান এবং কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী ইবাদাত হল এই সালাত। হাদিস শরিফে
আছে, ‘সালাত হল দ্বীনের খুঁটি বা স্তম্ভ। যে ব্যক্তি সালাত কায়েম করল সে যেন দীনকে কায়েম করল, আর যে ব্যক্তি
সালাত পরিত্যাগ করল সে যেন দীন ধ্বংস করে ফেলল।’ অতএব সালাত কায়েমের মাধ্যমে কুরআন থেকে যারা হিদায়াত
চায় তারা পায়। আর যারা চায় না তারা পায় না।
আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকা থেকে সৎপথে ব্যয় করা হল মুত্তাকীদের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য। এ আয়াত দ্বারা যাকাত দেওয়াকে
বাধ্যতামূলক করা হলেও এখানে শুধু যাকাতের কথাই বলা হয়নি বরং ধন-সম্পদসহ মানব জাতিকে আল্লাহ যা কিছু দান
করেছেন তার সবই এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। মুত্তাকী হিসেবে আল্লাহর নিকট পরিগণিত হতে হলে আমাদেরকেও এ সকল
বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে হবে।
৪নং আয়াতের ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
এ আয়াতে মুত্তাকীদের চতুর্থ বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ঐ সকল লোক মুত্তাকী যারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ
(স)-এর ওপর নাযিলকৃত আল-কুরআনকে আল্লাহর বাণী তথা আসমানি কিতাব বলে স্বীকার করে। মহানবী (স)-এর পূর্বে
অন্যান্য নবীদের ওপর প্রেরিত আসমানি গ্রন্থ যথা- তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ইত্যাদিকেও আসমানি কিতাব হিসেবে বিশ্বাস
করে। অতএব যারা আল-কুরআনকে আল্লাহর কিতাব বলে স্বীকার করে কিন্তু তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিলকে আল্লাহর কিতাব
বলে স্বীকার করে না তারা মুমিন নয়। তবে একথা সত্য যে, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ব্যতীত অন্যান্য আসমানি গ্রন্থসমূহের
শিক্ষা ও হুকুম-আহকামের অধিকাংশই বিলুপ্ত ও বিকৃত করা হয়েছে।
মুত্তাকীদের পঞ্চম বৈশিষ্ট্য হল, আখিরাতের ওপর ইমান আনা। আখিরাতের ওপর ইমান আনার অর্থ হল নির্ধারিত
কতকগুলো বিষয়ের ওপর দ্বিধাহীনভাবে বিশ্বাস করা। দুনিয়ার সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়াকে কিয়ামত বলে। কিয়ামতের
পর দুনিয়ার সকল মানুষ ও জিন জাতিকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল প্রদান করা হবে। যারা দুনিয়াতে সৎকর্ম করেছে
তাদের পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং যারা মন্দ ও অন্যায় কাজ করেছে তাদের শাস্তি হিসেবে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে।
৫নং আয়াতের ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
সূরা বাকারার ৩ ও ৪ নং আয়াতে আল-কুরআন থেকে হিদায়াত গ্রহণকারী মুত্তাকীদের পরিচয় ও গুণাবলি তুলে ধরা
হয়েছে। এ আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করছেন, যারা মুত্তাকীর গুণ-বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে, তারা তাদের প্রতিপালক
মহান আল্লাহর পছন্দনীয় ও প্রদর্শিত পথে রয়েছে। সত্যিকার অর্থে তারাই দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি, মুক্তি ও সাফল্য লাভ করবে।
সারসংক্ষেপ
এখানে মুত্তাকীগণের ছয়টি গুণ-বৈশিষ্ট্যের কথা বলে দিয়েছেন। মুত্তাকী হল তারা যারা-
(১) অদৃশ্যে বিশ্বাসী, (২) সালাত প্রতিষ্ঠা করে, (৩) আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকা হতে আল্লাহর পথে ব্যয় করে, (৪) হযরত
মুহাম্মদ (স)-এর প্রতি অবতীর্ণ আল-কুরআনকে আল্লাহর প্রদত্ত জীবন বিধান হিসেবে বিশ্বাস করে, (৫) পূর্ববর্তী বিভিন্ন
নবীর প্রতি যে সকল আসমানি গ্রন্থ নাযিল হয়েছে, সে সকলকে সত্য বলে স্বীকার করে এবং (৬) আখিরাত বা
পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে। এ সমস্ত গুণ-বৈশিষ্ট্য যাদের মধ্যে রয়েছে, মহান আল্লাহ
স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তারাই আল্লাহ প্রদর্শিত সহজ-সরল-সঠিক পথে রয়েছে। তারাই দুনিয়া ও আখিরাতে
সফলতা লাভ করবে। মূলত এ আয়াতের মূল শিক্ষা হচ্ছে কুরআন থেকে পথনির্দেশনা বা হিদায়াত পাবার জন্য
আমাদেরকে কুরআনে বর্ণিত উক্ত মুত্তাকী হওয়ার গুণ-বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে হবে।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। গায়েব শব্দের অর্থ কী ?
(ক) প্রকাশ্য (খ) অদৃশ্য
(গ) অস্পষ্ট (ঘ) সন্দেহ
২. ‘মুত্তাকীর বৈশিষ্ট্য’ হলো -
র. যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে
রর. যারা নামায কায়েম করে
ররর. যারা দান করে
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র (খ) র ও রর
(গ) রর ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
৩. মুত্তাকীর কয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে ?
(ক) ছয়টি (খ) দশটি
(গ) বিশটি (ঘ) পাঁচটি
৪. ‘মুত্তাকীর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য কোনটি ?
(ক) অদৃশ্যে বিশ্বাস করা (খ) নামায কায়েম করা
(গ) আল্লাহর পথে ব্যয় করা (ঘ) আখিরাতে বিশ্বাস করা
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক
আহসান ও কামরুল দুই বন্ধু। তাদের মধ্যে মুমিন ও মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আহসান তার বন্ধুর
উদ্দেশে বলল, অমুসলিমের মধ্যেও অনেক ভালো গুণাবলি রয়েছে। তারা কী মুমিন নয় ? কামরুল বলেন, মুমিন হতে হলে
অত্যাশ্যকীয় কিছু গুণাবলি থাকতে হবে। সেই গুণাবলি সূরা বাকারার শুরুর দিকে বর্ণিত হয়েছে। সূরা বাকারা মনোযোগ
দিয়ে পাঠ করো, তাহলে মুমিন ও মুনাফিকের পার্থক্য বুঝতে পারবে।
ক.গায়েব কী ? ১
খ. মুত্তাকীর অত্যাবশ্যকীয় গুণাবলি কি কি ? উল্লেখ করুন। ২
গ. ‘যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে’ আয়াতাংশের ব্যাখ্যা করুন। ৩
ঘ. মানুষের মধ্যে কারা সফল হবে- কুরআনের আলোকে পর্যালোচনা করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। খ ২। ঘ ৩। ক ৪। গ